আনারস খাওয়ার উপকারিতা ও অপকারিতা ৮টি গুনাগুন জানুন

 

আনারস খাওয়ার উপকারিতা ও অপকারিতা জানুন। আনারস সুস্বাদু ও আঁশযুক্ত একটি খাবার। আনারস খাওয়ার গুনাগুন ও উপকারিতা সম্পর্কে বিস্তারিত জানুন। প্রকৃতির সকল  কিছুই মানুষের কল্যাণের জন্য সৃষ্টি করা হয়েছে। এর মধ্যে আনারস একটি পুষ্টি করে সুস্বাদু খাবার যা মানুষের প্রতিনিয়তই উপকারে আসে।

আনারস খাওয়ার উপকারিতা ও অপকারিতা

আনারস বাংলাদেশ সিলেট ,মৌলভীবাজার , পার্বত্য চট্টগ্রাম এবং টাঙ্গাইল জেলায় ব্যাপক ভাবে চাষ হয়। এছাড়াও পার্বত্য চট্টগ্রাম মৌলভীবাজার শ্রীমঙ্গল ও টাঙ্গাইল জেলার মধুপুর এলাকার আনারস একটি গুরুত্বপূর্ণ অর্থকার ফসল হিসেবে বিবেচিত। 

পেইজ সুচিপত্রঃ আনারস খাওয়ার উপকারিতা ও অপকারিতা জানুন

আনারস খাওয়ার উপকারিতা ও অপকারিতা

আনারস খাওয়ার উপকারিতা ও অপকারিতা যা বিভিন্ন রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা ও হজম শক্তি বৃদ্ধিতে বেশ কার্যকরী এই আনারস। যা খেলে দেহের হজম শক্তি বৃদ্ধি করে। যাদের মাঝে মাঝে বদহজমের সমস্যা হয়। তাদের জন্য আনারস উপযুক্ত একটি খাবার। আনারস দেহের রক্ত জমাট  বাধা জড়িত সমস্যার সমাধান দেয়।

এর উপকার  ও ক্ষতি আছে তাই সঠিক ব্যবহার করতে হবে তাহলে, ক্ষতি না হয়ে উপকারিতা পাওয়া যাবে। তাই আনারস খান তবে সঠিক ভাবে যা আপনার উপকার করবে। তবে উপকারিতা পেতে খালি পেটে খাওয়া থেকে বিরত থাকতে হবে। যা আপনার শরীরের পুস্টি চাহিদা পুরণ করতে পারে।

আনারসের ক্ষতিকর দিকগুলো হলো, বেশি আনারস খেলে রক্তে শর্করার মাত্রা বেড়ে যায় আনারস সে গ্লুকোজের পরিমাণ তুলনামূলক অনেকটাই বেশি থাকে। রক্তের ঘনত্ব কমিয়ে দেয়, দাঁতের ক্ষয় সহ আরো বিভিন্ন ধরনের সমস্যার সম্মুখীন হতে হয়। এছাড়া আনারস খেলে পেটের গোলমাল হতে পারে। বলা যায় প্রত্যেকটা জিনিসেরই এবং খারাপ এবং ভালো দিক আছে যা ব্যবহারের উপর নির্ভর করে।

আনারস খেলে কি এলার্জি হয়

আনারস এমন একটি ফল যাতে প্রোটিনের পরিমাণ কম থাকে, আনারস বিশুদ্ধ মাপের একটি ফল যাতে এলার্জি হওয়ার কোন সম্ভাবনা নেই। আমাদের মাঝে অনেকেরই আনারসে এলার্জি রয়েছে। পুসকুনি চুলকানি সহ ইত্যাদি ধরনের এলার্জি রোগ। তাই এই ধরনের এলার্জি যাদের আছে তারা আনারস খাওয়া থেকে বিরত থাকুন ও ডাক্তারের পরামর্শ নিন। 

আনারসে এলার্জি সহ আরো বিভিন্ন ধরনের উপাদান রয়েছে । যেমন আনারসে রয়েছে প্রচুর পরিমাণে প্রাকৃতিক চিনি, আনারসের দুটি উপাদান গ্লুকোজ এবং ফ্রুক্টোজ যা ডায়াবেটিস রোগীদের জন্য অত্যন্ত ক্ষতিকর । এছাড়াও আনারস অ্যাসিটিক জাতীয় খাবার যা খালি পেটে খেলে প্রচন্ড পেট ব্যাথা ও গ্যাস্ট্রিক জাতীয় রোগের সৃষ্টি করতে পারে। এছাড়াও আনারস দাঁতের জন্য অত্যন্ত ক্ষতিকর যাদের দাঁতের সমস্যা তারা দূরে থাকুন।

গর্ভাবস্থায় আনারস খেলে কি হয়

মায়েদের জন্য অত্যন্ত খুশির খবর গর্ভাবস্থায় আসা। অনেক নিয়ম-কানুন মেনে চলতে হয় এই অবস্থায়। ঠিক তেমনি আনারস বা পেঁপের মত কয়েকটি ফল গর্ভাবস্থায় খাওয়া খুবই ঝুঁকিপূর্ণ। তাই জেনে নিন গর্ভাবস্থায় আনারসের উপকারিতা এবং অপকারিতা এবং সুস্থ থাকুন সুন্দর থাকুন।

আনারস গর্ভাবস্থায় কি ঠিক সঠিক খাবার নয়। তবে কিছু নিয়ম অনুসরণ করে খেতে পারি যাতে মা ও শিশু দুজনেরই উপকার হবে। আনারস কে সাধারণত গর্ভবতী মহিলারা দূরে সরিয়ে দেয়। কারণ এতে  ব্রমেলাইন নামক এক ধরনের এনজাইম রয়েছে । যা আপনার দেহে প্রচুর পরিমাণে উপস্থিত হলে গর্ভপাতের জন্য সমস্যা হতে পারে। আপনার আনারস খাওয়া এক সপ্তাহে সাত বা আট কাপে সীমাবদ্ধ করার চেষ্টা করুন এবং ক্যানিং প্রক্রিয়া চলাকালীন ফল থেকে ব্রুমেলিন নিষ্কাশিত হওয়ায় আপনি ও আনারস খেতে পারেন। 

আনারস খাওয়ার পর দুধ খেলে কি হয়

আমরা লোকমুখে শুনে আসছি আনারস ও দুধ একসঙ্গে খেলে বিষক্রিয়া করে। কিন্তু এটা সম্পূর্ণ ভুল। আনারস একটি অ্যাসিটিক এবং টক জাতীয় ফল, আর দুধের সাথে কোন টক জাতীয় জিনিস দিয়ে দিলে তার ছানা হয়ে যেতে পারে, বা ফেটে যেতে পারে। বা ছোটখাটো কোন সমস্যা হতে পারে। যেমন বদহজম, পেট ফাঁপা, পেট খারাপ, তবে বিষক্রিয়ার কোন আশঙ্কা নেই। 

আনারস খাওয়ার পর দুধ খেলে কি হয়

বিশেষজ্ঞদের মতে দুধকে বলা হয় আদর্শ খাবার। শুধু দুধই এমন একটি তরল জাতীয় খাবার যেখানে প্রায় সব ধরনের পুষ্টি উপাদান থাকে। প্রোটিন ফ্যাট কার্বোহাইড্রেটের দারুণ এক মিক্সার হলো এই দুধ। দুধ সব বয়সের মানুষ খেতে পারবে।


তবে দই খাবার একসঙ্গে পাকস্থলীতে গেলে কিছু সমস্যা হতে পারে, যৌথ সমস্যার কারণে কিছু কিছু বিজ্ঞানীদের মতে বলা হয় । দুধ ও আনারস একসাথে খেলে মানুষ মারা যায় । কিন্তু এর কোনো বৈজ্ঞানিক ভিত্তি নেই। আবার কিছু কিছু বিজ্ঞানী বলেছেন মৃত্যু তো দূরের কথা অনেক ছোটখাটো সমস্যা হয়েছে বলেও কখনো কোনো প্রমাণ পাওয়া যায়নি।

পিরিয়ডের সময় আনারস খেলে কি হয়

আনারসের অনেক ধরনের উপকারিতা রয়েছে। আনারস খেলে মানুষের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি পায়, এতে প্রচুর পরিমাণ ভিটামিন সি আছে, যা প্রদাহ কমাই। এটি ঋতু বা পিয়ডের সময় তলপেটের ব্যথা ও মেশিন পাম্প কমাতে সাহায্য করে। নিয়মিত আনারস খেলে আমাদের লোহিত রক্তকণিকা এবং শ্বেত রক্ত কণিকা বৃদ্ধি পায়। 

পিরিয়ড চক্র অনুমিত হওয়ার কারণে অনেকগুলো কারণ দায়ী হতে পারে। মানসিক চাপ, ওষুধের পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া, থাইরয়েড সহ নানা সমস্যা। এছাড়াও পারিপার্শ্বিক জীবনযাপনের পুরো অনেকটাই নির্ভর করে। যেমন খাবার খাচ্ছেন কিনা ঠিকঠাক, শারীরিক পরিশ্রম বেশি করছেন না কম করছেন সময়মতো ঘুমাচ্ছেন কিনা তা খেয়াল করুণ।


সব কিছু সঠিকভাবে না করলে এ ধরনের সমস্যা হয়ে থাকে। সিঁড়ি থেকে খাওয়ার হিসেবে আনারস অনেক প্রিয় বা ভালো একটি খাবার। আনারস খেলে রক্ত প্রবাহ নিয়ন্ত্রণ মাসিকের সময় জরায়ুর আস্তরণের ক্ষরণে সহায়তা করে। এছাড়া পিরিয়ডের অনিয়মিত হলেও আনারস খেতে পারেন। কিন্তু গর্ভাবস্থার প্রথম দিকে না খাওয়াই ভালো যা ক্ষতিকর।

জলডুগি আনারস উপকারিতা কি কি

জলডুগি আনারস উপকারিতা জানুন যা সারাবিশ্বের অনেক জায়গায় এই আনারস পাওয়া যায়। যার মধ্যে ফিলিপাইন, ব্রাজিল, কোস্টারিকা এই তিনটি অন্যতম। আনারসের বিভিন্ন জাতের মধ্যে জলডুবি ও একটি ভালো জাত। এই আনারস চাষ ঘোড়াশাল সহ পার্বত্য এলাকায় বেশি পাওয়া যায়। যা পুষ্টি এবং বিভিন্ন উপাদানের ভরপুর , অন্যান্য আনারস এটাও অনেক উপকারী ও মজাদার খাবার। 

বাংলাদেশের কোন কোন জেলায় ভালো আনারস উৎপাদন হয়? 

আনারস বাংলাদেশের সিলেট, মৌলভীবাজার, চট্টগ্রাম, পার্বত্য চট্টগ্রাম এবং টাঙ্গাইল জেলায় ব্যাপক  ভাবে চাষ হয়। আবার ঢাকা, নরসিংদী, কুমিল্লা, দিনাজপুর জেলাতেও আনারসের চাষাবাদ হয়। আনারসের বিখ্যাত জেলার মধ্যে চট্টগ্রাম, মৌলভীবাজার, শ্রীমঙ্গল ও টাঙ্গাইল জেলার মধুপুর এলাকায় অন্যতম। আনারস সেই জায়গার অনেক অনেক উপকারী ফসল আনারস। 

এছাড়াও আনারস বাংলাদেশের বিভিন্ন পাহাড়ি অঞ্চলে অনেক ভাবে চাষ হয়ে থাকে। যেমন পার্বত্য জেলা রাঙ্গামাটি, খাগড়াছড়ি, বান্দরবান, পাহাড়ি অঞ্চল সময়ে এই আনারস চাষ হয়ে থাকে। সেখান থেকে সারাদেশের মানুষের কাছে পৌঁছে যায় এই সুস্বাদু কর ও পরিপূর্ণ পুষ্টিতে ভরপুর একটি খাবার।

দ্রুত পেটের গ্যাস কমানোর উপায় জানুন

দ্রুত পেটের গ্যাস কমানোর উপায় হল, আনারস ফলের উপকারের শেষ নাই, এটি প্রোটিনে ভরপুর একটি আঁশযুক্ত খাবার। সকালে খালি পেটে খাওয়ার জন্য আনারস চমতকার একটি ফল। এতে প্রচুর পরিমাণ ভিটামিন সি, ম্যাঙ্গানিজ যাদের বিভিন্ন ক্যালরি পূরণে সাহায্য করে। গবেষণায় দেখা গেছে ১০০ গ্রাম আনারসে মাত্র ৫০ কিলোক্যালরি শক্তি পাওয়া যায়।
খালি পেটে আনারস খাওয়ার উপকারিত

আনারসের কিছু অপকারিতা আছে যা খালি পেটে খেলে হয়। এর মদ্ধে পেট ফাঁপা, গ্যাস্ট্রিক, বদহজম ইত্যাদি সমস্যা হতে পারে। তাই যাদের গ্যাস্টিক আছে তাদের জন্য খালি পেটে আনারস খাওয়া ক্ষতিকর কিন্তু। পেটে কৃমি জাতীয় কোন সমস্যা থাকলে আনারসের মাধ্যমে সমাধান হয়। এভাবেই আনারস বিভিন্ন ঘাটতি পূরণ করে থাকে। 

রাতে আনারস খেলে কি হয় জানুন

রাতে আনারস খেলে কি হয়। আসলে অনেকেরই রাতে খাবার তালিকায় ফলমূল থাকে, এর মধ্যে কেউ আবার আনারসকে নেয়। অন্যান্য ফলের মতো এটি একটি পুষ্টিকর ফল ভিটামিন মিনারেল সহ বিভিন্ন উপাদানে ভরপুর । রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ানোর সহ বিভিন্ন ধরনের সহযোগিতা করে থাকে মানুষের দেহের। যেমন,
  • শরীরে যেসব উপকার পেতে আনারস খাওয়া ভালো যা গ্যাস ভালো করে। 
  • মানুষ এর একটি পুষ্টির ভান্ডারও বলা যেতে পারে।
  • আনারস খেলে হজম শক্তি বাড়ে।
  • আনারসের প্রচুর পরিমাণ ক্যালসিয়াম ও ম্যাঙ্গানিজ রয়েছে যাতে হাড়ের সুস্থতা বজায় রাখতে সাহায্য করে।
  • অতিরিক্ত ওজন কমাতে সাহায্য করে।
  • চোখের সুরক্ষা দেয়। দাঁত ও মাড়ির যেকোনো সুরক্ষায় আনারসের গুরুত্ব অপরিসীম। তাই প্রয়োজনমতো আনারস খান এবং সুস্থ থাকুন সুন্দর থাকুন। 

আনারস খাওয়ার উপকারিতা ও অপকারিতা নিয়ে শেষ কথা 

আনারস খাওয়ার উপকারিতা ও অপকারিতা তা আশা করি পোস্টটি ভালোভাবে পড়েছেন এবং আনারস সম্পর্কে অনেক কিছু জানতে পেরেছেন। সত্যিই আনারস একটি অত্যন্ত পুষ্টিকর এবং সুস্বাদু খাবার, যা মানুষের শরীরে অনেক প্রয়োজনীয়। বিভিন্ন ধরনের প্রোটিন, আমিষ, ম্যাঙ্গানিজ, ভিটামিন সি জাতীয় উপাদান থাকায় এটি শরীরের অনেক উপকারে আসে। তাই আপনি অনিয়মিত আনারস খান এবং সুস্থ থাকুন।

এই পোস্টটি পরিচিতদের সাথে শেয়ার করুন

পূর্বের পোস্ট দেখুন পরবর্তী পোস্ট দেখুন
এই পোস্টে এখনো কেউ মন্তব্য করে নি
মন্তব্য করতে এখানে ক্লিক করুন

মুক্তআঁখি আইটির নীতিমালা মেনে কমেন্ট করুন। প্রতিটি কমেন্ট রিভিউ করা হয়।

comment url