মসুর ডালের ৯টি উপকারিতা ও অপকারিতা বিস্তারিত জেনে নিন

প্রিয় পাঠক আপনি যদি মসুর ডালের উপকারিতা ও অপকারিতা সম্পর্কে বিস্তারিত সঠিক তথ্য না জেনে থাকেন তাহলে অবশ্যই সঠিক জায়গায় প্রবেশ করেছেন কারণ এখানে উপস্থাপন করা হবে মসুর ডালের বিভিন্ন উপকারিতা, কিভাবে সেই উপকারিতা গুলো হয়।

মসুর ডালের উপকারিতা ও অপকারিতা

এবং আরো জানতে পারবেন যে, মসুর ডালের মধ্যে কি ধরনের পুষ্টি উপাদান রয়েছে যে পুষ্টি উপাদান গুলোর কারণে আমাদের শরীরে বিভিন্ন পুষ্টি চাহিদা পূরণ করবে এবং রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি করে শরীরকে পুনর্গঠন করতে সাহায্য করবে। তাহলে আর দেরি না করে চলুন সেই গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলো জানি। 

পোস্ট সুচিপত্রঃ মসুর ডালের ২১ টি উপকারিতা ও অপকারিতা বিস্তারিত জেনে নিন

মসুর ডালের উপকারিতা ও অপকারিতা বিস্তারিত জানুন

মসুর ডালের উপকারিতা ও অপকারিতা জেনে আপনি মসুর ডাল খাওয়ার মাধ্যমে বিভিন্ন উপকারিতা পেতে পারবেন এবং যে ক্ষতিকর দিক বা অপকারিতা গুলো রয়েছে সেই ক্ষতিকর দিক বা অপকারিতা গুলো থেকে নিজেকে রক্ষা করতে পারবেন। কি ধরনের উপকার হয় তাহলে প্রথমে জেনে নিয়ে যাক। তবে এর কিছু পার্শ্ব প্রতিক্রিয়া থাকতে পারে বিশেষ নির্দিষ্ট অবস্থায় বা অতিরিক্ত হওয়ার ফলে কিছু পার্শ্ব প্রতিক্রিয়া হয় চলুন পর্যায়ক্রমে জানি।

  • প্রোটিনের উৎসঃ মসুর ডাল প্রোটিন সমৃদ্ধ যা পেশি গঠন এবং কোষের গঠন পুনর্গঠন করতে বিশেষ ভূমিকা রাখে, এটি বিশেষিত নিরামিষ ভোজীদের জন্য প্রোটিনের একটি চমৎকার উৎস। 
  • উচ্চ ফাইবারঃ মসুর ডালে ফাইবার থাকা এটি হজম শক্তি বাড়ায় এবং কোষ্ঠকাঠিন্য দূর করতে সাহায্য করে। এটি রক্তে শর্করার মাত্রা নিয়ন্ত্রণ করে যার ফলে বিভিন্ন রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি পায় এবং হওয়া থেকে বাধা দেয়। 
  • ওজন নিয়ন্ত্রণে সহায়কঃ যারা অতিরিক্ত ওজন নিয়ে চিন্তিত তাদের জন্য মসুর ডাল অত্যন্ত উপযোগী কম ক্যালোরি এবং উচ্চ প্রোটিন ও ফাইবার থাকার কারণে এটি দীর্ঘ সময় ধরে পেটে থাকে যার ফলে ওজন নিয়ন্ত্রণে রাখতে বিশেষ ভূমিকা রাখে। 
  • হার্টের জন্য উপকারীঃ মসুর ডালে থাকা পটাশিয়াম রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণ করতে সাহায্য করে এটি কোন রাষ্ট্রের মাত্রা কমায় এবং হৃদরোগের ঝুঁকি কমিয়ে থাকে যার ফলে আপনি হার্ট অ্যাটাক বা হার্টের সমস্যা থেকে নিজেকে রক্ষা করতে পারবেন।
  • শক্তি বৃদ্ধিঃ মসুর ডাল কার্বোহাইড্রেট সমৃদ্ধ যা দীর্ঘস্থায়ী শক্তি প্রদান করে, আপনি জমে থাকা আয়রন রক্তশূন্যতা প্রতিরোধের কাজে এবং শরীরে অক্সিজেন পরিবহন এর উন্নত করার ক্ষেত্রে ব্যবহার করতে পারবেন। 
  • ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণঃ মসুর ডালের গ্লাইসেমিক ইনডেক্স খুবই কম থাকে যার ফলে এটি ডায়াবেটিস রোগের জন্য নিরাপদ। তাই অবশ্যই মসুর ডাল খেতে পারবেন, এটা অত্যন্ত স্বাস্থ্য উপযোগী। 
  • ত্বক ও চুলের জন্য উপকারীঃ মসুর ডাল ভিটামিন সমৃদ্ধ এতে প্রচুর পরিমাণে ভিটামিন ও খনিজ পদার্থ রয়েছে। এট আপনার ত্বকের উজ্জ্বলতা বৃদ্ধি করবে এবং স্বাস্থ্যকর চুল বজায় রাখতে সাহায্য করবে। 
  • শরীরের টক্সিন দূর করেঃ আপনার শরীরে যদি প্রচুর পরিমাণে দূষিত টক্সিন থাকে, তাহলে এই মসুর ডাল খাওয়ার মাধ্যমে এর সমাধান করতে পারবেন।
  • সহজপাচ্য খাবারঃ সহজে হজম হয়, এটি পেতে হালকা বিশেষ্যতো, যদি সঠিকভাবে রান্না করা হয়। এবং এটি সঠিকভাবে রান্না করলে এর অনেক উপকারিতা রয়েছে। তাই সঠিকভাবে রান্না করে খাওয়াটাই অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। বিভিন্ন উপকারিতা সম্পর্কে জানলাম এখন জানবো কিছু বিপদ বা ক্ষতিকর পার্শ্ব প্রতিক্রিয়া সম্পর্কে বিস্তারিত। 

মসুর ডালের অপকারিতা সম্পর্কে বিস্তারিতঃ মসুর ডালের উপকারিতা ও অপকারিতা দেখুন,

  • গ্যাসের সমস্যা বা পেট ফাঁপা সমস্যাঃ মসুর ডালে থাকা অলিগো স্যাকারাইড কার্বোহাইড্রেট গ্যাসের কারণ হয়ে যায়। কারণ যাদের পেটের বিভিন্ন সমস্যা রয়েছে তাদের জন্য এটা ক্ষতিকর হতে পারে। 
  • এসিডের উপস্থিতিঃ মসুর ডালের ফাইটিক এসিডের উপস্থিত রয়েছে যা আয়রন, জিং এবং ক্যালসিয়ামের শোষণে বাধা দেয় এর ফলে আপনার বিভিন্ন পুষ্টি ঘাটতি হতে পারে। 
  • কিডনির পাথরের ঝুঁকিঃ অতিরিক্ত পরিমাণে মসুর ডাল ব্যবহার করলে মসুর ডালে থাকা অক্সালেট যা কিডনিতে পাথর জমাতে সাহায্য করে। 
  • পিউরিনের প্রভাবঃ পিউরিন এর প্রভাবে শরীরের ইউরিক এসিড প্রচন্ড পরিমাণে বেড়ে যায় এবং পেট ব্যথা ইউরিক এসিড সংক্রান্ত সমস্যায় তাই এটি খাওয়া কমিয়ে দেওয়া উচিত। 
  • এলার্জি বাড়ায়ঃ কিছু মানুষের ক্ষেত্রে মসুর ডাল অত্যন্ত এলার্জি সম্পন্ন এর প্রতিক্রিয়া হিসেবে চুলকানি, পেট ব্যথা এবং বিভিন্ন সমস্যা সৃষ্টি করে। 
  • অতিরিক্ত ওজন বৃদ্ধি করেঃ যদি অতিরিক্ত পরিমাণে মুগ ও মুসুর ডাল খেয়ে থাকেন বা তেল বা ঘি ব্যবহার করেন, খাওয়ার সময়। তাহলে এটি ক্যালরি বাড়ি দিয়ে আপনার শরীরকে অতিরিক্ত ওজন বৃদ্ধির দিকে ধাবিত করবে। 

মসুর ডাল খাওয়ার সঠিক উপায়, পরিমত পরিমাণে খাওয়া সঠিকভাবে রান্না করে খাওয়া তেল বা মসলা নিয়ন্ত্রিতভাবে ব্যবহার করা, বিভিন্ন খাবারের সঙ্গে মিশিয়ে খাওয়া যা ভাট, রুটি বা শাকসবজির সঙ্গে মিশে খাওয়া। মসুর ডাল পুষ্টি করে এবং উপকারী একটি খাদ্য তবে অতিরিক্ত খাওয়ার ফলে বিশেষ কিছু সমস্যা সৃষ্টি হতে পারে। তাই সঠিকভাবে রান্না করে পরিমিতভাবে খেতে হবে এবং তাহলে স্বাস্থ্য ঝুঁকি এড়ানো যাবে এবং এর যে উপযুক্ত উপকারিতা রয়েছে পাওয়া যাবে। এছাড়াও আপনি ডাক্তারের পরামর্শ গ্রহণ করতে পারেন মসুর ডালের উপকারিতা ও অপকারিতা জানতে। 

মসুর ডাল দিয়ে ফর্সা হওয়ার উপায় শিখে রাখুন। 

মসুর ডাল দিয়ে ফর্সা হওয়ার উপায় আছে। যেই উপায় গুলো আপনি জানলে অবশ্যই মসুর ডাল ব্যবহার করে রূপচর্চা এবং ফর্সা হতে পারবেন। মসুর ডালের বিদ্যামান বিভিন্ন পুষ্টিগুণ এবং প্রয়োজনীয় মিনারেল যা আপনার শরীরের বিভিন্ন উপকারিতা করার পাশাপাশি আপনার চেহারা বা ত্বককে উজ্জ্বল করতে সাহায্য করে। 

  • যেমন, আপনার মুখের বিভিন্ন রকম ময়লা আবর্জনা, ডার্ক সার্কেল দূর করবে।
  • ব্রণের দাগ বিভিন্ন রকম দাগ তুলতে সাহায্য করবে। 
  • সারাদিনের ময়লা আবর্জনা নিমিষেই পরিষ্কার করার জন্য মুগ ডাল এর এই থেরাপি গুলো ব্যবহার করতে পারবেন। 
  • আপনার ত্বককে ফর্সা হতে সাহায্য করবে ধীরে ধীরে এটি ব্যবহার করতে হবে। 

উল্লেখিত উপকারিতা গুলো পাওয়ার জন্য আপনাকে প্রথমে মুসুর ডাল সংগ্রহ করতে হবে। এবং সেগুলো পরিষ্কার পরিচ্ছন্নভাবে ধুয়ে নিতে হবে। এরপর আপনাকে সেই মুসুর ডালগুলো কে পেস্ট তৈরি করে নিতে হবে খুব ভালোভাবে, এরপর আপনি এই পেস্টের সাথে অল্প পরিমাণ অথবা এক টেবিল চামচ লেবু মিশাতে পারবেন। যা ত্বকের পুষ্টিগুণ সুরক্ষা করবে। এই মিশ্রণটি তৈরি করার পর আপনি ঘুমাতে যাওয়ার পূর্বে অথবা সকালে এই মিশ্রণটি মুখে ব্যবহার করে আধা ঘন্টা রেখে দিয়ে তারপর ধুয়ে ফেলুন। এভাবে কিছুদিন ব্যবহার করলে উল্লেখিত উপকার গুলো পেতে থাকবেন। 

মসুর ডাল দিয়ে রূপচর্চা করতে হয় যেভাবে 

মসুর ডাল দিয়ে রূপচর্চা করতে হয় যেভাবে আপনি যদি না জেনে থাকেন। তাহলে এই থেরাপি টা জেনে নিন। মসুর ডাল কে খুব সহজ উপায় এর নিম্ন প্রক্রিয়াটি করতে হবে। প্রথমে আপনাকে মসুর ডাল নিয়ে সেগুলোকে মিহি মিহি করে পিষে নিতে হবে। এবং দুই চামচ ডালের গোড়া নিতে হবে এবং এক চামচ পরিমাণ লেবুর রসের ডালের গুঁড়ো সাথে মিশিয়ে নিতে হবে।

আরো পড়ুনঃ সকাল বেলা খালি পেটে পেয়ারা খেলে কি হয় বিভিন্ন টিপস 

লেবু রসের পরিবর্তে আপনি গোলাপ জলের রস অথবা নিম পাতাও ব্যবহার করতে পারেন। এই উপায়ে আপনি মুসুর ডালের ফেসপ্যাক বানিয়ে নিতে পারবেন। এবং এগুলো বাড়িতেই তৈরি করতে পারবেন। কোন প্রকারের খরচ ছাড়া শুধু মুসুর ডাল তৈরি করে নিতে হবে। এবং লেবু দিয়ে সেগুলো তৈরি করে খুব সহজে আপনি ব্যবহার করতে পারবেন। দিনে দুইবার ব্যবহার করলে এবং সঠিকভাবে ব্যবহার করবে। 

তাহলে অবশ্যই আপনি রূপচর্চায় উন্নত করতে পারবেন মুসুর ডাল দিয়ে রূপচর্চা করতে এই সহজ উপায়টি অবশ্যই আপনি অবলম্বন করবেন বলে আশা করা যায়। কারণ এই উপায়টি অবলম্বন করলে আপনার বিভিন্ন রূপ গুণ ও সৌন্দর্য বৃদ্ধির ক্ষেত্রে বিশেষ ভূমিকা রাখবে। এছাড়াও অনেক উপকারিতা রয়েছে মুসুর ডালের যা পর্যায়ক্রমে নিচে আলোচনা করা হবে আপনি প্রয়োজনে সেগুলো জেনে নিতে পারেন। 

মসুর ডাল খেলে কি মোটা হয় জানুন 

মসুর ডাল খেলে কি মোটা হয় অনেকেই জানেনা। মসুর ডাল অত্যন্ত পুষ্টিকর গুণ সমৃদ্ধ খাবার। এটি নিয়মিত এবং পরিমিত পরিমাণে গ্রহণ করলে আপনার শরীরের বিভিন্ন পুষ্টিগুণ এবং বিভিন্ন মিনারেল এর চাহিদা পূরণ করবে। এই দিক থেকে দেখা যায় যে, আপনি যদি নিয়মিত মুগ ডাল বা মসুর ডাল খান তাহলে মোটা হতে পারবেন। 

আরো পড়ুনঃ তেতুলের বিচির উপকারিতা ও অপকারিতা ও গোপন টিপস

একজন প্রাপ্তবয়স্ক মানুষের জন্য মসুর ডাল অত্যান্ত উপকারী এতে প্রচুর পরিমাণে প্রোটিন এবং ফাইবার থাকে। সুতরাং আপনি যদি শরীরের দুর্বলতা এবং শরীরকে পুনর্গঠন করতে চান তাহলে অবশ্যই মুগ ও মুসুর ডাল খেতে পারেন নিয়মিত। এটি খাওয়ার জন্য আপনি বিভিন্ন উপায় অবলম্বন করতে পারবেন। যা আরো  বিস্তারিত আলোচনা করা হয়েছে সেখান থেকে দেখে নিতে পারবেন।

মসুর ডাল খেলে কি মোটা হয়

মুসুর ও গুগ ডালে কম ফ্যাট এবং কম কার্বোহাইড্রেট থাকে এর জন্য উচ্চ ফাইবার সমৃদ্ধ হজম প্রক্রিয়া ধীর করে দেয় যা ওজন কমাতেও সাহায্য করে। এছাড়া মুগ ডাল কে বিশেষজ্ঞরা গবেষণা করে দেখেছেন এটা প্রচুর পরিমাণ প্রোটিন এর ভান্ডার হিসেবে বিবেচিত। তাই সঠিক ব্যবহার করুন এবং মুগ ডাল ফেলে কি মোটা হয় এর প্র্যাকটিক্যাল উদাহরণ বুঝে নিন। 

মসুর ডালের ক্ষতিকর দিকগুলো জেনে রাখুন

মসুর ডালের ক্ষতিকর দিকগুলো আমাদের জানা উচিত। কারণ অনেকে রয়েছে যারা মসুর ডাল খেতে পছন্দ করেন তাদের খাদ্য তালাকায় প্রতিদিন মসুর ডাল থাকে। সুতরাং মসুর ডাল খাওয়ার ফলে যে কি ধরনের উপকারিতা ও ক্ষতিকর প্রভাব রয়েছে তা সম্পর্কে বিস্তারিত জানা প্রয়োজন।

জয়েন্টের ব্যথা বাড়ায়, কিডনির রোগের সংক্রান্ত রোগের জন্য মসুর ডাল খাওয়া ক্ষতিকারক কারণ মসুর ডালে অক্সালেট বেশি থাকে। কিডনি রোগে আক্রান্ত রোগীদের জন্য ডাল খাওয়া অত্যন্ত ক্ষতিকর কারণ এই ডালে প্রচুর পরিমাণ অক্সালেট থাকে। এছাড়াও কীর্তিতে পাথর হলে এই রোগীদের জন্য আরো ভয়ঙ্কর পরিস্থিতির সৃষ্টি করতে পারে। 

পেট ফাঁপা ফাইটিক এসিডের প্রভাব কিডনি পাথর সহ আরো অনেক ধরনের সমস্যা সৃষ্টি করতে পারে। তাই অতিরিক্ত পরিমাণ মুগ ও মুসুর ডাল খাওয়া থেকে অবশ্যই বিরত থাকুন। এই ক্ষতি থেকে বাঁচার জন্য যে উপায়গুলো অবলম্বন করতে হবে তা আমাদের জেনে রাখা উচিত। সে উপায়গুলো আপনাদেরকে জানানোর উদ্দেশ্যে উপস্থাপন করলাম। 

 এর জন্য ভালোভাবে ধুয়ে নিতে হবে, ভিজিয়ে রাখতে হবে, সঠিক ভাবে রান্না করতে হবে, পরিমাণ নিয়ন্ত্রণ করে মসলা এবং বিভিন্ন শাকসবজি সাথে মিশিয়ে খেতে হবে। মসুর ডালের একটি স্বাস্থ্যকর খাবার তবে অতিরিক্ত পরিমাণ ব্যবহার করা থেকে অবশ্যই দূরে থাকতে হবে কারণ অতিরিক্ত সকল কিছুই ক্ষতির প্রভাব বিস্তার করে তাই আপনাকে অবশ্যই সচেতন ভাবে ব্যবহার করতে হবে। 

মসুর ডাল খেলে কি গ্যাস হয় জানুন 

মসুর ডাল খেলে কি গ্যাস হয় এ বিষয়ে ইতিমধ্যে একটি পোস্ট রয়েছে যে পোস্টটি পড়ে আপনি জেনে নিতে পারেন। যে মসুর ডাল খেলে কি গ্যাস হয়। মসুর ডালে প্রচুর পরিমাণে ফাইবার এবং প্রোটিন, কার্বোহাইড্রেট এবং খনিজ সমৃদ্ধ উপাদান রয়েছে যা আপনার শরীরে হজম শক্তি কম থাকলে গ্যাস্ট্রিক হওয়ার সম্ভাবনা থাকে।

আরো পড়ুনঃ সকালে খালি পেটে মধু ও কালোজিরা খাওয়ার উপকারিতা ও ৯ টি উপকারিতা

পেট ফোলার সম্ভাবনা থাকে এবং যারা শারীরিকভাবে দুর্বল তাদের জন্য এই মসুর ডাল খাওয়া থেকে দূরে থাকা ভালো কারণ শুধু ডাল খেলে কি গ্যাস হয় এ বিষয়টি তাদের জন্য অত্যন্ত ভয়ঙ্কর দিক হয়ে দাঁড়াবে। তাই মসুর ডাল যদি আপনার পছন্দ হয়ে থাকে তাহলে প্রয়োজনীয় ডাক্তারি পরামর্শ অনুযায়ী মসুর ডাল খান।

মসুর ডাল এতটাই গ্যাসের জন্য ভয়ঙ্কর। মসুর ডালের পাশাপাশি আরো কিছু খাবার রয়েছে।   যেগুলো খেলে গ্যাস হয় যেমন বিনিস, এগুলো গ্যাসের কারণ হয়ে দাঁড়ায়। এটা বীজ জাতীয় খাবার প্রচুর পরিমাণে ফাইবার এবং কার্বোহাইড্রেট থাকে, তা গ্যাস এবং পেট ফাঁপার সমস্যার সৃষ্টি করে। এছাড়াও পানীয় খাবার যেমন কিছু পানীয় খাওয়ার মধ্যে সোডা কোমল পানীয় এসিড। সজ্বজি ফুলকপি  বাঁধাকপি পেট খাওয়া সমস্যা বাড়ায় পেট ফোলা নিয়ন্ত্রণে ধনিয়া জিরা এবং মৌরি ব্যবহার করতে পারেন। 

মসুর ডাল খেলে কি এলার্জি হয় জানুন 

মসুর ডাল খেলে কি এলার্জি হয় এই বিষয়ে যদি আপনি না জেনে থাকেন তাহলে জেনে নিন। এই ডালে প্রোটিন বেশি থাকে তাই অতিরিক্ত মাত্রায় খাদ্য তালিকায় যোগ করলে ওজন বৃদ্ধি ও শরীরের অতিরিক্ত চর্বি কমে যাওয়ার আশঙ্কা থাকে। আবার কারো কারো মসুর ডালে এলার্জির সম্ভাবনা দেখা যায় মসুর ডালের মাদ্ধ্যমে।

বিশেষ করে যাদের এলার্জি রয়েছে তাদের জন্য চুলকানি ভাব, ফোলা ভাব গ্যাস্ট্রো ইনস্টল যন্ত্রের মতো সমস্যা দেখা দিতে পারে। মসুর ডাল খাওয়ার পর এলার্জির লক্ষণ গুলো আমাদের জানা উচিত। ত্বকের প্রতিক্রিয়া ত্বকে লালচে দাগ চুলকানি বা র‍্যাস দেখা দিতে পারে, শ্বাসকষ্টের বা শ্বাস-প্রশ্বাসের সমস্যা সৃষ্টি হয় শ্বাসকষ্ট গলা বন্ধ হওয়ার অনুভূতি বা কাশি হওয়া।

আরো পড়ুনঃ এলোভেরার উপকারিতা ও অপকারিতা নিয়ে বিভিন্ন কার্যকারী টিপস 

পেটের সমস্যা, বমি, ডায়রিয়া, পেট ব্যথা ও অস্তিত্ব হতে পারে, পাশাপাশি খোলা ভাব মুখ ঠোঁট গলা ও চোখের চারপাশে ফলা ভাব দেখা দিতে পারে, খুব বিরল ক্ষেত্রে এটি মারাত্মক আকার নিতে পারে এতে রক্তচাপ কমে যাওয়ার সম্ভাবনা থাকে। এবং অজ্ঞান হয়ে যাওয়ার সম্ভাবনা থাকে তীব্র শ্বাসকষ্ট হতে পারে।

প্রোটিনের সংবেদনশীলতা মসুর ডালের প্রোটিন অতি শরীরের অস্বাভাবিক প্রতিক্রিয়া এলার্জির কারণ হতে পারে, জেনেটিক প্রভাব যেমন, যাদের পরিবারের জন্য অন্য সদস্যের ডাল জাতীয় খাবার এলার্জি রয়েছে তাদের ক্ষেত্রে এই ঝুঁকি দেখা দেয়। অতিরিক্ত বা অপরিচিত উপাদান, কখনো কখনো ডালে থাকা রাসায়নিক বা সংরক্ষণকারীর উপাদান এলার্জির কারণ হতে পারে। 

এর জন্য আপনাকে কিছু সর্তকতা অবলম্বন করতে হবে। অল্প পরিমাণ ব্যবহার করতে হবে চিকিৎসকের পরামর্শ গ্রহণ করতে হয় অন্যান্য ডাল পরীক্ষা করে ব্যবহার করতে হবে। এতে  এন্টিহিস্টামিন ওষুধ ব্যবহার করতে হবে যা এলার্জি প্রতিক্রিয়া দেখা দিলে তাৎক্ষণিক ব্যবহার করতে পারবেন। সাধারণত একটি নিরাপদ পুষ্টিকর সমাধান হবে এর কিছু সংবেদনশীল প্রতিক্রিয়া রয়েছে যা এলার্জি সহকারে বিভিন্ন সমস্যা সৃষ্টি করতে পারে। তাই আপনি অবশ্যই চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী ব্যবহার করুন।

প্রতিদিন মসুর ডাল খেলে কি হয় - রাতে মসুর ডাল খেলে কি হয় 

প্রতিদিন মসুর ডাল খেলে কি হয় যারা জানেন না এবং রাতে মসুর ডাল খেলে কি হয় এই বিষয়গুলো জানার জন্য এই পোস্টটি ওপেন করেছেন। তাদের এই সহজ তথ্য গুলো উপস্থাপন করে গেলাম। এখানে আপনি অবশ্যই জানতে পারবেন প্রতিদিন মসুর ডাল খেলে কি কি সুবিধা পাওয়া যায়। মসুর ডাল খাওয়ার ফলে আপনার শরীরের প্রোটিন ও ভিটামিনের চাহিদা পূরণ হবে। যে প্রোটিন ও ভিটামিন শরীরে অত্যন্ত প্রয়োজনীয়।


প্রতিদিন মসুর ডাল খেলে কি হয় - রাতে মসুর ডাল খেলে কি হয়

পাশাপাশি আপনি বিভিন্ন সুবিধা গ্রহণ করতে পারবেন। যেমন আপনার শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি পাবে, ত্বকের উজ্জ্বলতা বৃদ্ধি করবে, ওজন বৃদ্ধি করতে সাহায্য করবে, পাশাপাশি আপনি রাতে মসুর ডাল খেলে আপনার যে উপকারিতা পাবেন তা হলো আপনি রাতে ক্ষুধা লাগা থেকে বেঁচে যাবেন। সহজেই বিভিন্ন পুষ্টি চাহিদা পূরণ করতে পারেন। 

মসুর ডালের প্রচুর পরিমাণ স্বাস্থ্যকর ফ্যাট অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট প্রোটিন, ফাইবার, ভিটামিন এ, ভিটামিন ডি, ভিটামিন ই এবং বি৬ আরো অনেক পুষ্টি উপাদান রয়েছে। যা আহরণ হলেন আপনার শরীরের ভিটামিনের চাহিদা পূরণ করবে এবং বিভিন্ন অ্যামিনো এসিড রয়েছে যোগান দিতে সাহায্য করবে তাই রাতে ডাল ভাত খাওয়া স্বাস্থ্যের জন্য উপকারী বলে বিভিন্ন বিজ্ঞানী ও গবেষক গবেষণা করেছেন। 

অঙ্কুরিত মুগ ডালের উপকারিতা 

অঙ্কুরিত মুগ ডালের উপকারিতা রয়েছে অনেক, মুগ ডালের মধ্যে অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট পটাশিয়াম ও ম্যাগনেসিয়াম এর মত উপাদান পাওয়া যায়। যা আপনার শরীরের প্রয়োজনীয় ভিটামিন এবং উচ্চ রক্তচাপ কমানোর সাহায্য করে। আপনি যদি আপনার শরীরের কোলেস্টেরল ও হৃদরোগের সমস্যায় থাকেন তাহলে এটি ঝুঁকি কমিয়ে দিতে সাহায্য করে। 

সুতরাং বলা যায় ডায়াবেটিকস ও বিভিন্ন রোগব্যাধি ক্ষেত্রে উপকারিতা পাওয়ার জন্য এই মুগ ডাল খেতে পারবেন। পুষ্টি উপাদানের দিক থেকে এটি অনেক উন্নত খাবার তাই প্রতিদিনের খাবার তালিকায় বিভিন্ন ডাল খাবার পাশাপাশি মুগ ডাল খাবার রাখতে পারেন। প্রতিদিনের খাবারের তালিকায় ডাল রাখলে আপনার স্বাস্থ্যের উন্নতি হবে এবং স্বাস্থ্য বল বৃদ্ধি পাবে। 

সুতরাং অঙ্কিত মুগ ডালের উপকারিতা পাওয়ার জন্য আপনি নিয়মিত মুগ ডাল খেতে পারেন এতে অনেক উপকারিতা রয়েছে। এবং বিভিন্ন পুষ্টি ঘাটতি পূরণ করার জন্য আপনি বিভিন্ন উপায় অবলম্বন করার পাশাপাশি এই মুগ ডাল খাওয়ার উপায় অবলম্বন করতে পারেন। এটা অত্যন্ত সেমিক ইনডেক্স কম থাকা এবং ফাইবারের পরিমাণ বেশি থাকায় শরীরের শক্তি ও গুণগত মান বজায় রাখে। 

মুসুর ডাল নিয়ে সচরাচর জিজ্ঞাসিত প্রশ্ন ও উত্তর জানুন

প্রশ্নঃ ১০০ গ্রাম মসুর ডালে কত ক্যালরি থাকে?

উত্তরঃ প্রতি ১০০ গ্রাম মসুর ডালে ৩৫২ ক্যালোরি ও ২৪.৬৩ গ্রাম প্রোটিন রয়েছে, যা প্রোটিনের দৈনিক মানের ৪৪ শতাংশ পুরণ করে। এছাড়া প্রয়োজনীয় প্রোটিন, ভিটামিন, অ্যামিনো অ্যাসিড, ফাইবার, পটাশিয়াম, আয়রন প্রভৃতি প্রচুর পাওয়া যায়।

প্রশ্নঃ মসুর ডাল খেলে কি ওজন বাড়ে?

উত্তরঃ মসুর ডাল খেলে ওজন বাড়্রে। এর মদ্ধে উপকারী উপদান আচছে যা শরীর এর ওজন বাড়ায়।

প্রশ্নঃ মসুর ডালে কি ক্রিয়েটিন থাকে?

উত্তরঃ অল্প পরিমাণে ক্রিয়েটিন সরবরাহ করে। প্রতি ১০০ গ্রাম চর্বিহীন পেশী ভরে ক্রিয়েটিনের মাত্রা ০.০৭ গ্রাম। কালো বিন, নমুনার প্রতি ১০০ গ্রামে ০.১০ গ্রামে ক্রিয়েটিনিনের উপস্থিতি লক্ষ্য করা গেছে। মসুর ডাল, প্রতি ১০০ গ্রামে ০.০৫ গ্রাম ক্রিয়েটিন থাকে।

প্রশ্নঃ মসুর ডাল খেলে কি বাতের ব্যথা বাড়ে?

উত্তরঃ প্রোটিনের সাথে মুসুর ডালে রয়েছে পিউরিন নামক একটি উপাদান। এই উপাদানটিই রক্তে ইউরিক অ্যাসিডের পরিমাণ বাড়ায়। আর্থ্রাইটিস ছাড়া অস্থিসন্ধির ব্যথা বেড়ে যাওয়ার পিছনে কিন্তু মুসুর ডালের ভূমিকা রয়েছে। যাঁদের কিডনির সমস্যা রয়েছে, তাঁদেরও মুসুর ডাল খেতে বারণ করেন পুষ্টিবিদেরা।

প্রশ্নঃ প্রতিদিন ডাল খেলে কি হয়?

উত্তরঃ প্রতিদিন মুসুর ডাল খাওয়া ভালো এতে অনেক উপকার হয়। যে উপকার সম্পর্কে উপরে আলোচনা করেছি। তবে অতিরিক্ত খাওয়া থেকে বিরত থাকুন।

মসুর ডালের উপকারিতা ও অপকারিতা নিয়ে শেষ মন্তব্য

মসুর ডালের উপকারিতা ও অপকারিতা নিয়ে শেষ মন্তব্য হিসেবে এতটুকুই বলব যে আপনি যদি মসুর ডাল ভালোবেসে থাকেন এবং প্রতিদিনের খাবার তালিকায় মসুর ডাল রাখেন তাহলে এই আর্টিকেলটির মধ্যে যে তথ্যগুলো ইতিমধ্যে আপনি জেনেছেন সেগুলো অবশ্যই আপনার উপকারে আসবে। একজন পূর্ণবয়স্ক মানুষের প্রতিদিন প্রচুর পরিমাণে ভিটামিন ও ক্যালরির প্রয়োজন হয়ে থাকে। 

এই ক্যালোরি এবং ভিটামিনের চাহিদা পূরণ করার জন্য আপনি যদি প্রতিদিনের খাবার তালিকায় মুগ ডাল রাখেন তাহলে অবশ্যই বিশেষ উপকারিতা পাবেন। তবে একটি কথা বলে রাখা ভালো যে আপনি অবশ্যই কোন কিছু অতিরিক্ত পরিমাণ সেবন করলে বা ব্যবহার করলে এর ভালো ফল পাবেন না তাই অবশ্যই আপনাকে পরিমিত পরিমাণ ব্যবহার করতে হবে যাতে সঠিক উপকারিতা পাওয়া যায় এবং আপনার শরীরের জন্য উপযোগী হয়।

এই পোস্টটি পরিচিতদের সাথে শেয়ার করুন

পূর্বের পোস্ট দেখুন পরবর্তী পোস্ট দেখুন
এই পোস্টে এখনো কেউ মন্তব্য করে নি
মন্তব্য করতে এখানে ক্লিক করুন

মুক্তআঁখি আইটির নীতিমালা মেনে কমেন্ট করুন। প্রতিটি কমেন্ট রিভিউ করা হয়।

comment url