কোন কোন খাবারে এলার্জি আছে তার তালিকা দেখে নিন
কোন কোন খাবারে এলার্জি আছে তার তালিকা দেখে নিতে পারেন। আপনি যদি বিভিন্ন এলার্জি সংক্রান্ত সমস্যায় ভুগে থাকেন। তাহলে অবশ্যই চাইবেন এলার্জি জড়িত বিভিন্ন খাবার যা আপনার খাবার তালিকায় রাখতে হবে। সুতরাং আপনি জেনে নিন কোন কোন খাবারে এলার্জি এবং কোন ধরনের খাবারের মধ্যে কতটুকু পরিমাণ এলার্জি রয়েছে।
এছাড়া কোন কোন সবজিতে এলার্জি নেই এবং কোন কোন মাংসে এলার্জি রয়েছে। কোন ফলে এলার্জি রয়েছে এবং কোন ধরনের ডালে এলার্জি রয়েছে, সকল এলার্জি সম্পর্কিত সকল তথ্য নিমেষে জেনে নিন।
পোস্ট সুচিপত্রঃ কোন কোন খাবারে এলার্জি আছে তার তালিকা দেখে নিন
- কোন কোন খাবারে এলার্জি আছে তার তালিকা
- কোন কোন খাবারে এলার্জি তার লক্ষণ ও উপসর্গ
- এলার্জি প্রতিরোধের উপায় জেনে নিন
- কোন কোন খাবারে এলার্জি নেই জেনে নিন
- কোন কোন ডালে এলার্জি আছে জেনে রাখুন
- কোন কোন মাছে এলার্জি আছে জেনে নিন
- কোন কোন সবজিতে এলার্জি আছে
- কোন কোন ফলে এলার্জি আছে তা জানুন
- কোন কোন মাংসে এলার্জি আছে তা জানুন
- পটলে কি এলার্জি আছে জেনে রাখুন
- সচরাচর জিজ্ঞাসিত প্রশ্ন ও উত্তর জানুন
- কোন কোন খাবারে এলার্জি আছে তার তালিকা নিয়ে শেষ মন্তব্য
কোন কোন খাবারে এলার্জি আছে তার তালিকা
কোন কোন খাবারে এলার্জি আছে তার তালিকা নিচে পর্যায়ক্রমে উপস্থাপন করা হবে। সাধারণত এলার্জি সমস্যা অনেকেই রয়েছে। তাদের এই সমস্যা থাকার কারণে শরীরে চুলকানি ফুসকুড়ি এবং বিভিন্ন প্রতিক্রিয়া দেখা যায়। যে সকল সমস্যা থেকে বাঁচার জন্য যারা জানতে চান, কোন খাবারে এলার্জি আছে। যার তালিকা তাদের জন্য উপস্থাপন করলাম। তাহলে চলুন জেনে নিয়ে যাক কোন কোন খাবারে এলার্জি আছে।
সাধারণত সবচেয়ে বেশি এলার্জি বেশি যে খাদ্যগুলোতে রয়েছে। তার মধ্যে কিছু কিছু খাবার মানুষের ক্ষেত্রে, কোন কিছুতেই এলার্জি পরিলক্ষিত হয় না। আবার কিছু কিছু মানুষের ক্ষেত্রে এই খাবারগুলোর মধ্যে এলার্জি পরিলক্ষিত হয়। যেমন, দুধ, ডিম, চিনাবাদাম, গাছের বাদাম, মাছ, জেল ফিশ, সয়া, গম, তিল, কাজুবাদাম, নারিকেল তেল, পেকান, পেস্তা, পাইন বাদাম, আখরোট, গরুর মাংস এছাড়াও সামুদ্রিক কিছু মাছে প্রচুর পরিমাণ এলার্জি রয়েছে যা উল্লেখ করা আছে।
এই খাদ্য এলার্জির বিভিন্ন বিরূপ আকার ধারণ করতে পারে। এলার্জি প্রতিক্রিয়ার লক্ষণ গুলি হালকা থেকে গুরুতর হতে পারে, যার মধ্যে জিব্বা ফুলে যাওয়া, বমি ভাব, ডায়রিয়া, শ্বাসকষ্ট, নিম্ন রক্তচাপ সহ আরো অনেক ধরনের লক্ষণ যে লক্ষণগুলো আমরা নিচের দিকে বিস্তারিত জানবো।
এলার্জি বাচ্চাদের চাইতে প্রাপ্তবয়স্কদের ভিতরে বেশি দেখা যায়. এছাড়াও শিশু পুরুষ চাইতে মেয়েদের কম দেখা যায়। এলার্জির অনেক ধরনের ধরন রয়েছে. যে ধরনগুলোর অনেক সময় অনেক রকম সমস্যা সৃষ্টি করেতে দেখা যায়। কিছু এলার্জি রয়েছে যে এলার্জির সিমটম এতটাই ভয়ঙ্কর এবং বিকশিত হয় যে, একজিমা বা হাঁপানি সমস্যা দেখা দেয়।
কোন কোন খাবারে এলার্জি তার লক্ষণ ও উপসর্গ
কোন খাবারে এলার্জি আছে তা আমরা জেনেছি। এবং এই এলার্জি যে লক্ষণগুলো রয়েছে তার নিচে বর্ণনা করা হলো, এবং এই লক্ষণগুলো থেকে আপনি বুঝতে পারবেন যে আপনার এলার্জি হয়েছে কিনা। তাহলে চলুন জেনে খাবার এলার্জির লক্ষণ গুলো, যে লক্ষণ গুলো কয়েক মিনিট বা কয়েক ঘন্টার ভিতরে দেখা দেয় খাবর গ্রহণ করার পরপর।
আরো পড়ুনঃ আলকুশি পাউডার এর উপকারিতা ও অপকারিতা সম্পর্কে বিস্তারিত
- ফুলকুঁড়ি
- আমবাত
- মুখ, ঠোঁট, জিব্বা, গলা, ত্বক, চুলকানো।
- মুখ, ঠোঁট, জিব্বা, গলা এগুলো ফুলে যাওয়া।
- কোন খাবার গিলতে অসুবিধা হওয়া।
- সর্দি বা নাক বন্ধ হয়ে যাওয়া।
- কর্কশ কন্ঠ হওয়া।
- হালকা মাথা ব্যথা।
- ডায়রিয়া পেট ব্যথা।
- অজ্ঞান হয়ে যাওয়া।
- রক্ত সঞ্চালনের অভাব বা বাধাপ্রাপ্ত হওয়া।
এ ধরনের লক্ষণ গুলোকে এনাফিল্যাকসিক্স বলা হয়। রক্তচাপের হ্রাসের সাথে সাথে এটি সম্পর্কযুক্ত এটি ঘটে যখন lgE অ্যান্টি বডি যুক্ত থাকে। গাছের বাদাম, সামুদ্রিক মাছে এলার্জি রয়েছে যাদের এনা ফিল্যান্সসিক্সের ঝুকি রয়েছে। তাদের জন্য এগুলো অত্যন্ত বিপজ্জনক অবস্থায় নিয়ে যেতে পারে। তাই আপনাকে অবশ্যই এগুলো থেকে নিরাপদে থাকতে হবে এবং প্রয়োজনে ডাক্তারের পরামর্শ গ্রহণ করতে হবে।
এলার্জি প্রতিরোধের উপায় জেনে নিন
এলার্জি প্রতিরোধের জন্য আপনাদের যে কাজটি করতে হবে। তার মধ্যে সবচেয়ে গুরুত্ব হচ্ছে, চার মাসের বেশি সময় ধরে শৈশবকালে অ্যাপোটিক্স ডার্মাটাইটিক্স, গরুর দুধের এলার্জি যা শ্বাসকষ্ট প্রতিরোধ করা। এলার্জেনের পামবিক এক্পোজার প্রতিরক্ষামূলক হতে পারে। ডিম এবং চিনা বাদামের সাথে তাড়াতাড়ি এক্সপোজা এগুলো এলার্জির যোগী কম করে।
আরো পড়ুনঃ অবিশ্বাস্য উপকারে মেয়েদের জন্য অশ্বগন্ধার উপকারিতা জেনে নিন
বিভিন্ন নির্দেশক গুলি ছয় থেকে চার মাসের আগে চীনাবাদাম চালু করার পরামর্শ দেয় এবং উচ্চ ঝুঁকিপূর্ণ শিশুদের জন্য সতর্কতামূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করতে বলে। এবং পূর্বের নির্দেশিকা চীনাবাদাম প্রত্যাবনে বিলম্বন করা পরামর্শ এখন সম্প্রতি দেখা দেয়। চিনাবাদাম এলার্জির ভিত্ততে অবদান রেখেছে বলে মনে করা হয়। একটি কঠোর খাদ্য অনুসরণ পদ্ধতি মেনে চলা প্রয়োজন এলারর্জি হতে বাচতে।
এবং এই প্রক্রিয়াটি প্রকাশের জন্য প্রয়োজনীয় এলার্জেনিক খাবারের পরিমাণ নির্ণয় করা উচিত। এবং কঠিনভাবে সম্পূর্ণ চেষ্টার সাথে কাজগুলো করা উচিত। কিছু ক্ষেত্রে ত্বকের স্পর্শ ইনহেলেশন চুম্বন ও খেলাধুলায় অংশগ্রহণ রক্ত সঞ্চালন সহ অ্যালকোহলের মাধ্যমে এলার্জিনের সংস্পর্শে এসে অতি সংবেদনশীল প্রক্রিয়া সৃষ্টি করতে পারে। অন্য কথায় কঠিন পদার্থের সাথে চিনাবাদাম একটি গুরুত্বপূর্ণ উপাদান।
খাদ্য অভ্যাস তৈরি করার পাশাপাশি আপনাকে জানতে হবে, কি ধরনের খাবারে এলার্জি রয়েছে এবং সেই খাবারগুলো থেকে বিরত রাখতে হবে। এবং এই কাজটি করার জন্য আপনি ডাক্তারের শরণাপন্নণাপন্ন হতে পারেন। ডিমের প্রাথমিক পরিচিতি বা এক বছর বয়সের মধ্যে খাদ্য এলার্জির বিকাশ রোধ করতে সাহায্য করতে পারে। জীবননে প্রথম বছরের মধ্যে এই এলার্জেন খাবারের প্রত্যাবর্তন নিরাপদ বলে মনে করা হয়।
বিভিন্ন খাদ্য এলার্জির প্রত্যাবর্তনের সুযোগই এটি উইথড্র বিদ্যমান থাকতে পারে। যেমন চিনা বাদামের আগে ডিম প্রত্যাবর্তন করেছে। যদি কোন খাবারে এলার্জি সম্পর্কে নিশ্চিত হতে চান একজন এলার্জি বিশেষকর কাছে থেকে স্কিন টেস্ট বা ব্লাড টেস্ট করে নিতে পারেন। খাদ্য ডায়েরি প্রতিদিন কোন খাবারে খাচ্ছেন তার লিখিত রাখলে সবচাইতে বেশি ভালো হয়। বোঝার জন্য যে, আপনার কোন খাবারে এলার্জি রয়েছে।
কোন কোন খাবারে এলার্জি নেই জেনে নিন
কোন কোন খাবারে এলার্জি নেই এ বিষয়টি অনেকেরই অজানা। যারা এলার্জির সমস্যা নিয়ে চিন্তিত তাদের জন্য এই তথ্যগুলো অত্যন্ত কার্যকরী। তাই আপনি যদি কোন কোন খাবারে এলার্জি নেই তা জানতে চান এবং এলার্জি মুক্ত খাবার গ্রহণ করতে চান। তাহলে অবশ্যই দেখে নিতে পারেন, নিচের খাবারগুলো, এখানে নিশ্চিন্ত দেওয়া হয়েছে যে এই খাবারগুলো এলার্জি মুক্ত।
ফলমূলের মধ্যে এলার্জি কমঃ
- আপেল
- পেয়ারা
- পাকা কলা
- পেঁপে
- জাম্বুরা
- তরমুজ
সবজির মধ্যে এলার্জি কমঃ
- পটল
- লাউ
- সিম
- মিষ্টি কুমড়া (কিছু ক্ষেত্রে ব্যতিক্রম)
- গাজর
- বাঁধাকপি
- পালং শাক (যদি অক্সালেটের সমস্যা না থাকে)
শস্য ও দানা খাদ্যে এলার্জির কমঃ
- চাউল (সাধারণ সাদা ও ব্রাউন চাউল)
- গম, ভুট্টা অনেকটাই নিরাপদ
- কয়িনোয়া
- চিড়া বা মুড়ি
প্রোটিনের উৎস এলার্জি মুক্তঃ
- মুরগির মাংস
- হাড় ছাড়া মাছ (রুই,কাতলা, পাঙ্গাস)
- ডাল মসুর (মসুর ডাল অনেক ক্ষেত্রে ব্যতিক্রম) ডাল মুগ ডাল
- ডিমের কুসুম (কিছু ক্ষেত্রে ব্যতিক্রম)
দুধ ও দুগ্ধজাত পণ্যঃ
- গরুতে বিকল্প হিসেবে ছোঁয়া, দুধ বা বাদাম দুধ বেছে নেওয়া যেতে পারে।
- দই এলার্জির পরিমাণ নেই বললেই চলে।
- তেল জাতীয় ও চর্বি জাতীয় খাবার।
- সরিষার তেল
- নারিকেল তেল
- অলিভ অয়েল
এছাড়া মিষ্টি ও চিনি এর মধ্যে এলার্জি নেই বললেই চলে মধু এবং গুড় বা চিনি অনেক ক্ষেত্রে পরিলক্ষিত হলেও এর পরিমাণ নেই বললেই চলে। সুতরাং আপনি যদি এলার্জি নিয়ে চিন্তায় থাকেন এবং এই কাজকে সহজেই আপনার আয়ত্তে নিয়ে আসার জন্য, আপনি যে কাজগুলো করতে পারবেন। তার মধ্যে একটি কাজ হচ্ছে জেনে রাখুন। কোন কোন খাবারে এলার্জি নেই। প্রায় খাবারে এলার্জির ঝুঁকি থাকার সম্ভাবনা দেখা গেছে। কিন্তু এ খাবারগুলোতে অত্যন্ত কম পরিমাণে রয়েছে যা ক্ষতিকর প্রভাব দেখায় না।
কোন কোন ডালে এলার্জি আছে জেনে রাখুন
কোন কোন ডালে এলার্জি আছে এটা আমাদের জানা উচিত। কারণ অনেকের ডাল খেতে পছন্দ করি। তাদের খাবারের তালিকায় প্রতিদিন কোন না কোন ডাল থাকে। তারা এই কাজকে সহজ করে দেওয়ার জন্য এবং কোন ডালে এলার্জি থাকে তা জানার জন্য এই তথ্যগুলো জেনে নিন। এখানে উপস্থাপন করা হলো কোন ডালে এলার্জি সৃষ্টি করে এবং কোন ডালে এলার্জি সৃষ্টি করে না।
কোন কোন ডালে এলার্জি আছেঃ
- ছোলা ডালঃ বিশেষ করে ছোলা ডালে প্রচুর পরিমাণ প্রোটিন থাকার কারণে এলার্জি সৃষ্টি করতে পারে।
- সোয়াবিন ডালঃ সোয়াবিন খুব সাধারণ এলার্জেল বিশিষ্ট একটি খাবার যা শিশুদের মধ্যে বেশি দেখা দেয়।
- মটর ডালঃ মটর ডাল অত্যন্ত সুস্বাদু হলেও কিছু মানুষের ক্ষেত্রে মটর ডাল এলার্জির কারণ সৃষ্টি করতে পারে।
- অরহর বা তুর ডালঃ বিশেষ করে সংবেদনশীল মানুষেরা এটি থেকে দূরে থাকবেন। কারণ এটি খেলে এলার্জি অনুভব করতে পারে।
- রাজমাঃ রাজমা প্রোটিন অনেকের জন্য এলার্জির কারণ হতে পারে। এর ফলে হজম ক্রিয়ার সমস্যা দেখা দিতে পারে এবং পেটের বিভিন্ন সমস্যা সৃষ্টি করতে পারে।
নিরাপদ ও কম এলার্জি আছে এমন ডালঃ
- মসুর ডালঃ এটা সহজে প্রাচ্য সাধারণত এলার্জির পরিমাণ খুবই কম তাই এটি ব্যবহার করতে পারেন নির্ভয়ে।
- মুগ ডালঃ অত্যন্ত উপকারী এবং জনপ্রিয় ডাল বেশিরভাগ মানুষের জন্য এবং এই ডাল হজমে সহযোগিতা করে থাকে।
মাসকালই ডালঃ এটি অত্যন্ত জনপ্রিয় ডাল যা মানুষের মাঝে প্রচলিত রয়েছে। গ্রাম-বাংলার ঐতিহ্য হিসেবে এ ডালকে মনে করা হয়। তাই এই ডাল অত্যন্ত এলার্জি কম পরিমাণে রয়েছে বলে গবেষণা করে পাওয়া গেছে। ডালে এলার্জি হওয়ার কারণ হচ্ছে লেগমিন প্রোটিন থাকে। তাই ডালে মানুষের জন্য শারীরিক বিভিন্ন সমস্যা সৃষ্টি করে। হিস্টামিন রিলিজ ডাল খাওয়ার পর শরীর থেকে অতিরিক্ত হিস্টামিন নিঃসৃত হলে এলার্জি সৃষ্টি হয়।
কোন কোন মাছে এলার্জি আছে জেনে নিন
কোন কোন মাছে এলার্জি আছে আপনি যদি না জেনে থাকেন। তাহলে এই তথ্যগুলো আপনাকে উপকার দেবে। কারণ একজন মানুষের মাছ খেতে পছন্দ হয় না এমন মানুষের তালিকা খুবই কম রয়েছে। তাই আপনাকে অবশ্যই জেনে রাখতে হবে যে, মাছ খেলে এলার্জি হয় কিনা এবং কোন মাছ খেলে এলার্জি হয়। নিচে দেখে নিন কোন কোন মাছে এলার্জি আছে।
আরো পড়ুনঃ জাফরান তেল এর উপকারিতা ও অপকারিতা এবং ১৪ টি রোগমুক্তি
- সামুদ্রিক মাছ টুনা
- ম্যাকারেল
- সার্ডিন
- একম্ভি
- হেরিং
- ব্লু ফিস
- আম্বার জ্যাক এবং মারলিন
- চিংড়ি,
- কাঁকড়া
- লবস্টার
- কেলা মারি
- কড
- হাডক
উল্লেখিত মাছগুলো অত্যন্ত পরিমাণে এলার্জি পূর্ণতায় এই মাছগুলো খাওয়া থেকে অবশ্যই বিরত থাকবেন। এছাড়া আপনার শরীরের এলার্জির পরিমাণ আরো বৃদ্ধি হয়ে যেতে পারে। মাছের বেশ সাধারণ বিশেষ করে সামুদ্রিক মাছ, ঝিনুক জাতীয় খাবারে প্রচুর পরিমাণ এলার্জি সৃষ্টি করতে পারে। তাই আপনাকে উল্লেখিত তথ্যগুলো জানানো হলো যাতে খুব সহজেই আপনি এই খাবারগুলো থেকে নিজেকে বিরত রাখতে পারেন।
কোন কোন সবজিতে এলার্জি আছে
কোন কোন সবজিতে এলার্জি আছে এটা যদি আপনি জানেন না। তাহলে এই তথ্যগুলো দেখে নিতে পারেন, এখানে উপস্থাপন করা হলো কোন কোন সবজিতে এলার্জি রয়েছে। এছাড়া লাল জাতীয় সবজি খেলে এলার্জি সমস্যা হতে পারে। যেমন এই সবজিগুলো খাওয়ার মাধ্যমে আপনার এলার্জির সমস্যা দ্বিগুণ বেড়ে যেতে পারে তাই অবশ্যই চিকিৎসকের পরামর্শ গ্রহণ করতে হবে।
- গাজর
- মিষ্টি কুমড়া
- টমেটো
- বেগুন
- আলু
- লঙ্কা
- গাজর জাতীয় খাবারের ভিতরে শালগম
- সেলারি
- পারলে
- বাঁধাকপি
- ফুলকপি
- মুলা
- সিম
- বিন্স
- মটরশুটি
- পালং শাক
- মেথি
- লাউ
- কুমড়া
- চিচিঙ্গা
- করলা
উল্লেখিত খাবারগুলোর মধ্যে এলার্জি বিদ্যমান। তাই আপনার এই খাবারগুলোতে এলার্জি আছে কিনা তা নিশ্চিত হতে, এলার্জি পরীক্ষা করানো অত্যন্ত প্রয়োজন। এবং খাদ্য ডায়েরি বা খাদ্য অভ্যাস তৈরি করে চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী বিভিন্ন খাদ্য তালিকা অনুযায়ী খাদ্য গ্রহণ করা দরকার। আপনি যদি নির্দিষ্ট ভাবে না জেনে থাকেন যে আপনার কোন খাবার এলার্জি তাহলে উক্ত তথ্যগুলো আপনার উপকারে আসবে।
কোন কোন ফলে এলার্জি আছে তা জানুন
কোন কোন ফলে এলার্জি আছে এটাও আমাদের জানা উচিত, কারণ ফল খেতে সবাই ভালোবাসে। বাংলাদেশ ও বিভিন্ন দেশে বিভিন্ন রকমের সুস্বাদু ফল উৎপাদন হয়। সেই সকল ফলের মধ্যে কিছু ফলে এলার্জি রয়েছে। এবং কিছু বলে এলার্জি নেই যাদের এলার্জি সমস্যা বেশি তারা এই সকল ফল খাওয়া থেকে দূরে থাকুন।
এলার্জি সৃষ্টিকারী ফলঃ
- আপেল
- পিস
- চেরি
- প্লাম
- এপিক্রট apricot
- সাইটস ফল লেবু
- কমলা
- মালটা
- জাম্বুরা
- ট্রপিক্যাল ফল কলা
- পিপি
- কিউই
- আনারস
- অনেক ক্ষেত্রে আম
- বেরি জাতীয় ফল
- স্ট্রবেরি
- রামস ভেরি
- ব্লুবেরি
- বাদাম জাতীয় ফল আখরোট
- কাজু বাদাম
- খেজুর
- মিলন জাতীয় ফল তরমুজ ও খরমুজ
উল্লেখিত এই ফলগুলো খাওয়ার মাধ্যমে আপনার শরীরের প্রাকৃতিক প্রোটিনের ইমিউন সিস্টেম কে উত্তেজিত করে। আপনি এই ভয়ঙ্কর সমস্যার এলার্জি থেকে বাঁচার জন্য অবশ্যই খাদ্য অভ্যাস গড়ে তুলুন। এবং সে খাদ্য অভ্যাস অনুযায়ী আপনাকে খাবার গ্রহণ করতে হবে। প্রয়োজন অনুযায়ী চিকিৎসকের পরামর্শ গ্রহণ করতে হবে। তাহলে অবশ্যই আপনি এলার্জি সমস্যা থেকে চিরতরে মুক্তি পেতে পারেন এবং এই সমস্যা থেকে আপনি রক্ষা পাবেন।
কোন কোন মাংসে এলার্জি আছে তা জানুন
কোন কোন মাংসে এলার্জি আছে তা যদি আপনি নিশ্চিন্ত না জেনে থাকেন, তাহলে এই বিষয়গুলো জেনে নিন। এখানে উপস্থাপন করা হলো কোন কোন মাংসে এলার্জি আছে। এর মধ্যে একটি মাংস সেটা আমরা সকলেই জানি সেটা হচ্ছে গরুর মাংস। এতে প্রচুর পরিমাণে এলার্জি রয়েছে যা খাওয়ার মাধ্যমে সবচাইতে বেশি এলার্জির সমস্যা হতে দেখা গেছে।
- ভেড়ার মাংসঃ ভেড়ার মাংসতে আলফা গেল সিনড্রোম থাকলে এই মাংসে এলার্জি হতে পারে।
- ছাগলের মাংসঃ ছাগলের মাংস কিছু কিছু মানুষের ক্ষেত্রে সংবেদনশীলতা দেখায়।
- শুকরের মাংসঃ শুকরের মাংসে থাকা প্রোটিন এবং চর্বি এলার্জি সৃষ্টি করতে পারে। যদিও এটি মুসলিমদের জন্য নিষেধ। তবে অনেক ধর্মে বা অনেক বিশ্বাসী মানুষ রয়েছে যারা এটা ব্যবহার করে।
- প্রক্রিয়াজাত মাংসঃ বিভিন্ন প্রক্রিয়াজাত মাংস যেমন সতেজ সালাতে হট ডগ এবং বেকন এগুলোতে থাকা প্রিজারভেটিভ ও রাসায়নিক সংযোগ থাকার কারণে এলার্জি সৃষ্টি করতে পারে।
- পাখির মাংসঃ অনেক সময় হাঁস, মুরগি, কোয়েল পাখির মাংসে এলার্জি দেখা যায়। তাই এই মাংস খাওয়ার আগে এলার্জি পরীক্ষা করে নিন।
- হরিণ এবং খরগোশ যদিও সচরাচর খাওয়া হয় না তবুও এই খাদ্যে প্রচুর পরিমাণে এলার্জি রয়েছে।
সুতরাং মাংস এলার্জির কারণ হিসেবে ত্বকের সমস্যা হতে পারে পেটের সমস্যা হতে পারে, শ্বাসকষ্টসহ বিভিন্ন সমস্যা হতে পারে। সুতরাং আপনি অবশ্যই সুস্থ থাকার জন্য এই মাংসগুলো খাওয়া থেকে বিরত থাকবেন। যদি আপনার এলার্জি সমস্যা হয়ে থাকে আর আপনার যদি এলার্জি নিয়ে বিভিন্ন সমস্যা না থাকে তাহলে উক্ত খাবর ব্যবহার করতে পারবেন।
পটলে কি এলার্জি আছে জেনে রাখুন
অনেকেই জানতে চায় পটলে কি এলার্জি আছে তাদেরকে সহজেই আমি তথ্যগুলো পড়তে বলবো। কারণ বিভিন্ন খাবার রয়েছে যে খাবারগুলোর মধ্যে প্রচুর পরিমাণে এলার্জি রয়েছে। যার মাধ্যমে আপনার এলার্জির পার্শ্ব প্রতিক্রিয়া শরীরে দেখা দিতে পারে। সুতরাং পটলে কি এলার্জি আছে এর জন্য আপনাকে যে কাজটি করতে হবে সেটি হচ্ছে, আপনাকে ডাক্তারের পরামর্শ অনুযায়ী পরীক্ষা করে দেখতে হবে।
পটলে যে যে ভিটামিন গুলো রয়েছে তার মধ্যে উল্লেখযোগ্য হয়েছে ভিটামিন বি১ ভিটামিন বি২ ভিটামিন বি৬ ক্যালসিয়াম ও অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট। এছাড়াও পটলে প্রাকৃতিক প্রোটিন যা পটলে থাকার কারণে শরীরের এলার্জি প্রতিক্রিয়া ঘটাতে পারে। এছাড়া ক্রস রিএক্টিভিটি অন্য খাবার, গরুর মাংস, কুমড়া, লাউ ইত্যাদি জাতীয় খাবারের তুলনায় পটলে অনেক সময় বেশি এলার্জি দেখা দেয়।
পটলে এলার্জির লক্ষণ গুলোর মধ্যে যে লক্ষণগুলো অত্যন্ত সহজে বোঝা যায় তা হচ্ছে ত্বক চুলকানি মুখ এবং গলা ফুলে যাওয়া এবং শ্বাসকষ্ট কাশি এবং পেটের সমস্যা সহ ডায়রিয়া হওয়া মত সম্ভাবনা হতে পারে। তাই আপনি যদি পটল খেয়ে উপরের উপলক্ষ গুলো অনুভব করেন তাহলে অবশ্যই এলার্জি টেস্ট করে নিতে হবে।
সচরাচর জিজ্ঞাসিত প্রশ্ন ও উত্তর জানুন
প্রশ্নঃ এলার্জি জাতীয় সবজি কি কি?
উত্তরঃ লাল জাতীয় সবজি খেলে এলার্জি সমস্যা হতে পারে। যেমন, গাজর, মিষ্টি কুমড়া, টমেটো এ ধরনের সবজিতে এলার্জির সমস্যা থাকে। তাই ব্যক্তি বিশেষে কোন খাবারে এলার্জির সমস্যা হচ্ছে সেটি জানতে হবে এবং সেভাবেই বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের পরামর্শ মতো চলতে হবে। অ্যালার্জি সমস্যা খুবই সাধারণ একটি শারীরিক সমস্যা নয় সচেতন হতে হবে।
প্রশ্নঃ মসুর ডালে কি এলার্জি আছে?
উত্তরঃ মসুর ডালে প্রচুর বেশি ফাইবার থাকে। তাই মুসুর ডাল খেলে মাঝে মাঝে গ্যাসের সমস্যা হতে পারে। এছাড়া এই মসুর ডালে প্রচুর পরিমাণ প্রোটিন রয়েছে। অ্যালার্জি মসুর ডাল খাওয়া অ্যালার্জির ঝুঁকি বাড়াতে পারে। যদিও কিছু ব্যক্তির ক্ষেত্রে মসুর ডাল ব্যতীত অন্য ডালে অ্যালার্জি হতে পারে।
প্রশ্নঃ কোন খাবার খেলে অ্যালার্জি কমে?
উত্তরঃ কোন কোন খাবারে এলারর্জি আছে এবং কোন খাবারে কম তা ইতি পুর্বে আলোচনা করেছি। আপনি যদি এই পোস্টটি পুরো পড়েন তাহলে বিস্তারিত বুঝতে পারবেন।
প্রশ্নঃ দ্রুত এলার্জি দূর করার উপায়?
উত্তরঃ একটি ওভার-দ্য-কাউন্টার প্রতিকার চেষ্টা করুন। মুখে সেবন করা অ্যান্টিহিস্টামাইন। অ্যান্টিহিস্টামাইন হাঁচি, চুলকানি, নাক বন্ধ হয়ে যাওয়া ও সর্দি এবং চোখ দিয়ে জল পড়া উপশম করতে সাহায্য করতে পারে। মুখে সেবন করা অ্যান্টিহিস্টামাইনের উদাহরণগুলির মধ্যে রয়েছে। সেটিরিজিন (জাইরটেক অ্যালার্জি), ফেক্সোফেনাডিন (অ্যালেগ্রা অ্যালার্জি) এবং লোরাটাডিন (ক্লারিটিন, অ্যালাভার্ট)। এছাড়া এই পোস্টে আলোচনা করা হয়েছে।
প্রশ্নঃ রক্তে এলার্জি কমানোর প্রাকৃতিক উপায়?
কোন কোন খাবারে এলার্জি আছে তার তালিকা নিয়ে শেষ মন্তব্য
কোন কোন খাবারে এলার্জি আছে তার তালিকা অনেকেই জানেনা তাই তাদেরকে সহজে জানানোর জন্য যে কোন কোন খাবারে এলার্জি রয়েছে। এবং কোন কোন মাছে এলার্জি রয়েছে কোন সবজিতে এলার্জি যে রয়েছে এবং এ ধরনের সকল বিষয় যাতে একজন খুব সহজেই বুঝতে পারে যে, এলার্জি থেকে বাঁচার জন্য কি ধরনের খাবার থেকে দূরে থাকতে হবে।
এলার্জি হলে লক্ষণ কি ধরন হতে পারে এবং কি কি কাজ করণীয়। সুতরাং আপনি যদি কোন খাবারে এলার্জি আছে তা না জানেন তাহলে উল্লেখিত পোস্টটি ভালো করে পড়ে নিয়ে বুঝে নিতে পারেন। যে কোন কোন খাবারে এলার্জি রয়েছে এবং কিভাবে এলার্জির সমস্যা থেকে নিজেকে রক্ষা করে জীবন যাপন করতে পারব।
মুক্তআঁখি আইটির নীতিমালা মেনে কমেন্ট করুন। প্রতিটি কমেন্ট রিভিউ করা হয়।
comment url