চন্দনের ৯টি উপকারিতা ও অপকারিতা সম্পর্কে বিস্তারিত বাঁচার উপায় জানুন
প্রিয় পাঠক আপনি যদি চন্দনের উপকারিতা ও অপকারিতা সম্পর্কে না জানেন তাহলে উপকারিতা পেতে গিয়ে ব্যবহার করার সময় বিভিন্ন অপকারিতার সম্মুখীন হতে পারেন। কমবেশি আমরা সবাই জানি চন্দন এর অনেক উপকারিতা রয়েছে।
তবে চন্দন এর অপকারিতা থেকে বাঁচার জন্য চন্দন মুখে লাগানোর নিয়ম চন্দনের উপকারিতা, চন্দন পাউডার ব্যবহারের নিয়ম সহ চন্দনের সকল বিষয় জানবো যাতে সঠিক উপকারিতা পাওয়া যায়। এবং ক্ষতিকর প্রভাব থেকে রক্ষা পাওয়া যায়।
পোস্ট সুচিপত্রঃ চন্দনের উপকারিতা ও অপকারিতা সম্পর্কে বিস্তারিত বাঁচার উপায় জানুন
- চন্দনের অপকারিতা গুলো দেখে নিন
- চন্দনের উপকারিতা গুলো জানুন
- চন্দন মুখে দিলে কি হয় জানুন
- চন্দন মুখে লাগানোর নিয়ম জানুন
- কোন চন্দন ভালো জানুন
- ভালো চন্দন চেনার উপায় সম্পর্কে জানতে
- চন্দন পাউডার ব্যবহারের নিয়ম
- চন্দন পাউডার এর দাম কত জানুন
- পন্ডস চন্দন পাউডারের উপকারিতা অনেক রয়েছে
- চন্দন ক্রিম ব্যবহারের নিয়ম অনুযায়ী ব্যবহার
- চন্দনের অপকারিতা ও চন্দন মুখে দিলে কি হয় তা নিয়ে শেষ কথা
চন্দনের অপকারিতা গুলো দেখে নিন
চন্দনের অপকারিতা সম্পর্কে বিস্তারিত জানা প্রয়োজন চন্দন সাধারণত একটি উপকারী উদ্ভিদ গাছ। এটি বহু প্রাচীনকাল থেকে বিভিন্ন উপকারিতা পাওয়ার জন্য ব্যবহার করা হয়। তবে এর অতিরিক্ত ব্যবহারের ফলে কিছু পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া দেখা দিতে পারে যা নিচে বিস্তারিত উল্লেখ করা হলো।
- এলার্জি বা ত্বকের সমস্যায়ঃ চন্দন ত্বকে প্রয়োগ করলে কিছু লোকের ত্বকে অ্যালার্জি সৃষ্ট করে। যার ফলে লালচে দাগ চুলকানি জ্বালাপোড়া এবং ফুলকুঁড়ি হতে পারে। তাই যাদের সংবেদনশীল ত্বক তারা অবশ্যই এটি ব্যবহার করার সময় সর্তকতা অবলম্বন করুন।
- শ্বাসকষ্ট বা এলার্জির প্রতিক্রিয়াঃ চন্দনের তেলের গন্ধ ব্যবহারে অনেকেরই শ্বাসকষ্ট এলার্জি সমস্যা হয়। তাছাড়া অতিরিক্ত ব্যবহারে ইনহিলেশন, শ্বাসনালীন সংবেদনশীলতায় প্রভাব ফেলতে পারে।
- অতিরিক্ত ব্যবহারের সমস্যাঃ অতিরিক্ত এ পাউডার এবং তেল ব্যবহার করলে ত্বকের আদ্রতা নষ্ট হয়ে যায় এবং শুষ্কতা বৃদ্ধি করতে পারে।
- নিম্নমানের চন্দন পণ্য ব্যবহারে: বাজারে অনেক সময় নিম্নমানের ভেজাল চন্দন পাওয়া যায় সেগুলো ব্যবহার করে বিভিন্ন সমস্যায় পড়ে। কারণ এতে যোগ করা রাসায়নিক উপাদন ক্ষতির কারণ হয়।
- অভ্যন্তরীণ ব্যবহারের ক্ষেত্রেঃ চন্দনের তেল এবং পাউডার খাওয়ার উদ্দেশ্যে ব্যবহারের বিষক্রিয়া হতে পারে। এটি কেবল নির্ধারিত পরিমাণে এবং বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ অনুযায়ী খাওয়া উচিত যা ক্ষতিকর প্রভাব এড়াবে।
- সংবেদনশীল ত্বকের দীর্ঘস্থায়ী ক্ষতিঃ চন্দন সাধারণত ঠান্ডা ও প্রশান্তি দেয়। তবেই দীর্ঘদিন মেয়াদে ব্যবহার করলে ত্বকের প্রাকৃতিক সুরক্ষায় স্তর ক্ষতিগ্রস্ত হয়। অতিরিক্ত ব্যবহার করায় সংবেদনশীলতা আরো বৃদ্ধি পায় এবং পরিবেশগত ভাবে ক্ষতির ঝুঁকিপূর্ণতা বেড়ে যায়।
- হরমোনাল প্রতিক্রিয়া: কিছু গবেষণায় দেখা গেছে বিভিন্ন চন্দনের নির্যাস তেল, হরমোনাল প্রভাব ফেলে না। তবে দীর্ঘ মেয়াদী ব্যবহারের সমস্যা হওয়ার সম্ভাবনা থাকে।
- অত্যাধিক গন্ধজনিত সমস্যাঃ কিছু মানুষ রয়েছে যাদের চন্দনের গন্ধে এলার্জি রয়েছে তাই ঘ্রান গ্রহণ করলে বিভিন্ন সমস্যা হয়। যেমন, হাঁচি কাশি সহ মাথা ব্যথা, বমি ভাব হতে পারে।
- শরীরের তাপমাত্রায় প্রভাবঃ চন্দন সাধারণত শরীরকে ঠান্ডা রাখে যা অতিরিক্ত প্রয়োগের ফলে শরীরের তাপমাত্রা বিরূপ প্রভাব দেখা যায়, যা ঠান্ডা হয় ব্যবহারের ফলে সমস্যা দীর্ঘতর হয় না।
- সংক্রমণ ঝুঁকি বৃদ্ধি করেঃ বাজারে পাওয়া চন্দনের ভেতর রাসায়নিক থাকা এটি মানুষের শরীরে বিভিন্ন ক্ষত এবং ত্বকের বিভিন্ন ক্ষত জাতীয় আরো অনেক সমস্যা সৃষ্টি করতে পারে দীর্ঘদিন ব্যবহারে প্রায় হয়।
- পরিবেশগত প্রভাবঃ বিশুদ্ধ চন্দন সংগ্রহ করতে প্রচুর গাছ কাটা হয় তা পরিবেশের জন্য ক্ষতিকর এবং ধীরে ধীরে এই প্রাকৃতিক সৌন্দর্যপর্ণ উদ্ভিদের বিলুপ্তি হতে পারে। এত পরিমান চাহিদা এবং দুর্নীতি পূর্ণভাবে এর ভারসাম্যহীনতা বিচ্যুতি হয়।
- শিশুদের জন্য ঝুঁকিঃ শিশুদের কোমল ত্বকের সংবেদনশীলতা সৃষ্টি করতে পারে। চন্দনের ব্যবহারে জ্বালাপোড়া এবং র্যাস সৃষ্টি হয় বিভিন্ন শিশুর ত্বকে এটা বেশি দেখা যায় ।
- চিকিৎসায় সমস্যাঃ কিডনি, লিভারের সমস্যায় ভুগছেন এমন রোগীদের জন্য চন্দন তেল এবং চন্দনের নির্যাস ক্ষতি পূর্ণ এটা বিষাক্ত পদার্থ সঞ্চয় করতে পারে। তাই শরীরের জন্য ভয়ঙ্কর প্রভাব বিস্তার করে।
- গর্ভাবস্থায় ঝুঁকিঃ গর্ভাবস্থায় চন্দনের তেল বা পাউডার ব্যবহার করার পূর্বে চিকিৎসকের পরামর্শ গ্রহণ করতে হবে, তাছাড়া চর্ম রোগ হয় এবং গর্ভাবস্থায় শিশুর ক্ষতি হতে পারে।
চন্দনের ব্যবহার নিরাপদে করুন। ব্যবহারের পূর্বে সতর্কতা অবলম্বন করতে হবে বিশুদ্ধ চন্দন ব্যবহার করার চেষ্টা করতে হবে। এর জন্য আপনি ভালো নেটওয়ার্ক বা ওয়েবসাইটে খোঁজ করতে পারবেন এবং এই অপকারিতা থেকে বাঁচার জন্য নিয়ম অনুযায়ী ব্যবহার করতে পারেন। যে জন্য আপনাদের সামনে এই পোস্টে নিচের দিকে নিয়ম আলোচনা রাখবো। যাতে আপনি সহজেই এই সমস্যাগুলো থেকে নিজেকে রক্ষা করতে পারেন এবং উপকারিতা পেতে পারেন।
চন্দনের উপকারিতা গুলো জানুন
চন্দনের উপকারিতা গুলো সম্পর্কে জানাও দরকার। চন্দন অত্যন্ত উপকারী উদ্ভিদ যা ব্যবহার করা হয় আদিকাল থেকে বিভিন্ন কাজে। তাই আপনাদের সামনে চন্দনের উপকারিতা সম্পর্কে বিস্তারিত ভাবে উল্লেখ করার চেষ্টা করব। যাতে আপনি বুঝতে পারেন যে, কি কি ক্ষেত্রে চন্দন ব্যবহার করা হয় এবং কি ধরনের উপায় ব্যবহার করে এই উপকারীতা গুলো পাওয়া যায়।
আপনার পছন্দ হতে পারে এমম পোস্টের তালিকাঃ
পড়ুনঃ মুলতানি মাটি দিয়ে ফর্সা হওয়ার ১০টি উপায় জানুন
পড়ুনঃ পিংক সল্ট অপকারিতা - আসল পিংক সল্ট চেনার উপায় জানুন
পড়ুনঃ পুরুষ লজ্জাবতী গাছের উপকারিতা - লাল লজ্জাবতী গাছের উপকারিতা
পড়ুনঃ কমলার খোসার ৩১টি উপকারিতা ও অপকারিতা সম্পর্কে বিস্তারিত জানান
চন্দনের উপকারিতা সুমূহঃ ত্বকের যত্নে চন্দনের উপকারিতা গুলো,
- ব্রণ ও ফুসকুড়ি দূর করেঃ চন্দ্রের প্রাকৃতিক অ্যান্টিসেপটিক উপাদান এবং এন্টি ইনপ্লিমেন্টারি উপাদান গুলো ব্রণ দূর করে ও ত্বকের সুরক্ষা দেয়।
- ত্বকের উজ্জ্বলতা বৃদ্ধিঃ চন্দনের পেস্ট বা পাউডার নিয়মিত ব্যবহার করে ত্বকের উজ্জলতা বাড়ে ও টানটান ভাব এবং মসৃণ হয়।
- ত্বকের দাগ দূর করেঃ রোদে পোড়া দাগ এবং মেছতাসহ কালো দাগের জন্য ব্যবহার করতে পারেন এই চন্দন কাঠ।
- প্রাকৃতিকভাবে ঠান্ডা ভাব প্রদানঃ চন্দনে শীতল অনুভূতি দিতে পারে যা রোদে পোড়া ত্বক এবং চুলকানির জন্য কার্যকরী।
- বার্ধক্য রোধে: আপনার চেহারা মলিন এবং শুষ্ক হয়ে গেলে বয়সের ছাপ পড়ে যেতে পারে। তাই আপনি নিয়মিত সঠিক উপায়ে ব্যবহার করার মাধ্যমে খুব সহজেই বার্ধক্য বা বয়সের ছাপ কমাতে পারবেন।
- স্বাস্থ্য ক্ষত রক্ষায় চন্দনের উপকারিতা করেঃ চন্দন অ্যান্টিসেপটিক গুনাগুন রয়েছে যা পেস্ট আকারে কাটা ছেঁড়া বা ক্ষত স্থানে লাগালে সংক্রমণ প্রতিরোধ করে।
- শরীরকে ঠান্ডা রাখেঃ এটি শরীরের তাপমাত্রা কমিয়ে রাখতে পারে যা গ্রীষ্মকালে ব্যবহার করলে শরীরের ঘাম কমায় এবং শরীর শীতল রাখে।
- হজম শক্তি উন্নতঃ হজম শক্তি উন্নত করার জন্য চন্দন নির্যাস কিছুক্ষণ গ্রহণ করলে হজমের সহযোগিতা পাওয়া যায়।
- জ্বর ও মাথা ব্যথাইঃ চন্দন জ্বর ও মাথা ব্যথায় ব্যবহার করতে পারেন। পেস্ট করে কপালে লাগিয়ে রাখলে মাথা ব্যথা এবং জ্বর কমে।
- মানসিক স্বাস্থ্যের উন্নতি করার জন্য চন্দন প্রদাহ কমাতে পারে চন্দনের গন্ধ মানসিক চাপ কম করে। মস্তিষ্ক শিথিল রাখে এবং ঘুম ভালো হতে সাহায্য করে।
- ধ্যান ও যোগ ব্যায়ামের সহায়কঃ চন্দনের গন্ধ মানসিক চাপ দূর করে যার ফলে চন্দন ধুপ বা তেল। ধ্যান এবং যোগব্যায়ামের জন্য মনোযোগ স্থাপন করতে সাহায্য করে।
- ডিপ্রেশন ও উদ্বেগ কমায়ঃ চন্দনের ঘ্রাণ উদ্বেগ কমায়। হতাশা কমাতে প্রাকৃতিক থেরাপি হিসেবে কাজ করে যা শরীরের জন্য প্রয়োজনীয়।
- চুলের যত্নে চন্দন চুলের শুষ্কতা কমায়ঃ চন্দনের তেল চুলের শুষ্কতা কমিয়ে চুলকে নরম এবং মসৃণ করে তোলে। চুল পড়া রোধ করে গোড়া শক্ত করে এবং চুল পড়ে যাওয়ার মত সমস্যা নিমিষেই সমাধান করে।
- অন্যান্য উপকারিতাঃ রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি করে, চন্দনের তেলে কিছু রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি করে, যা শরীর সুস্থ রাখতে ভূমিকা রাখে। শারীরিক তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণ করে শরীরের পেস্ট আকারে মেখে রাখলে শরীর ঠান্ডা এবং শীতল থাকে।
এরপর এটা কোন উপকার পাওয়ার জন্য আপনাকে ব্যবহার বিধি জানতে হবে। আপনি ত্বক এবং চুলের যত্ন নেওয়ার জন্য ব্যবহার করতে পারেন। তেল ব্যবহার করতে পারবেন। বিভিন্ন মানুষ ব্যবহার করে সুগন্ধি হিসেবে। তাছাড়া পাউডার হিসেবে ব্যবহার করতে পারবে। ত্বকের যত্ন এবং ঘরের তৈরি মার্কসের চন্দন পাউডার ব্যবহার করা যায়। পুরো চন্দনের বিভিন্ন বিশুদ্ধ এবং মানসম্মত উপকার সম্পর্কে সচেতন হয়ে ব্যবহার করলে ক্ষতিকর প্রভাব থেকে বাচা যায়।
চন্দন মুখে দিলে কি হয় - চন্দনের অপকারিতা জানুন
চন্দন মুখে দিলে কি হয় এটা যারা জানেন তারা চন্দন মুখে ব্যবহার করার মাধ্যমে উপকারিতা পেতে পারেন, চন্দন মুখের তেল ভাব কমিয়ে দেয়। কালো দাগ এবং ব্রনের মত সমস্যা থাকলে দূর করে। যাদের শরীরে বয়সের ছাপ পড়ে গেছে এবং মুখে বিভিন্ন সমস্যা রয়েছে তারা নিয়ম অনুযায়ী চন্দন ব্যবহার করার মাধ্যমে মুখের বিভিন্ন সমস্যার সমাধান সহ বয়সের ছাপ একেবারে স্বাভাবিক করে নিয়ে আসতে পারবেন।
চন্দন পাউডার ব্যবহার করলে ত্বকের অতিরিক্ত তেল কমে যায় যার ফলে ব্রণ কমে। এছাড়া এটি ত্বককে শুষ্ক রাখে এবং মসৃণতা বজায় রাখতে সাহায্য করে। সুতরাং আপনি যদি আপনার শরীরের বিভিন্ন শীতলতা দুর ও উপকারিতা পেতে চান পাশাপাশি মুখের যত্ন ১০০% সঠিক ভাবে নিতে চান? তাহলে অবশ্যই চন্দনের বিভিন্ন প্যাক ব্যবহার করতে পারেন এটি অত্যন্ত নিরাপদ এবং উপকারি সুবিধা দিয়ে থাকে।
তাই ত্বকের টানটান উত্তেজনা ধরে রাখতে এবং ত্বককে তরুণদের মতো সুন্দর উজ্জ্বল চকচকে করে রাখার জন্য আপনি ব্যবহার করতে পারবেন, চন্দন পেস্ট তৈরি করে মুখে। এই ব্যবহারের ফলে আপনার মুখের সৌন্দর্য প্রাকৃতিক ভাবে আরো বেশি বাড়বে কারণ এই চন্দনের ভিতরে বিভিন্ন অ্যান্টি ইনফ্লেমেটরি বৈশিষ্ট্য রয়েছে যা মানুষের বিভিন্ন সমস্যা সমাধানে ভূমিকা রাখে।
চন্দন মুখে লাগানোর নিয়ম জানুন
চন্দন মুখে লাগানোর নিয়ম অনুসরণ করা উচিত। কারণ চন্দন অতিরিক্ত ব্যবহার করার ফলে আপনি যেই স্বাস্থ্য উপকারিতা এবং মুখের যত্ন নেওয়ার জন্য ব্যবহার করবেন তার বিপরীত ঘটতে পারে। তার জন্য চন্দন সঠিক মাপে ব্যবহার করতে হবে এবং সপ্তাহে দুই থেকে তিন দিন ব্যবহার করা যথেষ্ট চন্দন মুখে লাগানোর নিয়ম নিচে দেখে নিন যা আপনার উপকারে আসবে।
প্রথম নিয়মঃ চন্দন মুখে লাগানোর জন্য চন্দন সংগ্রহ করতে হবে এবং বিশুদ্ধ চন্দন পাউডার নিয়ে পেস্ট তৈরি করুণ ও রাসায়নিক মিশ্রিত পণ্য এড়িয়ে ব্যবহার করতে হবে।
দ্বিতীয় নিয়মঃ ত্বক পরিষ্কার করার জন্য চন্দন ব্যবহারের আগে মুখ ভালো করে পরিষ্কার করে একটি মাইন্ড ফেসওয়াশ দিয়ে ত্বক ধুয়ে নিয়ে ব্যবহার করতে পারবেন।
তৃতীয় নিয়মঃ পেস্ট করে নিতে পারেন এবং প্রথমবার ব্যবহারের আগে ত্বকের কোন একটি অংশে হাতের পেছনের দিকে পরীক্ষা করুন এবং ২৪ ঘন্টার মধ্যে কোন পার্শ্বিক প্রতিক্রিয়া না ঘটলে তা নিঃসন্দেহে ব্যবহার করুন।
মুখে চন্দন লাগানোর নির্দিষ্ট পদ্ধতিঃ
ব্রণের জন্য চন্দন ব্যবহারঃ উপকরণ হিসেবে চন্দন পাউডার এক চা চামচ, গোলাপ জল দুই চামচ, মিশ্রণ তৈরি করে একটি পেস্ট বানাতে হবে যা ব্রনের উপর সরাসরি লাগিয়ে শুকিয়ে যাওয়া পর্যন্ত রেখে ধুয়ে ফেলুন। এবারে ব্রণ চিরতরে ভালো হবে।
ত্বকের উজ্জ্বলতার জন্যঃ চন্দন মধু কাচা দুধ এক চামচ করে নিয়ে একটি পেস্ট তৈরি করুন। সেগুলো মুখে ভালোভাবে মেখে ২০ মিনিট রাখার পর ঠান্ডা পানি দিয়ে ধুয়ে ফেলতে হবে যা ত্বকের উজ্জ্বলত বৃদ্ধি করবে।
রোদে পোড়া ত্বকের জন্যঃ চন্দনের সাথে এক চামচ দই এক চিমটি হলুদ মিশিয়ে পেস্ট তৈরি করে মুখে ব্যবহার করলে রোদে পোড়া দাগ ভালো হয়ে যাবে।
শুষ্ক ত্বকের জন্যঃ আপনার যদি ত্বক শুষ্ক হয় তাহলে চন্দন পাউডার এবং নারিকেলের তেলের সাথে দুধ বা অলিভ অয়েল যোগ করে একটি পেস্ট তৈরি করুন, যা আপনি ১০ থেকে ১৫ মিনিট মুখে লাগানোর পর হালকা কুসুম গরম পানি দিয়ে ধুয়ে ফেলুন যা আপনার ত্বকের শুষ্কতা দূর করবে।
এই উল্লেখিত উপকারিতা গুলো পাওয়ার জন্য আপনাকে সঠিক সময় ব্যবহার করতে হবে। ভালো উপকারিতা পেতে সপ্তাহে দুই থেকে তিন এর বেশি ব্যবহার করা যাবে না। সর্বোচ্চ ১৫ থেকে ২০ মিনিটে রেখে ধুয়ে ফেলতে হবে। হালকা মেসেজ করুন এবং সানস্ক্রিন ব্যবহার করতে পারেন যা আপনার ত্বকের সুরক্ষা দিবে এবং ত্বকের উজ্জ্বলতা দ্রুত বৃদ্ধি করার জন্য কার্যকরী ভূমিকা রাখবে।
কোন চন্দন ভালো জানুন
কোন চন্দন ভালো সাদা চন্দন নাকি লাল চন্দন তা আপনাদের সামনে উপস্থাপন করলাম। যাতে আপনি সঠিক উপকারিতা পাওয়ার জন্য সাদা নাকি লাল চন্দন ব্যবহার করতে হবে তা জেনে নিতে পারেন। তাহলে চলুন নিচে দেখিনিন কোন চন্দনের কোন উপকারিতা রয়েছে এবং কোন গুনাগুন রয়েছে।
সাদা চন্দন এর গুনাগুনঃ ত্বকের যত্নে বেশি ব্যবহৃত হয় এটি প্রাকৃতিক ঠান্ডা এবং ত্বক ও শরীরের জন্য নিরাপদ এর জন্য ত্বকের ব্রণ, রোদে পড়া দাগ এবং ত্বকের উজ্জ্বলতা বৃদ্ধির জন্য ব্যবহৃত হয়। এটি সাধারণত ভারতীয় উপমহাদেশে বেশি পাওয়া যায় বিশ্বব্যাপী সর্বাধিক পরিচিত উন্নত।
লাল চন্দনের গুনাগুন ও উৎস: লাল চন্দন অত্যান্ত গুনাগুন সমৃদ্ধ। রক্ত সঞ্চালন প্রক্রিয়া বৃদ্ধি এবং দাগ দূর করতে পারে। সাধারণত ত্বকের পিগমেন্টেশন এবং গভীরতম কালচে দাগ দূর করে। এগুলো ভারতের অগ্র প্রদেশে এবং কর্নটকের কিছু অংশের উৎপাদিত হয়।
ভালো চন্দন চেনার উপায় সম্পর্কে জানতে
ভালো চন্দন চেনার উপায় অত্যন্ত সহজ এবং কার্যকারী কারণ চন্দন দুই ধরনের হয়ে থাকে একটি দেখতে সাদা বর্ণের এবং একটি দেখতে লাল বর্ণের যার কারণে নির্বাচন করার জন্য সুবিধা হয়ে থাকে। তবে প্রাকৃতিক অনুযায়ী যে চন্দনগুলো পাওয়া যায় তা অত্যন্ত কার্যকরী এবং উপকারী। কিছু অসাধু ব্যবসায়ী রয়েছে তারা ভালো চান্দন এবং বিভিন্ন মিশ্রণ বা কেমিক্যাল এর সাহায্যে তৈরি করে মানুষের কাছে বিক্রি করে।
- গন্ধ অনুযায়ী এটি মিষ্টি ও প্রাকৃতিক গ্রন্থ যুক্ত হয় তা যদি অতিরিক্ত তীব্র বা কৃত্রিম মনে হয় তবে এটি ভেজাল হতে পারে।
- বর্ণ হিসেবে সাদা চন্দন সাধারণত হালকা কৃমি ফ্যাকাসে রঙের হয়। লাল চন্দন গভীর লালচে বাদামী বর্ণের হয়।
- স্পর্শ করলে চন্দন কাঠ পাউডার স্পর্শ করলে মসৃণ ও কোমল অনুভূতি পাওয়া যায়।
- গুণগত মানের দিক থেকে পানিতে মিশিয়ে দেখুন ভালো মন্দ মিশ্রণ পেস্ট তৈরি করে এবং এতে কোন কৃত্রিম গন্ধ আছে কিনা।
- সেরা চন্দনের জন্য যেগুলো উল্লেখযোগ্য, বিখ্যাত সাদা চন্দন ইন্ডিয়ায় সবচাইতে বেশি পাওয়া যায়, ত্বকের যত্নে যা ব্যবহৃত হয়। লাল চন্দন উল্লেখযোগ্য বর্তমান ইন্ডিয়া যা কলো দাগ এবং ত্বকের সকল সমস্যা দূর করতে উপকারী।
উৎপত্তি হচ্ছে ভারতের কর্ণাটক তামিলনাড়ু এবং কেরালা অঞ্চলে চন্দন গুলোকে ভালো মানের হিসেবে বিবেচনা করা হয়। বিভিন্ন উপায় রয়েছে এছাড়াও বাজারে থেকে কেনার জন্য। তাই আপনাকে বিশুদ্ধতা যাচাই করতে হবে এবং বিশ্বস্ত ব্যান্ড থেকে পণ্য কিনতে হবে। পাশাপাশি পণ্যের লেভেল ও সার্টিফিকেশন দেখতে হবে দামের দিকে লক্ষ্য রাখতে হবে।
চন্দন পাউডার ব্যবহারের নিয়ম
চন্দন পাউডার ব্যবহারের নিয়ম অত্যন্ত জরুরি যা আমাদের জানা উচিত। এটি ব্যবহার করার জন্য আমরা টাকা বা অর্থ ব্যয় করে থাকি। চন্দন পাউডার ব্যবহারের নিয়ম জানা উচিত ভালোভাবে উপকারিতা পাওয়ার জন্য তাই যাদের এই বিভিন্ন ত্বকজনিত সমস্যা রয়েছে তারা এই নিচের উপকারিতার নিয়ম গুলো দেখুন।
গোসলের পূর্বে চন্দন ব্যবহার করতে পারেন এবং শুকিয়ে যাওয়ার পর গোসল করে নিতে পারেন। আপনার ত্বকের উজ্জ্বলতা বৃদ্ধি করবে এবং ত্বকের সুরক্ষা দিবে। এছাড়া আপনি চন্দন বাটা গোলাপ জলের সাথে মিশিয়ে ব্যবহার করতে পারবেন এবং ১০ মিনিট রেখে ধুয়ে ফেলতে পারবেন। অনেকেই ত্বককে টানটান করে রাখার জন্য চন্দন ব্যবহার করে যা অত্যন্ত কার্যকরী এজন্য পেস্ট তৈরি করে ব্যবহার করুন।
তাছাড়া চন্দন ব্রণ, ফুলকুড়ির হাত থেকে রক্ষা করে। ত্বককে তাই আপনার মুখে যদি এই সকল সমস্যাগুলো ঘন ঘন দেখা দেয়, তাহলে আপনি উপরে উল্লেখিত যে নিয়মগুলো উল্লেখ করা হয়েছে সেই উপায়গুলো বা নিয়ম গুলো ব্যবহার করে খুব সহজেই এর উপকারিতা পেতে পারেন। তাই আপনি অবশ্যই আজকের এই তথ্যগুলো থেকে অবগত হওয়ার পর চন্দনের সঠিক ব্যবহার করবেন বলে আশা করা যায়।
চন্দন পাউডার এর দাম কত জানুন
চন্দন পাউডার এর দাম কত এটা অনেকেই জানেনা। তাই তাদের কিছু চন্দন পাউডার এর দাম উল্লেখ করে দেখানো হলো যাতে তারা আনুমানিক একটি ধারণা করতে পারে যে কি ধরনের চন্দন কেনার জন্য কতটুকু টাকা বা অর্থের প্রয়োজন হতে পারে। তাই নিচে উল্লেখিত চন্দন পাউডারের দাম গুলো কত তা জানুন।
চন্দন পাউডার এর দাম কত টাকাঃ
- Sandalwood Chandan powder ১০০ গ্রাম ১৫০ টাকার দাম।
- Trinamool herbal sandalwood powder ৫০ গ্রাম চন্দন গুড়া প্যাকেটের দাম ৮৫০ টাকা।
- Sandalwood powder performance ৫০ গ্রাম পাউডারের দাম ৩০০০ টাকা।
- Sandalwood powder আজকের ডিল অনুযায়ী ৩০০ গ্রাম চন্দন পাউডার এর দাম ৪০ টাকা।
- Red sandalwood powder nature X Bangladesh ৫০ গ্রাম লাল চন্দনের দাম ২০০ টাকা।
উল্লেখিত দ্রবণ গুলোর দাম থেকে আপনি বুঝতে পারছেন যে, কি ধরনের ব্যান্ডের চন্দন পাউডার কিনতে গেলে আপনাকে কি পরিমান ব্যবহার করতে হতে পারে। তাই আপনি যদি এই ব্যান্ডগুলো থেকে চন্দন গ্রহণ করেন তাহলে অবশ্যই নিরাপত্তা পাবেন। কারণ অনেক সময় দেখা যায় বিভিন্ন ব্যবসায়ী তাদের চন্দন গুলোর মধ্যে ভেজাল অন্তর্ভূত হাওয়ায় ক্ষতি হতে পারে।
পন্ডস চন্দন পাউডারের উপকারিতা অনেক রয়েছে
পন্ডস চন্দন পাউডার এর উপকারিতা অনেক কারণ এই পাউডার ব্যবহার করার মাধ্যমে ত্বকের অতিরিক্ত সমস্যা দূর হয়। আপনি যদি ত্বকের তেল তেল ভাব দূর করতে চান এবং ত্বকের শুষ্কতা রক্ষা করে, মসৃণতা বজায় রাখতে চান তাহলে অবশ্যই ব্যবহার করতে পারেন পন্ডস চন্দন পাউডার। যা আপনার ত্বকের দাগ কমবে এবং কোষের ক্লোজেল বাড়ায় যায় ত্বকের উজ্জ্বলতা বৃদ্ধি করে।
তাছাড়া আপনি পন্ডস চন্দন পাউডার ব্যবহার করে ত্বকের বার্ধক্য দূর করতে পারবেন। ত্বক করে রাখতে পারবেন টানটান। কে না চাই তার সৌন্দর্য ধরে রাখতে তাই আপনি যদি আপনার সৌন্দর্যকে ধরে রাখতে চান তাহলে পন্ডস চন্দন পাউডার ব্যবহার করতে পারেন। এটি অত্যন্ত স্বাস্থ্য উপকারী যা ক্ষতিকর প্রভাব নেই বললেই চলে। সুতরাং আপনি যদি পন্ডস চন্দন পাউডার এখনো ব্যবহার করার সিদ্ধান্ত না গ্রহণ করেন তাহলে চন্দনের অপকারিতা জেনে নিঃসন্দেহে ব্যবহার করতে পারেন।
চন্দন ক্রিম ব্যবহারের নিয়ম অনুযায়ী ব্যবহার
চন্দন ক্রিম ব্যবহারের নিয়ম না জানা থাকলে আপনি বিভিন্ন সুবিধা থেকে বঞ্চিত হতে পারেন। যেই সুবিধাগুলোর কথা ইতিমধ্যে এই পোস্টের ভিতরে বিস্তারিত আলোচনা করেছি। তবে আপনি যদি ব্যবহার অতিরিক্ত এবং নিয়মের বাইরে করে থাকেন তাহলে অবশ্যই উপকারের বদলে উল্লেখিত ক্ষতিগুলোর সম্মুখীন হতে পারেন। সুতরাং চন্দন ক্রিম ব্যবহার করুন রাত্রে ঘুমানোর পূর্বে।
তাছাড়া চন্দন ক্রিম ব্যবহারের নিয়ম হিসেবে ব্যবহার করতে পারেন সকালে ঘুম থেকে উঠার পূর্বে হালকা করে ব্যবহার করে মুখ ধুয়ে ফেলুন। তাছাড়া গোসলের পূর্বে ব্যবহার করতে পারবেন এবং মুখে ব্যবহার করার পর শুকিয়ে গেলে তা গোসল করে সুন্দর করে ধুয়ে ফেলে দিতে পারবেন। অনেকে অধিক সৌন্দর্য পাওয়ার জন্য নাইট ক্রিম হিসেবে চন্দন ক্রিম ব্যবহার করে। আপনিও চাইলে করতে পারেন সীমিত পরিমাণে।
এই পরিমান বজায় রাখতে হবে খুব বেশি হলে সপ্তাহে দুই থেকে তিন দিন উপকরণটি ব্যবহার করুন। এতে আপনার ত্বকের বিভিন্ন সমস্যা দূর করবে ত্বক উজ্জ্বলতা বৃদ্ধি করবে কালো দাগ দূর করবে এবং যা আপনার সহজেই সৌন্দর্য বৃদ্ধি করার জন্য চন্দন ক্রিম ব্যবহার করার সকল উপকারিতা মিলবে। আশা করি বুঝতে পেরেছেন চন্দন ক্রিম ব্যবহারের নিয়ম।
চন্দনের অপকারিতা ও চন্দন মুখে দিলে কি হয় তা নিয়ে শেষ কথা
চন্দনের উপকারিতা ও অপকারিতা। চন্দন মুখে মাখলে যে সকল উপকারিতা পাওয়া যায় তার বিষয়ে অনেক তথ্য উপস্থাপন করেছি যা থেকে আপনি বুঝতে পারবেন। যে চন্দনের কি উপকারিতা রয়েছে এবং এই উপকারিতা গুলো পাওয়ার জন্য কোন ধরনের উপায় অবলম্বন করতে হবে। সুতরাং আপনি যদি চন্দনের উপকারিতা গুলো সম্পর্কে বিস্তারিত না জানেন এবং এর ক্ষতিকর প্রভাব গুলো সম্পর্কে কেউ না জেনে থাকেন তাহলে এই পোস্টটি পড়ে নিতে পারেন।
কারণ যদি আপনি এই সকল তথ্য পর্যায়ক্রমে পড়ে এখানে আসেন তাহলে অবশ্যই ইতিমধ্যে জেনে গেছেন যে এর কি ধরনের ক্ষতিকর প্রভাব রয়েছে। এবং এই ক্ষতিকর প্রভাব থেকে বাঁচার জন্য আপনাকে কি পদক্ষেপ গ্রহণ করতে হবে। তাই আপনি এই পোস্টটি পড়ার মাধ্যমে উপকৃত হলে সকলের কাজে পৌঁছে দিতে পারেন যাতে সকলেই উপকৃত হয় এবং এর সঠিক ব্যবহার করে।
মুক্তআঁখি আইটির নীতিমালা মেনে কমেন্ট করুন। প্রতিটি কমেন্ট রিভিউ করা হয়।
comment url