দাঁতের গোড়ায় ইনফেকশন হলে করণীয় ১০টি উপায় জানু্ন
দাঁতের গোড়ায় ইনফেকশন হলে করণীয় কাজ আমাদের প্রত্যেকের জানা প্রয়োজন। কারণ দাঁত যেহেতু সকলের রয়েছে সে ক্ষেত্রে দাঁতের সমস্যা ও হয়ে থাকে সকলেরই কমবেশি। আর আপনি যদি দাঁতের গোড়ায় ইনফেকশন হলে কি করনীয় তা না জেনে থাকেন তাহলে আজকের এই আর্টিকেলটি আপনার জন্য গুরুত্বপূর্ণ।
কারণ এখানে উপস্থাপন করা হবে দাঁতের ইনফেকশনের এন্টিবায়োটিক, দাঁতের মাড়িতে ক্যান্সারের লক্ষণ, দাঁতের মাড়িতে পুঁজ হলে করণীয় কাজ, পাশাপাশি আপনি জানতে পারবেন যে দাঁতের যে সকল সমস্যা হয় তার কারণ এবং প্রতিকার সম্পর্কে বিস্তারিত আলোচনা।
পোস্ট সুচিপত্রঃ দাঁতের গোড়ায় ইনফেকশন হলে করণীয় ১০টি উপায় নিয়ে জানুন বিস্তারিত
- দাঁতের গোড়ায় ইনফেকশন হলে করণীয় কাজ গুলো জানুন
- দাঁতের ইনফেকশনের এন্টিবায়োটিক গুলো সম্পর্কে জানুন
- দাঁতের মাড়িতে ক্যান্সারের লক্ষণ গুলো দেখে রাখুন
- দাঁতের মাড়িতে পুঁজ হলে করণীয় বিষয়গুলো
- দাঁতের মাড়িতে ইনফেকশনের ঔষধ সম্পর্কে জানুন
- দাঁতের মাড়িতে ঘা হলে করণীয় বিষয়গুলো জানুন
- দাঁতের মাড়িতে ঘা এর ঔষধ এর নাম সমূহ দেখুন
- দাঁতের মাড়ি ক্ষয় রোধের ঔষধ ব্যবহার করতে জানুন
- দাঁতের মাড়ি থেকে রক্ত বন্ধ করার ঔষধ সম্পর্কে জানুন
- দাঁতের মাড়িতে ঘা কেন হয় জানা উচিত
- দাঁতের গোড়ায় ইনফেকশন হলে করণীয় বিষয়ের শেষ মন্তব্য
দাঁতের গোড়ায় ইনফেকশন হলে করণীয় কাজ গুলো জানুন
দাঁতের গোড়া ইনফেকশন হলে করণীয় কাজগুলোর মধ্যে উল্লেখযোগ্য, যে কাজগুলো করার মাধ্যমে দাঁতের গোড়ায় ইনফেকশন কমাতে পারবেন এবং এই সকল সমস্যা যেন না হয় তার পদক্ষেপ গ্রহণ করতে পারবেন। তাই আপনাদের সুবিধার্থে দাঁতের গোড়ায় ইনফেকশন হওয়ার সকল করণীয় উপায় গুলো উপস্থাপন করলাম।
- তাৎক্ষণিক করণীয়ঃ লবণ পানি দিয়ে কোলকচি করতে পারবেন এটার জন্য অসুম গরম পানি ১/২ চা চামচ লবণ মিশিয়ে দুই থেকে তিনবার দুই পাঁচ মিনিট পর করুন যা আপনার সংক্রমণ কিছুটা নিয়ন্ত্রণে আনবে এবং ব্যথা কমাতে সাহায্য করবে।
- ঠান্ডা সেক বা গরম সেক দেওয়াঃ খোলা ভাব কমাতে মুখের বাইরের অংশ ঠান্ডা কাপড় বা বরফের প্যাকেট দিয়ে সেক দিতে পারে।
- পেইনকিলার গ্রহণঃ ডাক্তারের পরামর্শ অনুযায়ী বিভিন্ন পেনকিলার যেমন, প্যারাসিটামল প্লাস, আইবুপ্রোফেন ইত্যাদি ব্যবহার করতে পারেন। তবে আইব্রোপ্রোফেন ব্যবহারের পূর্বে চিকিৎসকের পরামর্শ নেয়া উচিত।
- পেঁয়াজ ব্যবহারঃ খাবার পেঁয়াজ দাঁতের এ সকল সমস্যা দূর করার জন্য ব্যবহৃত হয়। এই থেরাপিগুলো প্রাচীনকাল থেকে ব্যবহৃত হয়ে আসছে এর জন্য আপনাকে একটি পেঁয়াজ থেকে সামান্য পরিমাণ পিয়াজ নিয়ে নিতে হবে। সেটা হালকা তাপে গরম করে সেই স্থানে ধরে রাখুন এবং এভাবে কয়েক বার তাপ দিন যা ফোলা এবং প্রদাহ কমাবে।
- চিকিৎসা হিসেবে যা করবেনঃ এন্টিবায়োটিক ব্যবহার করতে পারবেন ডাক্তারের পরামর্শ অনুযায়ী যেগুলো নিচে উল্লেখ করা হয়েছে, এমিনোক্সিসিলিন (amoxicillin) দিনে তিনবার সপ্তাহে পাঁচ থেকে সাত দিন খেতে পারবেন।
- মেন্টোনিডাজলঃ (mentrodazole) যদি সংক্রমণ জটিল হয় তবে এটা ব্যবহার করা যায় দিনে দুই থেকে তিনবার চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী এক সপ্তাহ খেতে হবে। দাতের জন্য ভালো উপকার করে।
- ক্লিন্ডামাইসিনঃ(Clindamycin) এটা ব্যবহার করলে পেনিসিলিনের এলার্জি থাকলে তা চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে হবে, তাছাড়া ব্যবহার করা নিরাপদ নয়।
- ড্রেন করে পুজ বের করাঃ ইনফেকশনের কারণে পুজ জমে যায় যার ফলে ডেন্টেস একটি সার্জারি করে পুঁজে বের করে দেয় কাজটি করতে পারেন দ্রুত ইনফেকশন কমানোর যায়।
- রুট ক্যানেল থেরাপি (RCT)ঃ দাঁতের শিকড়ে ইনফেকশন থাকলে এটি পরিষ্কার করে রুট ক্যানেল থেরাপি ব্যবহার করা হয় যা দাঁতের সংরক্ষণের জন্য কার্যকরী।
- দাঁত অপসারণঃ আরেকটি কাজ করতে পারেন আপনি যে দাঁতের সংক্রমণ রয়েছে। সেটা যদি গুরুতর অবস্থায় থাকে তাহলে আপনি সেই দাঁতটি সার্জারি করার মাধ্যমে অপসারণ করতে পারেন যা থেকে অন্য ভালো দাঁতের ইনফেকশন ছড়াতে পারে।
- ঘরোয়া প্রতিকারঃ হলুদ ও মধুর পেস্ট ব্যবহার করতে পারবেন। হলুদের মধ্যে রয়েছে কারকিউমিন প্রদাহ কমাতে পারে এবং দাঁতের সংক্রমণ কম করে।
- লবঙ্গ তেল ব্যবহারঃ তুলায় লবঙ্গ তেল লাগিয়ে সংক্রমণিত দাঁতের মাড়িতে আলতোভাবে ধরে রাখতে হবে যা আপনার দাঁতে ব্যথা নাশক হিসেবে কাজ করবে।
- রসুন ব্যবহারঃ দাঁতের সংক্রমণ সারানোর জন্য আপনি রসুন ব্যবহার করতে পারেন রসুনে এন্টি ব্যাকটেরিয়াল গুন রয়েছে। রসুনের রস আক্রান্ত জায়গায় ব্যবহার করতে পারেন অথবা রসুন হালকা গরম করে সেই আক্রান্ত জায়গায় ধরে রাখতে পারেন।
তাছাড়া আপনি ডাক্তারের পরামর্শ নেওয়ার জন্য যদি এই সমস্যার সময়কাল দুই সপ্তাহ, এক সপ্তাহের মত হয় তাহলে আপনি অবশ্যই ডাক্তারের পরামর্শ গ্রহণ কবেন। অনেক সময় দেখা যায় সেখান থেকে পুঁজ বের হয় এবং রক্তপাত সৃষ্টি হয় তার জন্য আপনাকে দ্রুত পরামর্শ নিতে হবে ডাক্তারের কাছে। প্রতিদিন আপনি সচেতন মূলক কাজ হিসেবে ব্রাশ করবেন এবং মুখ পরিষ্কার করার চেষ্টা করবেন পাশাপাশি মিষ্টি জাতীয় খাবার গ্রহণ করা থেকে বিরত থাকবেন তাহলে অবশ্যই সংক্রমণ থেকে সহজে বেঁচে যাবেন।
দাঁতের ইনফেকশনের এন্টিবায়োটিক গুলো সম্পর্কে জানুন
দাঁতের ইনফেকশনের এন্টিবায়োটিক গুলো অত্যন্ত কার্যকরী এবং চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী সঠিক নিয়মে ব্যবহার করলে ইনফেকশন প্রতিরোধ করা যায়। এই ইনফেকশন হওয়ার যে সম্ভাবনা বা অসংখ্য কারণ থাকে তা দূর করা যায়। আপনি দাঁতের ইনফেকশন অ্যান্টিবায়োটিক গুলো দেখুন যা ডাক্তারের পরামর্শ অনুযায়ী ব্যবহার করলে সঠিক ফল পাওয়া যায়।
আরো পড়ুনঃ মুখে ছোট ছোট কালো তিল দূর করার উপায় জানুন
- আমোক্সিসিলিন(Amoxicillin)
- মেট্রোনিডাজল (metronidazole)
- ক্লিন্ডামাইসিন (Clindamycin)
- এজিওথ্রোমাইসিস (Azithromycin)
- ডক্সিসাইক্লিন(Doxycycline)
উল্লেখিত ওষুধ গুলো অন্যতম তবে আপনাকে এই ওষুধগুলো ব্যবহার করার পূর্বে সঠিক ব্যবহার বিধি জানার জন্য এবং আপনার রোগের উপর নির্ভর করে ডোজ তৈরি করার জন্য এবং সময় নির্ধারণ করার জন্য অভিজ্ঞ ডাক্তারের পরামর্শ অনুযায়ী ব্যবহার করবেন। আপনি যদি নিজের ইচ্ছামত এই ওষুধগুলো ব্যবহার করেন তাহলে অবশ্যই উপকারিতা নাও হতে পারে। কারণ অনেক রোগীর ক্ষেত্রে অনেক ধরনের নিয়ম থাকে। যেমন, বিভিন্ন বয়সের মানুষের জন্য বিভিন্ন নিয়ম, সেই রকম পার্থক্য রয়েছে।
দাঁতের মাড়িতে ক্যান্সারের লক্ষণ গুলো দেখে রাখুন
দাঁতের মাড়িতে ক্যান্সারের লক্ষণসমূহ আমাদের জানা উচিত কারণ অসচেতনতা এবং অবহেলা করার কারণে আমাদের অনেক সময় দাঁতের ছোটখাটো সমস্যা থেকে বিভিন্ন বড় ধরনের সমস্যা সৃষ্টি হয়। আপনি যদি দাঁতের মাড়ির সমস্যা বুঝতে না পারেন তাহলে বছরের দুই থেকে তিনবার ডাক্তারের পরামর্শ অনুযায়ী চেকআপ করে নিতে পারেন।
দাঁতের মাড়িতে ক্যান্সারের লক্ষণ গুলোঃ
আরো পড়ুনঃ কপালে ছোট ছোট ব্রণ দূর করার ৯টি উপায় জানুন
- মুখ, ঠোঁট, গলা জ্বালাপোড়া এবং ব্যথা করবে পাশাপাশি পিণ্ড বা ঘন প্যাচ হবে।
- ধীরে ধীরে গলা ব্যথা বাড়বে এবং কর্কশতা এবং কণ্ঠস্বর পরিবর্তন হবে।
- গলায় পিণ দেখা দেবে।
- মুখের স্বাদ কমে যাবে এবং বিভিন্ন দুর্গন্ধ বের হবে।
- মুখে ব্যথা এবং রক্তপাত দেখা দিবে।
- গলা ফুলে যাওয়া, মাড়ি ফুলে যাওয়ার মত সমস্যা দেখা দিতে পারে।
- কোন খাবার গ্রহণ করতে পারবেন না। যে খাবার ঝাল গ্রহণ করলে আগুনের মতো মুখ জ্বলবে।
তাহলে আপনি বুঝতে পারবেন যে উল্লেখিত উপসর্গগুলো আপনাকে মনে করতে হবে যে, আপনার ওরাল ক্যান্সার হয়েছে। একজন সুস্থ মানুষ সুস্থ থাকতে থাকতে কখন অসুস্থ হয়ে যেতে পারে তাই বিভিন্ন সুবিধার জন্য পরামর্শ গ্রহণ করতে হবে ডাক্তারের কাছ থেকে এবং উল্লেখিত সমস্যাগুলো আছে কিনা তা নিশ্চিন্ত হতে হবে দাঁতের গোড়ায় ইনফেকশন হলে করণীয় কাজ হিসাবে।
দাঁতের মাড়িতে পুঁজ হলে করণীয় বিষয়গুলো
দাঁতের মাড়িতে পুঁজ হলে করণীয় হিসেবে আপনাকে যে কাজগুলো করতে হবে তা অবশ্যই জানা উচিত। কারণ, এই দাঁতের মাড়ি থেকে খুঁজে বের হওয়ার সম্ভাবনা থেকে এক সময় আপনি এটা অবহেলা করলে তা বড় আকার ধারণ করবে। এই সমস্যা ধীরে ধীরে অবহেলা করে রাখলে আপনার ক্যান্সারের সমস্যা হতে পারে।
যদি একবার দাঁতের মাড়িতে ক্যান্সার সম্ভাবনা দেখা যায় বা ক্যান্সার হয় তাহলে আপনার মুখের সকল দাঁত পড়ে যেতে পারে। দাঁতের মাড়িতে পুঁজ হলে আপনাকে সেই বিষয়টি মাথায় রেখে বিভিন্ন পদক্ষেপ গ্রহণ করতে হবে। পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন থাকতে হবে এবং নিয়মিত পরিষ্কার করতে হবে। ডাক্তারের কাছ থেকে বিভিন্ন ধরনের পরামর্শ এবং থেরাপি গ্রহণ করতে হবে।
আরো পড়ুনঃ হাত পা ঝিমঝিম করার কারণ ও প্রতিকার ১৫টি কার্যকরী টিপস
দাঁতের মাড়িতে পুঁজ হলে করণীয় বিষয়গুলো সম্পর্কে যদি আপনি আরো বিস্তারিত জানতে চান তাহলে আমাদের এই আর্টিকেলের যে আরো বরণ সেকশন গুলো রয়েছে সেগুলো ভিজিট করুন। এখানে বিস্তারিত সকল তথ্য উপস্থাপন করা হয়েছে যে একজন মানুষের কি কারণে এই সমস্যাগুলো হয় এবং এই সমস্যাগুলো সমাধান করার জন্য প্রাকৃতিক এবং ডাক্তারের চিকিৎসা অনুযায়ী কি পদক্ষেপ গ্রহণ করা যায়।
দাঁতের মাড়িতে ইনফেকশনের ঔষধ সম্পর্কে জানুন
দাঁতের মাড়ি ইনফেকশনের ঔষধ সম্পর্কে আমরা অনেকেই জানি এবং বিভিন্ন ধরনের ওষুধ ব্যবহার করি। এই ধরনের সংক্রমণ গুলো এবং ইনফেকশন থেকে বাঁচার জন্য ইতিমধ্যে আপনাদের সামনে কিছু এন্টিবায়োটিক এর নাম উপস্থাপন করেছি যে এন্টিবায়োটিক গুলো খাওয়ার মাধ্যমে আপনার দাঁতের মাড়ির বিভিন্ন ইনফেকশন অপসারণ করতে পারবেন।
দাঁতের মাড়িতে ইনফেকশন এর ঔষধ হিসেবে ব্যবহার করতে পারবেন। তবে আপনাকে এই ওষুধগুলো ব্যবহার করার পূর্বে কিছু কাজ করে নিতে হবে। যে কাজগুলো হচ্ছে প্রথমে আপনাকে ডাক্তারের কাছে গিয়ে সেই ইনফেকশন বা সমস্যা গুলো দেখাতে হবে। ডাক্তার আপনার সেই সমস্যাগুলো দেখিয়ে বিভিন্ন পরীক্ষা-নিরীক্ষা করার পর সমাধান হওয়ার উপযুক্ত কারণ নির্বাচন করবে।
উপযুক্ত কারণটি নির্বাচন করার পর আপনার সমস্যাটি কি কারণে হয়েছে তা দেখে সেই অনুযায়ী বিভিন্ন ইনভেনশন মূলক ঔষধ ব্যবহার করতে বলবে। ওষুধ গুলোর মধ্যে কিছু ওষুধ সম্পর্কে ইতিমধ্যে আপনাদেরকে জানানো হয়েছে, এজিথ্রোমাইসিন, ক্লিনদামাইসিন, ডক্সিসাইক্লিন সহ আরো অনেক ধরনের ওষুধ যা চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী অবশ্যই ব্যবহার করলে আপনার এ সকল দাঁতের গোড়ায় ইনফেকশন হলে করণীয় সমস্যা সমাধান হবে।
দাঁতের মাড়িতে ঘা হলে করণীয় বিষয়গুলো জানুন
দাঁতের মাড়িতে ঘা হলে করণীয় বিষয়গুলো আমাদের জানা উচিত কারণ এই ঘা প্রথম অবস্থায় কোন ক্ষতি না করলেও পরবর্তী অবস্থায় নানান ধরনের পার্শ্ব প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করতে পারে। এখান থেকে বিভিন্ন ইনফেকশন এবং ক্যান্সারের সমস্যা সৃষ্টি হতে পারে। যার জন্য আপনাকে দাঁতের মাঠ ঘা হলে কিছু করণীয় উপায় জানতে হবে।
আরো পড়ুনঃ ১০০% নিরাপদ চোখের ছানি দূর করার ঘরোয়া উপায় জানুন
- দাঁতের মাড়িতে ঘা হলে আপনাকে বিভিন্ন চিকিৎসা সেবা গ্রহণ করতে হবে। যেমন পিয়াজ গরম করে সেখানে দিতে হবে।
- লবণ পানি দিয়ে কুলকুচি করুন। ১ চামচ লবণ এক গ্লাস পানিতে নিয়ে তিন-চার বার কুলকুচি করতে হবে।
- অ্যান্টিসেপটিক মাথ ওয়াশ ব্যবহার করুন যা আপনার মুখের জীবানু ধ্বংস করবে এবং ঘা শুকাতে সাহায্য করবে। সর্বোচ্চ দিনে দুইবার ব্যবহার করতে পারবেন।
- বেদনা নাশক জেল লাগান এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য ওরাল জেল যা ঘায়ের স্থানে সরাসরি লাগাতে পারবেন এতে ব্যথা উপশম হয় এবং জ্বালাপোড়া কমে।
- খাদ্য অভ্যাস পরিবর্তন ও পানি পর্যাপ্ত পরিমাণ পান করা যার মাধ্যমে আপনার শরীরের হাইড্রেট পজিশন বজায় রাখবে এবং আপনি সহজেই সুস্থ হবেন।
- নারিকেলের তেল ব্যবহার করতে পারেন এটা প্রদাহ কমায় এবং আরাম দেয়। তাহলে আপনি প্রয়োজনে টকদই দিনে এক থেকে দুইবার খেতে পারেন যা ঘা সারাতে ভূমিকা রাখে।
লেখিত উপায় গুলো অবলম্বন করার মাধ্যমে আপনি খুব সহজেই দাঁতের মাড়ির ঘা হলে করণীয় হিসেবে ব্যবহার করতে পারবেন। একজন মানুষ দাঁতের সমস্যা হলে অনেক ধরনের সমস্যায় সম্মুখীন হতে হয়। যেমন দাঁতের সমস্যা থাকার কারণে সঠিকভাবে খাবার গ্রহণ করতে পারা যায় না। এতে মানুষের শারীরিক সমস্যা এবং পুষ্টি ঘাটতি দেখা দেয় তাই আপনাকে অবশ্যই দাঁতের যত্ন নিতে হবে এবং এর জন্য চিকিৎসকের পরামর্শ গ্রহণ করতে হবে।
দাঁতের মাড়িতে ঘা এর ঔষধ এর নাম সমূহ দেখুন
দাঁতের মাড়িতে ঘা এর ঔষধ এর নাম জানা প্রয়োজন কারণ দাঁতের মাড়িতে ঘা হলে এই ওষুধ গুলো ব্যবহার করা যায় যা আপনার সমস্যার সমাধান করবে। এবং আপনাকে বিভিন্ন দাঁতের প্রদাহ থেকে রক্ষা করবে। ইতিমধ্যে অনেক দাঁতের সমস্যা এবং মাড়ির ফোলা ভাব ও ক্ষত সারানোর জন্য ওষুধ রয়েছে সেগুলো উপস্থাপন করেছি।
ওষুধগুলো আপনি নিয়মিত ব্যবহার করে উপকারিতা পাবেন। একজন মানুষের মাউথ ওয়াশ হিসেবে অনেক ধরনের অ্যান্টিসেপটিক রয়েছে যা ব্যবহার করলে আপনার মুখে জমে থাকা জীবাণু ব্যাকটেরিয়া ধ্বংস হবে। যে ব্যাকটেরিয়া এবং জীবাণুগুলো আপনার মুখের ঘা তৈরির জন্য দায়ী। আর আপনি যদি মাড়িতে ঘায়ের এই ওষুধ গুলো ব্যবহার করতে চান তাহলে উপরে উল্লেখিত নাম ছাড়া এই নাম গুলো দেখুন।
আরো পড়ুনঃ কোমরের ব্যথা কমানোর ১০টি ঘরোয়া উপায় জেনে নিন
মুকোপেইন, ডোলোজেল, ভিটামিন বি কমপ্লেক্স জাতীয় ঔষধ ব্যবহার করতে পারবেন। এবং প্রাকৃতিক ওষুধ হিসেবে যে সকল ওষুধ গুলো ব্যবহার করতে পারেন তাই এই পোস্টটি উল্লেখ করেছি দেখে নিতে পারেন। এই ওষুধ গুলো ব্যবহার করার পূর্বে কিছু সতর্কতা অবলম্বন করতে হবে যেমন, প্রথমে আপনাকে ডেন্টিসের পরামর্শ গ্রহণ করতে হবে এবং বিভিন্ন পরীক্ষা নিক্ষা করে দেখতে হবে আপনার দাঁতের অবস্থা কেমন আছে। তারপর সে অনুযায়ী চিকিৎসা নিতে হবে।
দাঁতের মাড়ি ক্ষয় রোধের ঔষধ ব্যবহার করতে জানুন
দাঁতের মাড়ি ক্ষয় রোধের ঔষধ গুলো আমাদের জানা উচিত এবং কি উপায় অবলম্বন করলে আমাদের দাঁতের ক্ষয় রোধ হবে তা আমাদের সকলের জানা দরকার কারণ, দাঁত অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি অধ্যায় যা আমাদের শরীরের অনেক কাজে আসে। দাঁতের সাথে শরীরের অনেক কিছুর সম্পর্ক রয়েছে যার কারণে আমাদের দাঁতের মাড়ি ক্ষয় রোধ করার ওষুধ এবং বিভিন্ন বিষয় সম্পর্কে অবহত হওয়া উচিত।
- ভালো মৌখিক স্বাস্থ্যবধি অনুসরণ করাঃ প্রতিবার দুই বার ব্রাশ করা এবং খাবার গ্রহণ আগে এবং পরে ব্রাশ করা এবং ঘুমানোর পূর্বে ব্রাশ করার অভ্যাস তৈরি করা।
- ফ্লোরাইড চিকিৎসাঃ দাঁতের এনামেল শক্তিশালী হয় এবং ক্লোরাইড দ্বারা এসিড আক্রমণের জন্য আরো প্রতিরোধী হয়, স্বাভাবিক ভাবে চা, মাছ খাবার এবং টুথপেস্টে ফ্লোরাইড থাকে অনেক বেশি পরিমাণে যার ফলে এতে সিনটিক ক্লোরাইড উপস্থিত। দাঁতের ডাক্তারের পরামর্শ নিয়ে ফ্লোরাইড টুথপেস্ট ও মুখ ধুয়ে ফ্লোরাইড জেল বার্নিশ বা পেস্ট ব্যবহার করুন।
- ডেন্টাল সিল্যান্ডঃ এটা হল প্রতিটা রক্ষামূলক আবরণ যা পিছনের দাঁতের চিবানু পৃষ্ঠ স্থাপন করা হয়। যা বাধা হিসেবে কাজ করে ব্যাকটেরিয়া এবং খাদ্য রোগ গুলিকে গভীর ভাবে শরীরে এবং ফিশারে জমা হতে বাধা দেয়। যার ফলে আপনার মুখে দাঁতের মধ্যে বিভিন্ন খাবার জমা থাকে না এবং সমস্যা সৃষ্টি করে না।
- চিনি বা অ্যাসিটিক খাবার সীমিত খাওয়াঃ শতকরা জাতীয় খাবার এবং পানি কম পান করলে এই সমস্যা দেখা দিতে পারে দাঁতের পুষ্টি এবং গুনাগুন নষ্ট হয়।
- ওষুধ হিসেবে যেগুলো ব্যবহার করতে পারবেন। মাউথ ওয়াশ, টিংট্রপা, ক্লোরহেক্সিডিন, ফ্লোরাইড পেস্ট, ভিটামিন সি জাতীয় খাবার ইত্যাদি।
এবং এই সমস্যা থেকে বাঁচার জন্য আপনাকে আরো একটি কাজ করতে হবে। সেটি হচ্ছে বিভিন্ন নিত্য প্রয়োজনীয় ভিটামিন সি যুক্ত এবং ভিটামিন ডি যুক্ত খাবার যে খাবারগুলো গ্রহণ করার ফলে আপনার শরীরের এই সংক্রমণ গুলো ধীরে ধীরে কমবে এবং প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি পাবে। আপনার দাঁতের ক্ষয় রোধ করার জন্য আপনি আরো একটি কাজ করতে পারবেন ডেন্টাল ফ্লক ব্যবহার করতে পারবেন।
দাঁতের মাড়ি থেকে রক্ত বন্ধ করার ঔষধ সম্পর্কে জানুন
দাঁতের মাড়ি থেকে রক্ত বন্ধ করার ওষুধ সম্পর্কে আমরা ইতিমধ্যে যে তথ্যগুলো জেনেছি। যার আরো পরম সেকশন গুলোতে যে তথ্যগুলো উপস্থাপন করা হয়েছে। সে সকল তথ্য একজন যদি সঠিকভাবে মেনে চলে তাহলে অবশ্যই তার দাঁতের মাড়ি থেকে রক্ত বন্ধ হওয়া সম্ভব। কারণ উল্লেখিত এই তথ্যগুলো ব্যবহার করে আপনি খুব সহজেই এই রোগের চিকিৎসা নিতে পারবেন এবং রোগ হওয়ার কারণ গুলো সম্পর্কে জানতে পারবেন।
আরো পড়ুনঃ গ্যাস্ট্রিকের জন্য মেথি খাওয়ার নিয়ম পুরুষের জন্য মেথির উপকারিতা
একজন মানুষ দাঁতের মাড়ি সমস্যা অত্যন্ত ভয়ানক পরিস্থিতিতে উপলব্ধি করতে পারে। এই ব্যথা এতটাই তীব্রতর আকার ধারণ করে এবং এর রক্তপাতের সমস্যা এতটাই বেদনাদায়ক হয় যে মানুষ ঘুমন্ত অবস্থায় ব্যথা শুরু হলে ঘুম ভেঙে যায় এবং প্রচন্ড জোরে চিৎকার এবং চিল্লাচিল্লি করে। কারণ এই ব্যথা তীব্রতার আকার ধারণ করার ফলে আপনার ধৈর্যের যে সীমানা আছে তা পার হয়ে যাবে।
মূল কথা বলতে গেলে দাঁতের মাড়ি থেকে রক্ত বন্ধ করার উপায় হিসেবে আপনাকে উক্ত ঔষধ গুলো এবং ঘরোয়া যে উপায় গুলো রয়েছে তা ব্যবহার করতে হবে। ড, অপরূপ রতন চৌধুরী বলেন, দাঁতের মাড়ি থেকে রক্ত বন্ধ করার চিকিৎসা দুই ধরনের একটি হচ্ছে স্থায়ী ডাক্তারি ডেন্টাল এর পরামর্শ অনুযায়ী। অপারেটিং হচ্ছে প্রাকৃতিক উপায়ে যা অস্থায়ী যা ঘরোয়া উপায় হিসেবে আলোচিত।
দাঁতের মাড়িতে ঘা কেন হয় জানা উচিত
দাঁতের মাড়িতে ঘা কেন হয় এর সহজ যে উত্তরটা আপনাদেরকে দেবো তা হচ্ছে অসচেতনতা এবং অযত্ন যার ফলে আপনার দাঁতে বিভিন্ন সময় ময়লা আবর্জন এবং ব্যাকটেরিয়া সংক্রমণ হতে আপনার দাঁতের মধ্যেই এই সমস্যাগুলো বৃদ্ধি পেয়ে ঘা এবং বিভিন্ন সমস্যা সৃষ্টি করে। এই অনিয়মিত অযত্ন সকল বিষয়ে ক্ষতিকর প্রভাব করে তাই আপনি যত্নবান হন এবং নিজের দাঁতের খেয়াল রাখুন।
যাদের দাঁতের মাড়িতে ঘা হয় তারা এই পোস্টে উল্লেখিত উপায়গুলো অবলম্বন করতে পারবেন বিভিন্ন দাঁতের ইনফেকশন হওয়ার সম্ভাবনা থেকে বাঁচার জন্য। আর এই কারণ থেকে এড়ানোর জন্য আপনাকে নিয়মিত দাঁত ব্রাশ করতে হবে এবং পরিষ্কার পরিচ্ছন্নতা অবলম্বন করতে হবে। তাহলে অবশ্যই দাঁতের মাড়িতে ঘা এর সম্ভাবনা এড়াতে পারবেন। তার জন্য আপনাকে আরো একটি বিষয়ে জানা উচিত।
মাড়ি রোগ কি? মাড়ি রোগ হলো একটি সাধারণ অবস্থা যেখান থেকে মাড়ি ফুলে যায় বা ঘা হয় এবং সংক্রমিত বিভিন্ন ধরনের সমস্যা সৃষ্টি হয়। মাড়ি রোগ প্লাক ব্যাকটেরিয়া একটি আঠালো ফিল্ম যা দাঁত এবং মাটিতে তৈরি হয়। আঠালো ফিল্ম যাতায়াত এবং মাড়িতে তৈরি হয় এবং এতে সৃষ্ট ব্ল্যাক এসিড এবং টক্সিন তৈরি করে। আশাকারি উল্লেখিত তথ্য গুলো থেকে আপনি উপকৃত হবেন।
দাঁতের গোড়ায় ইনফেকশন হলে করণীয় বিষয়ের শেষ মন্তব্য
দাঁতের গোড়ায় ইনফেকশন হলে করণীয় বিষয়ে যে, তথ্যগুলো আপনাদেরকে উপস্থাপন করেছি এগুলো থেকে অবশ্যই আপনি ইতিমধ্যে জেনেছেন যে একজন মানুষের দাঁতের গোড়ায় ইনফেকশন হলে কি ধরনের উপায় অবলম্বন করতে হবে। আপনি দাঁতের ইনফেকশন ভালো করার জন্য সরাসরি ডাক্তারের পরামর্শ গ্রহণ করে চিকিৎসা সেবা নিতে পারেন। আর আপনার এ সমস্যা যদি প্রাথমিক অবস্থায় থাকে তাহলে এই সমস্যা থেকে বের হওয়ার জন্য ঘরোয়া উপায়।
আর ঘরোয়া উপায় গুলো ব্যবহার করার জন্য যে নির্দেশনাবলী অনুসরণ করা প্রয়োজন তা আমাদের এই আর্টিকেলটির ভিতরে উপস্থাপন করা হয়েছে যা দেখে আপনি বুঝতে পারবেন যে এই কাজগুলো করার জন্য আপনাকে কি করতে হবে এবং কোন ধরনের উপায়ে কি কাজ করতে হবে। আপনি কাজটি করার জন্য ঘরোয়া উপায় অবলম্বন করতে পারবেন। পাশাপাশি ডাক্তারের পরীক্ষা নিতে পারবেন প্রথম অবস্থায় ঘরোয়া উপায় এবং সময়মতো চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে হবে।
মুক্তআঁখি আইটির নীতিমালা মেনে কমেন্ট করুন। প্রতিটি কমেন্ট রিভিউ করা হয়।
comment url