দাঁতের মাড়িতে পুজো হলে করণীয় ১১টি বিষয় গুলো জানুন

দাঁতের মাড়িতে পুঁজ হলে করণীয় যে উপায় গুলো রয়েছে তা আমাদের জানা দরকার কারণ এই সমস্যা অনেকের থাকে। দাঁতের মাড়িতে পুঁজ, ব্যথা জাতীয় এই ধরনের সমস্যা দেখা দিলে অবশ্যই এটা নিয়ে বসে থাকা যাবে না। এর থেকে বিভিন্ন বড় ধরনের সমস্যা সৃষ্টি হতে পারে তাই চিকিৎসা সেবা নিতে হবে।

দাঁতের মাড়িতে পুঁজ হলে করণীয়

বিভিন্ন বয়সে দাঁতের অযত্ন এবং অবহেলার কারণে বিভিন্ন ইনফেকশন এবং মাড়ির সমস্যা গুলো হয়ে থাকে। এই সমস্যাগুলো থেকে বাঁচার জন্য আপনি নিচে দেওয়া উপায়গুলো অবলম্বন করতে পারবেন। এছাড়াও আপনাদের সুবিধার্থে এই পোস্টে আলোচনা করা হবে দাঁতের মাড়ি দিয়ে পুজ কোন কোন কারণে ঘটে এবং এর সকল প্রতিকার, ওষুধ সমূহ সম্পর্কে জানুন।

পোস্ট সুচিপত্রঃ দাঁতের মাড়িতে পুঁজ হলে করণীয় বিষয়গুলো জানুন সম্পর্কে যা জানবেন

দাঁতের মাড়িতে পুঁজ হলে করণীয় বিষয়গুলো জানুন 

দাঁতের মাড়িতে পুঁজ হলে করণীয় বিষয়গুলো সম্পর্কে আমাদের জানুন কারণ অসচেতন এবং অবহেলার কারণে অনেক মানুষেরই এই সমস্যা হয়ে থাকে। দাঁতের মাড়িতে পুঁজ বের হওয়ার প্রধান কারণ হচ্ছে বিভিন্ন সংক্রমণ জড়িত সমস্যা হওয়া। এর থেকে বাঁচার জন্য করণীয় কাজ গুলো জানুন।

  • নিয়মিত ব্রাশ করুনঃ মুখের দ্রুত সমস্যা সমাধানের জন্য পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা রাখতে হবে তার জন্য আপনি প্রতিদিন অন্তত দুবার দাঁত ব্রাশ করুন। দাঁত ব্রাশ করা পাশাপাশি ফ্ল্যাশ ব্যবহার করুন। 
  • লবণ পানি দিয়ে কুলকুচিঃ দাঁতের মাড়িতে পুঁজ হলে করণীয় হিসাবে আপনি হালকা গরম পানির সাথে লবণ মিশিয়ে কোন কুচকুচি করতে পারেন যা সংক্রমণ কমাবে।
  • প্রচুর পরিমাণে পানি পান করুনঃ মুখের শুষ্কতা কমানোর জন্য এবং ব্যাকটেরিয়া বৃদ্ধির হার নিয়ন্ত্রণ বা কমানোর জন্য আপনি ব্যবহার করতে পারেন প্রচুর পরিমাণে পানি পান করার সভাস।
  • মাউথ ওয়াশ ব্যবহার করুনঃ অ্যান্টিসেপটিক মাউথওয়াশ ব্যবহার করতে পারেন। যা আপনার মুখের ব্যাকটেরিয়া সংক্রমণ প্রতিরোধ করবে এবং দাঁতের সুরক্ষা দেবে।
  • স্বাস্থ্যকর খাদ্য অভ্যাস করুনঃ স্বাস্থ্যকর খাদ্য অভ্যাস গড়ে তুলতে হবে, চিনি বা প্রসেস করা খাবার পরিহার করতে হবে এবং ভিটামিন সি জাতীয় এবং ক্যালসিয়াম জাতীয় খাবার গ্রহণ করতে হবে। এবং খাবার খাওয়ার পরে ব্রাশ করার অভ্যাস করতে হবে বিশেষ করে ঘুমানোর পূর্বে। 
  • জীবাণুমুক্ত যন্ত্রপাতি ব্যবহারঃ দাঁতের বিভিন্ন পরিষ্কার জড়িত এবং যত্ন নেওয়ার জন্য পরিষ্কার যন্ত্রপাতি ব্যবহার করতে হবে প্রয়োজনে জীবাণুমুক্ত যন্ত্রপাতি ব্যবহার করতে পারেন।
  • ধূমপান এবং মদ্যপান থেকে বিরত থাকাঃ ধূমপান এবং মদ্যপান শারীরিক কিছু ক্ষতি করে তাই ধূমপান এবং মদ্যপান থেকে দূরে থাকুন যা আপনার দাঁতের জন্য ক্ষতিকর। 
  • পেইন রিলিফঃ যদি আপনার দাঁতের পুচ পড়ার সাথে সাথে ব্যথা করে প্রচন্ড পরিমাণ তাহলে আপনি ওভার দা কাউন্টার পেইন রিলিফ ব্যবহার করতে পারবেন। 
  • ঠান্ডা বা গরম সেঁক দেওয়াঃ ব্যথা কমাতে ফোলা জায়গায় ঠান্ডা এবং গরম সেক দিতে পারেন। এটা সাময়িক আরাম দেয় এবং পুজ পড়ার মত সমস্যা কম করে।
  • দাঁতের ডাক্তার দেখানোঃ এ ধরনের সমস্যা থেকে বাঁচার জন্য অবশ্যই আপনাকে দাঁতের ডাক্তার দেখাতে হবে তিনি বিভিন্ন পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে দাঁতের পরামর্শ দিবে যা দাত ভালো করতে পারে।
  • পুঁজ পরিষ্কার করাঃ দাঁতের মাড়িতে পুজ বের হলে আপনি জমে থাকা পুজগুলো ডাক্তারের সাহায্যে বা কোন মানুষ পারলে বা কারো মাধ্যমে পরিষ্কার করতে হবে।
  • এন্টিবায়োটিক গ্রহণঃ সংক্রমণ ছড়িয়ে পড়লে ডাক্তারের পরামর্শ অনুযায়ী আপনাকে এন্টিবায়োটিক নিতে হতে পারে যা আপনার দাঁতের সুরক্ষা দিতে সাহায্য করবে। 

সুতরাং আপনি বুঝতেই পারছেন যে দাঁত সুরক্ষা দেওয়ার জন্য এবং তাদের সংক্রমণ থেকে বাঁচার জন্য আপনি কি ধরনের উপায় অবলম্বন করবেন পাশাপাশি আপনি প্রতিদিন খাবার পরে এবং আগে ব্রাশ করার অভ্যাস করতে পারেন। এবং নরম জাতীয় বা শক্ত জাতীয় ব্রাস ব্যবহার করবেন। যাতে কোনভাবে দাঁতের মাড়িতে আঘাত প্রাপ্ত না হয় এবং চিনি এবং মিষ্টি জাতীয় খাবার গ্রহণ করা থেকে নিজেকে সংযত রাখার চেষ্টা করবেন। 

দাঁতের মাড়ি থেকে পুঁজ বের হওয়ার কারণ কি জানুন 

দাঁতের মাড়ি থেকে পুঁজ বের হওয়ার কারণ কি এটা অনেকে জানে না তাই তাদের জন্য উপস্থিত এই তথ্যগুলো দেখে নেয়া উচিত। আমরা সাধারণত বিভিন্ন খাবার গ্রহণ করি এবং সেই খাবারগুলো দাঁতে লেগে থাকে এবং এখান থেকে বিভিন্ন জীবাণু এবং ব্যাকটেরিয়া সৃষ্টি হয় যা আমাদের দাঁতের সাথে বিভিন্ন ক্ষতিকর প্রভাব বিস্তার করে। তাই নিচে জেনে নিন কি কারনে এই সমস্যা  গুলো হতে পারে।

আরো পড়ুনঃ কপালে ছোট ছোট ব্রণ দূর করার ৯টি উপায় জানুন

  • গরম বা ঠান্ডার প্রতি সংবেদনশীলতাঃ অনেক মানুষ রয়েছে যারা বেশি গরম বা বেশি ঠান্ডা জিনিস খেতে পারে না। মূলত এই সমস্যাগুলো সংবেদনশীলতার কারণে হয় যা ঠান্ডা বা গরমের মাধ্যমে হয়ে থাকে। 
  • খাবার চিবানোর সময় ব্যথা্যঃ খাবার খাওয়ার সময় বিভিন্ন সংক্রমণের কারণে মাড়িতে ব্যথা লাগে চিবিয়ে খাবার গিলার সময় দাঁতের আশেপাশে ব্যথা করে।
  • পুঁজ বের হওয়ার কারণঃ বাড়িতে বিভিন্ন সংক্রমণের কারণে মাড়ি ফোলা হয় এবং বিভিন্ন ক্ষত সৃষ্টি হয় যার থেকে পুঁজ বের হয়। 
  • গিং গিভাইটিসঃ এটা মাড়ির প্রদাহের কারণে দাঁতের চারপাশে ব্যাকটেরিয়া জমা হয়ে মাড়ি সংক্রমণিত হয়। এটি মাড়ি ফোলা লাল হয় এবং কখন রক্তপাতের সাথে সাথে বের হওয়ার সম্ভাবনা দেখা দেয়। 
  • পেরিও ডোন্টটাইটিসঃ গিংগিভাইটিস চিকিৎসা না হলে এটি পরিবর্তিত হয়ে ধীরে ধীরে পেরিও ডোন্টটাইটিস রূপ নেয়। এটা দাঁতের গভীর টিস্যু এবং চোয়ালের হাড়ের সংক্রমণ ঘটায় যার ফলে পুজ জমে এবং ধীরে ধীরে বাড়ি থেকে বের হয়। 
  • দাঁতের অবসেসঃ দাঁতের শিকড়ে বা মাড়ির ব্যাকটেরিয়ায় সংক্রমণের ফলে পুজ জমে থাকে এটি সাধারণত ক্যাভিটি বা দাঁতের ক্ষয় জড়িত সমস্যার কারণে হয়। 
  • ফুড ইম্প্যাকশনঃ দাঁতের ফাঁকে বা মাড়ির নিচে খাবার আটকে গেলে ব্যাকটেরিয়া এবং ভাইরাসের আক্রমণের ফলে এই সমস্যা থেকে সংক্রমণ হওয়ার পর পুঁজ বের হওয়ার সম্ভাবনা সৃষ্টি করে। 
  • ইমিউন সিস্টেম দুর্বল হওয়ার কারণঃ ডায়াবেটিস স্ট্রেস বা অন্য কোন রোগের কারণে শরীরে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কমে গেলে এই ধরনের বিভিন্ন সংক্রমণ দেখা দিতে পারে।
  • দাঁতের চিকিৎসায় ভুল প্রয়োগ বা আঘাতঃ দাঁতের ছোটখাটো চিকিৎসা করার জন্য গিয়ে আপনি যদি ভুল চিকিৎসায় পড়েন বা বিভিন্নভাবে আঘাতপ্রাপ্ত হন তাহলে সেখান থেকে সংক্রমণিত হয়ে পুজের সৃষ্টি হতে পারে।

এই সমস্যাগুলো হলে মাড়ি খুলে যাবে বাড়ি থেকে দুর্গন্ধ এবং পুঁজ বের হবে চুয়াল ব্যথা করবে। সংক্রমিত চোযল রক্তে ছড়িয়ে পড়তে পারে দাঁত ক্ষতিগ্রস্ত এবং উঠে যেতে পারে গুরুতর অবস্থায় গেলে। তাই আপনাকে সুস্থ থাকার জন্য সঠিক এবং অভিজ্ঞ ডাক্তারের পরামর্শ নিন যে ডেন্টিস আপনাকে সকল সমস্যা দূর করে সঠিক চিকিৎসা দিয়ে দাঁতের সমস্যা দূর করতে সাহায্য করবে।

দাঁতের মাড়ি দিয়ে পুঁজ পড়ে কোন ভিটামিনের অভাবে জানুন 

অনেকে দাঁতের মাড়ি দিয়ে পুজ পড়ে কোন ভিটামিনের অভাবে তা জানেন। আপনি যদি আপনার দাঁতের সুরক্ষা যান এবং দাঁতের মাড়ি থেকে রক্ত পড়া এবং ব্যথা ফোলা ভাব থেকে নিজেকে রক্ষা করতে চান তাহলে মাড়ির সমস্যা হওয়ার জন্য যে ভিটামিন গুলো দায়ী তা আপনি চিহ্নিত করে। সেই ভিটামিন রয়েছে এমন খাবার গ্রহণ করে সে ভিটামিনের ঘাটতি পূরণ করলে আপনি অবশ্যই এ ধরনের সমস্যা থেকে বেঁচে যাবেন।

আরো পড়ুনঃ এলোভেরা দিয়ে মেছতা দূর করার ১০টি উপায় জানুন

  • ভিটামিন এ 
  • ভিটামিন সি 
  • ভিটামিন b6 
  • ভিটামিন বি টু 
  • এবং ভিটামিন কে

কারণ একজন মানুষের সবচাইতে বেশি খাবার গ্রহণের জন্য প্রয়োজন হয় দাঁত এ দাঁত ব্যবহার করে মানুষ খাবারগুলোকে ছোট ছোট টুকরা এবং হজমের উপযুক্ত তৈরি করে। তাই আপনি দাঁতের বিভিন্ন সমস্যা হলে যা অত্যন্ত গুরুতর সমস্যা সৃষ্টি করতে পারে আপনার স্বাভাবিক জীবনের ক্ষেত্রে। এই সমস্যাগুলো সৃষ্টি করার জন্য বিশেষ ভাবে যেই ভিটামিন দুইটি জড়িত তার মধ্যে রয়েছে যে ভিটামিন।  উপরে যে লিস্ট গুলো দেওয়া হয়েছে। সেই ভিটামিন গুলো অভাব হলে দাঁতের বা মাড়ির বিভিন্ন সমস্যা দেখা দেয়। 

বাচ্চাদের দাঁতের মাড়িতে পুঁজ হলেই করণীয় কাজ 

বাচ্চাদের দাঁতের মাড়িতে পুঁজ হলে করণীয় কাজ গুলো আমাদের জানা উচিত। কারণ একটু অবহেলা এবং অসচেতনতা ভাবে জীবন যাপন করলে এবং বাচ্চাদের খেয়াল না রাখলে তারা নিজেরা যেহেতু অনেক কিছু খেয়াল রাখতে পারেনা তাই তাদের দাঁতের বিভিন্ন সমস্যা এবং সংক্রমণ হতে পারে। তাই এই সংক্রমণ এড়াতে আপনি যে কাজগুলো করবেন।

আরো পড়ুনঃ চন্দন দিয়ে ফর্সা হওয়ার ৮টি উপায় জানুন

  • দাঁত ব্রাশ করার পর তাজা পানি দিয়ে মুখ ধুয়ে নিবেন। 
  • আপনার বাড়িতে হলুদ জেল থাকলে লাগাতে পারেন। 
  • জেলটি আপনার মাড়িতে প্রায় ১০ মিনিট রেখে দিতে হবে।
  • জেলটি দিয়ে ধুয়ে ফেলুন আপনার মুখের চারপাশ নরম জল চালান। 
  • মুখের সমস্যা হলে বিভিন্ন দুর্গন্ধ এবং জীবাণু থাকতে পারে তাই থুতু গিলে ফেলবেন না। 
  • এবং চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী চিকিৎসা সেবা গ্রহণ করুন। 

উল্লেখিত উপায়গুলি অবলম্বন করলে আপনি তাতে যদি বাচ্চাদের কখনো পুঁজ বের হয় তাহলে সেখান থেকে রক্ষা পাবে। প্রাথমিক অবস্থায় আপনি ঠান্ডা এবং গরম পানি সেক দিতে পারেন। এবং এটা যদি বুঝতে অনেক দেরি করেন তাহলে এখান থেকে আরো বড় ধরনের ইনফেকশন এবং সমস্যা দেখা দিতে পারে। তাই আপনি যত সম্ভব দ্রুত তার সাথে চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী চিকিৎসা সেবা গ্রহণ করুন। 

মাড়িতে ক্যান্সারের লক্ষণ সমূহ জেনে রাখুন 

মাড়িতে ক্যান্সারের লক্ষণসমূহ আমাদের জানা উচিত কারণ অনেক সময় অসচেতনতা এবং অবহেলার কারণে আমাদের মাড়িতে বিভিন্ন ব্যাকটেরিয়া এবং জীবাণুর সংক্রমণ থেকে ক্যান্সার সৃষ্টি হয়। আর এই ক্যান্সার হওয়ার ফলে অনেক মানুষ এটা যে লক্ষণগুলো প্রদর্শিত হয় সে লক্ষণগুলো বুঝতে না পেরে অন্য চিকিৎসা বা অন্য সমস্যা মনে করে।

মাড়িতে ক্যান্সারের লক্ষণ সমূহ

নিচে মাড়িতে ক্যান্সারের লক্ষণ সমূহঃ

  • মুখ ঠোঁট ও গলায় ব্যথা জ্বালা এবং পিন্ড বা ঘন প্যাচ হতে পারে।
  • কোন খাবার গ্রহণ বা চিবিয়ে গিলার সময় ব্যথা ও অসুবিধা হয়। 
  • মুখের চোয়াল মাড়ি ফুলে যায়। 
  • মুখের বাড়ি থেকে রক্তপাত এবং প্রচন্ড ব্যথা হওয়া। 
  • জিব্বা দাঁড়ালে অসুবিধা অনুভব করা।
  • জিব্বা ও মুখের অসারতা এবং বিভিন্ন সমস্যা দেখা যায়। 
  • ক্রমাগত গলা ব্যথা কর্কশতা এবং কণ্ঠসর পরিবর্তন হওয়া থকে।
  • দাঁতের মাড়ি থেকে এবং দাঁতের গোড়া দিয়ে পুঁজ বের হওয়া। 
  • প্রচুর পরিমাণে মুখ থেকে দুর্গন্ধ এবং গলার লিভ লোড ফুলে যাওয়া। 

উল্লেখিত লক্ষণ গুলো আপনার যদি হয় তাহলে অবশ্যই আপনাকে দ্রুততার সাথে চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে হবে এবং তামাক্পান এবং মদ পান জর্দা জাতীয় খাবার গ্রহণ করা থেকে বিরত থাকতে হবে। প্রতিনিয়ত অপরিষ্কার থাকা থেকে বিরত থাকতে হবে যতটা সম্ভব মুখ পরিষ্কার রাখতে হবে। অতিরিক্ত রোদের আলোতে থাকা হতে বিরত থাকতে হবে। 

দাঁতের মাড়ি ফোলা কমানোর ঔষধ সম্পর্কে জানুন 

দাঁতের মাড়ি ফোলা কমানোর ঔষধ সম্পর্কে নিচের যেই তথ্যগুলো উপস্থাপন করা হলো তা থেকে আপনি বুঝতে পারবেন যে, দাঁতের মাড়ি ফোলা কমানোর জন্য কোন ধরনের ঔষধ ব্যবহার করতে হবে এবং এই ওষুধগুলো খাবার মাধ্যমে আপনি উপকৃত হবেন। নিচে দেখে নিন দাঁতের মাড়ি ফোলা কমানোর ঔষধ সমূহ।

আরো পড়ুনঃ পা ফোলার কারণ ও প্রতিকার সম্পর্কে ১৭টি ঘরোয়া উপায়

  • প্যারাসিটামলঃ (paracetamol )হালকা ফোলা ভাব এবং ব্যথা কমানোর জন্য ব্যবহার করা যায় বয়স অনুযায়ী ডাক্তারের পরামর্শ নিয়ে। 
  • আইবুপ্রোফনঃ (ibuprofen) অতিরিক্ত সমস্যা যদি না থাকে খুব কম ফোলা ভাব এবং প্রদাহ থাকলে এটা অত্যন্ত কার্যকরী দিনে দুইবার খাবারের পরে ডাক্তার পরামর্শ বা অনুমতি নিয়ে খান। 
  • এন্টিবায়োটিক সংক্রমণ থাকলে যদি মাড়ি ফোলা ব্যাকটেরিয়া সংক্রমণের কারণে হয় তবে নিচে লিখিত ডাক্তারি পরামর্শ অনুযায়ী এন্টিবায়োটিক গুলো ব্যবহার করুন। 
  • আমোক্সিসিলিনঃ (Amoxiciin) সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণে ডোজ হিসেবে দুই থেকে তিনবার দিনে খেতে পারবেন। তবে যদি পেনিসিলিনের অ্যালার্জি থাকে তাহলে ডাক্তারের পরামর্শ অনুযায়ী বিকল্প হিসেবে ক্লিওদ্যমাইসিন বা এজিথ্রোমাইসিন ব্যবহার করতে পারবেন।
  • মেন্টোনিডাজলঃ মাড়ির সংক্রমণ বা দাঁতের অবশেষর জন্য কার্যকর দিনে দুই থেকে তিন বার সাত দিনের জন্য ব্যবহার করুন।
  • অ্যান্টিসেপটিক মাথ ওয়াশ হিসেবে ক্লোরহেক্সিডেন্ট মাউথওয়াশঃ(chlorhexidine)  লিস্টারিন, এগুলো মাড়ির সংক্রমণ প্রতিরোধ করে যার জন্য দিনে দুইবার কুলকুচি করতে হবে খাবারের পর। এবং যা করলে আপনি মাড়ির প্রদাহ কমাতে পারবেন। 
  • টপিকল জেল বা অয়েন্টমন্ট: ওরাল জেলঃ (orajel dologel) এটি মাড়ের প্রদাহ এবং ব্যথা কমায় ব্যবহার করার জন্য মাড়ির ক্ষতিগ্রস্ত স্থানে সরাসরি প্রয়োগ করুন। 
  • বেনজোকেইনঃ (bezocaine) বাড়ির ব্যথা এবং ফোলা জায়গায় ব্যবহার করতে পারবেন বা চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী ব্যবহার করলে সবচেয়ে বেশি উপকারটা পাবেন। 

উল্লেখিত উপায় বা ওষুধ গুলো ব্যবহার করে আপনি এই সমস্যার সমাধান করতে পারেন। পাশাপাশি এই আর্টিকেলটির ভিতরে দেখান হয়েছে ঘরোয়া কিছু উপায়। যা ব্যবহার করে আপনি খুব সহজেই এ সমস্যা থেকে মুক্তি পাবেন। কারণ এটি ব্যবহার করা হয় প্রাচীন কাল থেকে তাই হালকা গরম পানিতে হলুদ ও মধু মিশিয়ে পেস্ট তৈরি করে মাটিতে লাগাতে পারেন তাছাড়া গোলমরিচ ও লবঙ্গ তেল ব্যবহার করে এ থেকে বাঁচতে পারেন। 

দাঁতের মাড়িতে ইনফেকশন হলে কি ঔষধ খেতে হবে জানুন 

দাঁতের মাড়িতে ইনফেকশন হলে কি ঔষধ খেতে হবে অনেকেই জানে না। এবং তারা জানে না যে দাঁতের মাড়িতে ইনফেকশন হলে কি ধরনের লক্ষণ দেখা দেয়। তাই আপনি যদি দাঁতের মাড়ি ইনফেকশন হলে কি উপসর্গ দেখা দেয় তা জানতে চান এবং দাঁতের মাড়ির ইনফেকশন হলে কি ঔষধ খেতে হয় তা জানতে চান তাহলে আমাদের এই আর্টিকেলটি অবশ্যই মনোযোগ সহকারে পড়বেন। 

কারণ মাড়িতে দাঁতের ইনফেকশন হলে বিভিন্ন সমস্যা পাশাপাশি উপলব্ধ করতে হয় যেমন খাবার গ্রহণ করা সমস্যা ঘুমানো সমস্যার দাঁত এমন একটি জিনিস যা আপনার শান্তি কেড়ে নেবে। তাই আপনি দাঁতের ইনফেকশন হলে সরাসরি ডাক্তারের পরামর্শ গ্রহণ করেন। তাছাড়া আপনি এই উল্লেখিত তথ্যগুলো জানার মাধ্যমে বুঝতে পারবেন যে কি সমস্যা থেকে এই দাঁতের মাড়ি ইনফেকশনের মতন সমস্যা সৃষ্টি হয়।

আরো পড়ুনঃ হাত পা ঝিমঝিম করার কারণ ও প্রতিকার ১৫টি কার্যকরী টিপস

বিভিন্ন দ্বন্দ্ব চিকিৎসক তারা ফেনোক্সি মথাইল পেনিসিলিন ব্যবহার করার পরামর্শ দিয়ে থাকেন এটি এসিড প্রতিরোধে এবং মৌখিকভাবে পরিচালনা করা যেতে পারে। সাধারণত ব্যবহার গুলির মধ্যে রয়েছে তীব্র মৌখিক সংরবন দাঁতের প্রদাহ ফোলা ভাব এবং লালা গ্রন্থির সংক্রমণ এবং নিষ্কাশন সমস্ত সকল সমস্যা সমাধান করার জন্য বিশেষ করে দাঁতের বিভিন্ন ইনফেকশন দূর করার জন্য এই পোস্টে যেই এন্টিবায়োটিক এবং উপাদান,  ওষুধের কথা উল্লেখ করেছি তা কার্যকরী। 

দাঁতের মাড়িতে সিস্ট কেন হয় এবং কি জানুন 

দাঁতের মাড়িতে সিস্ট কেন হয় এবং এর কারণগুলো কি তা আমাদের জানা উচিত তাই আপনাদের সামনে সহজেই বুঝার জন্য এই তথ্যগুলো উপস্থাপন করলাম। সাধারণ কথায় বলতে গেল এটি এক ধরনের ক্যাভিটি সংক্রমণ। মুখের ভিতরের বিভিন্ন স্থানে যেমন ঠোঁট জিহ্বা জিব্বের নিচে তালু এবং মাড়ির যে কোন জায়গা সহ লালা গ্রন্থি থেকে এটা হতে পারে। প্রথমে এটি অনেক ছোট ১ সিএম আকার থাকে তা ধীরে ধীরে বড় হতে থাকে এবং লাল রং ধারণ করে।

আরো পড়ুনঃ ১০০% নিরাপদ চোখের ছানি দূর করার ঘরোয়া উপায় জানুন

  • পাশাপাশি প্রচন্ড ব্যথা অনুভূত হয়। দাঁত এবং মুখের যত্ন না নেওয়ার কারণে এ ধরনের সমস্যা দেখা যায়। কোন দাঁতে যদি অনেকদিন ধরে ক্ষয় বা গর্ত থাকে সেখানে যদি মচা পড়ে যায় এই মচা মৃত মর্যাদায় প্রদাহ সৃষ্টির মাধ্যমে দাঁতের শিকড়ের নিচে অংশে সিস্ট তৈরি হয়। 
  • আক্কেল দাঁতে এক ধরনের সৃষ্টি হতে দেখা যায় এটি মাড়ির ভিতরে সরাসরি দেখা যায় না তুলনামূলক বড় এবং সৃষ্টের দাঁতের সুন্দর বিন্যাসে ক্ষতিগ্রস্ত হয় যা থেকে ক্যান্সার হতে পারে। 
  • দাঁতের চোয়ালের ভিতরে হাড়ের সৃষ্টি হয় সেগুলো কিছুটা বড় এবং ফোলাভাব হয় যা চিকিৎসা না করলে দাঁতের গুনাগুন নষ্ট করে এবং দাঁত একেবারে নষ্ট হয়ে যায় যার থেকে টিউমরের সৃষ্টি হতে পারে এবং প্রচন্ড জ্বালাপোড়া ও ব্যথা সৃষ্টি করে। 

প্রতিকার করার জন্য আপনি সঠিক সময় চিকিৎসা না করলে এর প্রভাব অনেক ভয়ঙ্কর পর্যায়ে সৃষ্টি করতে পারে। এ সমস্যার কারণে প্রদাহ দাঁত এবং টিমার সহ ক্যান্সারের সমস্যা সৃষ্টি হতে পারে তাই সিস্ট প্রতিরোধে নিয়মিত দাঁত পরিষ্কার রাখুন এবং মুখে ভেতরে যত্ন নেওয়ার উদ্যোগ নিন। কারণ আপনি যদি এই সমস্যা চিরতরে মুক্তি না করেন তাহলে এর থেকে আরো নানান ধরনের সমস্যা সৃষ্টি হতে পারে তাই এর থেকে বাঁচার জন্য চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী চিকিৎসা সেবা গ্রহণ করুন। 

দাঁতের মাড়ি ফোলা ও ব্যথা কমানোর ওষুধ সম্পর্কে জানুন 

দাঁতের মাড়ি ফোলা ও ব্যথা কমানোর ওষুধ সম্পর্কে আমাদের জানা উচিত কারণ এই ওষুধ গুলো ব্যবহার না করলে আপনার সমস্যা দ্বিগুণ বেড়ে যাবে এবং এখান থেকে ক্যান্সার এবং টিউমারের মতো বিভিন্ন সমস্যা সৃষ্টি হতে পারে। সুতরাং আপনাকে এই সমস্যা থেকে বাঁচার জন্য নিচের উপায় এবং এই পোস্টের তথ্যগুলো জানুন।

দাঁতের মাড়ি ফোলা ও ব্যথা কমানোর ওষুধ

দাঁতের মাড়ি ফোলা ও ব্যথা কমানোর ওষুধ সমূহঃ

  • প্রাকৃতিক উপায় হিসেবে আপনি ব্যবহার করতে পারবেন বিভিন্ন উপায় যা এই পোস্টের ভিতরে উল্লেখ করা হয়েছে। কুলকুচি করতে পারবেন। নিয়মিত দুর্গন্ধমুক্ত পরিষ্কার করে রাখতে হবে আপনার মুখের ভেতর।
  • অ্যান্টি ইনফ্লামেন্টরি এবং এন্টি মাইক্রোরিয়ল উপাদান সমৃদ্ধ খাবার গ্রহণ করতে হবে।
  • বিভিন্ন ওষুধ রয়েছে যে ওষুধগুলো উপরে উপস্থাপন করেছি। পাশাপাশি আপনি অ্যালোভেরা জেল মাড়িতে ব্যবহার করতে পারেন। 

দাঁতের মাড়ি ফোলা এবং ব্যথা কমানোর জন্য যে ওষুধ গুলো রয়েছে এবং বিভিন্ন প্রাকৃতিক বা ঘরোয়া উপায়ে রয়েছে যেগুলো ব্যবহার করে আপনি এই সমস্যা সমাধান করতে পারেন প্রাথমিক অবস্থায়। তবে আপনার সমস্যা যদি জটিলতম আকার ধারণ করে এবং গুরুতর অবস্থায় পৌঁছে যায় তাহলে অবশ্যই আপনি এ সমস্যা নিয়ে বসে না থেকে সরাসরি ডাক্তারের পরামর্শ অনুযায়ী বিভিন্ন চিকিৎসা সেবা গ্রহণ করেন এবং পরীক্ষাটি করুন। 

দাঁতের মাড়ি ফুলে গেলে করণীয় কাজ গুলো দেখুন 

দাঁতের মাড়ি ফুলে গেলে করণীয় কাজ হিসেবে যেগুলো জানা উচিত আমাদের অবশ্যই উপকারে আসে তাই আমাদের অবশ্যই জানা উচিত যে দাঁতের মাড়ি ফুলে গেলে কি ধরনের কাজ এবং পদক্ষেপ গ্রহণ করতে হবে। দাঁতের মাড়ি ফোলার পিছনে নানান প্রদাহ ও সংক্রমণ জনিত সমস্যা থাকে তবে আপনি যে কাজগুলো করতে পারবেন।

আরো পড়ুনঃ হঠাৎ এলার্জি দূর করার ২৭ টি উপায় জেনে নিন

  • লবণ ও পানি দিয়ে কুলকুচি করতে পারবেন। 
  • গরম সেক দাতে মাড়িতে দিতে পারবেন।
  • মুখ পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন এবং নিয়মিত ব্রাশ করতে পারবেন দাঁত পরিষ্কার পরিচ্ছন্ন রাখার জন্য। 
  • ব্যথা কমানোর জন্য এবং সমস্যা দূর করার জন্য চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী ওষুধ গ্রহণ করুন। 
  • একটি পরিষ্কার কাপড়ে গরম তাপ দিয়ে তা মাড়ি ফোলা হলে বাইরে ধরতে পারবেন এবং সেক দিতে পারবেন।
  • লবণ, হলুদ, পানি এবং মিশিয়ে পেস্ট তৈরি করে বাড়িতে ব্যবহার করুন।

উল্লেখিত সুবিধা পাওয়ার জন্য প্রতিদিন আপনার সকালে এবং রাতে ঘুমানোর পূর্বে বিরাস করতে হবে পাশাপাশি মিষ্টি জাতীয় খাবার কম খেতে হবে। এবং প্রতি ৬ মাস পর পর চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী পরীক্ষা করতে হবে। এবং আমাদের পোস্টের সকল নিয়মগুলো মেনে সেই অনুযায়ী আপনি বিভিন্ন পদক্ষেপ গ্রহণ করলে দ্রুত তার সাথে আপনার এই সকল সমস্যার সমাধান হবে। 

দাঁতের মাড়িতে পুঁজ হলে করণীয় নিয়ে শেষ মন্তব্য 

দাঁতের মাড়িতে পুঁজ হলে করণীয় বিষয় নিয়ে এবং কি ধরনের ওষুধ খেতে হবে তা নিয়ে যে তথ্যগুলো আপনাদের সামনে উপস্থাপন করেছি। এই তথ্যগুলো অত্যন্ত কার্যকরী যা ব্যবহার করার মাধ্যমে আপনি দাঁতের মাড়ি থেকে পুঁজ বের হলে তা সমাধান করতে পারবেন। পাশাপাশি তাদের বিভিন্ন সমস্যা হলে তা সমাধান করার জন্য পদক্ষেপ নিতে পারবেন। 

আপনি যদি এখনো দাঁতের বিভিন্ন সমস্যা নিয়ে বসে থাকেন তাহলে বসে না থাকে আজকের এই পোস্টটি থেকে তথ্যগুলো জানার পর আপনার প্রয়োজন দাঁতের সুরক্ষা দেওয়ার জন্য বিভিন্ন ঘরোয়া উপায় অবলম্বন করা পাশাপাশি চিকিৎসকের পরামর্শ গ্রহণ করা। আর এই উপায় অবলম্বন করে অবশ্যই আপনি সুস্থ এবং সাবলীন থাকতে পারবেন।

এই পোস্টটি পরিচিতদের সাথে শেয়ার করুন

পূর্বের পোস্ট দেখুন পরবর্তী পোস্ট দেখুন
এই পোস্টে এখনো কেউ মন্তব্য করে নি
মন্তব্য করতে এখানে ক্লিক করুন

মুক্তআঁখি আইটির নীতিমালা মেনে কমেন্ট করুন। প্রতিটি কমেন্ট রিভিউ করা হয়।

comment url