বাম হাত ঝিনঝিন করার কারণ ও প্রতিকার জানুন
বাম হাত ঝিনঝিন করার কারণ ও প্রতিকার সম্পর্কে জানলে আপনি অবাক হবেন। এই বিষয়টি বিজ্ঞানের ভাষায় একটি রোগ বলে আখ্যায়িত করা হয়েছে। যে রোগটির নাম কারপাল টানেল সিনড্রোম। একটি মানুষের হাতের কব্জি বা হাতের জয়েন্টে অনুভূত হয়। এছাড়া এটা কোন ধরনের মানুষের হয় কেন হয় জানবো।
তাছাড়া আপনাদের জন্য এই আর্টিকেলের মধ্যে উপস্থাপন করা হবে হাত ঝিনঝিন করার ওষুধ, বাম হাত অবশ হওয়ার কারণ, হাত-পা ঝিনঝিন করার কারণ ও প্রতিকার, হাত-পা শিরশির করার কারণ, বাম হাতে শক্তি না পাওয়ার কারণ হাতে ঝিনঝিন এর ব্যায়াম বা ঘরোয়া প্রতিকার।
পোস্ট সুচিপত্রঃ বাম হাত ঝিনঝিন করার কারণ ও প্রতিকার সম্পর্কে যা জানবেন
- বাম হাত ঝিনঝিন করার কারণ সম্পর্কে জেনে নিন
- হাত ঝিনঝিন করার ঔষধ সম্পর্কে জানুন
- বাম হাত অবশ হওয়ার কারণ জানুন
- হাত পা ঝিমঝিম করার কারণ ও প্রতিকার জানুন
- হাত ঝিনঝিন করার কারণ কি জানুন
- হাত পা শিরশির করার কারণ সমূহ জানুন
- বাম হাতে শক্তি না পাওয়ার কারণ গুলো জানুন
- হাত ঝিনঝিন এর ব্যায়াম গুলো জানুন
- হাত-পা ঝিমঝিম করার প্রতিকার জানুন
- বাম হাত ঝিনঝিন করার কারণ ও প্রতিকার নিয়ে শেষ মন্তব্য
বাম হাত ঝিনঝিন করার কারণ সম্পর্কে জেনে নিন
বাম হাত ঝিনঝিন করার কারণ আপনার যদি না জানা থাকে তাহলে এই তথ্যগুলো থেকে জেনে নিন কেন একজন মানুষের হাত ঝিনঝিন করে। হাত ঝিন করার কারণ এবং এর লক্ষণ ও কোন ধরনের মানুষের হতে পারে তা জেনে আপনার উপকার হবে বলে আশা করা যায়। নিচে সেই গুরুত্বপূর্ণ তথ্যগুলো উপস্থাপন করা হলো যাতে আপনারা সবাই উপকৃত হন।
- বাম হাত ঝিনঝিন করার কারণ সমূহঃ রক্ত সঞ্চালনের সমস্যা যদি কোন কারণে হাতের রক্ত প্রবাহ কমে যায় তাহলে হাত ঝিনঝিন করতে পারে।
- নার্ভের চাপ বা আঘাত হতেঃ নার্ভের চাপ পড়া বা আঘাত লাগার ফলে এই সকল সমস্যা হয় যেমন, কার্পাল ট্রনেল সিনড্রোম(carpal tunnel syndrome) সারভাইকেল স্ক্যান ডাইলোসিস (ঘাড়ের হাড়ের সমস্যা)।
- ভিটামিন বা খনিজের ঘাটতিঃ আপনার শরীরে যদি ভিটামিন থাকে। যেমন, বি১ বি২ বি১১, ম্যাগনেসিয়াম, পটাশিয়াম এর ঘাটতির কারণে নার্ভ ঠিকমতো কাজ করে না এবং ঝিনঝিন অনুগত হয়।
- দীর্ঘস্থায়ী রোগ হার্ট বা ডায়াবেটিসের সমস্যাঃ ডায়াবেটিস রোগিরা সাধারণত নিউরোপ্যাথি নার্ভের ক্ষতি করে যা শরীরের হাত পা ঝিনঝিনের কারণ, কিছু মানুষের হার্টের সমস্যা আছে যাদের রক্তনালী সমস্যা দিন দিন বেরিয়ে চলেছে তারা বাম হাত ঝিনঝিনের সাথে বুক ব্যথা ও শ্বাসকষ্ট সহ হার্ট অ্যাটাক সম্ভাবনা থাকে।
- উদ্বেগ বা মানসিক চাপঃ চিন্তা ভাবনা বা মানসিক চাপ শরীরের এন্ডোনাল হরমোনের বৃদ্ধি করে যা নার্ভের প্রভাব ফেলতে পারে আপনার হাত ঝিনঝিন করতে পারে।
করণীয় উপায়ঃ হাত যদি সাময়িকভাবে ঝিনঝিন করে তাহলে হাত নাড়িয়ে বা শারীরিক ব্যায়াম করতে পারেন। যদি ঘন দীর্ঘ সময় ধরে এই সমস্যা হয় তাহলে দ্রুত ডাক্তারের পরামর্শ নিন। ভিটামিন এবং আমিষ জাতীয় খাবার গ্রহণ করুন যদি হার্টের লক্ষণ থাকে তাহলে অবশ্যই চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী চিকিৎসা সেবা গ্রহণ করুন যাতে আপনি এবং আপনার শরীরের সুস্থতা ফিরে আসতে পারে।
বাম হাত ঝিনঝিন করার আরো কিছু কারণ জানুন
বাম হাত ঝিনঝিন করার কারণ সম্পর্কে আরো কিছু তথ্য আপনাদের সুবিধার্থে উপস্থাপন করলাম। এখানে আপনি জানতে পারবেন কোন কোন ব্যক্তিদের ক্ষেত্রে হয় এবং কিভাবে এর প্রতিকার করা যায় এবং লক্ষণ গুলো কি ধরনের দেখা দিতে পারে। যা জানার মাধ্যমে আপনি পূর্ব পরিকল্পনা অনুযায়ী এর ব্যবস্থা গ্রহণ করতে পারবেন যাতে অল্পতেই ভালো হয়ে যায় সমস্যা গুলো। এ রোগের সাধারণত কারপাল টানেল সিনড্রোম বলেও অভিহিত করা হয়। তবে এটা অন্যতম লার্ভার সিস্টেম দুর্বল হওয়ার ফলে সৃষ্টি হয় যা অত্যন্ত সমস্যা এটি নিচে দেওয়া ব্যক্তিদের জন্য বিপদ বয়ে আনতে পারে।
- মধ্যবয়সী নারী,
- অন্তঃসত্ত
- স্থূলতায় ব্যক্তি
- ডায়াবেটিকস রোগী
- যাদের উচ্চ রক্তচাপ রয়েছে তারা
- যাদের থাইরয়েডের সমস্যা রয়েছে
- বাতের সমস্যা রয়েছে
- দীর্ঘক্ষণ কিবোর্ড বা মাউস ব্যবহার করার সময়
- দীর্ঘ সময় ধরে হাত দিয়ে বারবার একই কাজ করেন যারা লেখালেখি সেলাই টেনিস বা ইত্যাদি খেলাধুলা।
- কবজিত চাপ দিয়ে কাজ করেন যারা।
- একদিকে অনেকক্ষণ ঘুমিয়ে থাকার ফলে হাতে চাপ লাগলে এই সমস্যা হয়।
- এর লক্ষণ গুলো হচ্ছে, কব্জ তালু এবং আঙ্গুল অসার বা অবশ হয়ে যাবে।
- মানুষের হাতের বুড়ো আঙ্গুল এবং তর্জনী বা মধ্যমাই বেশি অনুভূত হয়।
- প্রচন্ড ব্যথা এবং ঝিনঝিন করার মতো সমস্যা হয়
- হাতের পেশিগুলো দুর্বল হয়ে যায় হাতে শক্তি পাওয়া যায় না। কব্জির ব্যথায় রাতের ঘুম ব্যাঘাত।
- রোগ নির্ণয় করার জন্য চিকিৎসক প্রথমে রোগের শারীরিক পরীক্ষা করে, কব্জি পরীক্ষা করে মাংসের মাংসপেশি ও ঘাড় দেখে, এই রোগ নির্ণয়ের করার জন্য একটি বিশেষ পরীক্ষা যেটা হলো নার্ভ কনডকশন টেস্ট।
- চিকিৎসা সেবা নিয়ে জীবন যাত্রার পরিবর্তন আনতে হবে।
- দীর্ঘ সময় ধরে হাফ চাপ দিয়ে কাজ করা থেকেও হতে পারে এ ধরনের কাজ করলে ৩০ মিনিট বিরত নিতে হবে মাঝে মাঝে।
- ও হাতের ব্যবধান ঠিক করে নিতে হবে হাতে যাতে টেবিলের সমান্তরাল থাকে।
- শরীরে অতিরিক্ত ওজন থাকলে তা নিয়ন্ত্রণে আনার চেষ্টা করতে হবে।
- প্রতিদিন নিয়মিত ব্যায়াম করতে পারবেন যা হাতের এবং শরীরের জন্য উপকার।
- পাশে ডায়াবেটিস এবং থাইরয়েড রোগ থাকলে চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী চিকিৎসা নিতে হবে।
রাতে শোয়ার সময় আক্রান্ত হলে আপনি বিভিন্ন হাতের জ্বালাপোড়া ও অসার অনুভব করতে পারেন এটি কমে যাবে। বর্তমানে এই রোগের চিকিৎসার জন্য ইনজেকশন তৈরি হয়েছে যা ব্যবহার করতে পারেন। এবং উল্লেখিত নিয়ম এবং বিষয়গুলো সঠিকভাবে পালন করতে পারলে একজন মানুষ এই রোগ থেকে মুক্তি পাবে এবং স্বাভাবিক জীবন যাপন করতে পারবে।
হাত ঝিনঝিন করার ঔষধ সম্পর্কে জানুন
হাত ঝিনঝিন করার ঔষধ যারা জানেন না তাদের জন্য এই নিচে দেওয়া ঔষধ গুলো অত্যন্ত কার্যকরী। যে সমস্যাগুলো থেকে হাত ঝিনঝিন করার সমস্যা শুরু হয় তার প্রতিকার করার জন্য এই ওষুধগুলো অত্যন্ত প্রয়োজনীয় এবং গুরুত্বপূর্ণ যা আপনার আমার সকলের উপকারে আসবে। তাহলে চলুন জেনে নিয়ে যাক সেই গুরুত্বপূর্ণ ওষুধ এবং প্রতিকার গুলো কি।
- ভিটামিন বি ১২ সাপ্লিমেন্টস যা নার্ভের সঠিক কার্যক্ষমতা বজায় রাখতে সক্ষম।
- গ্রাবেপেন্টিন বা প্রেগাবালিনঃ এগুলো না হাত ধরতে ব্যথা ও ঝিনঝিনের জন্য কার্যকারী।
- পেইন রিলিভারঃ প্যারাসিটামল বা আইএমও প্রোফেন সাময়িক আরাম দিতে পারে।
- রক্ত সঞ্চালনের সমস্যায় যে ওষুধ ব্যবহার হয়ঃ রক্ত সঞ্চালন বৃদ্ধির জন্য এসপিরিন (Asprin) বা প্লেভিক্স (clopidogrel) এটি রক্তনালী সংকোচন থেকে নির্দিষ্ট ওমেগা থ্রি ফ্যাটি এসিড বা নায়াসিন সাপ্লিমেন্ট করে।
- ডায়াবেটিস নিউরো প্যাথিঃ মেটফর্মিন (metformin) বা অন্যান্য ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণকারী ওষুধ ব্যবহার করতে পারবেন। ডুলোক্সেটিন বা গ্যাবাপেন্টিন ঔষুধ।
- ভিটামিন বা খনিজ ঘাটতির জন্যঃ ওষুধ হিসেবে ম্যাগনেসিয়াম সাপ্লিমেন্ট করতে হবে এবং ভিটামিন বি ১২ ইনজেকশন বা ক্যাপসুল গ্রহণ করতে হবে।
- উদ্বেগ ও মানসিক চাপ কমাতেঃ এন্টি এনজাই মেডিসিন কেমন ক্লোনাজেন পাম বা নোরাজে পাম, রিলাক্সেশন থেরাপি।
করণীয় কিছু সর্তকতাঃ চিকিৎসার পরামর্শ ছাড়া এই ওষুধ গুলো ব্যবহার করা যাবে না। কারণ ভুলে এই ওষুধ গুলো ব্যবহার করলে আপনার ক্ষতি হতে পারে। নির্দিষ্ট রোগ নির্ণয়ের জন্য রক্ত পরীক্ষা এবং নার্ভের টেস্ট করতে হবে এবং ডাক্তারের পরামর্শ গ্রহণ করতে হবে ঘরোয়া যত্ন নিতে পারেন যা এখানে আলোচনা করা হয়েছে। উষ্ণ পানি ব্যবহার করতে পারেন এবং প্রতিদিন ব্যায়াম করতে পারবেন যা আপনার উপকার করবে।
বাম হাত অবশ হওয়ার কারণ জানুন
বাম হাত অবশ হওয়ার কারণ জানা উচিত কারণ মানুষের অনেক সময় দেখা যায় বিভিন্ন কারণে হাত অবশ হয়ে যায়। বিজ্ঞানভিত্তিক যে কারণগুলো রয়েছে তার মধ্যে একটি কারণ হচ্ছে মানুষের শরীরের রক্ত স্পন্দন বাল্বগুলো দুর্বল হয়ে পড়া যার কারণে এই হাত অবশ হয়ে যাওয়ার সমস্যা দেখা যায়। যাদের স্টক বা ডায়াবেটিস সহ বিভিন্ন রোগ রয়েছে যা উপরে আলোচনা করা হয়েছে এ সকল সমস্যা থাকলে এই বাম হাত অবশ হওয়ার বা হাত-পা অবশ হওয়ার সমস্যা দেখা যায়।
হৃদপিন্ডে যদি পর্যাপ্ত রক্ত সরবরাহ না হয় তাহলে স্টক হয় বিশেষ করে রক্তে নালীতে ব্লকেজ হলে এমন হয় স্ট্রোকের প্রথম লক্ষণ হাত-পা অবস হয়ে যায়। এবং হাতের তালু পর্যন্ত ছাড়িয়ে যাওয়া হঠাৎ করে দৃষ্টিশক্তির একটি বিশাল পরিবর্তন হবে। যার ফলে আপনার কথা বলার সমস্যা হবে হাত-পা মুখ এবং সকল কিছু ধীরে ধীরে অবশ হয়ে যাবে এবং আপনার সারা শরীর অক্ষম হয়ে পড়বে যা আপনি বুঝতে পারবেন।
উপরে উল্লেখিত কারণের পাশাপাশি ঘুমানোর সময় ভুল পজিশনে ঘুমালে এ সমস্যা দেখা দিতে পারে। কোন সময় হাতের উপর হাত চাপা পড়লে সামগ্রিক রক্ত প্রবাহ বন্ধ হয়ে যাওয়ার ফলে এই ঘটনা ঘটে। তাছাড়া হাড় এবং জয়েন্টের ব্যথা জড়িত আর্কাইটিক্স এর কারণে এই সমস্যা করতে পারে। পরিশেষে মাল্টিপল স্কলারোসিস এটি একটি স্নায়বিক রোগ যা অবশ হওয়ার কারণ হয়ে দাঁড়ায়।
আপনার পছন্দ হতে পারে এমন পোস্টের তালিকাঃ
পড়ুনঃ ১০০% নিরাপদ চোখের ছানি দূর করার ঘরোয়া উপায় জানুন
পড়ুনঃ আখের গুড়ের ২১টি উপকারিতা ও ৫টি অপকারিতা সম্পর্কে বিস্তারিত জানুন
পড়ুনঃ গর্ভাবস্থায় কদবেল খাওয়ার ২১টি উপকারিতা জানুন
পড়ুনঃ হঠাৎ এলার্জি দূর করার ২৭ টি উপায় জেনে নিন
হাত পা ঝিমঝিম করার কারণ ও প্রতিকার জানুন
হাত পা ঝিম করার কারণ ও প্রতিকার সম্পর্কে যে তথ্যগুলো আমাদের জানা উচিত। তার কিছু কারণ আপনাদের সামনে উপস্থাপন করেছি। যাতে একজন মানুষ তার সুস্থ থাকার জন্য এবং হাত-পা ঝিমঝিম করার মত সমস্যা থেকে নিজেকে রক্ষা করার জন্য যে, উপায় গুলো অবলম্বন করবে তার বিষয়ে কিছু তথ্য উপস্থাপন করার চেষ্টা করেছি।
রক্ত সঞ্চালনের অভাবে হাত পায়ে ঝি ঝি ধরতে পারে। যদি আমাদের শরীরের রক্ত সঞ্চালন সঠিকভাবে না ঘটে তাহলে শিরা গুলো সঠিকভাবে কাজ করতে পারে না। যার কারণে আমাদের দেহের বিভিন্ন অংশ অক্সিজেনের ঠিকমত পৌঁছাতে পারে না এতে আপনাদের হাত-পা অবশ হয়ে যায়। এটি বিভিন্ন পরিস্থিতিতে বিভিন্ন রকম ভাবে হয়ে থাকে। এর যে কারণগুলো রয়েছে তা আপনাদের সামনে উপস্থাপন করার চেষ্টা করছি সংক্ষিপ্ত আকারে।
এই বিষয়ে বিস্তারিত জানার জন্য আরো পড়ুন সেকশনগুলোতে ভিজিট করুন এবং জেনে নিন সকল বিস্তারিত তথ্য। যে একজন মানুষ কি ধরনের সমস্যা থাকলে হাত পা ঝিনঝিন ধরে এবং অবশ হয়ে যাওয়ার মত আশঙ্কা দেখা যায়। ডাক্তারি পরামর্শ মতে নিউরালজিয়ার কারণে এমনটা হতে পারে এবং এটি অনেক সময় অনেক পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে দেখা গেছে এটি একটি রোগ যা মানুষের অনেক ক্ষেত্রে ঘটে থাকে।
হাত ঝিনঝিন করার কারণ কি জানুন
হাত ঝিনঝিন করার কারণ কি এটা অত্যন্ত সহজে বিপদজনক অবস্থা সৃষ্টি করতে পারে। হাত ঝিনঝিন করার কারণ হিসেবে যে বিষয়গুলো উল্লেখ করা হয়েছে তা থেকে হয়তো আপনি অনেক কিছু বুঝতে পেরেছেন। তবে একটি বিষয়ে না জানলেই নয় সেটি হচ্ছে হাত ঝিনঝিন করার কারণ হিসেবে মানুষের শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি এবং শরীরের রক্ত ও খনিজ ভিটামিনের অভাব থাকলে এই সমস্যা হয়।
দীর্ঘ সময় বসে থাকা বা না হাঁটাচলা করার কারণে মানুষের হাত পায়ের রক্ত সঞ্চালন কমে যায় এবং এই অবশ হওয়ার সমস্যা সৃষ্টি হয়। পাশাপাশি হাত ঝিনঝিন করার কারণ হচ্ছে আপনার শরীরের হাতের উপর হাত রেখে ঘুমানো এবং এ হাতে সঠিকভাবে রক্ত সঞ্চারিত হওয়ার জন্য বাধাগ্রস্ত হয় যার ফলে এই হাত ঝিনঝিন করার সমস্যা সৃষ্টি হয়। আপনি এই সমস্যা থেকে বাঁচার জন্য যে কাজটি করতে পারবেন সহজে।
আপনার হাত যদি ঘুমিয়ে থাকার সময় অবস হয়ে যায় তাহলে আপনার ঘুমানোর পজিশন পরিবর্তন করে ঘুমান। যদি হাতের উপর হাত লেগে চাপ খেয়ে আপনার হাতে রক্ত চলাচল না করতে পারে তাহলে এই সমস্যা হতে পারে। তাই হাত-পা ছড়িয়ে কোনভাবে যেন চাপ না পড়ে সেই দিকে লক্ষ্য রেখে ঘুমান। অনেক সময় দীর্ঘক্ষণ একই জাতীয় কাজ করার ফলে, কম্পিউটার ও মোবাইলের দিকে অনেকক্ষণ তাকিয়ে থাকার ফলে বা হাত দিয়ে মাউস বা কিবোর্ডে কাজ করার ফলে এ সমস্যা দেখা যায়।
হাত পা শিরশির করার কারণ সমূহ জানুন
হাত পা শিরশির করার কারণ সমূহ যদি না জানা থাকে তাহলে এখানে উল্লেখিত তথ্যগুলো আপনার জন্য উপকৃত করবে বলে আশা করা যায়। একজন মানুষের হাত পা শিরশির করার কারণ শরীরে রক্ত শূন্যতা বা শারীরিক দুর্বলতার জন্য হতে পারে। অনেক ক্ষেত্রে দেখা যায় হাতে অসারতা সৃষ্টি হয়ে যায়। কোন কাজ করার জন্য তেমন শক্তি পাওয়া যায় না।
তবে এই সমস্যা ক্ষণিকের জন্য হয়ে আবার স্বাভাবিক হয়ে যায়। এর কিন্তু সীমাবদ্ধ নেই মস্তিষ্কের ব্যাধি মেরুদন্ডের সমস্য স্নায়ু রোগ এবং ডার্ক পার্শ্ব প্রতিক্রিয়ার ফলে এ সমস্যা দেখা দিতে পারে। এটি সময়ের সাথে সাথে আপনার খারাপ অবস্থা করে দিতে পারে অতিরিক্ত উপসর্গ দেখা দিলে আপনার ব্যথার প্রবণতা বৃদ্ধি হবে এবং আপনি শিরশির থেকে আরো প্রমল রোগের দিকে ধুলে পড়বেন।
ওষুধের পার্শ্ব প্রতিক্রিয়া হিসেবে এই সমস্যা হতে পারে অথবা দীর্ঘদিন অ্যালকোহল জাতীয় খাবার গ্রহণের কারণে লার্ভের সমস্যা ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে আপনার এই সমস্যা সৃষ্টি হয়। আঘাত বা অস্ত্রপ্রচারের সময় লার্ভ পাওয়ার রক্তনালীর উপর বিভিন্ন সময়ে চাপ পড়লে এই শিরশির অনুভূতি হয়। এ থেকে বাঁচার জন্য তাৎক্ষণিক চিকিৎসা প্রয়োজন এবং প্রয়োজনীয় বিষয়গুলো সম্পর্কের ডাক্তারের কাছ থেকে অবগত হওয়া উচিত।
বাম হাতে শক্তি না পাওয়ার কারণ গুলো জানুন
মানুষের বাম হাতে শক্তি না পাওয়ার কারণ গুলো জানলে আপনি অবাক হতে পারেন এই বিষয়গুলো অবহেলা এবং অসচেতনভাবে রাখার ফলে এর থেকে বিভিন্ন মারাত্মক এবং ভয়ঙ্কর সমস্যা সৃষ্টি হতে পারে। এই বাম হাতে শক্তি না পাওয়ার কারণ এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য কারণ হচ্ছে,
- স্নায়ু সংকোচন চিহ্নযুক্ত নার্ভ অসারতার কারণ হতে পারে কাধ ও ঘাড় এবং বিভিন্ন মধ্য অঞ্চলের প্রবাহিত স্নায়ু গুলি সংকোচিত এবং চিমটি থেকে এই সমস্যা সৃষ্টি হয়।
- পুনরাবৃত্তিমূলক গতি বা দীর্ঘ সময় অবস্থান বা স্নায়ুর উপর বেশি চাপ দেয়ার ফলে।
- হার্নিয়ারেট বা বুলিং ডিস্ক সহ সার্বিকাল মেরুদন্ডের জন্য হতে পারে।
- হাড়ের স্পার্ক বা অন্যান্য মেরুদন্ডের অস্বাভাবিক অবস্থার কারণে হতে পারে।
- এর জন্য আপনার হাত অসার হওয়ার জন্য দুর্বল হয়ে যাবে হাত বেশি সংকুচিত করতে পারবেন না।
কখনো আপনার বাম হাতের অসারতা নিয়ে চিন্তা হলে আপনি অবশ্যই শ্বাসকষ্ট ব্যথা বুক জ্বালাপোড়া সমস্যা দেখা দিলে মনে করবেন এটি হার্ড স্ট্রোকের লক্ষণ। সুতরাং সচেতনতা অবলম্বন করবেন এবং আপনি যেন এই সকল সমস্যা থেকে নিজেকে রক্ষা করতে পারেন তার জন্য যে উপায় গুলো দেখানো হয়েছে সেগুলো ফলো করে আপনার জীবনকে সুস্থ এবং স্বাভাবিক রাখুন।
হাত ঝিনঝিন এর ব্যায়াম গুলো জানুন
হাত ঝিনঝিন এর ব্যায়াম এগুলো করার মাধ্যমে আপনার নার্ভ এবং রক্ত সঞ্চালন উন্নত করতে পারবেন। যার ফলে আপনার ঝিনঝিন এর সমস্যা চিরতরে বেঁচে যেতে পারে বা সাময়িকভাবে কমবে। নিচে দেওয়া এই টিপস গুলো এবং ব্যায়ামগুলো ব্যবহার করে আপনি হাত ঝিনঝিন সারাতে পারবেন এবং সাময়িকভাবে এই রোগের সমাধান করতে পারবেন।
- হাত ঝিনঝিন করার ব্যায়াম সমূহঃ কব্জি মোচড়ানোর ব্যায়াম, এর জন্য দুই হাত সোজা রাখুন। ঘড়ির কাটার উল্টো দিকে এবং সুধা দিকে ঘুরান প্রতিদিন ১০ থেকে ১৫ বার করুন। এতে রক্ত সঞ্চালনা বৃদ্ধি পাবে এবং কব্জির নার্ভের চাপ কমবে।
- আঙ্গুল মুঠো করা এবং খোলাঃ এটা একটা উন্নত প্রযুক্তি এটি হাতের আঙ্গুলগুলো মুঠ করতে এবং একটু পরে ছেড়ে দিতে হবে এইভাবে ১০ থেকে ১৫ মিনিট করলে আপনার আঙ্গুল ও কব্জি নার্ভের কার্যকর ক্ষমতা বৃদ্ধি পাবে।
- কবজি স্টেজ পদ্ধতিঃ ব্যবস্থা আপনি একটি হাত সোজা রাখুন অন্য একটি হাত দিয়ে কব্জি নিচের দিকে টানুন ১০-১৫ মিনিট ধরে রাখা প্রতিদিন ৩-৪ বার করুন নার্ভের চাপ কমবে এবং রক্তবাহ উন্নতি করবে এই প্রক্রিয়াতে।
- টেবিল প্রেসঃ এই উপায়ে আপনি একটি টেবিলের উপর হাত রাখুন হাতের তালু দিয়ে টেবিলের উপর চাপ দিয়ে ৫ সেকেন্ড ধরে রাখুন তারপর ছেড়ে দিন এটি প্রতিদিন ৮ থেকে ১০ বার পর্যন্ত করুন।
- বল চেপে ধরাঃ এ পদ্ধতি অত্যন্ত সহজ একটি নরম বল হাতের মুঠের ভিতর রেখে চাপতে হবে এবং খুলতে হবে এবং এই কাজটি করার মাধ্যমে আপনি হাতের বেশি শক্তিশালী এবং রক্ত প্রবাহ উন্নত করতে পারবেন।
- কাধের স্ট্রেসঃ দুই হাত সামনে সোজা করে রেখে হাতের আঙ্গুল দিয়ে মাটি ছাদের দিকে ইশারা করুন যা হাত কাদের উপর নিয়ে আসুন এবং প্রতিদিন ১০ থেকে ১৫ বার করুন যা আপনার নার্ভ ও পেশিতে চাপ কমাবে।
- ঝিন কমানোর সাধারণ ব্যায়ামঃ এর জন্য আপনি এক থেকে দুই মিনিট হাত সোজা করে রাখতে হবে। প্রতিদিন ১০ থেকে ১৫ বার চেষ্টা করুন যা রক্ত সঞ্চালন দ্রুত করবে এবং রক্ত সঞ্চালন বৃদ্ধি হওয়ার ফলে আপনার ঝিনঝিনে ছেড়ে যাবে।
হাত পা ঝিমঝিম করার প্রতিকার জানুন
হাত পা ঝিমঝিম করার প্রতিকার সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য আমাদের জানা উচিত। যে বিষয়ে একটা মানুষের সচেতনভাবে বাস করার জন্য এবং হাতের পায়ের ঝিমঝিম করার এই সমস্যা থেকে নিজেকে রেহাই করার জন্য যে প্রতিকার বা উপায় আমাদের জানা উচিত তার মধ্যে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলো ইতিমধ্যে আপনাদের সামনে উপস্থাপন করেছি। এ বিষয়গুলো হওয়ার ফলে মানুষের হাত-পা ঝিনঝিন হওয়ার সম্ভাবনা হয়।
প্রতিকার করার জন্য আপনাকে বিভিন্ন ডাক্তারের পরামর্শ গ্রহণ করতে হবে। যে লক্ষণগুলো রোগীর রয়েছে সেগুলো যাচাই করতে হবে। এবং চেকআপ করতে হবে কি কারনে পেরিফেরাল নিউরোপ্যাথি হচ্ছে। ডায়াবেটিসের সমস্যা থাকলে তা নিয়ন্ত্রণ করার চেষ্টা করতে হবে। এছাড়াও যাদের থাইরয়েডের সমস্যা রয়েছে তাদের ক্ষেত্রেও এই হাত পা ঝিমঝিম করা সম্ভব।
একজন মানুষের বিভিন্ন রোগ সৃষ্টি হয় তার অনেক রকমের অভাব থেকে তাই শরীরের বিভিন্ন প্রোটিন ভিটামিন এবং প্রয়োজনীয় মিনারেলের অভাব থাকলে শরীরে বিভিন্ন ধরনের সমস্যা পরিলক্ষিত হয়। তাই আপনার শরীরে যে সমস্যাগুলো থাকলে আপনার হাত-পা ঝিমঝিম করার মতো সমস্যা হতে পারে এবং এর যে প্রতিকার মূলক ব্যবস্থা রয়েছে। সে বিষয়ে উল্লেখিত পোস্টের মধ্যে উপরে উল্লেখ করা হয়েছে অনেক আকর্ষণীয় তথ্য যা আপনার এই সমস্যা ভালো করার জন্য গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।
বাম হাত ঝিনঝিন করার কারণ ও প্রতিকার নিয়ে শেষ মন্তব্য
হাম হাত ঝিনঝিন করার কারণ ও প্রতিকার বিষয়ে যে তথ্যগুলো আপনাদের সামনে উপস্থাপন করেছি। সে বিষয়গুলো আপনি যদি সঠিকভাবে জেনে রাখেন তাহলে অবশ্যই এই সমস্যা থেকে নিজেকে রেহাই করতে পারবেন। একজন মানুষের কি কি সমস্যা থেকে হাত-পা ঝিনঝিন করার সমস্যা শুরু হতে পারে এবং এই সমস্যাগুলো ঘরোয়া কি উপায়ে ব্যবহার করে সমাধান করবেন এবং কোন ধরনের ওষুধ ব্যবহার করবেন।
সে বিষয়গুলো সম্পর্কে আলোচনা করেছি যাতে একজন মানুষ হাত-পা বা বিভিন্ন ধরনের ঝিনঝিন ব্যথা এবং অবশ হয়ে যাওয়ার মতন সমস্যা থেকে নিজেকে রক্ষা করে। এবং এই সমস্যা থেকে বাঁচার জন্য যে প্রতিকার মূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে যা অত্যন্ত কার্যকরী স্বাভাবিকভাবে মানুষের প্রাথমিক সমস্যাগুলো দূর করতে পারবে এবং প্রাথমিক হঠাৎ যদি কোনো মানুষের এই সমস্যাগুলো হয় তাহলে সে সমস্যা দূর করার জন্য এ তথ্যগুলো যথেষ্ট।
মুক্তআঁখি আইটির নীতিমালা মেনে কমেন্ট করুন। প্রতিটি কমেন্ট রিভিউ করা হয়।
comment url