এলোভেরা দিয়ে মেছতা দূর করার ১০টি উপায় জানুন

এলোভেরা দিয়ে মেছতা দূর করার উপায় সম্পর্কে আমাদের জানা থাকা উচিত। কারণ মুখের মেছতা দূর করার জন্য প্রথমে আপনাকে এলোভেরা সংগ্রহ করে বিভিন্ন প্যাক তৈরির নিয়ম অবলম্বন করে ব্যবহার করলে আপনি খুব সহজেই বিভিন্ন মুখের সমস্যা দূর করতে পারবেন।

এলোভেরা দিয়ে মেছতা দূর করার উপায়

এলোভেরা দিয়ে যে শুধু মুখের মেছতা দূর করা যায় তা কিন্তু নয় এলোভেরা ব্যবহার করার ফলে নানান উপকারিতা পাওয়া যায়। সেই উপকারিতা গুলো এই পোস্টের ভিতরে উপস্থাপন করা হবে। যাতে আপনি অ্যালোভেরা দিয়ে মেছতা দূর করার পাশাপাশি ত্বকের বিভিন্ন সমস্যা দূর করতে পারে।

পোস্ট সুচিপত্রঃ এলোভেরা দিয়ে মেছতা দূর করার উপায় সম্পর্কে যা জানবেন

এলোভেরা দিয়ে মেছতা দূর করার উপায় সম্পর্কে বিস্তারিত 

এলোভেরা দিয়ে মেছতা দূর করার উপায় আমাদের জানা উচিত কারণ মানুষের বিভিন্ন সময় এবং বয়সের সাথে সাথে রূপ এবং সৌন্দর্যের বিভিন্ন ঘাটতি পড়ে এবং ব্রণ, মেছতা, কালো দাগ নানান প্রদাহ সৃষ্টি হয় ত্বকে। সে প্রদাহ গুলো থেকে বাঁচার জন্য কি উপায়ে আপনি এলোভেরা প্যাক তৈরি করবেন। প্যাক আকারে এবং তা ব্যবহার করে সমস্ত উপকারিতা গুলো পাবেন তা জেনে নিন এই পোস্টের সকল তথ্য গুলো বিস্তারিত পড়ার মাধ্যমে। 

  • এলোভেরা দিয়ে মেছতা দূর করার উপায়ঃ  উপায় জানার আগে আপনার মুখ সম্পর্কে একটু জানুন মুখের অধিকাংশ সময়ে দেখা যায় কালচে দাগ, বাদামি ঝোপ, বল রেখা, লাল ক্রাশ, মেছতা দুর করা হয়। স্বাস্থ্য চিকিৎসার ভাষায় এটিকে মেলাসোন বলা হয়। যা মুখের উপরিভাগে বা গালের উপরিভাগের অংশে চোখের নিচে বেশি দেখা যায় এবং আস্তে আস্তে ছড়িয়ে পড়ে। 

মেছতা দূর করার যে উপায় গুলো রয়েছেঃ

  • প্রথম উপায়ঃ মুখের মেছতা দূর করার জন্য আপনাকে এলোভেরা সংগ্রহ করে নিয়ে এর থেকে জেল বের করে নিতে হবে। যা সরাসরি মুখে ব্যবহার করার মাধ্যমে আপনি বিভিন্ন ত্বকের সমস্যা দূর করার পাশাপাশি মেছতা দূর করতে পারবেন।
  • দ্বিতীয় উপায়ঃ সামান্য পরিমাণ মধু মিশিয়ে নিয়ে আপনি অ্যালোভেরা জেলের সাথে পেস্ট তৈরি করে মুখে লাগিয়ে রাখার ফলে আপনার মুখের মেছতা দূর হবে এবং মুখের টান টান ভাব বাড়বে এর জন্য ১০ থেকে ১৫ মি. লাগিয়ে রাখতে হবে।
  • তৃতীয় উপায়ঃ এলোভেরা জেল সংগ্রহ করার পর, সেই জেলের সঙ্গে আপনি হলুদ গুঁড়া মিশিয়ে ব্যবহার করলে আপনার মুখের উজ্জ্বলতা বৃদ্ধি করবে এবং কালো দাগ দূর করবে, এর জন্য আপনাকে অবশ্যই নিয়মভাবে ববহার করতে হবে।
  • চতুর্থ উপায়ে লেবু ও অ্যালোভেরা জেলঃ এর জন্য এক চা চামচ এলোভেরা জেল এর সাথে কয়েক ফোঁটা লেবুর রস মিশিয়ে মেছতার স্থানে লাগাতে হবে এবং ১৫ থেকে ২০ মিনিট রেখে দেওয়ার পর ঠান্ডা পানি দিয়ে ধুয়ে ফেলতে হবে এবং ব্যবহারের পর কিছুক্ষণ সময় সূর্যের আলো এড়িয়ে চলতে হবে।
  • পঞ্চম উপায়ে অ্যালোভেরা ও দইয়ের প্যাক তৈরিঃ এই কাজটি করার জন্য আপনাকে এক চামচ এলোভেরা জেলের সাথে এক চামচ টক দই মিশিয়ে নিতে হবে। এবং সেই পেস্ট তৈরি করার পর আপনার মুখ ভালো করে পরিষ্কার পানি দিয়ে ধুয়ে নেওয়ার পর ভালো করে মুছে নিতে হবে পরিষ্কার কাপড় দিয়ে। এরপর সেই প্যাকটি লাগিয়ে ২০ মিনিট অপেক্ষা করার পর ধুয়ে ফেলুন।

মেছতা দূর করার প্রাকৃতিক উপায় জেনে রাখুন 

মেছতা দূর করার করার প্রাকৃতিক উপায় সম্পর্কে জানা উচিত কারণ মেস্তা মানুষের সকল ধরনের বয়সেই হয়ে থাকে। তাই বর্তমানে মেছতা দূর করার অনেক আধুনিক ব্যবস্থা রয়েছে। সেগুলো ব্যবহার করার পাশাপাশি আপনি প্রকৃতি বা প্রাকৃতিক যে বিষয়ে ব্যবহার করে উপকার পাবেন তা নিচে দেখে নিন।

  • টক দইঃ ত্বকের সমস্যা দূর করতে অন্যতম কার্যকরী একটি উপাদান হলো টক দই। যা ভালো করে ফেটিয়ে নিয়ে আপনি মুখে লাগিয়ে ১৫ থেকে ২০ মিনিট অপেক্ষা করার পর ধুয়ে ফেললে মেছতা দূর এবং ত্বকের উজ্জ্বলতা বৃদ্ধি করতে পারবে।
  • শুধু লেবুর রসঃ লেবুর রস কখনো সরাসরি ত্বকে লাগানো যায় না তবে কোন কিছুর সঙ্গে মিশিয়ে ব্যবহার করা অত্যন্ত কার্যকরী। এ ছাড়া আপনি সামান্য পরিমাণ লেবুর রস ব্যবহার করতে পারেন। তবে সঙ্গে পানিযুক্ত করে নিতে হবে তাহলে ১৫ মিনিট থেকে ২০ মিনিট রাখার পর লেবুতে অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট উপাদান সূর্যের আলোর ক্ষতিকর রশ্মি থেকে রক্ষা করবে এবং ত্বকের মেছতা দূর করবে। 
  • আমন্ড অয়েল ব্যবহার করুনঃ এটা অত্যন্ত কার্যকরী এর জন্য আপনাকে কিছু উপায় অবলম্বন করতে হবে এক থেকে দুই ফোটা আমন্ড অয়েল নিয়ে মেস্তার স্থানে নিয়মিত ব্যবহার করতে হবে। যা এক থেকে ২ ঘন্টা রেখে দিলে মেছতা দূর হবে। পাশাপাশি আপনি চুলের যত্ন নিতে এই তেল ব্যবহার করতে পারবেন যা অত্যন্ত উপকারী। 
  • হালকা গরম তেল ব্যবহারঃ ত্বকের জন্য আপনি হালকা গরম তেল ব্যবহার করতে পারবেন। এ তেল গরম করার পর আপনি ত্বকে মেসেজ করে দিতে হবে যাতে আপনার ত্বক মসৃণ এবং নরম থাকে এভাবে তেল দিয়ে মেসেজ করার পর হালকা গরম পানি দিয়ে ধুয়ে ফেলুন। 
  • সানস্ক্রিন এড়িয়েঃ ত্বকের কালো দাগ এবং মেছতা দূর করার জন্য এটা অত্যন্ত উপকারী তবে অতিরিক্ত ব্যবহারে এটা ক্ষতিকর প্রভাব রয়েছে ব্যাপক। সুতরাং আপনি সূর্যের তাপ ব্যবহার করতে পারবেন তবে প্রতিদিন সর্বোচ্চ ২০ মিনিট তবে সেই রোদের আলো শীতের সময় যে পরিমাণ তাপ দেয় তার অনুযায়ী হতে হবে।

আশা করি বোঝাতে পেরেছি মেছতা দূর করার জন্য আপনাকে কি ধরনের ঘরোয়া উপায় এবং এলোভেরা ব্যবহার করার জন্য যে উপায় এবং প্যাক তৈরি করতে হবে সেগুলো জানতে হবে। এবং ব্যবহার করতে পারবেন যা থেকে আপনি খুব সহজেই মেছতা হওয়ার মত সমস্যাকে রক্ষা করতে পারবেন। এটা হওয়ার পর যে কাজগুলো করণীয় রয়েছে তা করতে পারবেন। তাই আর দেরি না করে উপায়গুলো অবলম্বন করুন এবং সাথে নিচে এর কারণ সম্পর্কে জেনে নিন যে কেন হয়। 

মেছতা হওয়ার যে কারণগুলো রয়েছে জানুন 

মেছতা হওয়ার কারণগুলো রয়েছে সেই কারণগুলো সম্পর্কে আমাদের জানা উচিত। অনেক বিশেষজ্ঞ এবং পরামর্শদাতারা এটি কে বংশগত সমস্যা হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন। যদিও এটি বংশগত সমস্যা থেকে হয়ে আসে ৯০ ভাগ ক্ষেত্রে যা সম্পর্কে বিভিন্ন প্রমাণ রয়েছে। তবে এটি ব্যক্তি সংক্রান্ত বিভিন্ন অসচেতন মূলক সমস্যার কারণে হয়ে থাকে। 

যে সমস্যাগুলোর মধ্যে রয়েছে অপুষ্টিহীনতা, শারীরিক অসচেতনতা মূলক কাজ কাম, এর মধ্যে আরো অন্যতম বিষয় রয়েছে তাহলে শারীরিক যৌন উত্তেজনা মূলক কর্ম বেশি নিমজ্জিত থাকা। সুতরাং মেছতা যাদের আগে থেকে থাকে তাদের সবচাইতে বেশি হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে বংশগত ডিএনএ বা জেনেটিক সমস্যার করণে। তবে কিছু ক্ষেত্রে মানুষের দেখা যায় যা বাহ্যিক বিভিন্ন কর্মকাণ্ডের দ্বারা ঘটে। 

মেছতা কত প্রকার এবং কি কি তার সম্পর্কেও জানুন 

মেছতা সাধারণত কত প্রকার এবং কি কি ধরনের মেছতা রয়েছে তা আমাদের জানা উচিত। বিভিন্ন মেছতার নিরাময় ক্রিম এবং উপকরণ ব্যবহার করে তাদের জানা উচিত যে, কোন ধরনের মেছতার জন্য কোন ক্রিম ব্যবহার করতে হবে। তাহলে ভালো উপকারিতা পাওয়া যাবে। তাই নিচে কয় প্রকার এবং কি কি তা উপস্থাপন করলাম। 

  • সবচেয়ে উপরের অতি সূক্ষ্ম স্তরকে এপিডার্মিস বলা হয় যেখানে এই সমস্যা সৃষ্টি হয়।
  • তার নিচের অধিকতর পুরো স্তরটিকে ডারমিস বলা হয় একখানেও হয়।
  • এবং সবার নিচে মূলত ফ্যাট দিয়ে তৈরি যে স্তরটি রয়েছে তাকে সাবকিউটিস বলা হয়। এখানেও ব্রণ, মেছতা হয়।

৯৫ থেকে ৯৮ শতাংশ ক্ষেত্রে মুখের এ সমস্যা দেখা যায়, তবে হাত-পা এবং মুখের উপর এটা বেশি দেখা যায়। মুখের ঠিক পেছনে মেছতা সেই অনুযায়ী তিন ভাগে ভাগ করা হয়। যেমন, কপাল, নাক মুখ, থুতনি হলে একে সেন্টোফেসিয়াল, নাক ও গালে হলে মালার এরিয়া ও শুধু থুতনি বরাবর হলে মেন্ডিবুলার মেছতা বলা হয়। এছাড়া যদি ত্বকের উপরের স্তরে হয় তখন তাকে এপিডার্মাল মেলা জমা ও ভেতরের স্তরে হলে ডার্মাল মেলাজম বলে।

তবে এই দুই স্তরে একত্রে থাকলে তাকে আবার বলা হয় মিক্স মেলাজমা। তবে মেস্ততার প্রধান কারণ হচ্ছে জেনেটিক্স প্রিডিক্সপজিশন। তাছাড়া সূর্যের আলো তোলার আগুন গর্ভ অবস্থায় জন্মনিয়ন্ত্রণ পিল ও কসমেটিকসের প্রক্রিয়ায় এই মেছতা সম্ভাবনা হতে পারে। সুতরাং বিভিন্ন কসমেটিক এবং সূর্যের আলো থেকে নিজেকে হেফাজতে রাখতে হবে।  তাহলে আপনি এ সকল প্রকার মেছতা থেকে নিজেকে রক্ষা করতে পারবেন। 

এলোভেরা মশ্চারাইজার সম্পর্কে জানুন 

এলোভেরা মশ্চারাইজার একটি অতি পরিচিত উপাদান এই উপাদান টি ব্যবহার করার ফলে মানুষের শরীরে শুষ্ক ভাব দূর করা যায়। এবং এর পাশাপাশি ত্বকের বিভিন্ন সমস্যা দূর করার জন্য ব্যবহার করা হয়। তবে প্রাকৃতিক মশ্চারাইজার হিসেবে এলোভেরা ব্যবহৃত হয় অতি প্রাচীনকাল থেকে যা বলা হয়ে থাকতো যে, এটি রানীদের রূপচর্চার জন্য ব্যবহৃত হয়।

এলোভেরা মশ্চারাইজার

বিভিন্ন রানীরা ছিল যারা এটি ব্যবহার করত তাদের সৌন্দর্য এবং রূপের গুনাগুন সঠিকভাবে রাখার জন্য সুতরাং আপনিও যদি সৌন্দর্য এবং রূপের গুনাগুন বজায় রাখতে চান তাহলে ময়েশ্চারাইজার হিসেবে ব্যবহার করে আপনার ত্বকের বিভিন্ন সমস্যা দূর করতে পারবেন। তবে এটি ব্যবহার করার পূর্বে একটি বিষয় মাথায় রাখতে হবে যে, আপনার কি কোন ধরনের সংবেদনশীল জাতীয় সমস্যা রয়েছে কিনা তা পরীক্ষা করে নিতে হবে এর পর ব্যাবহার করতে হবে।

সচরাচর জিজ্ঞাসিত প্রশ্ন ও উত্তর এলোভেরা সম্পর্কে জানুন

প্রশ্নঃ প্রতিদিন মুখে এলোভেরা দিলে কি হয়?

উত্তরঃ এই অ্যালোভেরার মধ্যে অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট, অ্যান্টিমাইক্রোবিয়াল ও অ্যান্টি-ব্যাকটেরিয়াল উপাদান রয়েছে। যা নিয়মিত ত্বকের উপর মাখলে এটি ত্বকের প্রদাহ কমায়। সাথে সাথে ত্বকের ক্ষত নিরাময়ে সাহায্য করে। পাশাপাশি কমিয়ে দেয় ব্রণ, ফুসকুড়ির মতো ত্বকের সমস্যা যা এই এলোভেরা হতে মিলে।

প্রশ্নঃ অ্যালোভেরা কি কালো দাগ দূর করে? এলোভেরা দিয়ে মেছতা দূর করার উপায় আছে।

উত্তরঃ অ্যালোভেরাতে স্যালিসিলিক অ্যাসিডের উপস্থিতি থাকে যার কারণে একটি প্রাকৃতিক এক্সফোলিয়েন্ট হিসেবে কাজ করে। যা আপনার ত্বকের মৃত কোষগুলিকে আলতো করে তুলে ফেলে। এই হালকা এক্সফোলিয়েশন ত্বকের নিচের তাজা, সুস্থ অংশ প্রকাশ করে ও ধীরে ধীরে কালো দাগ দূর করতে ফেলে যা আমাদের দরকার হয়।
প্রশ্নঃ অ্যালোভেরা জেল কি প্রতিদিন মুখে লাগানো যায়?
উত্তরঃ অ্যালোভেরার যে ঔষধি গুণাবলী রয়েছে যা ত্বকের উপকারিতার জন্য ব্যাপকভাবে ব্যবহৃত হয়। ত্বক আর্দ্র রাখতে ও সামান্য জ্বালাপোড়া প্রশমিত করতে আপনি প্রতিদিন আপনার মুখে অ্যালোভেরা জেল ব্যবহার করতে পারবেন। যতক্ষণ না আপনার অ্যালার্জি থাকে । অ্যালোভেরা এর উপকারিতা এবং ব্যবহার সম্পর্কে জানুন।
প্রশ্নঃ কোন অ্যালোভেরা গাছ মুখের জন্য ভালো?
উত্তরঃ আমরা ও আমাদের ত্বকের ওভার-দ্য-কাউন্টার (OTC) জেলে যে অ্যালোভেরা ব্যবহার করি, তা একই নামের উদ্ভিদ থেকে তৈরি এবং একাধিক ধরণের অ্যালোভেরা রয়েছে, যার আনুমানিক ৪২০ টি ভিন্ন প্রজাতি রয়েছে। ত্বকের অবস্থার জন্য সবচেয়ে বেশি ব্যবহৃত ফর্ম হল অ্যালো বার্বাডেনসিস মিলার নামক একটি উদ্ভিদ।
প্রশ্নঃ অ্যালোভেরা কি চোখ ভালো করে?
উত্তরঃ ২০১২ সালে একটি গবেষণায় দেখা যায় যে, যেখানে ফিল্টার করা অ্যালোভেরার নির্যাস মানুষের কর্নিয়ার কোষের ওপর পরীক্ষা করা হয়েছিল, সেখানে প্রমাণ পাওয়া গেছে যে, অ্যালোভেরায় এমন বৈশিষ্ট্য থাকতে পারে যা চোখের প্রদাহ এবং শুষ্কতা কমাতে সাহায্য করে । গবেষণায় আরও কিছু উল্লেখ করা হয়েছে যে, কম ঘনত্বের অ্যালোভেরার চোখের কোষের উপর নেতিবাচক প্রভাব পড়েনি বলে জানায়।

এলোভেরা মুখে ব্যবহার করার উপায় 

এলোভেরা মুখে ব্যবহার করার বিভিন্ন উপায় রয়েছে যে উপায় গুলো সম্পর্কে ইতিমধ্যে আপনাদের সামনে সঠিক তথ্য উপস্থাপন করেছি। যাতে আপনি খুব সহজেই সেই তথ্যগুলো অনুসরণ করে রূপচর্চা করতে পারে এবং সৌন্দর্যকে বৃদ্ধি করতে পারে। প্রথমে মানুষ এটিকে রূপচর্চার ক্ষেত্রে ব্যবহার করত তবে এটি বিভিন্ন গ্যাস্ট্রিক এবং পেটের সমস্যার ক্ষেত্রে ব্যবহৃত হয়। 

কারণ এই অ্যালোভেরা জেল এর মধ্যে যে এন্টিসেপটিক এবং এন্টি ইনফ্লামেন্টরি বৈশিষ্ট্য রয়েছে। সেই বৈশিষ্ট্যগুলো থাকার কারণে আপনার শরীরের হজম শক্তি বৃদ্ধি করে এবং পেটের গ্যাস্ট্রিক, ডায়রিয়া ও আরো নানান ধরনের সমস্যা দূর করার জন্য ভূমিকা রাখে। সেজন্য আপনি অ্যালোভেরা ব্যবহার করতে পারবেন রূপচর্চার সাথে সাথে শারীরিক বিভিন্ন সমস্যা দূর করার জন্য যা অত্যন্ত স্বাস্থ্য উপকারী।

অ্যালোভেরা জেল চুলে ব্যবহারের নিয়ম 

অ্যালোভেরা জেল চুলে ব্যবহারের নিয়ম জানা প্রয়োজন কারণ চুলের বিভিন্ন উপকারিতা এলোভেরাটি ব্যবহার করে অনেক সমস্যার সমাধান করা যায়। চুলের লেন্থ অনুযায়ী নারকেল তেল নিয়ে এটি অ্যালোভেরা ব্যবহার করলে অনেক উপকারিতা পাওয়া যায়। তার জন্য যে উপায়টি অবলম্বন করবেন তা হচ্ছে আপনাদের আশেপাশে থাকা জিনিসটি ব্যবহার করুন। 

প্রথমে আপনার প্রয়োজন অনুযায়ী বা চুলের প্রয়োজন অনুযায়ী একটি বাটিতে নারকেলের তেল সংগ্রহ করুন পরিমাণমতো যাতে আপনার চুলে দেওয়া যাবে এবং তার সাথে দুই চামচ বা পরিমাণ মতো এলোভেরা জেল মিশিয়ে নিন। এবং মাথার তালুতে ভালোভাবে মেসেজ করুন যা আধাঘন্টা রেখে দেয়ার পর ভালো করে শ্যাম্পু দিয়ে ধুয়ে ফেলার পর আপনি নিজেই দেখবেন যে, আপনার চুল কতটা সুন্দর এবং আকর্ষণীয় হয়ে উঠেছে। 

এই সুন্দর্য বেশি বৃদ্ধি করার পাশাপাশি আপনার চুলের ডিপ কন্ডিশনিং করে দিবে যার ফলে হেয়ার ফল এবং চুল উঠে যাওয়ার সমস্যা থেকে আপনি খুব সহজেই রক্ষা পাবেন। সুতরাং আপনি যদি এই বিষয়গুলো ব্যবহার করে বিভিন্ন সমস্যা দূর করতে চান চুলের জন্য তাহলে অবশ্যই এই নিয়মগুলো অনুসরণ করে ব্যবহার করে এর সঠিক ফলাফল উপভোগ করতে পারবেন। 

ছেলেদের চুলের যত্নে এলোভেরা ব্যবহারের উপায় জানুন 

ছেলেদের চুলের যত্নে এলোভেরা ব্যবহারের উপায় আমাদের জানা উচিত কারণ চুলের বিভিন্ন সমস্যা ছেলে মেয়ে উভয়ের ক্ষেত্রেই হয়ে থাকে। চুলের শুষ্কতা দূর করা এবং চুল ভেঙে যাওয়া, পড়ে যাওয়া এবং চুলের স্বাস্থ্য উজ্জ্বলতা বৃদ্ধি করার জন্য আপনাকে যে নিয়মটি বলব এই একটি নিয়ম ব্যবহার করলে আপনি ছেলেদের চুলের জন্য বিশেষ উপকারিতা পাবেন। 

ছেলেদের চুলের যত্নে অ্যালোভেরা ব্যবহারের নিয়মঃ

ছেলেদের চুলের যত্নে অ্যালোভেরা ব্যবহারের অত্যন্ত কার্যকরী নিয়ম হচ্ছে, আপনাকে অ্যালোভেরা গাছ থেকে অ্যালোভেরা পাতা সংগ্রহ করে সেখান থেকে জেল নিতে হবে। জেলটি সরাসরি আপনার মাথার ত্বকে ঘুসুন এবং এক ঘন্টা মত রেখে দিন। এই প্রক্রিয়াটি আপনি সপ্তাহের তিন থেকে চার দিন করুন এবং শুকিয়ে যাওয়ার পর হালকা শ্যাম্পু দিয়ে মাথার ত্বক ভালো করে ধুয়ে ফেলুন এবং বুঝে নিন আপনার চুলের উপকারিতা।

ছেলেদের চুলের যত্নে এলোভেরা ব্যবহারের উপায়

এছাড়া আরো একটি সহজ উপায় আপনি ব্যবহার করতে পারেন। যা চুলের খুশকি কম করবে এবং মাথার ত্বকের মশ্চারাইজার এবং চুলের মশ্চারাইজার সঠিক মাত্রায় রাখবে পাশাপাশি চুলের যদি কোন বৃদ্ধি প্রবলিত সমস্যা থাকে তা দ্রুত সমাধান করে। আপনার চুলের বৃদ্ধি করতেও সাহায্য করবে। এর জন্য আপনি অ্যালোভেরা জেলের সাথে ডিমের সাদা অংশ মিশিয়ে চুলে ব্যবহার করে শুকিয়ে যাওয়ার পর ধুয়ে ফেলুন। 

সুতরাং আপনি যদি চুলের যত্ন করতে চান। যদি আপনি ছেলে হয়ে থাকেন চুলের সমস্যা কোন সমাধান পাচ্ছেন না এবং বিভিন্ন আয়ুর্বেদিক চিকিৎসা বা পণ্য ব্যবহার করে ফল পাচ্ছেন না। তারা এই উপায়গুলো অবলম্বন করে দেখতে পারেন অবশ্যই চুলের জন্য বিশেষ স্বাস্থ্য উপকারিতা এবং চুলের যে ধরনের সমস্যা গুলো হয় সাধারণত সকল সমস্যা দূর করতে পারবেন। 

শুধু এলোভেরা মাখলে কি হয় জানুন 

শুধু এলোভেরা মাখলে যে উপকারিতা গুলো পাওয়া যায় তার মধ্যে উল্লেখযোগ্য হচ্ছে আপনার ত্বকের চুলকানির জড়িতদের সকল সমস্যা রয়েছে তা দূর হবে। রোদে পোড়া দাগ থেকে বেঁচে যাবেন পাশাপাশি ত্বকের উজ্জ্বলতা বৃষ্টি হবে এবং মসৃণ রাখবে। এছাড়াও আপনি যদি ত্বকের ওপর বয়সের যে ছাপ থাকে তা কমাতে চান তাহলে নিয়মিত শুধু অ্যালোভেরা ব্যবহার করুন। 

তাছাড়া এরমধ্যে অ্যান্টিব্যাকটেরিয়াল এবং অ্যান্টি-ফাঙ্গাল যে উপাদান গুলো রয়েছে। যা চুল পড়া রোধ এবং সে জড়িত বিভিন্ন সমস্যা দূর করতে পারে। তাই আপনি যদি শুধু অ্যালোভেরা মাখলে কি হয় বিস্তারিত বিষয়ে জানতে চান তাহলে আমাদের আরো পড়ুন সেকশন গুলোতে ভিজিট করতে পারেন। সেখানে বিস্তারিতভাবে উল্লেখ করা হবে যে কি ধরনের উপায় অবলম্বন করে আপনি শুধু অ্যালোভেরা মাখার মাধ্যমে এই উপকারিতা গুলো পাবেন। 

এলোভেরা দিয়ে মেছতা দূর করার উপায় সম্পর্কে শেষ মন্তব্য 

এলোভেরা দিয়ে মেছতা দূর করার উপায় জানা দরকার কারণ এই উপায়গুলো অবলম্বন করার মাধ্যমে খুব সহজেই আপনার ত্বকের উপরিভাগে বিভিন্ন স্তরে জমে থাকা মেছতা দূর করতে পারবেন। তাই আপনি এই উপরে উল্লেখিত উপায় গুলো অবলম্বন করে দেখতে পারেন। যা অত্যন্ত কার্যকরী বলে প্রমাণিত। অ্যালোভেরা দিয়ে মেছতা দূর করার জন্য আপনাকে যে নিয়মগুলো অবলম্বন করতে হবে তার বিস্তারিত বিষয়ে জানানো হয়েছে। 

তাছাড়া আপনি যদি অ্যালোভেরা দিয়ে বিভিন্ন স্বাস্থ্য উপকারিতা পাওয়ার উপায় গুলো জানতে চান তাহলে যেই সহজ কাজটি করতে পারেন তার জন্য আপনি অনেক তথ্য জানতে পারবেন। এবং সেই তথ্য অনুযায়ী বিভিন্ন স্বাস্থ্য উপকারিতা পেতে পারেন এবং বিভিন্ন রোগ মুক্তি করতে পারবেন তার জন্য আমাদের হোমপেজে গিয়ে ভিজিট করতে পারেন এবং সার্চ অপশন থেকে অ্যালোভেরা সার্চ দিয়ে জেনে নিতে পারেন সকল তথ্য যা ব্যবহার করে আপনি অবশ্যই উপকৃত হবেন।

এই পোস্টটি পরিচিতদের সাথে শেয়ার করুন

পূর্বের পোস্ট দেখুন পরবর্তী পোস্ট দেখুন
এই পোস্টে এখনো কেউ মন্তব্য করে নি
মন্তব্য করতে এখানে ক্লিক করুন

মুক্তআঁখি আইটির নীতিমালা মেনে কমেন্ট করুন। প্রতিটি কমেন্ট রিভিউ করা হয়।

comment url