পা ফোলার কারণ ও প্রতিকার সম্পর্কে ১৭টি ঘরোয়া উপায়

পা ফোলার কারণ ও প্রতিকার সম্পর্কে আমাদের জানা উচিত বিশেষ কিছু কারণ রয়েছে যার কারণে মানুষের শরীরে কিছু সমস্যা দেখা যায়। তার মধ্যে পা ফোলা অন্যতম। শরীর অতিরিক্ত ওজন ও রক্ত সঞ্চালন কমে গেলে এই সমস্যা দেখা দিতে পারে তাই এর প্রতিকার দেখে নিন।

পা ফোলার কারণ ও প্রতিকার

এখানে আর যা জানবেন পা ফোলা কমানোর ঘরোয়া উপায়, পা ফোলা কমানোর ব্যায়াম, দুই পা ফুলে যাওয়ার কারণ, পা ফোলার ঔষধ, পা ফোলা ও ব্যথার কারণ, পা ফোলা কিসের লক্ষণ, পা ফুলে গেলে কোন ডাক্তার দেখাবেন এবং পা ফোলার কমানোর হোমিও ওষুধ সম্পর্কে বিস্তারিত।

পোস্ট সুচিপত্রঃ  পা ফোলার কারণ ও প্রতিকার সম্পর্কে ঘরোয়া উপায় সম্পর্কে যা জানবেন

পা ফোলার কারণ ও প্রতিকার সম্পর্কে বিস্তারিত জানুন 

পা ফোলার কারণ ও প্রতিকার সম্পর্কে যারা সকল বিষয়ে বিস্তারিত জানেন না কি কারণে এই পা ফোলার সমস্যা হয়। এবং এর ঘরোয়া উপায় গুলো কি রয়েছে এবং ডাক্তারি পরামর্শ সহ বিভিন্ন কার্যকরী ওষুধের সম্পর্কে আমরা এখন জানব তার প্রথমে জানবো কারণ গুলো কি কি। যার কারণে আমাদের শরীরের পা ফুলে যায় এবং বিভিন্ন সমস্যা সৃষ্টি হয়।

পা ফোলার কারণ ও প্রতিকার সুমহঃ

  • অতিরিক্ত দাঁড়িয়ে থাকা বা বেশি হাঁটর কারণে ফুলে যেতে পারে।
  • আপনার শরীরে অতিরিক্ত ওজন থাকলে আপনার শরীরের রক্ত সঞ্চালন প্রক্রিয়া হ্রাস পাবে এবং এর কারণে গোড়ালিতে পানি জমা হবে এবং পা ফুলে যাবে। 
  • বিশেষ করে গর্ভাবস্থায় বেশিরভাগ মহিলারা এই সমস্যা ভোগ করে। 
  • বিভিন্ন ওষুধের তরল শরীরে ধরে রাখা বা জমা হয়ে থাকার ফলে পার্শ্ব প্রতিক্রিয়া হিসেবে খোলা ভাব প্রকাশ পায়। 
  • আপনার পা বা গোড়ালিতে যে কোন আঘাত পাওয়ার কারণে মচকে গেলে ও পা ফুলে যাওয়ার সম্ভাবনা থাকে।
  • যেকোনো সংক্রমণ স্থায়ী হওয়ার কারণে এই সমস্যা হয়। 
  • লিম্ফ ভেজেল বা লিম্ফ নোডের লিম্ফ ফ্লুইড ব্লকেটের কারণে হয়ে থাকে।
  • রক্তনালীতে তরল প্রবাহে বাধা প্রদান করলে তরল থেকে টিস্যুতে বেরিয়ে যায়, যার ফলে পা ফোলার সম্ভাবনা থাকে।
  • শরীরের শিরা উপশিরা গুলো পর্যাপ্ত পরিমান পাম্প করে যার ফলে এই রক্তচাপ বৃদ্ধি হয়ে যায় এবং শরীরে পা ফোলা দেখা দেয়।
  • গর্ভবতী মহিলাদের জন্য প্রিকলাম্পসিয়া যা উচ্চ রক্তচাপ সৃষ্টি করে, এর প্রভাবে মুখ হাত পা খোলা ভাব দেখা যায়। 
  • পানি শূন্যতার কারণে শরীরে পানি অভাব হলে পা ফোলা রোগ হয়।
  • হৃদরোগের সমস্যা হলে শরীরের নিচের অংশে পানি জমে যায় যার ফলে পা ফোলা রোগ হয়।
  • কিডনিতে ঠিকমতো কাজ না করলে শরীরের পানি জমে যায়। 
  • লিভার সমস্যা থাকলে গর্ভ অবস্থায় অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ সমস্যা সৃষ্টি করতে পারে এই পা ফোলা ভাব।
  • এলার্জি সমস্যা থাকলেঃ যাদের শরীরে এলার্জি সমস্যা রয়েছে তারা বিভিন্ন প্রতিক্রিয়া হিসেবে এই পা ফোলা রোগ এবং হাত পা সহ শরীর ফোলার কত সমস্যা দেখা যায়।
  • হাত পা ফোলার কারণ সম্পর্কে জানলেন এবার জনন প্রতিকারঃ
  • পর্যাপ্ত পানি পান করতে হবে, আপনার শরীরে পানির ভারসাম্য সঠিকভাবে বজায় না থাকলে প্রতিদিন পর্যন্ত পানি পান করতে হবে। 
  • পা উঁচুতে রাখতে হবে, যাতে আপনার শরীরের রক্তচাপ কম পড়ে এবং বসার সময় এবং ঘুমানোর সময় পা উচু রেখে ঘুমালে রক্ত সঞ্চালনত হবে এবং পা ফোলা কমে যাবে।
  • হালকা ব্যায়ামঃ পায়ের রক্ত সঞ্চালন বাড়ানোর জন্য হালকা ব্যায়াম করতে পারবেন এবং হাঁটাচলা করতে পারবেন। 
  • লবণ খাওয়ার অভ্যাস করাতে হবে অতিরিক্ত লবণ খাওয়ার ফলে এই শরীরের পানি জমে রাখার সম্ভাবনা থাকে। 
  • কম্প্রেশন মোজা পড়াঃ বিশেষ কম্প্রেশন মোজা পায়ের চাপ সৃষ্টি করে এবং রক্ত সঞ্চালন প্রক্রিয়া উন্নত করে এ ধরনের মোজা ব্যবহার করতে পারবেন।
  • বিভিন্ন পরীক্ষা করানোঃ কিডনি লিভার যন্ত্রের মত বিভিন্ন শরীরের অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ একজন চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী পরীক্ষা-নিরীক্ষা করতে হবে।

তাছাড়া আপনাকে ঠান্ডা বা গরম সেক দিলে এই সমস্যা কমবে। সঠিক ওষুধ সেবন করতে হবে যাদের কিডনি লিভার ভালো থাকে এবং এর জন্য কিছু অধ্যক্ষ হিসেবে আপনাকে জানা উচিত যে, কখন ডাক্তারের পরামর্শ এবং শরণাপন্ন হতে হবে। আপনার সঙ্গে ব্যথা লালচে ভাব বা ত্বকের বিভিন্ন পরিবর্তন দেখা দিলে, শ্বাসকষ্ট বা বুকে ব্যথার সঙ্গে পা ফোলা হলে, দীর্ঘদিন ধরে পা ফোলার সমস্যা থাকলে আপনাকে অবহেলা না করে ডাক্তারের পরামর্শ অনুযায়ী চিকিৎসা সেবা নিতে হবে। 

পা ফোলা কমানোর ঘরোয়া উপায় জানুন 

পা ফোলা কমানোর ঘরোয়া উপায় সম্পর্কে বিস্তারিত জানা উচিত কারণ স্বাভাবিক অবস্থায় অনেকেরই ছোটখাটো সমস্যা থেকে পা ফোলা শুরু হয়। তাই ঘরোয়া উপায় ব্যবহার করে আপনি প্রথম অবস্থায় এই পা ফোলা সমাধান করতে পারবেন। এমন কিছু উপায় আছে যা আপনি ঘরে বসে করতে পারবেন এর জন্য কোন ধরনের খরচ করা প্রয়োজন হবে না সেই উপায় গুলো দেখে নিন।

  • দিনে ৮ থেকে ১০ গ্লাস পানি পান করতে হবে। 
  • কম্প্রেশন স্টকিংস পড়েন।
  • প্রায় ১৫ থেকে ২০ মিনিটের জন্য ঠান্ডা এসব সল্ট স্ক্যান ভিজিয়ে রাখুন।
  • ঘুমানোর সময় বালিশে উঁচু করে পা রাখুন। 
  • ম্যাগনেসিয়াম সমৃদ্ধ খাবার গ্রহণ করলে সুবিধা পাওয়া যায়। 
  • সোডিয়াম গ্রহণ কম করতে হবে এতে পা ফোলা বৃদ্ধি করে।
  • ঠান্ডা পানি ব্যবহারঃ ঠান্ডা গরম পানি ব্যবহার করে আপনি পায়ের ভিজিয়ে রাখুন তাহলে আপনার ধীরে ধীরে পা ফোলা কমবে।
  • পানির সঙ্গে ইসম সল্ট ব্যবহার করুনঃ গরম পানিতে এসব সল্ট মিশিয়ে ১৫ থেকে ২০ মিনিট পা ডুবিয়ে রাখুন যা আপনার পায়ের বেশি শিথিল করবে এবং ফোলা অভাব কমাবে।
  • আদা চা পানঃ আদা চা প্রাকৃতিক ডিউরেশন কাজ করে যা শরীরের অতিরিক্ত পানি বের করে দিতে সাহায্য করে। এর জন্য দুই থেকে তিনবার আলাদা পান করুন। 
  • পেঁপে পাতা বা ক্যাস্টর অয়েল পেস্ট ব্যবহার করতে পারবেন। পেটে পাতা গরম করে পায়ে লাগান, কাস্টার অয়েলের পেস্ট পায়ে লাগিয়ে সেক দিলে ফোলা কমে। 
  • লেবু ও মধুর মিশ্রণঃ লেবু এবং মধুর মিশ্রন পান করে আপনি এই সমস্যার সমাধান করতে পারবেন। এর জন্য একটি গ্লাস হালকা গরম পানিতে লেবু এবং মধু মিশিয়ে পান করুন যা শরীরে অতিরিক্ত তরল দূর করবে। 
  • দারুচিনি ও মধু প্যাকঃ দারুচিনি গুড়া একটি মধুর সাথে মিশিয়ে পায়ে লাগান ২০ মিনিট রেখে ধুয়ে ফেলুন অত্যন্ত উপকারী।
  • শারীরিক ব্যায়াম ও চলাফেরা: প্রতিদিন শারীরিক ব্যায়াম করতে এবং চলা করতে হবে যার কারণে আপনাকে দীর্ঘক্ষণ বসা এবং দাঁড়িয়ে থাকা এড়িয়ে চলতে হবে পায়ের রক্ত সঞ্চালন ভালো হবে এবং ফোলা ভাব কমবে। 
  • পুদিনা পাতার সেকঃ এর জন্য পুদিনা পাতা পানিতে ফুটিয়ে নিতে হবে এই পানি তোয়ালে ভিজিয়ে পায়ে দিয়ে রাখতে হবে।
  • উল্লেখিত উপায় গুলো অবলম্বন করে পাশাপাশি আপনাকে কম লবণ খাওয়ার অভ্যাস করতে হবে কারণ লবণ শরীরে পানি ধরে রাখার জন্য সাহায্য করে। 

কিছু সতর্কতা এই উপায় গুলো ব্যবহার করার জন্য অবলম্বন করতে হবে। যদি ফুলা দীর্ঘদিন ধরে থাকে ত্বকের পরিবর্তন হয়। তাহলে আপনাকে অবশ্যই ডাক্তারের পরামর্শ নিতে হবে এবং ঘরোয়া উপায় প্রয়োগের পাশাপাশি আপনার পর্যাপ্ত পরিমাণ পানি পান করতে হবে এবং সুষম খাদ্য গ্রহণ করতে হবে। যেসব খাদ্য থেকে প্রচুর পরিমাণে ভিটামিন এবং প্রয়োজনীয় উপাদান থাকে বিশেষ করে পটাশিয়াম অত্যন্ত এই সমস্যার জন্য উপকারী। 

পা ফোলা কমানোর ব্যায়াম করতে পারবেন 

পা ফোলা কমানোর ব্যায়াম সম্পর্কে আমাদের জানা উচিত যে, উপায় গুলো ব্যবহার করে মানুষের শরীরে রক্ত সঞ্চারণ প্রক্রিয়া উন্নত করা যায়। শরীরের স্বাভাবিক রক্ত প্রক্রিয়া সঞ্চালন বৃদ্ধি পেলে পা ফুলা এবং বিভিন্ন সমস্যা দূর করা যায়। হাঁটা চলাফেরা করা যোগ ব্যায়াম করা সাঁতার কাটা সাইকেল চালানো এসব কিছু ব্যায়ামের জন্য সহযোগিতা করতে পারি এবং ফোলা কমায়।

  • পায়ের আঙ্গুল ওঠা নামানোঃ একটি চেয়ারে বসুন এবং দাঁড়িয়ে থাকুন পাশাপাশি পায়ের আঙ্গুলগুলো নড়াচড়া করেন এবং উঠানামা করার অভ্যাস করেন প্রতিদিন ১০ থেকে ১৫ বার করুন।
  • গোড়ালি পাম্পঃ চেয়ারে বসে পা মাটিতে থেকে সামান্য তুলে পোড়ালি সামনে এবং পিছনে ঘোরান রক্ত সঞ্চালন বৃদ্ধি করে এবং পায়ের ফোলা কমায় যা প্রতিদিন ১০ থেকে ১৫ বার করা উচিত।
  • পায়ের আঙ্গুল দিয়ে বৃত্ত আঁকাঃ বিছানায় শুয়ে এক পা উঁচুতে করে পায়ের গোড়ালি ঘোড়ানোর চেষ্টা করুন বৃত্ত আকার মত করে।
  • বাঁকা এবং সোজা করাঃ প্রথমে গোড়ালি তুলুন এবং তারপরে পায়ের আঙ্গুলগুলো তোলার চেষ্টা করতে হবে কিছুক্ষণ করুন তাহলে রক্ত সঞ্চারণ বৃদ্ধি পাবে।
  • ওয়াল পুশ আপঃ এর জন্য একটি দেয়ালের দিকে মুখ করে দাঁড়ান যেভাবে বুক ডাউওন করে।সেই  দাঁড়িয়ে থেকে দেওয়ালের সাথে করুন। পেছনে একবার সামনে এবং পেছনে রাখুন দেওয়ালে হাত রেখে সামনে ধাক্কা দিন এবং এটা কিছুক্ষণ করুন প্রতিদিন করলে উপকার হবে। 
  • পায়ের আংগুল থেকে গোড়ালি পর্যন্ত রোলঃ একটি টেনিস বল পানির বোতল রেখে বা টেনিস বল রেখে সেখানে বলের উপরে পা রেখে বলটিকে সামনে পিছনে করার চেষ্টা করুন। 
  • ক্যাফ মাংসপেশিতে টানঃ তাড়িয়ে ধীরে ধীরে গোড়ালি উঠিয়ে পাইয়ের আঙ্গুলের উপর ভর দিন কয়েক সেকেন্ড ধরে রাখুন এবং এভাবে কয়েকবার চেষ্টা করুন। 
  • পায়ের পেশি সংকোচন প্রসারণঃ একটি সমতল স্থানে শুয়ে এক পা টানটান করে সোজা করুন এবং কিছুক্ষণ ধরে রাখুন আবার অপর পা করুন এভাবে কিছুক্ষণ করার মাধ্যমে আপনার রক্ত সংগঠন বৃদ্ধি পাবে এবং পায়ের ফোলা কমবে ধীরে ধীরে।

উল্লেখিত ব্যায়াম করার জন্য আমাকে কিছু নিয়ম মানতে হবে। কেমন ব্যায়াম করার সময় কোন ব্যথা অস্তিত্ব সঙ্গে সঙ্গে ব্যায়াম করা বন্ধ করে দিতে হবে এবং ভোলা ভাব এই সমস্যা যদি অনেকদিন যাবৎ আপনার শরীরে বাসা বেধে থাকে তাহলে শারীরিক ব্যায়াম করার পাশাপাশি আপনাকে ডাক্তারের পরামর্শ নিতে হবে। তারের পরামর্শ অনুযায়ী চিকিৎসা গ্রহণ করলে আপনি সহজেই সুস্থ হবেন। 

দুই পা ফুলে যাওয়ার কারণ জানুন 

দুই পা ফুলে যাওয়ার কারণ অনেক থাকে যা ইতিমধ্যে আপনাদেরকে জানানোর চেষ্টা করেছি। শারীরিক দুর্বলতা সোডিয়াম এর অতিরিক্ত উপস্থিতি সহ বিভিন্ন ধরনের কারণ রয়েছে। যার ফলে এই সমস্যা দেখা দেয়। শরীরের রক্ত প্রবাহ কমে যাওয়া ওজন বৃদ্ধি হয়ে যাওয়া এবং শরীরের তরল জমা হয়ে থাকার কারণে এই পা ফোলা সমস্যা দেখা যায়।

এছাড়া যাদের ডায়াবেটিস রয়েছে পেরিফেরল রোগ বা ধমনী রোগ রয়েছে স্থূলতার খারাপ অবস্থা। ওজন বৃদ্ধির পাশাপাশি শরীরে প্রচুর পরিমাণে ভিটামিন এবং অসুখ বাধা হিসেবে উপস্থিত হয় যার কারণ হিসেবে প্রকাশ পায় পা ফুলে যাওয়া। পাশাপাশি উচ্চ রক্তচাপ এর ঔষধ এমলোডিপাইন আইবুপ্রোফেন জাতীয় ব্যথারক ওষুধ খাওয়ার ফলে এ ধরনের সমস্যা দেখা যায়। এছাড়া যদি আপনার পায়ের শিরায় একমুখী ভাল্ভ দুর্বল ক্ষতিগ্রস্ত হয় তাহলে রক্ত জমে পায়ের শিরা গুলো ফুলে যায়। 

তাই এই সমস্যা থেকে বাঁচার জন্য আপনাকে নিয়মিত শারীরিক ব্যায়াম করতে হবে এবং সঠিক মাত্রায় খাবার গ্রহণ করতে হবে। উত্তপ্ত খাবার গ্রহণ করা থেকে নিয়ন্ত্রণে রাখতে হবে নিজেকে। তাছাড়া আপনার এই সমস্যা তীব্রতর আকার ধারণ করে এর থেকে বড় ধরনের সমস্যা হতে পারে। কারণ হৃদপিন্ড ও ফুসফুস এবং লিভারের সংক্রমণের ফলে ও পা ফোলা রোগ হয় তাই আপনাকে চিকিৎসকের পরামর্শ দেওয়া উচিত। 

পা ফোলার ঔষধ সম্পর্কে ওষুধের নাম জানুন

পা ফোলা ওষুধ সম্পর্কে যে তথ্যগুলো জানা উচিত তার মধ্যে অন্যতম হচ্ছে, পা ফোলার ওষুধ খাওয়ার জন্য উপযুক্ত সময় রয়েছে তা সম্পর্কে আপনাকে জানতে হবে। পা ফোলার সাধারণ কারণ গুলো এবং অসাধারণ কারণগুলো আপনাদেরকে জানানো হয়েছে। তাই এই পা ফোলার ওষুধ সম্পর্কেও কিছু তথ্য এবং ওষুধের নাম গুলো উপস্থাপন করা হলো, 

  • ডিউরেটিক্স ব্যবহার করা হয় শরীরে অতিরিক্ত পানি জমে গেলে এবং কিডনি রোগ জনিত সমস্যার কারণে পা ফোলা হলে এই ওষুধ গুলো ব্যবহৃত হয়, furosemide (Lasic),Spironolacate. এর পার্শ্ব পতিক্রিয়া হতে পারে তাই চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী ব্যবহার করতে হবে।
  • এন্টি ইনফ্লামেন্টরি ওষুধঃ আঘাত বা প্রদাহ জনিত কারণে খোলা হলে এটি ব্যবহার করা হয় এর জন্য Ibuprofen, Naproxen যা ফোলা ভাব ও ব্যথা কমাতে কার্যকরী। 
  • অ্যান্টি অ্যালার্জি ওষুধ ব্যবহার করার জন্য এলার্জি এবং সংবেদনশীলতার কারণে ব্যবহার করা হয় এর জন্য Cetirizine, Loratsdine গুলো ব্যবহৃত হয়। 
  • এন্টিবায়োটিক ব্যবহার করা হয় বিভিন্ন সংক্রমণে পা ফোলার কারণে, Amoxicillin, Ciprofloxacin.
  • ব্লাড থিনার ব্যবহার করার জন্য রক্ত জমাট বাঁধা কারণে পা ফোলা সমস্যা হলে এগুলো ব্যবহৃত হয়,Warfarin, Apixaban.
  • হরমোন ভিত্তিক চিকিৎসায়ঃ যদি থাইরয়েড বা হরমোন জনিত সমস্যা থাকে তাহলে এটা ব্যবহৃত হয়, Levothyroxine
  • পেইন রিলিভার জেল বা ক্রিমঃ এটি ব্যবহার করে আঘাত বা মুচকে যাওয়া জাতীয় সমস্যার জন্য ফোলা ভাব হলে ভালো হয়, diclofenae Gel.

এই ওষুধ গুলো ব্যবহার করা হয় বিভিন্ন পা ফোলা জাতীয় সমস্যার সমাধানের জন্য তবে সতর্কতা হিসেবে আপনাকে চিকিৎসার পরামর্শ অনুযায়ী ডোজ ব্যবহার করতে হবে। তাছাড়া বিভিন্ন পার্শ্ব প্রতিক্রিয়া সম্মুখীন হতে পারে তাই ঘরোয়া উপায় গুলো ব্যবহার করার পাশাপাশি চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী উল্লেখিত ওষুধ গুলো খেতে পারেন। পাতলাদীর্ঘস্থায়ী হয় এবং শ্বাসকষ্ট বুকে ব্যথা ত্বকের পরিবর্তন হয় তাহলে জরুরিভাবে আপনি ডাক্তারের পরামর্শ অনুযায়ী চিকিৎসা নিবেন। 

পা ফোলা ও ব্যথার কারণ সম্পর্কে জেনে নিন 

পা ফুলা ও ব্যথার কারণ সম্পর্কে যদি আপনার কিছু তথ্য ইতিমধ্যে জানা হয় তাহলে এই তথ্যগুলো আপনার কাজে আসবে। মানুষের শরীরের নানা রকম পরিবর্তন এবং শারীরিক সমস্যা সৃষ্টি হওয়ার ফলে এই পা ফোলা রোগ ঘটে। সুতরাং আপনি যদি এই ভাব হওয়ার কারণ ও প্রতিকার গুলো সম্পর্কে জানেন যে কারণগুলোর জন্য ব্যথা হয় তাহলে অবশ্যই সমাধান করতে পারবেন।

পা ফোলা ও ব্যথার কারণ

এটি এমন একটি অবস্থা পানি শরীরের টিস্যুতে আটকে দেয় অপ্রভুলতা কখনো কখনো কেউ পায়ের ক্রমশ ব্যথা এবং ফলাফ অনুভূত করে। এটা বিভিন্ন কারণের মধ্যে উল্লেখযোগ্য রক্ত জমাট বাধার কারণে, কিডনির সমস্যা থাকলে, ডায়াবেটিস রোগ থাকলে, যকৃত সমস্যা থাকলে। আপনাকে সচেতনতা অবলম্বন করে বিভিন্ন পদক্ষেপ গ্রহণ করতে হবে যাতে পা ফোলা ও ব্যথার কারণগুলো সম্পর্কে সচেতন হয়ে আপনি চিকিৎসা নিতে পারেন। 

পা ফোলা কিসের লক্ষণ জানুন 

পা ফোলা কিসের লক্ষণ এটা অনেকেই জানেনা। এটা একটি সাধারণ সমস্যা থেকে গুরুত্ব সমস্যায় বেড়ে যাওয়া সৃষ্টি করতে পারে। মানুষের শরীরের বিভিন্ন রোগ ব্যাধি থেকে এই সমস্যা সৃষ্টি হয়। পা ফুলে যাওয়ার কিছু কারণ উল্লেখিত তথ্যের ভিতরে আলোচনা করা হয়েছে তাতে কি আপনি হয়তো ইতিমধ্যে বুঝতে পেরেছেন যে, কি কি কারণে পপুলার সমস্যা সৃষ্টি হয় বা পা ফোলা কিসের লক্ষণ তার সকল বিষয়।

পা ফোলা কিসের লক্ষণ - পা ফোলার কারণ ও প্রতিকার,

  • শরীরে পানি শূন্যতা এবং লবণ জমে থাকার লক্ষণ। 
  • হৃদরোগের সম্ভাবনা থাকার ফলে এ সমস্যা হয়। 
  • যাদের কিডনির সমস্যা রয়েছে তাদের এই সমস্যা দেখা যায়। 
  • লিভার রোগ থাকলে এটি সমস্যা হয়। 
  • ডিপ ভেইন থ্রোমো স্পেস বা রক্তে জমাট বাঁধার কারণে সমস্যা সৃষ্টি হতে পারে।
  • নাসিকা গ্রন্থির সমস্যার কারণে হয় রক্ত প্রবাহে বাধাগ্রস্ত করতে পারে।
  • গর্ভাবস্থায় এ সমস্যা হতে পারে জরায়ুর চাপের কারণে। 
  • থাইরয়েড রোগে থাকলে এ সমস্যা হতে পারে। যা লক্ষণ হিসেবে ফোলা ক্লান্তি এবং ওজন বৃদ্ধি করে। 
  • আঘাত বা চোট লাগলে, ওষুধের পার্শ্ব প্রতিক্রিয়া থাকলে অতিরিক্ত ওজন বৃদ্ধি যা শরীর মোটা হয়। এবং দীর্ঘক্ষণ বসে থাকা বা শুয়ে থাকা এবং দাঁড়িয়ে থাকার মতো এক ঘেয়েমি কাজ করলে।

লিখিত পা ফোলা বিভিন্ন রোগ বা শারীরিক অবস্থার লক্ষ্য হতে পারে। এটি সাধারণত শরীরে রক্ত সঞ্চল নাসিকা গ্রন্থি এবং তরলের ভাষ্হীনতা হওয়ার কারণে হয়ে থাকে। ফোলার সঙ্গে ব্যথা এবং বিভিন্ন পরিবর্তন দেখা দিলে আপনাকে অবশ্যই ডাক্তারের পরামর্শ দেবে এবং দীর্ঘতম সময় এ সমস্যা থাকলে তাড়াতাড়ি দ্রুততার সাথে অভিজ্ঞ ডাক্তারের পরামর্শ নিতে হবে।

পা ফুলে গেলে কোন ডাক্তার দেখাবো জানুন 

পা ফুলে গেলে কোন ডাক্তার দেখাবো এটা অনেকেরই প্রশ্ন থাকে তাদের জন্য কিছু সাজেশন উপস্থাপন করলাম। একজন অভিজ্ঞ ডাক্তারের কাছে অবশ্যই আপনাকে এই সমস্যার সমাধানের জন্য যেতে হবে। আপনি আপনার ব্যথা বা ফোলার তিন মাসের বেশি স্থায়ী হলে তাহলে একজন অর্থোপেডিকস ডাক্তারের কাছে যাবেন। যে অ্যাপয়েন্টে অ্যাপয়েন্টমেন্ট করার কথা বিবেচনা করুন।

যদি আপনার গতি কম থাকে দাঁড়ালে বা সমস্যা হয় ও দৈনিক কাজ করতে সমস্যা হয় তাহলে আপনাকে একজন অর্থোপেডিক্স বিশেষজ্ঞের সাথে সরাসরি কথা বলে এবং আপনার সকল সমস্যাগুলো খুলে বলার মাধ্যমে বিভিন্ন তথ্য সেবা গ্রহণ করে, সে অনুযায়ী চিকিৎসা সেবা নিলে আপনি তাড়াতাড়ি সুস্থ হবেন। বেশিরভাগ ক্ষেত্রে এটি পটিয়াট্রিস্ট এবং অর্থোপেডিক্স চিকিৎসকদের কাছে যাওয়া উচিত। 

পা ফোলা কমানোর হোমিও ঔষধ সম্পর্কে জানুন 

পা ফোলা কমানোর হোমিও ঔষধ অত্যন্ত উপকারী হোমিওপ্যাথিক চিকিৎসায় নির্ভর করে রোগীর অবস্থা এবং শারীরিক দিক বিবেচনা করে। পা ফোলার কারণ এবং উপসর্গের উপর নির্ভর করে বিভিন্ন ওষুধ এবং পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে পরামর্শ দেওয়া হয়। পা ফোলা কমানোর জন্য হোমিওপ্যাথিক যে চিকিৎসার কথা বলা হয়েছে এবং ওষুধ গুলো ব্যবহার করা হয় তার নিচে উল্লেখ করলাম। 

  • Apis Mellifica: এটি ব্যবহৃত হয় পা ফোলা এবং ত্বকের টানটান বা লালচে ভাব হলে। ঠান্ডা সেক দিলে আরো আরাম পাওয়া যায়।
  • Arenicum Album: যদি পা ফোলার সঙ্গে ক্লান্তি শ্বাসকষ্ট অস্ত্রের অনুভব হয় তাহলে এটি ব্যবহার করে যা খুব আরামদায়ক। 
  • Bryonia Alba: আপনার যদি পা ফোলার সঙ্গে সঙ্গে ব্যথা এবং নড়াচড়ে ব্যথা বাড়ে তাহলে এটি ব্যবহার করা হয়। 
  • Calcarea Fluoria: দীর্ঘস্থায়ী ফোলা ভাব এবং পায়ের শিরা গুলো ফুলে থাকলে এই সমস্যার সমাধানের জন্য ব্যবহৃত হয়। 
  • Natrum muriticum: পায়ের ফোলার সঙ্গে ত্বক ফাটল এবং রোদ তাপ প্রভাব দূর করে। 
  • Lycopodium clavatum: ফোলা ভাবের সাথে গ্যাস্ট্রিকের সমস্যা থাকলে এটি ব্যবহার করা হয়।
  • Pulsatilla nigricans: হরমোন জনিত সমস্যা বা রক্ত সঞ্চালনে বাধাগ্রস্ত হলে ব্যবহার করা হয়। 
  • Hamamelis virginiana: শিরা সংক্রান্ত এবং কারো পায়ে ফুলার সমস্যা থাকলে ব্যবহার করতে হয়। 
  • Ledum palustre: আঘাত জড়িত এবং মুচকে যাওয়া সমস্যাতে ব্যবহার করা হয়। 
  • Phosphorus: যদি রক্ত প্রবাহ ও জনিত সমস্যা হয় এবং শরীর দুর্বলতা থাকে তাহলে এটি ব্যবহার করতে বলেন বিভিন্ন ডাক্তার।
পা ফোলা কমানোর হোমিও ঔষধ
এর জন্য হোমিওপ্যাথিক চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী চিকিৎসা নিতে হবে। যে উপসর্গ গুলো এবং যে নিয়মগুলো অনুসরণ করতে পারবে। সেই নিয়মগুলো ফলো করতে হবে। হোমিওপ্যাথি অত্যন্ত ধীরতে কাজ করে তাই ধৈর্য ধরে চিকিৎসা চালিয়ে যেতে হবে। চিকিৎসা নেওয়ার আগে নিশ্চিত যে পা ফোলার পেছনে কোন গুরুত্ব ও শারীরিক সমস্যা নেই এবং সমস্যার দীর্ঘস্থায়ী হয় কিনা এবং চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী চিকিৎসা নিতে হবে।

পা ফোলা কিভাবে কমানো যায় জানতে পারবেন 

পা ফোলা কিভাবে কমানো যায় এটা অনেকেই বিভিন্ন উপায় অবলম্বন করে ভালো করার জন্য চেষ্টা করে। তবে পা ও পায়ের ফোলা কমানোর দ্রুততম উপায় হিসেবে হার্ট লেভেল উপরে তুলে নেওয়া এবং রক্ত প্রবাহ। স্বাভাবিক অবস্থায় হৃদপিণ্ড জড়িত সমস্যা থাকলে ডাক্তারি পরামর্শ অনুযায়ী চিকিৎসা সেবা গ্রহণ করা এবং প্রয়োজনীয় পুষ্টি গুণ সমৃদ্ধ খাবার গ্রহণ করার মাধ্যমে একজন মানুষ পা ফোলা কমাতে পারে।

পাশাপাশি বিভিন্ন ধরনের উপায় রয়েছে যে ঘরোয়া উপায় গুলো সম্পর্কে আপনাদেরকে সহজে জানানোর চেষ্টা করেছি। একজন মানুষের নানান ধরনের সমস্যা হয়ে থাকে সেই সমস্যাগুলো থেকে চিরতরে মুক্তি পাওয়ার জন্য বিশেষ করে পা ফোলা কমানোর জন্য এবং এই সকল বিষয়ে যে ধরনের তথ্য জানা উচিত। তার সকল বিষয়ে এই আর্টিকেলটির ভিতরে উপস্থাপন করার চেষ্টা করেছি। সুতরাং আপনি যদি এই সমস্যা সমাধান করতে চান তাহলে আমাদের এই পোস্ট মনোযোগ সহকারে পড়তে পারেন। 

কারণ একজন মানুষের বিভিন্ন কারণ রয়েছে পা ফোলা বা হাত পা ফোলা ফোলার জন্য তবে  তার মধ্যে উল্লেখযোগ্য যে, কারণগুলো প্রত্যেকটি মানুষেরই হাত পা ফোলার কারণ হিসেবে বিবেচিত সেই কারণগুলো উপস্থাপন করেছি যাতে আপনার পা কিভাবে কমাবেন সে বিষয়ে সিদ্ধান্ত গ্রহণ করতে সুবিধা হয়। আমি ওষুধের পরামর্শ দিয়েছি যে পরামর্শ গুলো চিকিৎসকের মতামত অনুযায়ী ব্যবহার করলে স্বাস্থ্য উপকারিতা পাবেন। 

পা ফোলার কারণ ও প্রতিকার সম্পর্কে শেষ মন্তব্য

পা ফোলার কারণ ও প্রতিকার সম্পর্কে আপনাদের সামনে যে গুরুত্বপূর্ণ তথ্যগুলো উপস্থাপন করেছি এখানে উল্লেখ করা হয়েছে। শরীরের ওজন বৃদ্ধির কারণে পা ফুলে যেতে পারে এবং গোড়ালি মচকে যাওয়ার কারণে শারীরিক অভ্যন্তরে বিভিন্ন সমস্যা থাকলে এই ফোলা রোগ হয়। আর এই রোগ থেকে বাঁচার জন্য আপনাকে কি ধরনের উপায় অবলম্বন করতে হবে। শারীরিক কি ধরনের যত্ন গ্রহণ করতে হবে তার বিষয়ে জানানো হয়েছে। 

একজন মানুশষের পা ফোলার কারণ ও প্রতিকার সম্পর্কে সচেতন থাকা উচিত। কারণ এটি সততার বিভিন্ন মানুষের হয়ে থাকে বিশেষ করে যাদের বয়স বেশি এবং শরীরের ওজন অতিরিক্ত রয়েছে তাদের এই সমস্যাটা বেশি হয়। তারা তাদের শারীরিক বিভিন্ন সমস্যা উপলব্ধি না করতে পারার ফলে এই সমস্যা গুরুতর এবং মারাত্মক আকার ধারণ করতে পারে তাই আপনাকে অবশ্যই চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী চিকিৎসা সেবা গ্রহণ করতে হবে।

এই পোস্টটি পরিচিতদের সাথে শেয়ার করুন

পূর্বের পোস্ট দেখুন পরবর্তী পোস্ট দেখুন
এই পোস্টে এখনো কেউ মন্তব্য করে নি
মন্তব্য করতে এখানে ক্লিক করুন

মুক্তআঁখি আইটির নীতিমালা মেনে কমেন্ট করুন। প্রতিটি কমেন্ট রিভিউ করা হয়।

comment url