সিজারের সেলাই শুকানোর ৭টি উপায় জানুন
সিজারের সেলাই শুকানোর উপায় গুলো সম্পর্কে আপনি যদি না জেনে থাকেন তাহলে আজকের এই আর্টিকেলটি থেকে সকল তথ্য জেনে নিতে পারেন একজন গর্ভবতী মহিলার শারীরিক দুর্বলতা ও বিভিন্ন সমস্যা থাকলে অনেক সময় বাচ্চার সিজার করার মাধ্যমে ডেলিভারি হয়।
আর সিজার করার পর সেই ঘা শুকাতে সময় লাগে আর সে সময় বিভিন্ন সতর্কতা অবলম্বন করতে হয়। যেমন আপনাকে সিজারের পর শোয়ার নিয়ম অনুসরণ করতে হবে যেভাবে সেভাবে ঘুমালে সমস্যা হতে পারে। সিজারের পর বেল্ট পরার নিয়ম জানতে হবে, সিজারের পর সেলাই ব্যথা হলে করণীয় কাজগুলো সম্পর্কে জানতে হবে তাহলে আপনি এই ঘা শুকাতে পারবেন সহজে।
পোস্ট সুচিপত্রঃ সিজারের সেলাই শুকানোর উপায় নিয়ে যা জানবেন
- সিজারের সেলাই শুকানোর উপায় সম্পর্কে বিস্তারিত জানুন
- সিজারের পর সেলাই ব্যথা হলে করণীয় বিষয় সম্পর্কে বিস্তারিত
- সিজারের পর কি কি খাওয়া যাবে না জানুন
- সিজারের পর বেল্ট পরার নিয়ম জানুন
- সিজারের পর শোয়ার নিয়ম সমূহ জানুন
- সিজারের পর সেলাই ফুলে যায় কেন জানুন
- সিজারের কতদিন পর সেলাই শুকায় জেনে রাখুন
- সিজারের পর পেটে ব্যথা কতদিন থাকে জানুন
- সিজারের পর ড্রেসিং এর উপায় ও কার্যকারিতা
- সিজারের সেলাই কাটার নিয়ম সম্পর্কে জানুন
- সিজার নিয়ে সচরাচর জিজ্ঞাসিত প্রশ্ন এবং উত্তর
- সিজারের সেলাই শুকানোর উপায় সমূহ নিয়ে শেষ মন্তব্য
সিজারের সেলাই শুকানোর উপায় সম্পর্কে বিস্তারিত জানুন
সিজারের সেলাই শুকানোর উপায় সমূহ আমাদের জানা উচিত তবে এই সিজার হওয়ার পর এটা স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরে আসতে এক থেকে দেড় মাস সময় লাগে তবে এই স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরে আসার পূর্বে কিছু লক্ষণ দেখা যায় লক্ষণ গুলো দেখে ঘাবড়ানো যাবে না তবে এই লক্ষণগুলো জেনে রাখা উচিত।
সিজারের সেলাইয়ের ঘা বা স্বাভাবিক অবস্থায় শরীর ফিরে আসার পূর্বে যে লক্ষণগুলো আপনার মধ্যে দেখা দিবে তার মধ্যে উল্লেখযোগ্য হচ্ছে পেট কামড়ানো, শিশুকে বুকের দুধ খাওয়ানোর সময় সমস্যা হয় তাছাড়া যোনিপথ দিয়ে রক্ত অথবা সাদা স্রাব বের হতে পারে। রক্ত প্রবাহ এক থেকে দেড় মাস থাকতে পারে এই সময় কিছুটা চাকা চাকা রক্ত প্রবাহিত হতে পারে যার ফলে পেট কামড়ানোর সমস্যা ও পেট ব্যথা হয়।
একটি বিষয়ে মাথায় রাখা উচিত যে একটি সঠিক ভালো জায়গায় কাটাছেঁড়া করলে সেই জায়গা ভালো হতে সময় লাগে সেই দৃষ্টিকোণ থেকে সিজারের ঘা শুকানোর জন্য সময়ের প্রয়োজন হয় এবং বিভিন্ন চিকিৎসার প্রয়োজন হয়। আর এই পর্যায়গুলো আসার সময় আপনাকে মনে করতে হবে যে আপনার সমস্যা ধীরে ধীরে কমে আসছে। তাছাড়া ঘা শুকানোর পূর্বে হালকা চুলকানি ভাব দেখা দেয় সেই কাটা জায়গায়। তাছাড়া আরো যে বিষয়গুলো আছে তা পর্যায়ক্রমে জানুন।
সিজারের সেলাই শুকানোর উপায় নিয়ে আরো কিছু তথ্য
সিজারের সেলাই শুকানোর উপায় নিয়ে ইতিমধ্যে যে বিষয়গুলো উপস্থাপন করেছে তার চেয়ে শুকানোর পূর্ব লক্ষণ কারণ ঘা শুকানোর পূর্বে এই সমস্যা ও লক্ষণ গুলো দেখা যায়। তাই আপনাকে সিজারের সেলাই শুকানোর জন্য কিছু গুরুত্বপূর্ণ কাজ করতে হবে যা নিচে দেখুন এবং সে অনুযায়ী কাজ করলে আপনার সহজেই এই সমস্যা দূর হবে।
আরো পড়ুনঃ গর্ভাবস্থায় কি কি সবজি খাওয়া যাবে না - গর্ভাবস্থায় কি কি ফল খাওয়া যাবে না
- সেলাই পরিষ্কার পরিচ্ছন্ন রাখা: সিজারের সেলাই এর পর সেই স্থানটি সবসময় শুকনা এবং পরিস্কার পরিচ্ছন্ন রাখার চেষ্টা করতে হবে। নিয়মিত চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী এন্টিবায়োটিক সাবান দিয়ে ধুয়ে ফেলতে হবে। ডাক্তারের পরামর্শ অনুযায়ী এন্সেপটিক ক্রিম বা লোশন ব্যবহার করতে হবে আপনার ঘা শুকানোর এবং সেই জায়গা পরিষ্কার রাখতে সাহায্য করবে।
- আলো বাতাস চলাচল নিশ্চিন্ত করা: সেলাই জায়গায় বিভিন্ন সময় ঢাকা থাকার কারণে সেটা শুকাতে দেরি হয় তা আপনাকে চেষ্টা করতে হবে যেন সেই জায়গায় আলু বতাস চলাচল করতে পারে। যার জন্য আপনাকে শক্ত কাপড় পরিধান থেকে বিরোধ থাকেও এবং ঢিলা ঢালা জামা কাপড় পরিধান করতে হবে।
- ঔষধ ও পরিপূরক গ্রহণ করা: ডাক্তারের পরামর্শ অনুযায়ী বিভিন্ন কীটনাশক এবং এন্টিবায়োটিক ওষুধ ব্যবহার করতে হবে নিয়ম অনুযায়ী, পাশাপাশি পর্যাপ্ত ভিটামিন সি যুক্ত এবং জিংক সমৃদ্ধ খাবার গ্রহণ করতে হবে যার ফলে আপনার শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি পাবে এবং ঘা শুকাবে দ্রুত।
- ভারী কাজ এড়িয়ে চলা: সম্পূর্ণভাবে আপনার সেলাইয়ের ঘা শুকিয়ে না যাওয়া পর্যন্ত আপনাকে ভারি কাজ করা থেকে বিরত থাকতে হবে কারণ ভারী কাজ করার ফলে আপনার শরীরের সেই কাটা জায়গায় টান লাগার কারণে বিভিন্ন সমস্যা হতে পারে যেমন ধরুন আপনার সেখান থেকে রক্ত বেরিয়ে যেতে পারে আঘাত লাগার কারণে এখান থেকে আরো দ্রুত অবস্থা সৃষ্টি হতে পারে।
- সংক্রমণ হচ্ছে কিনা খেয়াল করা: যদি সেলাইয়ের চারপাশে বিভিন্ন সংক্রমণ হয় তাহলে পার্শ্বপতিক্রিয়া হিসাবে ফুলাবার পার্শ্ব প্রতিক্রিয়া এবং লালচে হয়ে যাওয়ার মতো উপসর্গ দেখা দেবে সে ক্ষেত্রে সরাসরি ডাক্তারের পরামর্শ গ্রহণ করুন।
- অতিরিক্ত পানি ও রোদ থেকে রক্ষা করুন: সেলাইয়ের জায়গাটি যেহেতু নরম এসেছে অবস্থায় থাকতে পারে। সেক্ষেত্রে আপনাকে অতিরিক্ত পানি ব্যবহার করা থেকে বিরত থাকতে হবে এবং সরাসরি রোদে যেন সেই জায়গা না থাক পড়ে সেদিকে লক্ষ্য রাখতে হবে।
- চিকিৎসকের পরামর্শ অনুসরণ করা: সেলাইয়ের জায়গা শুকানোর জন্য চিকিৎসক আপনাকে যে ধরনের খাবার গ্রহণ করতে বলবে এবং যে সকল খাবার বর্জন করতে পারবে তা করা। পাশাপাশি চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী জীবন ধারণ করতে হবে তাহলে আপনি খুব সহজেই কম সময়ে সুস্থ হবেন।
আশা করি এই উপায়গুলো অবলম্বন করার মাধ্যমে সিজারের সেলাই যে দাগ এবং ঘা তৈরি করে তা দ্রুততার সাথে ভালো করতে পারবেন। সুস্বাস্থ্য বজায় রাখার জন্য নিয়ম পরিচালিত ভাবে জীবন অতিবাহিত করা অত্যন্ত প্রয়োজন। সুতরাং যেহেতু আপনার সিজার করা হয়েছে সেই ক্ষেত্রে আপনাকে বিশ্রাম নিতে হবে এবং বিভিন্ন সময় শরীরের প্রয়োজন অনুযায়ী বিভিন্ন পদক্ষেপ গ্রহণ করতে হবে এবং ডাক্তারি পরামর্শ নিতে হবে।
সিজারের পর সেলাই ব্যথা হলে করণীয় বিষয় সম্পর্কে বিস্তারিত
সিজারের পর সেলাই ব্যথা হলে করণীয় যে সকল কাজ রয়েছে সেগুলো অনুসরণ করার মাধ্যমে সিজারের পর সেই শিলাইয়ের ব্যাথাকে উপসন করতে পারবেন। একজন চিকিৎসকের অপারেশনের পর সেই জায়গা ভালো হওয়ার জন্য দেড় মাস সময় লাগে সর্বনিম্ন। সেক্ষেত্রে এসময় সতর্কতা অবলম্বন করতে হয় তাছাড়া বিভিন্ন ঝুঁকি থাকে। যার জন্য নিচের করণীয় বিষয়গুলো সম্পর্কে অবগত হওয়া উচিত সিজারের সেলাই শুকানোর উপায়।
আরো পড়ুনঃ গর্ভাবস্থায় আখরোট খাওয়ার ৩১টি উপকারিতা এবং কার্যকারী টিপস
- অপারেশনে কাটা স্থানের যত্ন: সিজারের সময় অপারেশন করে যে জায়গাটি কেটে সন্তান বের করা হয় সেই জায়গা পরিষ্কার পরিচ্ছন্ন রাখতে প্রয়োজনে সাবান পানি ব্যবহার করতে হবে। সেই জায়গাটি পরিষ্কার শুকনো তোয়ালা দিয়ে ভালোভাবে শুকিয়ে নিতে হবে।
- আরামদায়ক কাপড় পরিধান: অতি আরামদায়ক কাপড় পরিধান করতে হবে শক্ত এবং টাইট কাপড় পরিধান করা যাবে না তাতে আপনার কাটার সমস্যা বৃদ্ধি পেতে পারে সেখানে যে কোন সময় চাপ লেগে যেতে পারে। সবচাইতে ভালো হয় সুতির কাপড় পরিধান করলে।
- কিছু গুরুত্বপূর্ণ টিপস: শরীরের সাথে মিশে না এমন সুতা দিয়ে তৈরি সেলাই করলে তা সাধারণত অপারেশনের ৫ থেকে ৭ দিন পর খুলে ফেলা হয়। এর পরবর্তী সময় আপনাকে কিছু স্বাস্থ্য পরামর্শ অনুযায়ী জীবন যাপন করতে হবে। যার জন্য স্বাস্থ্যসেবা মেডিকেলে গিয়ে সেলাই কেটে আনতে হয়।
- পর্যাপ্ত পরিমাণ বিশ্রাম গ্রহণ: সিজারের জন্য কাটা জায়গাটি অত্যন্ত বড় জায়গা যা অনেক বেশি জায়গা যা ভালো হতে সময়ের প্রয়োজন হয় তাই আপনাকে পর্যাপ্ত পরিমাণ বিশ্রাম নিতে হবে যাতে আপনি সহজে সুস্থ হয়ে যেতে পারেন এবং সেই জায়গাতে যেন কোন ধরনের আঘাত প্রাপ্ত না হয়।
- পরিবারের সহযোগিতা: যেহেতু এটি একটি দীর্ঘমেয়াদি সমস্যা তাই এর সমাধান করার জন্য পরিবারের সকলকে সহযোগিতা করতে হবে। গর্ভবতী মহিলার গল্প সিজারের ফলে হওয়ার যে সমস্যা বা ঘায়ের সৃষ্টি হয় তা ভালো হওয়ার জন্য এক থেকে দেড় মাস সময় লেগে যায়। আর এই সমস্যা থেকে বাঁচার জন্য দ্রুত ভালো হওয়ার জন্য এবং স্বাস্থ্য ফিরে পাওয়ার জন্য পরিবারের সহযোগিতা অত্যন্ত জরুরী।
- শরীর সচল রাখুন: শারীরিক সচলতা বলতে আপনাকে শারীরিক কিছু কাজ করতে হবে যেমন হাঁটা চলাফেরা করা বা হালকা কিছু কাজ থাকলে বাসায় সে কাজগুলো করতে পারবেন এতে আপনার শরীরের রক্ত সঞ্চালন ক্ষমতা বৃদ্ধি পাবে এবং তাড়াতাড়ি ঘা শুকাতে সাহায্য করবে। তোর কমপক্ষে ছয় সপ্তাহ মতো ভারী কাজ করা থেকে বিরত থাকুন। তাছাড়া পাশাপাশি সাধারণ কিছু ব্যায়াম রয়েছে সেগুলো করতে পারেন ডাক্তারের পরামর্শ অনুযায়ী।
- পুষ্টিকর খাবার গ্রহণ: শারীরিকভাবে সুস্থ থাকার জন্য ঘা শুকানোর জন্য আপনাকে পুষ্টিকর খাবার গ্রহণ করতে হবে বিশেষ করে ভিটামিন মিনারেল এবং ভিটামিন সি জাতীয় খাবার যা আপনার শরীরের পুষ্টি চাহিদা পূরণ করবে এবং শরীরের ঘা শুকানোর জন্য ভূমিকা রাখবে পাশাপাশি আপনি আমিষ জাতীয় খাবারের ভিতরে দুধ ডিম মুরগির মাংস এবং বিভিন্ন খাবার গ্রহণ করতে পারবেন। অনেকেরই আয়রন এর সমস্যা থাকে তাই আয়রন জাতীয় খাবার গ্রহণ করুন।
- মাল্টিভিটামিন সেবন করুন এবং আইরন ফলিক এসিড জাতীয় ট্যাবলেট গ্রহণ করুন যা ডেলিভারি হওয়ার তিন মাস পর্যন্ত খাওয়া প্রয়োজন একজন গর্ভবতী মায়ের সঠিক উপকারিতা পাওয়ার জন্য।
- পর্যাপ্ত পানি পান: শরীরে পর্যাপ্ত পরিমাণ পানি অভাব দিলে বিভিন্ন ধরনের সমস্যার সৃষ্টি হয় যা আপনার সেলাইয়ের সমস্যা তাড়াতাড়ি ভালো করার ক্ষেত্রে বাধা দিতে পারে তাই পর্যাপ্ত পরিমাণ পানি পান করুন এবং কোষ্ঠকাঠিন্যের মত সমস্যা এড়িয়ে চলুন যা আপনার ঘা শুকাতে সাহায্য করবেন। এর জন্য আপনি আশ জাতীয় খাবার গ্রহণ করুন পর্যাপ্ত পরিমাণ।
- এছাড়াও অপারেশনের জায়গা কয়েকদিন বেশ ব্যাথা করে কিছু কিছু ক্ষেত্রে দুই থেকে তিন সপ্তাহ পর্যন্ত ব্যথা থাকে। সেই ক্ষেত্রে আপনি ব্যাথা নাশক হিসেবে প্যারাসিটামল অথবা আইব্রুপ্রোফেন ব্যবহার করতে পারেন যা আপনার ব্যথা উপশম করবে এবং এটি অতিরিক্ত ব্যথার আকার ধারণ করলে চিকিৎসকের পরামর্শ নিন। প্যারাসিটামল এবং আইব্রুপ্রোফেন ব্যবহার করা যায় তবে অ্যাপস এসপিরিন ও কোডেইন জাতীয় ওষুধ এড়িয়ে চলার পরামর্শ দেয় ডাক্তারেরা।
- যোনি পথে রক্তক্ষরণ হতে পারে: অপারেশনের পর কিছু কিছু ক্ষেত্রে দেখা যায় যোনিপথে কিছু তার রক্ত সাপ বের হয় এই ক্ষেত্রে আপনি ভারী রক্তপাত হলে ডাক্তারের পরামর্শ নেবেন এবং এছাড়া ইনফেকশন এড়াতে কয়েক সপ্তাহ টেম্পট ব্যবহার করুন এবং সহবাস করা থেকে বিরত থাকুন।
স্বাভাবিক কার্যক্রমে ফিরে আসা: সাধারণত বাড়ি ফেরার পর আপনার সমস্যাটি বিভিন্ন চিকিৎসা এবং পরামর্শ অনুযায়ী জীবন পরিচালনা করলে তা ধীরে ধীরে কমে এবং সহবাস করা যায় নবজাতকের যে ওজনে ভারী কিছু বহন করা যায় ভারী কিছু ব্যায়াম করা যায় গাড়ি চালানো যায় এবং বিভিন্ন মানসিক শারীরিক বিভিন্ন সমস্যা এবং ধীরে ধীরে ফিট হওয়া যায়। তবে এই প্রসেসটি একটু সময়ের প্রয়োজন হয় যা কিছু মহিলার ক্ষেত্রে কম সময় লাগে কিছু মহিলার ক্ষেত্রে একটু বেশি সময় লাগে।
সিজারের পর কি কি খাওয়া যাবে না জানুন
সিজারের পর কি কি খাওয়া যাবে না এটা জানা উচিত সিজারের পর আপনি স্বাভাবিক খাবার খেতে পারবেন তবে কিছু কিছু ক্ষেত্রে আপনাকে কিছু খাবার খাওয়া থেকে নিজেকে বিরত রাখা ভালো। বেশ কিছু উপকারী খাবার রয়েছে যেমন ভিটামিন সি যুক্ত খাবার ডিম মাছ ডাল এবং প্রোটিনযুক্ত খাবার গুলো গ্রহণ করতে পারবেন তাছাড়া অন্য কথায় কোষ্ঠকাঠিন্য দূর করার জন্য পুষ্টিকর খাবার এবং আঁশযুক্ত খাবার খাওয়া উচিত।
তাছাড়া এই খাবার গ্রহণ করার পূর্বে আপনার এলার্জির জড়িত খাবার আছে কিনা তা নিশ্চিত করা এবং এলার্জি জাতীয় খাবার গ্রহণ করা থেকে বিরত থাকা উচিত। পাশাপাশি কিছু খাবার রয়েছে যে সকল খাবার গুলো আপনার হজম শক্তি নষ্ট করে এবং পেটের বিভিন্ন সমস্যা সৃষ্টি করতে পারে তাই সে সকল খাবার গ্রহণ করা থেকে নিজেকে বিরত রাখতে হবে।
আরো পড়ুনঃ বাচ্চাদের হঠাৎ জ্বর হলে করণীয় ২০ টি উপায় ও টিপস
সে খাবারগুলোর মধ্যে রয়েছে ভাজাপোড়া কার্বোহাইড্রেট ডিংক বা কোমল পানীয় খাবার। তাছাড়া চা কবে জাতীয় খাবার ক্রম গ্রহণ করতে হবে অ্যালকোহল জাতীয় খাবার গ্রহণ করতে হবে ধূমপান মদ্যপান জাতীয় খাবার গ্রহণ করা থেকে নিজেকে বিরত রাখতে হবে পাশাপাশি যে সকল খাবার পেট ফাঁপার সমস্যা তৈরি করে যেমন, বাঁধাকপি, ফুলকপি, ব্রকলি, ডাল, পেঁয়াজ ও ঢেঁড়সের মত খাবার প্রতিক্রিয়া হতে পারে তাই মনে রাখবেন এই খাবারগুলো খাওয়া থেকে বিরত থাকা ভালো।
সিজারের পর বেল্ট পরার নিয়ম জানুন
সিজারের পর বেল্ট পরার নিয়ম জানুন যা আপনার জন্য উপকারী একজন মানুষ সিজার করার পর অনেক সাবধানতা অবলম্বন করতে হয় চলাফেরা খাওয়া-দাওয়া এবং উঠা বসায়। এবং জানতে হয় যে সিজারের পর বেল্ট পড়ার নিয়ম যার মাধ্যমে আপনাকে নিরাপদে থাকতে সাহায্য করবে। একটি কথা বলে রাখা ভালো সিজারের পর বেল্ট পরা বাধ্যতামূলক নয় তবে এর উপকারিতা রয়েছে।
আপনি যদি সিজারের পর কোমরে মডার্নিটি বেল্ট পরতে পারেন তাহলে তা আপনার চলাফেরায় সুবিধা হবে তবে এটি দ্রুত চিকিৎসা করার ক্ষেত্রে ভূমিকা রাখে বলে তেমন কোন গবেষণামূলক তথ্য পাওয়া যায়নি। আপনি সিজার করার পর বেল্টের পরিবর্তে বিভিন্ন মোটা কাপড় বেল্ট হিসেবে ব্যবহার করতে পারবেন যা আপনার পেট এবং তলপেট ঘিরে পেটে সাপোর্ট দিবে যাতে তার উপর চাপ কম পড়ে।
আরো পড়ুনঃ টেস্টোস্টেরন হরমোন বৃদ্ধির ঘরোয়া ২৭টি উপায় এবং ডাক্তারের পরামর্শ
এ ধরনের বেল্ট ফার্মেসিতে কিনতে পাওয়া যায়। অপারেশনের পর যখন এজেন্সিয়াল প্রভাব কেটে যায় তখন বেল্ট পড়া যায যে আপনার মেদ কমাতে সাহায্য করবে এবং সঠিকভাবে ব্যবহার করলে আপনার অপারেশনের জায়গায় কম চাপ পড়বে যা অসুবিধা দিবে। বিশেষ করে আপনি কোন ধরনের কাজ করা এবং কোথাও বেড়াতে যাওয়ার সময় বা কোথাও যাওয়ার প্রয়োজন হলে এই বিলটি ব্যবহার করতে পারেন তাছাড়া ঘুমানোর সময় এবং রেস্ট করার সময় না ব্যবহার করলেও চলবে।
সিজারের পর শোয়ার নিয়ম সমূহ জানুন
সিজারের পর শোয়ার নিয়ম সমূহ জানা উচিত কারণ কিছু উপায় আছে যে উপায়গুলোতে শোয়ার মাধ্যমে মানুষের শিকারের ফলে যে পেটের সমস্যা থাকে তা চাপ পাওয়া থেকে বাজে সে ক্ষেত্রে আপনাকে উল্লেখযোগ্য একটি উপায় বলবো যে উপায়টি অত্যন্ত কার্যকরী এবং বিভিন্ন ডাক্তারি পরামর্শ অনুযায়ী এবং বিভিন্ন ধরনের গবেষণাতে সঠিক এবং অনেক গর্ভবতী মা এইভাবে শোয়ার জন্য ভোট দিয়েছেন যা আরামদায়ক।
এইভাবে শোয়ার নামটি হচ্ছে চিত হয়ে শোয়া: এর মধ্যে আপনি খুব সহজেই আপনার শরীরের কাটা জায়গায় আরাম দিতে পারবেন এবং চাপমুক্ত রাখতে পারবেন। আপনি আপনার শোয়ার সময় ঘুমাবেন এবং এর জন্য আপনি আরো একটি কাজ করতে পারবেন তা হচ্ছে আপনার হাঁটুর নিচে বালিশ রাখতে পারবেন যা আপনার পেটের কাটা জায়গায় চাপ কমবে। তবে এটা বিশেষ ক্ষেত্রে উপকারী হলেও কিছু মানুষের ক্ষেত্রে ব্যতিক্রম বা বিভিন্ন রকম হতে পারে শোয়ার ধরন।
তাছাড়া আপনি পাশের দিকে ফিরে শুইতে পারবেন এতে আপনার শরীরের কাটা জায়গায় চাপ কম পড়বে এবং খুব ভালো ঘুম হবে। আপনি যে কোন একপাশে শুয়ে পায়ের নিচে বালিশ দিয়ে ঘুমাতে পারবেন। এর জন্য সোজা হয়ে বাম অথবা ডান পাশে শোয়ার পরে আপনি যদি বামদিকে শোন তাহলে ডান পা ছোট করে ডান পায়ের নিচে বালিশ দিতে হবে এবং বাম দিকে হলে ডান পায়ের নিচে বালিশ দিয়ে শোয়ার অভ্যাস করতে হবে।
এছাড়া দেহের উপরের অংশ উপরে রাখার মাধ্যমে আপনি শুতে পারবেন যা পেটের উপরে চাপ কম পড়বে। একটি রিল কাইনা রে শুতে পারবেন এটি মহিলার পক্ষে আরামদায়ক হতে পরিশেষ করে সিজার করা মায়েদের জন্য তাছাড়া আপনার বিভিন্ন সমস্যা থাকবে যে সমস্যাগুলো ডাক্তারের পরামর্শ অনুযায়ী সমাধান করার চেষ্টা করতে হবে এবং যেভাবে শুইয়ে ঘুমালে আপনার আরাম মনে হবে সে ভাবে ঘুমানোর চেষ্টা করতে হবে।
সিজারের পর সেলাই ফুলে যায় কেন জানুন
সিজারের পর সেলাই ফুলে যায় কেন এটা অনেকেই জানেনা তাই তাদের জন্য এই তথ্যগুলো জানা উচিত। একজন মানুষের সিজারের পর সেই জায়গাতে প্রচুর পরিমাণ রক্তক্ষরণ হয় এবং ব্যথার সৃষ্টি হয় যার কারণে সেখানে ফুলে যায় এবং জ্বালা পড়ে গাড়ি তাছাড়া আরো কিছু কারণ রয়েছে যা নিজে উল্লে করলাম দেখে নিন।
আরো পড়ুনঃ দ্রুত ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণ করার উপায় এবং ঘরোয়া ১২টি টিপস
সিজারের পর সেলাই ফুলে যায় কেন তা হলো,
- জেনে রাখা ভালো যে একটি নির্দিষ্ট স্বচ্ছ ক্ষমতা পর্যন্ত শিলার সন ব্যথা পাওয়া স্বাভাবিক। তবে বেশিরভাগ ক্ষেত্রে এটা নিজে নিজে চলে যায় তবে কিছু ক্ষেত্রে চিকিৎসকের পরামর্শ গ্রহণ করা উচিত কারণ এখান থেকে ইনফেকশন হতে পারে।
- প্রচুর পরিমাণ ব্যথা সৃষ্টি হতে পারে বিভিন্ন সংক্রমণ হলে এই সমস্যা হয় তাছাড়া আপনি পার্শ্বপ্তিক্রিয়া একটা নতুন খুব তাড়াতাড়ি বিভিন্ন প্রতিকারমূলক ডাক্তারের পরামর্শ অনুযায়ী পদক্ষেপ গ্রহণ করুন।
- কিছু মানুষের ক্ষেত্রে সিজারের পর শরীরের প্রতিরোধ ক্ষমতা ক্ষত স্থানে কাজ শুরু করতে সময় লাগে যার ফলে কাজ শুরু করার সময় কিছুটা খোলা ভাব, লালচে ভাব, সাধারণ ব্যথা অনুভূত হয়।
- তাছাড়া এই সেই জায়গায় কিছু ধরনের মানুষের ক্ষেত্রে যারা অযত্ন এবং অবহেলা করে তাদের ক্ষেত্রে ব্যাকটেরিয়া বা বিভিন্ন সংক্রমণ সৃষ্টি হতে পারে যার থেকে সেখান থেকে দুর্গন্ধ এবং পুঁজ ও ফুলে যাওয়ার সম্ভাবনা সৃষ্টি হয়।
- সেলাইয়ের টান লাগতে পারে যে সুতা দিয়ে সেলাই করা হয়েছে সেই জায়গায় কোনোভবে টান লাগলে সেখানে ব্যথা এবং ফুলে যাওয়ার সম্ভাবনা দেখা দেয় তাই আপনাকে সতর্কতা অবলম্বন করতে হবে।
- অনেক মানুষ রয়েছে যাদের অ্যালার্জির সমস্যা রয়েছে তাই তাদের সেলাই করা জায়গায় সুতা থাকার ফলে সুতা বিভিন্ন এলার্জি সৃষ্টি করতে পারে এবং সেখান থেকে ফুলা পাবে এবং বিভিন্ন সমস্যা দেখা দেয়।
সিজারের কতদিন পর সেলাই শুকায় জেনে রাখুন
সিজারের কতদিন পর সেলাই শুকায় তা আমাদের জানা উচিত কারণ প্রত্যেকটা মানুষের বাড়িতেই কমবেশি বর্তমান যুগে গর্ভধারিণী মায়েরা সীজারের সম্মুখীন হয় তাই সিজারের সমস্যা কতদিন থাকে এবং এই সমস্যা কতদিনের মধ্যে ভালো হয় তা সম্পর্কে অনেকেই জানতে চাই। এখানে আপনাদের সামনে কিছু সংক্ষিপ্ত বিষয়গুলো উপস্থাপন করবো যাতে আপনি বুঝতে পারেন সিজারের কতদিন শিলায় শুকাতে লাগে।
সেলাইয়ের দাগটা থেকে যায় অনেকদিন তবে এর ক্ষত শুকানোর জন্য সর্বোচ্চ এক থেকে দেড় মাস সময় লাগে। তবে এই যে ক্ষতের দাগ রয়েছে তা অনেকদিন পর্যন্ত থাকে কারো এক বছর কারো বেশি। কিছু কিছু ক্ষেত্রে ৬ মাস সময় লাগে পুরো শুকিয়ে যাওয়ার জন্য সময় লাগে দেড় মাস। একবারে নিশ্চিহ্ন বা স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরে আসতে ৬ মাস থেকে ১ বছর পর্যন্ত সময় লাগে।
আরো পড়ুনঃ আল্ট্রাসনোগ্রাম রিপোর্ট ছেলে না মেয়ে বোঝার উপায় এক মিনিটেই জেনে নিন
শীতের কতদিন পর সেলাই ভালো হওয়ার জন্য সময় প্রয়োজন হয় তা কমিয়ে আনতে আপনি বিশেষ কিছু উপকারী উপায় অবলম্বন করতে পারবেন যা সম্পর্কে এই পোস্টে আলোচনা করা হয়েছে। এছাড়া আপনি যদি সিজারের কতদিন পর সেলাই শুকায় সে বিষয়ে আরও বিস্তারিত তথ্য জানতে চান তাহলে নিচের আরো পরম সেশনগুলো ভিজিট করুন এবং সেখান থেকে জেনে নিন সকল বিস্তারিত তথ্য যার মাধ্যমে সিজারের ঘা তাড়াতাড়ি শুকাতে পারবেন।
সিজারের পর পেটে ব্যথা কতদিন থাকে জানুন
সিজারের পর পেটে ব্যথা কতদিন থাকে এটা অনেকেই নির্দিষ্টভাবে জানে না। সিজার করা হয় মানুষের যখন প্রসব সময় অতিক্রম হয়ে যায় বা বাচ্চার জন্ম দেয়ার জন্য যে নির্দিষ্ট সময় নির্ধারিত থাকে সেই সময় যদি পেরিয়ে যায় সে ক্ষেত্রে কিছু গর্ভধারিণী মায়েদের সন্তান এবং তাদের জীবনের সুরক্ষার জন্য সিজারের মাধ্যমে সন্তান বের করে নেওয়া হয়।
তবে সিজারের পর পেটে ব্যথা হয় কারণ এই সমস্যা হলে সিজার করার মাধ্যমে আপনার শরীরে প্রচুর পরিমাণ রক্ত ক্ষয় হয় এবং সেই ভালো জায়গায় কাটার মাধ্যমে সেই কাটা জায়গায় ব্যথা অনুভূত হয়। কিছু ক্ষেত্রে ব্যতিক্রম তবে এই ব্যথা কয়েকদিন বা কয়েক সপ্তাহ পর্যন্ত থাকে। ধীরে ধীরে বিভিন্ন যত্ন এবং শারীরিক মানসিক সচেতনতার পাশাপাশি ডাক্তারের পরামর্শ অনুযায়ী চিকিৎসা সেবা গ্রহণ করলে এই সমস্যা খুব কম সময়ে ভালো হয়ে যায়।
নারী ও শিশু বিশেষজ্ঞ সি সেকশনের তিনি ডক্টর খাদিজা বেগম বলেছেন, ব্যথা পশম ধিরে-ধিরে দ্রুততার সাথে কমানোর জন্য আপনি গরম পানিতে গোসল করার অভ্যাস করুন যাতে আপনার কাটা জায়গায় ইনফেকশন হওয়ার সম্ভাবনা কম হয় এবং ব্যথা উপশম হয় পাশাপাশি পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন থাকার জন্য এই উপায়টি অত্যন্ত কার্যকরী ভূমিকা রাখে। একজন মানুষের কাটার ব্যথা সর্বোচ্চ ২ মাস তার বেশি নয়।
সিজারের পর ড্রেসিং এর উপায় ও কার্যকারিতা
সিজারের পর ড্রেসিং এবং এর অনেক কার্যকারিতা রয়েছে যেগুলো অত্যন্ত উপকারী একজন মানুষের পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন ভাবে সিজারের জায়গা রাখার জন্য সেখানে ড্রেসিং করার প্রয়োজন হয়। আসলে রেসিং বলতে বোঝায় যে স্থানে অপারেশন করা হয়েছে সেই জায়গাকে বিভিন্ন কেমিক্যাল এবং ওষুধের মাধ্যমে পরিষ্কার পরিচ্ছন্ন করা। এবং সেখান থেকে বিভিন্ন পুচ রক্ত এবং যাওয়া প্রয়োজনীয়তা অপসারণ করা।
ডেসিং কেন জরুরী: ড্রেসিং করার মাধ্যমে সেলাইয়ের স্তর পরিষ্কার পরিচ্ছন্ন ও জীবাণুমুক্ত রাখা যায় পাশাপাশি সংক্রমণ এবং প্রদাহ প্রতিরোধ করতে সক্ষম। আপনার শরীরের ঘা তুতো তার সাথে শুকানোর জন্য ব্যবহার করতে পারেন ড্রেসিং পদ্ধতি যা সেলাইয়ের স্থানে চাপ এবং ঘর্ষণ থেকে রক্ষা করে। টেসিং এর সর্তকতা হিসেবে আপনাকে বিভিন্ন পণ্য যেগুলো দিয়ে আপনি ড্রেসিং করবেন তা অবশ্যই জীবাণুমুক্ত করতে হবে।
আরো পড়ুনঃ গর্ভবতী মায়ের ফল খাওয়ার তালিকা সম্পর্কে কার্যকরী টিপস
সিজারের পর ডেসিং এর পদ্ধতি রয়েছে: সিজারের পর ড্রেসিং করার জন্য আপনাকে বিভিন্ন অভিজ্ঞ চিকিৎসকের পরামর্শ এবং ডাক্তারের কাছ থেকে এই সেবা গ্রহণ করা উচিত। তবে স্থানীয় অনেক ডাক্তার রয়েছে যারা অভিজ্ঞ তাদের কাছ থেকেও আপনি এই সেবা নিতে পারেন। তবে সেবার নেওয়ার পূর্বে আপনাকে কিছু বিষয় মাথায় রাখতে হবে। যেমন এই কাজটি করার কারণ কি এবং কি পদ্ধতিতে করলে সবচেয়ে বেশি ভালো উপকারিতা পাওয়া যাবে।
ড্রেসিং করার জন্য আপনাকে আগে যে ড্রেসিং রয়েছে সেটা পরিষ্কার করে ফেলতে হবে এবং ড্রেসিং সরানোর আগে জীবাণুমুক্ত করতে হবে নিজের হাত এবং সেই জায়গাটি। ধীরে ধীরে সেই পুরানো ডেসিংটি সেখান থেকে তুলে ফেলুন এবং জীবাণুমুক্ত স্যালাইন দিয়ে ভিজিয়ে তুলুন ধীরে ধীরে যাতে সেখান থেকে রক্ত না বের হয়। নতুন ড্রেস লাগানোর পূর্বে সর্তকতা অবলম্বন করুন এবং জীবননাশক সেলাই দিয়ে পরিষ্কার করুন। প্রয়োজনে আপনি ক্লোরোহেক্সিডিন ব্যবহার করুন।
সিজারের সেলাই কাটার নিয়ম সম্পর্কে জানুন
সিজারের সেলাই কাটার নিয়ম সম্পর্কে অবগত হওয়া উচিত কারণ ডাক্তারি পরামর্শ অনুযায়ী এই কাজ করার জন্য আপনাকে অবশ্যই ডাক্তারের সেবা গ্রহণ করতে হবে পাশাপাশি আপনি যদি জানার জন্য এই তথ্যগুলো জেনে রাখেন যে কিভাবে মানুষের সেলাই কাটা হয় তাহলে নিচের তথ্যগুলো দেখুন। কারণ সেলাই কাটার জন্য নিজে নিজে এই কাজটি করা যায় না যা অত্যন্ত বিপদজনক এবং ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে থাকে।
- প্রথমে আপনাকে সেই জায়গাতে যে টেপ মারা থাকবে সেই টেপটি তুলে নিতে হবে সার্জিক্যাল টেপ।
- এবং আপনি যেই সিজার এবং প্রয়োজনে সামগ্রীগুলো ব্যবহার করবেন তা অবশ্যই জীবানমুক্ত করে নিতে হবে।
- ভায়োডিন দিয়ে সে জায়গাটিকে জীবাণুমুক্তকরণ যে জায়গাতে আপনি সেলাই কাটবেন।
- এরপর আপনাকে যে কাজটি করতে হবে সেটা হচ্ছে একপাশের সুতার অংশ দেখা যাবে সেই সুতার অংশটিকে আপনি ফ্লাড সিজার দিয়ে ভালো করে ধরে যতটুকু টেনে বার করা যায় বের করার পরে সেখান থেকে কেটে দিতে হবে।
এভাবে আপনার কাজটি সম্পন্ন হয়ে যাবে। এই উপায়ে সামান্য সময়ের ভিতরে কাজটি করা সম্পন্ন হয়ে যায়। সুতরাং আপনি যদি এই বিষয়টি বুঝতে না পারেন তাহলে কমেন্ট সেকশনে জানাতে পারেন আপনাদের জন্য আরো ভালোভাবে উপস্থাপন করার চেষ্টা করব এবং আশা করি এই বিষয়টি যা আপনাদেরকে জানানো হয়েছে তার মাধ্যমে আপনি বুঝতে পারবেন যে কিভাবে একজন মানুষের সিজার করার পর সেই সেলাই টি কাটা হয়।
সিজার নিয়ে সচরাচর জিজ্ঞাসিত প্রশ্ন এবং উত্তর
প্রশ্ন: সিজারের পর কি খাবার খাওয়া উচিত?
উত্তর: সিজারের পর শাকসবজি পালং শাক ব্রকলি মেথি পাতায় প্রচুর পরিমাণে ভিটামিন এ এবং সি রয়েছে যা খাদ্য তালিকায় ক্যালসিয়াম এবং আয়রন ছাড়া বিভিন্ন উপাদান সরবরাহ করে। পাশাপাশি কমলালেবু পেঁপে তরমুজ স্ট্রবেরি এবং আঙ্গুরের মত ফলগুলোতে ভিটামিন সি বেশি থাকে যা আপনি এ সময় খেতে পারেন পর্যাপ্ত পরিমাণ।
প্রশ্ন: সিজারের কতদিন পর ইনফেকশন হতে পারে?
উত্তর: সিজারের সাধারণত প্রথম ২৪ ঘন্টা পরে এবং প্রসবের পর প্রথম ১০ দিনের মধ্যে এ সম্ভাবনা থাকতে পারে তাই এই ১০ দিন আপনাকে অত্যন্ত সতর্কতা এবং ডাক্তারের পরামর্শ অনুযায়ী জীবনটা যাপন করতে হবে।
প্রশ্ন: সিজারের কতদিন পর মাসিক হয়?
উত্তর: ডেলিভারির কতদিন পর মাসিক শুরু হতে পারে এটা অনেকেই জানতে চায় সাধারণত প্রসবের ছয় থেকে আট সপ্তাহের মধ্যে মেয়েদের নরমাল মাসিক শুরু হয়। যেসব মেয়েরা বাচ্চাকে নিয়মিত বুকের দুধ খাওয়ান না তাদের ডেলিভারির সপ্তাহ ছয়র পরে তাদের পিরিয়ড শুরু হওয়ার সম্ভাবনা থাকে। যারা নিয়মিত বাচ্চাদেরকে দুধ খাওয়ান সে ক্ষেত্রে সময়টা বদলে যেতে পারে।
প্রশ্ন: সিজারের পর দুধ কখন আসে?
উত্তর: সিজারের পর বেশিরভাগ সময় ৭২ ঘন্টার মধ্যে কলেজ ট্রাম থেকে দুধ এ রূপান্তরিত হয়, আপনার প্লাসেন্টার জন্মের পর আপনার দুধ তৈরির হরমোন গুলি ওভার ড্রাইভে চলে যায় আর আপনার দুধ তৈরির কাজ শুরু করে দেয়।
প্রশ্ন: সিজারের কতদিন পর গোসল করা যাবে?
উত্তর: চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী স্বাভাবিক শিশুদের জন্ম দেওয়ার পর ৪৮ থেকে ৭২ ঘন্টা পর গোসল করা উচিত। সিজার করার রোগীদের ক্ষেত্রে এটা একটু সময় ধরে বা শারীরিক দিক দেখার পর সেই অনুযায়ী সিদ্ধান্ত নেওয়া উচিত।
প্রশ্ন: সি সেকশন ব্যথা কতদিন নিয়ে ভালো হয়?
উত্তর: আপনার নিচের পেটে কিছুটা ব্যথা অনুভূত হতে পারে এবং এক থেকে দুই সপ্তাহের জন্য ব্যথার ওষুধের প্রয়োজন হতে পারে পাশাপাশি আপনি কয়েক সপ্তাহের জন্য কিছু যৌনি রক্তপাত আশা করতে পারেন। সম্পূর্ণরূপে পুনরুদ্ধার করতে আপনার সম্ভবত ছয় সপ্তাহ সময় লাগে ছেদ নিরাময় করার জন্য এটি সহজভাবে নেওয়া উচিত সিজারের সেলাই শুকানোর উপায়।
প্রশ্ন: সিজার করতে কত টাকা খরচ হয়?
উত্তর: বাংলাদেশের সরকারি হাসপাতালগুলোতে যে পরিমাণ টাকা খরচ হয় সিজার করার জন্য তার চাইতে দুই থেকে তিনগুণ বেশি টাকা খরচ করতে হয় ক্লিনিক বা বেসরকারি হাসপাতালগুলোতে। যেমন যদি একটি সরকারি হাসপাতালে পাস থেকে পনের হাজার টাকা লাগে তাহলে সেই খরচ বেশি সতর্ককারী হাসপাতাল বা ক্লিনিকে ৩০ থেকে ৬০ হাজার টাকা পর্যন্ত হতে পারে।
প্রশ্ন: সিজার করলে কি কি সমস্যা হয়?
উত্তর: সিজার করার সময় সাধারণত এপিডুরাল বা স্পাইনাল ব্লক দেওয়া হয় এপিডরাল ব্লক ব্যবহার করা জটিলতা হলো প্রসবের পর মেরুদন্ডের কাছাকাছি অবস্থিত মাংসপেশি শক্ত হয়ে যায়। মাংসপেশির এই অস্বাভাবিক অবস্থাকে প্রসবের পর কয়েক সপ্তাহ পর্যন্ত সময় লাগে বা কয়েক মাস স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরে আসতে যার ফলে কোমরের ব্যথা এবং বিভিন্ন ব্যথা অনুভূত হয়।
সিজারের সেলাই শুকানোর উপায় সমূহ নিয়ে শেষ মন্তব্য
সিজারের সেলাই শুকানোর উপায় সমূহ সম্পর্কে আপনাদের সামনে যে তথ্যগুলো উপস্থাপন করেছি সেই তথ্যগুলো অনুসরণ করার মাধ্যমে আপনি আপনার সেলাইয়ের ঘা খুব দ্রুততার সাথে শুকাতে পারবেন। একজন কখনোই চায়না যে সিজার করার মাধ্যমে সন্তান প্রসব করতে হয় এটা স্বাভাবিক অবস্থায় কেউই চায় না তাই আপনি যদি না চান তাহলে নরমাল ডেলিভারির জন্য যে উপায় গুলো রয়েছে সেগুলো সম্পর্কে অবগত হন।
আর আপনি যদি সিজারের করার সমস্যায় ভুগে থাকেন এবং সিজারের পর ঘা শুকানোর সিজারের সেলাই শুকানোর উপায় সম্পর্কে জানতে চাই তাহলে আজকের এই পোস্টটি সম্পর্কে সকল তথ্য গুলো আপনার উপকারে আসবে। সিজারের সেলাই শুকানোর জন্য বিভিন্ন ঘরোয়া উপায় রয়েছে এবং বিভিন্ন যে পদক্ষেপ রয়েছে ডাক্তারের পরামর্শ অনুযায়ী সেই পদক্ষেপগুলো অনুসরণ করে আপনি খুব সহজেই শিলাইয়ের সমস্যা দূর করতে পারবেন এবং এই ঘা দ্রুত তার সাথে ভালো করতে পারবেন।
মুক্তআঁখি আইটির নীতিমালা মেনে কমেন্ট করুন। প্রতিটি কমেন্ট রিভিউ করা হয়।
comment url