সিজারের কতদিন পর সেলাই শুকায় বিস্তারিত জানুন
সিজারের কতদিন পর সেলাই শুকায় এটা বিস্তারিত জানা উচিত। কারণ বর্তমানে অনেক মানুষই সিজার করার মাধ্যমে সন্তান প্রসব করে। সন্তান জন্ম দেওয়া একটি অতি আনন্দদায়ক বিষয় তাই এই কষ্ট কিছুই নয় সেই মায়ের কাছে যা সন্তান জন্মদানের ফলে আনন্দিত হয়। সিজারের সময় সন্তান স্বাভাবিকভাবে জন্মগ্রহণ করলেও মায়ের অনেক কষ্ট সহ্য করতে হয়।
অনেকেই সেই বিষয়ে নানান প্রশ্ন প্রক্রিয়া উপস্থাপন করে সিজারের সমস্যা থেকে বেঁচে স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরে যাওয়ার জন্য। আপনি আজকের এই পোস্টের মধ্যে থেকে জানতে পারবেন যে কিভাবে একজন মানুষ সিজারের বিভিন্ন সমস্যা দূর করবে সিজারের পর ব্যথা কতদিন থাকে তা জানতে পারবে আরো সকল বিষয় সম্পর্কে বিস্তারিত জানতে পারবে।
পোস্ট সুচিপত্রঃ সিজারের কতদিন পর সেলাই শুকায় বিস্তারিত যা জানবেন
- সিজারের কতদিন পর সেলাই শুকায় তা জানুন
- সিজারের পর সেলাই কাটার নিয়ম জানুন
- সিজারের পর ব্যথা কতদিন থাকে জেনে রাখুন
- সিজারের সেলাই কাটার পর যত্ন নেওয়ার উপায়
- সিজারের পর ইনফেকশনের লক্ষণ সম্পর্কে জানুন
- সিজারের কসমেটিক সেলাই কাটার নিয়ম জানুন
- সিজারের পর কতদিন ব্লিডিং হয় জানুন
- সিজারের কতদিন পর মিলন করা যায় জানুন
- সিজারের পরে ব্লিডিং বন্ধ করার উপায় বিস্তারিত জানুন
- সিজারের পর কাশি হলে করণীয় উপায় জানুন
- সিজারের পর তলপেটে ব্যথা হলে করণীয় কাজ গুলো
- সিজারের কতদিন পর সেলাই শুকায় তা নিয়া শেষ মন্তব্য
সিজারের কতদিন পর সেলাই শুকায় তা জানুন
সিজারের কতদিন পর সেলাই শুকায় তা অত্যন্ত স্পষ্ট ভাবে বলা যায় না কারণ সকল মানুষের শরীরের কন্ডিশন একরকম থাকে না মানুষের শরীরের পর্যায় অনুযায়ী ঘা শুকাতে কম বেশি হয়ে থাকে। তবে বেশিরভাগ ক্ষেত্রে দেখা যায় যে একজন গর্ভবতী মহিলার সিজারের ফলে বাচ্চা প্রসব করার পর যে ঘাঁটি বা কাটা জায়গাটি সৃষ্টি হয় তা ভালো হওয়ার জন্য কমপক্ষে ৬ সপ্তাহ সময় প্রয়োজন হয়।
সাধারণত একজনের সিজার করার পর তারপরে বিভিন্ন প্রশ্ন আসে যেমন, সে কখন স্বাভাবিক অবস্থায় যাবে, কতদিন পর সে সুস্থ এবং পানি স্পর্শ করতে পারবে বা গোসল করতে পারবে। সহবাস সহ বিভিন্ন শারীরিক কার্যক্রম সঠিকভাবে করতে পারবে এর জন্য কতদিন সময় প্রয়োজন হবে। এসব বিষয়গুলো জানতে চাই তাদের জন্য আজকের এই তথ্যগুলো কাজে আসবে। সাধারণত একজন মানুষ সন্তান প্রসবের পর সর্বোচ্চ সাত দিনের মধ্যে সেই সেলায় কেটে দেওয়া হয়।
সেই সাত দিনের পর থেকে স্বাভাবিক গোসল চলাফেরা এবং পানি স্পর্শ করাতে পারবে। সাত দিনের মধ্যে সেই সেলাই কেটে দেওয়া হলেও সেটা সম্পূর্ণ শুকাতে ১০;থেকে ১৪ বা ২১ দিন পর্যন্ত সময় লেগে থাকে। কিছু ক্ষেত্রে এই সিতারে জায়গায় বিভিন্ন সংক্রমণ হতে পারে তার কারণ হিসেবে দেখা যায় যে একজন মানুষ অসচেতনতা সঠিকভাবে এন্টিবায়োটিক না গ্রহণ করা এবং সে যে জায়গায় অবস্থান করছে সেই জায়গাটা পরিষ্কার পরিচ্ছন্নতা না থাকা।
এগুলো ছাড়া প্রায় ক্ষেত্রেই মানুষ খুব সহজেই এই সমস্যাকে দূর করতে পারে এবং কাটার ফলে বা সেলাইয়ের ফলে যে কাটা জায়গা রয়েছে তা ২১ দিনের ভিতরে ভালো করতে পারে এবং স্বাভাবিক ভাবে জীবন যাপন করতে পারে। সিজারে কতদিন পর সেলাই শুকায় তা বুঝতে পেরেছেন এই তথ্যগুলো থেকে বলে আশা করা যায়। তাছাড়া আরও সিজার বিষয়ে যে তথ্যগুলো আমাদের জানা উচিত সেই তথ্যগুলো নিজে পর্যায়ক্রমে দেখে নিন।
সিজারের পর সেলাই কাটার নিয়ম জানুন
সিজারের পর সেলাই কাটার নিয়ম অত্যন্ত সহজ এবং সাধারণ এটি করার জন্য আপনাকে প্রথমে যে কাজটি করতে হবে তা হচ্ছে, আপনি যে উপকরণগুলো ব্যবহার করবেন সেলাই কাটার জন্য সিজার সহ আরো অন্যান্য জিনিস পত্র সে বিষয়গুলো অবশ্যই জীবন্মুক্ত করে নিতে হবে প্রথম অবস্থায় যখন আপনি এই কাজটি শুরু করবেন তার পূর্বে।
এরপর আপনাকে সিজার করার জায়গায় যে টেপ লাগানো রাখবে সেটা তুলে সেখানে ভায়োডিন দিয়ে পরিষ্কার করতে হবে। ভালোভাবে পরিষ্কার করা হয়ে গেলে সেখানে যে সুতা দেওয়া থাকবে সে সুতাটিকে হালকা করে টেনে ধরে যতটুক সম্ভব চামড়া ঘেঁসে কেটে দিতে হবে। ভিতরে যে সুতা টুকু থাকবে তা ভিতরে থেকে যাবে এবং ধীরে ধীরে চামড়ার সাথে মিশে যাবে।
আরো পড়ুনঃ পিরিয়ডের ব্যথা কমানোর ইসলামিক উপায় এবং ডাক্তারি পরামর্শ জেনে নিন
মাধ্যমে তেমন কোন পার্শ্ব প্রতিক্রিয়া দেখা যায় না। আরো বিস্তারিত বিষয়ে জানার জন্য সেলাই কিভাবে কাটে এবং এর জন্য কি ধরনের ওষুধ পাঠে ব্যবহার করতে হয় তার জন্য আপনি আরো পড়ুন সেকশনগুলোতে ভিজিট করুন এবং সেখান থেকে বিস্তারিত বিষয় গুলো সংগ্রহ করে জেনে নিন যাতে আপনি ডাক্তারের পরামর্শ অনুযায়ী চিকিৎসা সেবা নেওয়ার জন্য এই পদক্ষেপগুলো গ্রহণ করতে পারেন।
সিজারের পর ব্যথা কতদিন থাকে জেনে রাখুন
সিজারের পর ব্যথা কতদিন থাকে এটা জানা উচিত যদিও বর্তমান সময়ে বেশিরভাগ মহিলা নরমাল ডেলিভারি করানোর জন্য চেষ্টা করে তবে কিছু কিছু ক্ষেত্রে মানুষের নরমাল ডেলিভারি হতে চায় না বা সমস্যার কারণে হয় না সে ক্ষেত্রে আপনাকে সিজার করার সিদ্ধান্ত গ্রহণ করতে হয় তাই আপনারা অনেকে জানতে চান যে সিজারের কতদিন পর সেলাই শুকায় বা সিজারের পর ব্যথা কতদিন থাকে।
সাধারণত সিজারের পর যদি তেমন কোন রক্তক্ষরণ বা শারীরিক সমস্যা না থাকে সেক্ষেত্রে সর্বোচ্চ এক সপ্তাহ পর্যন্ত এ ব্যথা থাকতে পারে। প্রথম এক সপ্তাহের মধ্যে আপনার সেলাই কেটে দেওয়া হয় এবং সেই সেলাই কেটে দেওয়ার এক সপ্তাহ থেকে ১০ দিনের মধ্যে ব্যথা সম্পূর্ণ ভালো হয়ে যায়। আপনি যদি সিজারের পর ব্যথা নিয়ে বিভিন্ন চিন্তায় থাকেন তাহলে এটা চিন্তার কোন কারণ নেই এটা স্বাভাবিকভাবে ভালো হয়ে যায়।
আরো পড়ুনঃ টেস্টোস্টেরন হরমোন বৃদ্ধির ঘরোয়া ২৭টি উপায় এবং ডাক্তারের পরামর্শ
খুব কম মানুষের ক্ষেত্রে এর পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া বা বিভিন্ন ইনফেকশনের মতো সমস্যা দেখা দেয়। তবে এর কারণ হচ্ছে অসচেতনতা পর্যাপ্ত পরিমাণ এন্টিবায়োটিক না গ্রহণ করা এবং চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী সকল নিয়ম পালন না করলে এ সমস্যা হতে পারে বা পার্সোনাল যদি পরিষ্কার পরিচ্ছন্নতা না থাকেন এবং আপনি যেখানে ঘুমান বা থাকেন যে বেড বা বিছানায় সেখানে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা না রাখলে সমস্যা হতে পারে। তাছাড়া আপনি খুব সহজেই এক সপ্তাহের মধ্যেই ব্যথা হতে মুক্তি পাবেন।
সিজারের সেলাই কাটার পর যত্ন নেওয়ার উপায়
সিজারের সেলাই কাটার পর যত্ন নেওয়ার জন্য আপনাকে বিশেষ কিছু নিয়ম অবলম্বন করতে হবে। তার মধ্যে উল্লেখযোগ্য হতে আপনাকে অবশ্যই সচেতনতা অবলম্বন করতে হবে এবং চিকিৎসকরা যে ধরনের পরামর্শ দেবে এবং যে নিয়মগুলো অবলম্বন করতে পরামর্শ দেবে সেই নিয়মগুলো সঠিকভাবে পালন করতে হবে। পাশাপাশি আপনি নিচে দেওয়া পদক্ষেপগুলো গ্রহণ করতে পারেন।
আরো পড়ুনঃ দ্রুত পেটের গ্যাস কমানোর উপায় প্রাকৃতিক ১০টি এবং চিকিৎসকের পরামর্শ
সিজারের সেলাই কাটার পর যত্ন সমূহ:
- সেলাইয়ের জায়গায় শুকনো রাখার চেষ্টা করতে হবে।
- পানির সংস্পর্শে কমপক্ষে এক সপ্তাহ থেকে ১০ দিন আনা যাবে না।
- ভারী কাজ এবং বেশি হাঁটা চলাকরা করা যাবে না শুধু স্বাভাবিক হাঁটাচলা করা করতে হবে এবং খেয়াল রাখতে হবে নিজের প্রতি।
- প্রচুর পরিমাণে পানি পান করতে হবে।
- কিছু শারীরিক ব্যায়াম রয়েছে যা চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী করতে পারবেন।
- এই সিজার করার ফলে যোনিপথ দিয়ে রক্ত বের হতে পারে এক্ষেত্রে আপনাকে চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী চিকিৎসা সেবা গ্রহণ করতে হবে।
অনেক সময় দেখা যায় হাঁচি-কাশি হতে পারে সেক্ষেত্রে সচেতন থাকতে হবে এবং উচ্চ মাত্রায় হাঁচি-কাশি হলে আপনাকে পেটে নরম বালিশ দিয়ে চাপা দিতে হবে যাতে সেই জায়গাতে টান না খায়। প্রয়োজনে আপনি নিয়মিত বেল্ট ব্যবহার করবেন এবং পর্যাপ্ত পরিমাণ বিশ্রাম গ্রহণ করবেন। তবে পুষ্টিকর খাবার গ্রহণের বিকল্প নেই বিভিন্ন পুষ্টিকর খাবার গ্রহণ করতে হবে যেগুলোতে প্রচুর পরিমাণে ভিটামিন সি, আয়রন জাতীয় উপাদান রয়েছে।
সিজারের পর ইনফেকশনের লক্ষণ সম্পর্কে জানুন
সিজারের পর ইনফেকশনের লক্ষণ সমূহ সম্পর্কে অবগত হওয়া উচিত কারণ সিজার করার ফলে মানুষের রক্তপাত হয় এবং বিভিন্ন সমস্যার সৃষ্টি হতে পারে খুব কম ক্ষেত্রে যদিও তবুও এর থেকে সচেতনতা অবলম্বন করা উচিত। যদি আপনার সিজারের পর সেখানে ইনফেকশন হয় তাহলে কিছু লক্ষণ দেখা যাবে যে লক্ষণগুলো নিচে দেওয়া হলো,
সিজারের পর ইনফেকশন এর লক্ষণ সমূহ:
- ৩৮ থেকে ১০৪ ডিগ্রী সেলসিয়াস এর ভিতরে জ্বর হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
- তলপেট প্রচন্ড ব্যথা অনুভূত হতে পারে।
- যোনিপথ দিয়ে গারো এবং ঘন ঘন রক্ত প্রবাহ বের হতে পারে।
- রক্ত প্রবাহের সাথে দুর্গন্ধযুক্ত সাদাস্রাব বের হইতে পারে।
- সাধারণ ক্ষেত্রে প্রথম ২৪ ঘন্টা এবং প্রসবের ১০ দিন পর্যন্ত এই সকল সমস্যাগুলো হওয়ার সম্ভাবনা থাকে।
- তাছাড়া লাল দাগযুক্ত গোলক গুরুতর পিউ পেরাল জলের জন্য দায়ী। যা আপনার যোনিপথ দিয়ে বের হতে পারে।
- কাটা জায়গায় বিভিন্ন রস এবং পোজ রক্ত বের হতে পারে ইনফেকশন হওয়ার ফলে।
উল্লেখিত উপসর্গগুলো দেখা দিলে আপনাকে বুঝতে হবে যে আপনার সিজারের জায়গাতে ইনফেকশন হয়েছে। আর আপনি যদি এই উপসর্গ গুলো না বুঝতে পারেন তাহলে অনেক দেরি হয়ে যেতে পারে এবং এই সমস্যা আরো গুরুতর অবস্থায় যেতে পারে। সাধারণত ১০ থেকে ২১ দিনের ভিতরে সকল ব্যথা এবং জ্বালাপোড়া সহ স্বাভাবিক জীবনযাপন করার মত অবস্থা সৃষ্টি হয়। তবে কিছু ক্ষেত্রে একবারে একটু সময় বেশি প্রয়োজন হয় সুস্থ হওয়ার জন্য যাদের শরীরের অবস্থা ভালো নয়।
সিজারের কসমেটিক সেলাই কাটার নিয়ম জানুন
সিজারের কসমেটিক সেলাই কাটার নিয়ম অত্যন্ত সহজ এবং নিয়ম অবলম্বন করে আপনি বাসায় নিজেই কাজটি করতে পারবেন যদি আপনার কাছে প্রয়োজনীয় সামগ্রী গুলো থাকে। প্রয়োজনীয় সামগ্রী গুলোর ভিতরে আপনাকে প্রয়োজন হবে একটি সিজার। যা দিয়ে আপনি সেই কসমেটিক সেলাই টি কাটবেন। ভায়োটিন প্রয়োজন হবে যেই উপাদানটি ব্যবহার করে আপনি সেই ক্ষত জায়গা জীবাণুমুক্ত করবেন।
কসমেটিক সেলাই কাটার জন্য আপনাকে সেই সেলইয়ের জায়গাটি যে ব্যান্ডেজ থাকবে সেই ব্যান্ডেজ টি প্রথমে ভালোভাবে ধীরে ধীরে অপসারণ করতে হবে বা এখান থেকে তুলে ফেলতে হবে। তুলে ফেলার পর ভায়োডিন যে সেই পুরো জায়গাটি সুন্দর করে পরিষ্কার করে নিতে হবে। এবং পরিষ্কার করা হলে আপনি লক্ষ্য করবেন যে সেখানে একপাশে একটি সুতা বা কসমেটিক সেলাইয়ের অংশ দেখা যাচ্ছে।
আরো পড়ুনঃ দ্রুত ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণ করার উপায় এবং ঘরোয়া ১২টি টিপস
সেই অংশটিকে একটি সিজার দিয়ে ধরে অল্প প্রেসার দিয়ে টেনে যতটুকু বাইরে নিয়ে আসা চাই সেই পর্যন্ত আনার পর তা কেটে দিতে হবে। তাহলে আপনার এই সহজ কাজটি সম্পন্ন হয়ে যাবে। তবে খেয়াল রাখতে হবে যেন বেশি টানাটানি না করা হয় তাতে রক্ত বের হতে পারে এবং বিভিন্ন সমস্যা দেখা দিতে পারে। এই কাজটি করার পর আপনি চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী বিভিন্ন এন্টিবায়োটিক এবং স্বাস্থ্য টিপস মেনে জীবন যাপন করলে সহজেই এর থেকে সমাধান পাবেন।
সিজারের পর কতদিন ব্লিডিং হয় জানুন
সিজারের পর কতদিন ব্লিডিং হয় সেটা আমাদের জানা উচিত বিশেষ কিছু ক্ষেত্র ব্যতীত সকলের ক্ষেত্রে একই ধরনের সময় প্রয়োজন হয় এটি স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরে আসতে। যারা সিজার করে বাচ্চা প্রসব করেন তাদেরকে অনেক সতর্কতা এবং বিশেষ কিছু নিয়ম অনুসরণ করতে হয়। সে নিয়মগুলো অনুসরণ করার মাধ্যমে তারা স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরে আসে।
সিজারের পর সাধারণত ব্লিডিং হয়ে থাকে ৪-৬ সপ্তাহ পর্যন্ত যা গর্ভাবস্থায় জমে থাকা জরায়ুর অতিরিক্ত রক্ত টিস্যু এবং বিভিন্ন উপাদান বের করে দেয়। তবে একটি জিনিস বুঝে রাখা প্রয়োজন যে এটি বিভিন্ন মানুষের ক্ষেত্রে বিভিন্ন পরিমাণ হতে পারে কারণ কারো ক্ষেত্রে কম ব্লিডিং হতে পারে কারো ক্ষেত্রে বেশি। তবে এর থেকে ভয় পাওয়ার কিছু নেই এটা সকলের ক্ষেত্রে হয় কারো একটু বেশি সময় লাগে ভালো হওয়ায়।
আরো পড়ুনঃ জ্বর কমানোর ঘরোয়া উপায় নিয়ে জাদুকরী ২১টি টিপস
আবার কারো ক্ষেত্রে খুব কম সময় প্রয়োজন হয়। প্রথম সপ্তাহে লালচে রঙের রক্ত হয় কিছুটা ভারী, কিছু মায়ের ক্ষেত্রে ছোট রক্ত জমাট বাধাও বের হতে পারে। দ্বিতীয় সপ্তাহে রক্তপাত আরো হালকা শুরু হতে পারে যা গোলাপি রং ধারণ করতে পারে। তাছাড়া তৃতীয় থেকে সপ্ত সপ্তাহ পর্যন্ত রক্তপাত আরো কমে গিয়ে হলুদ বা সাদা বর্ণের স্রাবের বর্ণিত হয়। যা সাধারণত জরায়ু থেকে সেলসা বা বর্জ্য বের হওয়ার অংশ হিসেবে পরিচিত।
সিজারের কতদিন পর মিলন করা যায় জানুন
সিজারের কতদিন পর মিলন করা যায় এটা অনেকে জানতে চাই কারণ প্রত্যেকটা মানুষেরই এটি একটি স্বাভাবিক বা শারীরিক চাহিদা। আপনি সাধারণত সিজার করার পর চার থেকে ছয় সপ্তাহের ভিতরে সম্পূর্ণ সুস্থ হয়ে যেতে পারবেন। তবে ১০ দিনের মধ্যে আপনার সেই সমস্যা কমে যেতে পারে এবং মিলন করার মতো শক্তি অর্জন হতে পারে।
বিশেষ করে যেসব মহিলাদের সিজারিং প্রসব হয়েছে তাদের মধ্যে যৌন সমস্যা অব্যাহত থাকে বিশেষ করে প্রসবের সময়ের প্রথম দিকে এবং গবেষণায় দেখা গেছে যে ভ্যাজাইনাল ও সি সেকশন ডেলিভারি উভয়ের ক্ষেত্রে নারীদের সন্তান জন্মদানের পর সর্বনিম্ন ৩ মাসের মধ্যে যৌন সমস্যা দেখা দিতে পারে। সেক্ষেত্রে আপনাকে তিন মাস ধৈর্য ধরা অত্যন্ত ভালো তবে কিছু ক্ষেত্রে মানুষ রয়েছে যারা একটু বেশি যৌন মিলন করতে পছন্দ করে।
আরো পড়ুনঃ গ্যাস্ট্রিক আলসারের লক্ষণ ও চিকিৎসা এবং ঘরোয়া উপায়
সিজারের পর মিলন করার জন্য আপনাকে পর্যাপ্ত পরিমাণ সময় অপেক্ষা করতে হবে তাছাড়া এর কিছু সমস্যা সৃষ্টি হতে পারে যেমন তলপেট ব্যথা এবং যোনিপথ ব্যথা সহ আরো নানান ধরনের সমস্যা। তাই আপনি এই সমস্যা বা জরায়ুর পুনর্গঠনের জন্য যে 6 মাস সময় প্রয়োজন হয়েছে এই ছয় মাস অপেক্ষা করার পর যৌন সঙ্গম বা কার্যকলাপে লিপ্ত হওয়া উচিত। এ সময় যৌন নিয়ন্ত্রণ রাখা উচিত বা এড়িয়ে চলা উচিত যৌন মিলন করা থেকে।
সিজারের পরে ব্লিডিং বন্ধ করার উপায় বিস্তারিত জানুন
সিজারের পরে ব্লিডিং বন্ধ করার উপায় বিস্তারিত জানা উচিত। সিজারের পরে প্রায় ৪ থেকে ৬ সপ্তাহ পর্যন্ত এই সমস্যা ভালো হতে সময় লাগে এ সময়ের মধ্যে বিভিন্ন ধরনের উপসর্গ দেখা যায় যা ইতিমধ্যে উপস্থাপন করেছি এবং সিজারের পরে বিল্ডিং হওয়ার অনেক কারণ রয়েছে যাওয়া আপনাদেরকে উপস্থাপন করেছি। তবে সিজারের পর এ সংসার সমাধান হিসেবে আপনি যেগুলো করবেন তা দেখে নিন।
- চিকিৎসকের পরামর্শ গ্রহণ করতে হবে সিজারের পর বিভিন্ন ওষুধ এবং এন্ট বায়োটিক উপাদান খেতে হয় তা খেতে হবে। এছাড়াও যদি রক্তপাত চাপ অস্বাভাবিক হয় তাহলে অবিলম্বে চিকিৎসকের পরামর্শ নিন।
- পদার্থ পরিমাণ বিশ্রাম গ্রহণ করতে হবে সঠিকভাবে বিশ্রাম নেওয়া অত্যন্ত জরুরি অতিরিক্ত কাজ বা বাইরে জিনিস তোলা বা ভারী কাজ করা থেকে দূরে থাকতে হবে যার ফলে রক্তপাত বাড়তে পারে এবং শরীর আরো বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে।
- রক্তপাত কমানোর জন্য আপনার নবজাতককে স্তনের দুগ্ধ পান করাতে পারবেন যা হরমোনাল পরিবর্তন করতে পারে এবং এই পরিবর্তনের ফলে জরায়ুর সংকোচন বৃদ্ধি পাবে এবং আপনার রক্তপাত কমবে।
- প্রচুর পরিমাণ পানি পান করতে হবে এবং পুষ্টিকর খাবার গ্রহণ করতে হবে এবং বিভিন্ন ভিটামিন জাতীয় খাবার গ্রহণ করার ফলে আপনি এই সমস্যা পুনরুদ্ধার করতে পারবেন।
- গরম সক বা চাপ প্রয়োগ করা থেকে দূরে থাকুন সেলাই এর জায়গায় গরম তাপ বা চাপ প্রয়োগ করা থেকে এড়িয়ে চলতে হবে যার ফলে রক্তক্ষরণ হতে পারে।
- বিভিন্ন ইনফেকশন এবং সংক্রমণ প্রতিরোধ করতে হবে সেলাই এবং আশেপাশের স্থান পরিষ্কার পরিচ্ছন্নতা রাখতে হবে এবং চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী বিভিন্ন চিকিৎসা সেবা গ্রহণ করতে হবে এবং ওষুধ নিতে হবে।
আশা করি বুঝতে পেরেছেন সিজারের পর রক্তপাত সাধারণত বন্ধ করার জন্য নাকি যে কাজগুলো করতে হবে সেই বিষয়গুলো সম্পর্কে। তাছাড়া আপনার এই রক্তপাত যদি ধীরে ধীরে বেড়ে যায় এবং ঘনত্ব বৃদ্ধি পায় তাহলে চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী বিভিন্ন সমাধান অনুযায়ী পদক্ষেপ গ্রহণ করতে হবে যে পদক্ষেপগুলো গ্রহণ করে আপনার এই সমস্যা দূর করতে পারবেন। তাছাড়া পেট প্রতি ঘন্টায় ভিজে যাচ্ছে রক্তের সঙ্গে বড় আকারের জমাট বাধা তীব্র ব্যথা এবং শরীর দুর্বলতা মাথা ঘোরা এ সমস্যা হলে চিকিৎসকদের সাথে দ্রুত যোগাযোগ করুন।
সিজারের পর কাশি হলে করণীয় উপায় জানুন
সিজারের পর কাশি হলে করণীয় উপায় জানা উচিত কারণ সিজারের সময় আপনার শরীরে কাটা অবস্থায় যদি জোরে কাশি এবং হাঁচিয়ে দেন তাহলে সেই জায়গাতে টান লাগতে পারে। এই টান লাগার ফলে আপনার সেখান থেকে রক্তপাত বের হতে পারে। ব্যথা এবং জ্বালাপোড়া সহ বিভিন্ন সমস্যা হতে পারে তাই আপনাকে কাশি দেওয়ার সময় বিভিন্ন সতর্কতা অবলম্বন করতে হবে।
আপনি সর্বোপরি কাশি দেওয়ার সময় একটি নরম বালিশ পেটের কাছে বা যেখানে সিজার করা হয়েছে বা কাটা আছে সেই জায়গাতে হালকা চেপে ধরে কাশি দিতে হবে যাতে আপনার সেই জায়গায় টান না খায়। কারণ আপনার কাটা জায়গায় যদি টান খায় বা সেলাইয়ের যদি কোন সমস্যা সৃষ্টি হয়। তা আপনাকে সতর্কতা অবলম্বন করতে হবে কাশি দেওয়ার সময় যেন জোরে সেই কাটা জায়গায় টান না লাগে।
সে কাটা জায়গায় টান লাগলে সেখান থেকে রক্তপাত হতে পারে এবং রক্তপাত হওয়ার ফলে সেখানে ইনফেকশন এবং বিভিন্ন জ্বালাপোড়া সৃষ্টি হতে পারে। ইনফেকশন হয়ে যায় তাহলে আপনাকে অবশ্যই ভয়ঙ্কর পরিস্থিতি দেখতে হতে পারে সেজন্য আপনাকে অবশ্যই কাশি দেওয়ার সময় সতর্কতা অবলম্বন করতে হবে। আর আপনি যদি সতর্কভাবে জীবন পরিচালনা করেন এবং যতদিন না সুস্থ হন ততদিন সতর্ক থাকেন তাহলে কম সময়ে সুস্থ হয়ে যাবেন।
সিজারের পর তলপেটে ব্যথা হলে করণীয় কাজ গুলো
সিজারের পর তলপেটে ব্যথা হলে করণীয় কাজ উপস্থাপন করলে জেনে যাবেন যে এর সমস্যা হয় কেন এবং সমস্যা থেকে বাঁচার উপায় কি। তলপেটে ব্যথা হওয়ার যে কারণগুলো রয়েছে তা হচ্ছে জরায়ুর সংকোচন এছাড়া আরো যে কারণগুলো রয়েছে তা দেখুন।
- সিজারের পর জরাও ধীরে ধীরে স্বাভাবিক আকারে ফিরে আসে যার ফলে জরায়ু সংকোচন হয় এবং তলপেট ব্যথা করে।
- অপসারণের ক্ষত সেলাই জায়গায় নিরাময়ের সময় হালকা ব্যথা বাটা অনুভূত হতে পারে যার থেকে তলপেট ব্যথা হয়।
- গ্যাস বা কোষ্ঠকাঠিনের থাকলেট ব্যথা হতে পারে অর্থ পাথরের পর পেটের গ্যাস জমে থাকা বা কোষ্ঠকাঠিন্য তলপেটে ব্যথা সৃষ্টির কারণ।
- সংক্রমণ ও ইনফেকশন: বিভিন্ন জীবাণু এবং অনুজীবের সংক্রমণ হলে ব্যথা হতে পারে পাশাপাশি ইনফেকশন হয়ে যায় সিজার করা সেই জায়গাতে।
এই সমস্যার সমাধান করার জন্য আপনাকে বিশ্রাম নিতে হবে হালকা গরম সেদ্ধ দিতে হবে এবং কোষ্ঠকাঠিন্য দূর করার জন্য বিভিন্ন পদক্ষেপ গ্রহণ করতে হবে পাশাপাশি আপনার যদি শিশু দুগ্ধ পান করতে চান তাহলে তা করাতে হবে ব্যথানাশক ওষুধ সেবন করতে পারবেন এবং সহজে ভালো হওয়ার জন্য চিকিৎসকের পরামর্শ নিল এবং হালকা চলাফেরা করুন যাতে রক্ত সঞ্চালনা বৃদ্ধি পায় এবং ব্যথা উপশম হয়।
সিজারের কতদিন পর সেলাই শুকায় তা নিয়া শেষ মন্তব্য
সিজারের কতদিন পর সেলাই শুকায় এটা সম্পর্কে হয়তো ইতিমধ্যে আপনারা সঠিক তথ্য গুলো বুঝতে পেরেছেন। একজন মানুষ সিজার করে খুব প্রয়োজন হলে বা শরীরের কন্ডিশন অনুযায়ী। অনেক সময় দেখা যায় যে গর্ভবতী মায়ের গর্ভপাতের সময় পেরিয়ে যায় তবুও সন্তান প্রসব হয় না সে ক্ষেত্রে অনেক মানুষ রয়েছে যারা সিজার করে।
আবার অনেক মানুষ রয়েছে যারা সন্তান প্রসবের যে যন্ত্রনা রয়েছে তা সহ্য করতে না পেরে সিজার করার জন্য সিদ্ধান্ত গ্রহণ করে। তবে একজন যেই কারণেই সিজার করুক না কেন তাকে বিভিন্ন পদক্ষেপ এবং পরামর্শ গ্রহণ করতে হবে এবং সিজার করার পরে যে বিষয়গুলো সম্পর্কে অবগত হওয়া উচিত সে বিষয়গুলো জেনে এবং সে বিষয়ে অনুযায়ী জীবন পরিচালনা করে কম সময়ে এ সমস্যা সমাধান করতে পারবে এবং স্বাভাবিক জীবন যাপন করতে পারবে। যে বিষয় সম্পর্কে আজকের এই আর্টিকেলটির ভিতরে সম্পূর্ণভাবে উপস্থাপন করা হয়েছে।
মুক্তআঁখি আইটির নীতিমালা মেনে কমেন্ট করুন। প্রতিটি কমেন্ট রিভিউ করা হয়।
comment url