থাইরয়েডের ওষুধ না খেলে কি হয় বিস্তারিত জানুন
থাইরয়েডের ওষুধ না খেলে কি হয় এটা যদি আপনি না জেনে থাকেন তাহলে আজকের এই আর্টিকেলটি মনোযোগ সহকারে পড়ুন এখানে উপস্থাপন করা হবে থাইরয়েড সম্পর্কে বিভিন্ন তথ্য যা আপনার শরীরে থাইরয়েড জরিত সমস্যা দূর করতে সাহায্য করবে।
তাছাড়া হাইপোথাইরয়েডিজম যা এমন একটি অবস্থা আপনার থাইরয়েড গ্রন্থির পর্যাপ্ত পরিমাণ থাইরয়েড হরমোন ক্ষরণ না হলে তা আপনার শরীরের বিভিন্ন সমস্যা সৃষ্টি করতে পারে। যেমন আপনার ক্লান্তি হতে পারে, শরীরে দ্রুত ওজন বৃদ্ধি হৃদস্পন্দনের সমস্যা সহ আরো অনেক সমস্যা হতে পারে যা এই পোস্টের ভিতরে আলোচনা করা হবে।
পোস্ট সুচিপত্রঃ থাইরয়েডের ওষুধ না খেলে কি হয় সেই বিষয়ে যা জানবেন
- থাইরয়েডের ওষুধ না খেলে কি হয় জানুন বিস্তারিত
- থাইরয়েডের ওষুধ বেশি খেলে কি হয় জানেন কি?
- থাইরয়েড ওষুধ কি সারাজীবন খেতে হয় জেনে নিন
- থাইরয়েড রোগীদের জন্য কি ধরনের খাবার গ্রহণ ও বর্জন করতে হবে জানুন।
- থাইরয়েডের ঔষধ খাওয়ার নিয়ম জানুন
- থাইরয়েডের ঔষধের নাম সমূহ জানুন
- থাইরয়েড ওষুধের পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া সমূহ জানুন
- থাইরয়েড কি ভালো হয় জানুন সে বিষয়ে
- ঔষধ ছাড়া থাইরয়েড কমানোর উপায় জানুন
- থাইরয়েড নরমাল কত সকল বয়সের মানুষের ক্ষেত্রে জানুন
- থাইরয়েডের ওষুধ না খেলে কি হয় তা নিয়ে শেষ মন্তব্য
থাইরয়েডের ওষুধ না খেলে কি হয় জানুন বিস্তারিত
থাইরয়েডের ওষুধ না খেলে কি হয় এটা আমাদের জানা উচিত। কারণ থাইরয়েড গ্রন্থি আমাদের শরীরের অনেক কার্যকলাপ নিয়ন্ত্রণ করতে ভূমিকা রাখে। এ গ্রন্থি থেকে নিঃসৃত হরমোনের ক্ষরণ কমে গেলে শরীরের বিভিন্ন ধরনের সমস্যা দেখা যায়। তাই থাইরয়েড ওষুধ খাওয়া প্রয়োজন যাদের এই সমস্যা রয়েছে তাদের ক্ষেত্রে এছাড়া নিচে উল্লেখিত সমস্যা গুলো হতে পারে। দুই ধরনের সমস্যা রয়েছে যা একটি হরমোন বৃদ্ধি হওয়ার ক্ষেত্রে হয় এবং এই হরমোন কমে গেলে একটি অন্য সমস্যা দেখা যায় যা নিচে পর্যায়ক্রমে দেখানো হলো।
থাইরয়েডের ওষুধ না খেলে কি কি হয় সে বিষয় সমূহ: হাইপোথাইরয়েডিজমের ক্ষেত্রে,
- শারীরিক দুর্বলতা: থাইরয়েড গ্রন্থির হরমোন নিঃসরণ কমে গেলে শারীরিক দুর্বলতা বেড়ে যায় যার ফলে ক্লান্তি এবং অলসতা সৃষ্টি হয়।
- হঠাৎ ওজন বৃদ্ধি: থাইরয়েড গ্রন্থির হরমোন নিষ্ক্রিয়শনের মাত্রা অতিরিক্ত মাত্রায় কমে গেলে আপনার শরীরে মেটাবলিজম কমে যাবে যার ফলে আপনার শরীরে ওজন বেড়ে যাবে খুব দ্রুত।
- সহনশীলতা কমে যাওয়া: আপনার এই গ্রন্থির হরমোন কমে গেলে অতিরিক্ত ঠান্ডা লাগবে এবং অতিরিক্ত গরম এর সময় গরম অনুভূত হবে শরীরের যে সমতা করার ক্ষমতা রয়েছে তা কমে যাবে।
- বিষন্নতা: হরমোনের প্রভাবে আপনার মানসিক স্বাস্থ্য দুর্বল হয়ে যাবে যার ফলে আপনি অলস এবং বিষন্নতায় ভুগবেন যা মনের অবস্থা ধীরে ধীরে খারাপ করে তুলবে।
- ত্বকের অবস্থার পরিবর্তন: এই গ্রন্থির হরমোন কমে গেলে আপনার ত্বকের শুষ্কতা বৃদ্ধি হয়ে যাবে এবং ত্বকের স্বাভাবিক যে অবস্থার থাকবে তা ধীরে ধীরে পরিবর্তন হয়ে অতিরিক্ত শুষ্ক হয়ে যাবে। যে জন্য এই থাইরয়েড হরমোনের ওষুধ খাওয়া উচিত।
- কোষ্ঠকাঠিন্য: আপনার শরীরে থাইরয়েড হরমোনের অভাব দেখা দিলে আপনার কোষ্ঠকাঠিন্য হতে পারে যার ফলে পেটের সমস্যা সমস্যাগুলো তৈরি হয়।
- হার্ট সমস্যা: শরীরের অতিরিক্ত পরিমাণ থাইরয়েড হরমোনের মাত্রা কমে গেলে আপনার রক্তচাপের সমস্যা দেখা দিবে যার ফলে হার্ট অ্যাটাক এবং আরো নানান সমস্যা সৃষ্টি হবে।
উল্লেখিত এই সমস্যাগুলো যখন আপনার শরীরের থাইরয়েডের ওষুধ ব্যবহার না করার ফলে এর মাত্রা অতিরিক্ত কমে যাবে তখন এই সমস্যাগুলো দেখা দিবে। তাছাড়া এই হরমোন যখন বেশি বৃদ্ধি হয়ে যায় বা হরমোন ক্ষরণ বেড়ে যায় তখন যে সমস্যাগুলো দেখা যায় তাকে বলা হয় হাইপারথাইরয়েডিজম।
আরো পড়ুনঃ সিজারের কতদিন পর সেলাই শুকায় বিস্তারিত জানুন
যার কারণে সৃষ্ট সমস্যা গুলো নিচে দেখুন। আপনার শরীরে যদি থাইরয়েড অতিরিক্ত ক্ষরণ হয় তাহলে এ হরমোন নিয়ন্ত্রণ করার জন্য যদি আপনি থাইরয়েড ওষুধ না গ্রহণ করেন তাহলে আপনার যে সমস্যাগুলো হবে। তার মধ্যে উল্লেখযোগ্য হচ্ছে আপনার অতিরিক্ত ওজন কমে যাবে এবং মেটাবলিজম বেড়ে যাবে।
- হাত পা এবং শরীর কাঁপতে থাকবে যার ফলে আপনার নানান সমস্যা হবে চলাফেরা করতে।
- স্বাভাবিক অবস্থায় শরীর অনেকটা দুর্বল হয়ে যাবে এবং আরো পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া হিসেবে নানান সমস্যা সৃষ্টি হবে।
- শরীরে হৃদ স্পন্দনের পরিমাণ বেড়ে যাবে রক্তচাপ অতিরিক্ত হয়ে যাবে।
- এই শরীরে হরমোন অতিরিক্ত করে দিয়ে আপনার ঘাম বৃদ্ধি করে দিবে এবং মেজাজ খিটখিটে করে তুলবে।
- তাছাড়া একজন মানুষ গর্ভাবস্থায় থাইরয়েডের ওষুধ না গ্রহণ করলে এই সমস্যা গুরুতর অবস্থায় যেতে পারে।
- দীর্ঘদিন এই থাইরয়েডের সমস্যা যদি আপনি ওষুধ গ্রহণ করা থেকে নিজেকে বিরত রাখেন তাহলে হৃদ রোগের সমস্যা দেখা দিবে।
- এছাড়া আপনার মস্তিষ্কের প্ভাব পড়বে স্মৃতিশক্তি ও মানসিক স্থিতিশীলতার সমস্যা সৃষ্টি হবে।
থাইরয়েডের সমস্যা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভাবে পর্যালোচনা এবং বিবেচনা করে চিকিৎসা সেবা নিতে হবে কারণ এই সমস্যা যদি অতিরিক্ত হয়ে যায়। মনে করেন যদি থাইরয়েড গ্রন্থির ক্ষরণ বেড়ে যায় তাহলে হরমোন বেশি হওয়ার ফলেও আপনার শরীরে সমস্যা সৃষ্টি করবে। আবার আপনার শরীরে যদি হরমোনের পরিমাণ খুব কমে যায় তাবুও আপনার শরীরে সমস্যা সৃষ্টি করবে। সুতরাং স্বাভাবিক অবস্থায় রাখার জন্য আপনার এ সমস্যা দেখা দিলে ওষুধ গ্রহণ করতে হবে।
থাইরয়েডের ওষুধ বেশি খেলে কি হয় জানেন কি?
থাইরয়েডের ওষুধ বেশি খেলে কি হয় এটা আমাদের জানা উচিত কারণ থাইরয়েডের সমস্যা দুই ধরনের হয়ে থাকে। একটি সমস্যা যা অতিরিক্ত পরিমাণ শরীরে বেশি হয়ে গেলে সৃষ্টি হয়। আবার এই হরমোনের পরিমাণ খুব কম হয়ে গেলেও বিভিন্ন সমস্যা সৃষ্টি হয়। কি ধরনের সমস্যা সৃষ্টি হতে পারে তা আপনাদেরকে আলোচনা করে জানিয়েছি তবে একজন মানুষ সুস্থ থাকার জন্য থাইরয়েড চিকিৎসা নিতে পারে।
আরো পড়ুনঃ সর্দিতে কারণে কান বন্ধ হলে করণীয় ৭টি উপায় জানুন
থাইরয়েডের ওষুধ বেশি পরিমাণ খেলে আপনার শরীরে হঠাৎ ওজন কমে যাবে হাত-পা কাপাকাপি সমস্যা দেখা দিবে হৃদস্পন্দনের সমস্যা হবে এবং মানসিকভাবে আপনি শান্তিতে থাকতে পারবেন না বিষন্নতা মনে হবে এবং শারীরিক অলসতা এবং প্রচন্ড পরিমাণ ঘুমের সমস্যা দেখা দিবে। তাই আপনাকে নিয়ম মাফিক ডাক্তারের পরামর্শ অনুযায়ী থাইরয়েডের ওষুধ ব্যবহার করতে হবে।
একজন মানুষ থাইরয়েড সমস্যা হলে তাকে অবশ্যই চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে হবে। কারণ আপনি হয়তো বুঝতে পারছেন যে একজন মানুষের থাইরয়েড গ্রন্থির হরমোনের ক্ষরণ বৃদ্ধি হয়ে গেলেও সমস্যা হয় এবং এই হরমোনের ক্ষরণ খুব কমে গেলেও সমস্যা হয় তাই অনেক সময় বয়স হয়ে গেলে এই সমস্যাগুলো বেশি পরিলক্ষিত হয় তাই আপনাকে চিকিৎসা সেবা গ্রহণ করতে হবে যাতে স্বাভাবিক অবস্থায় থাকে হরমোনের ক্ষরণ।
থাইরয়েড ওষুধ কি সারাজীবন খেতে হয় জেনে নিন
থাইরয়েডের ওষুধ কি সারাজীবন খেতে হয় কি কথা অনেকেই প্রথম বলে থাকি কারণ যারা প্রথম অবস্থায় এই সমস্যায় ভোগে তারা মনে করেন, যে কিছুদিন ওষুধ খাওয়ার মাধ্যমে এই সমস্যা সমাধান হয়ে যাবে। তবে সাধারণত এই সমস্যা ওষুধ খাওয়ার মাধ্যমে একবারে ভালো করা যায় না তবে ওষুধ খাওয়ার মাধ্যমে এর স্বাভাবিক অবস্থা নিয়ন্ত্রণে রাখা যায়।
তবে ওষুধ বাদ দিয়ে দিলে যে সমস্যা বৃদ্ধি হয়ে যেতে পারে। যদি থাইরয়েড রোগী কেউ আক্রান্ত হয়ে থাকে অবশ্যই সারাজীবন এই ওষুধ খাওয়া লাগতে পারে। তবে এই ওষুধ খাওয়ার পাশাপাশি আপনি আরো একটি কাজ করতে পারবেন সেটা হচ্ছে ঘরোয়া কিছু উপায় রয়েছে যেমন, খাদ্য অভ্যাসের পরিবর্তন করা। কিছু খাবার রয়েছে এবং ফলমূল রয়েছে যে খাবারগুলো গ্রহণ করার মাধ্যমে আপনি সারাজীবন এই থাইরয়েডের সমস্যার জন্য ওষুধ খাওয়া থেকে কিছুটা নিজেকে বাঁচিয়ে।
আরো পড়ুনঃ গ্যাসের ব্যথা বুকের কোন পাশে হয় জানুন
সেই উপকারী ফলমূল গুলো খাওয়ার মাধ্যমে সুস্থ হতে পারবেন। সেই ফলগুলোর মধ্যে রয়েছে বেরি, আপেল, কমলা, আনারস, অ্যাভোকাডো, এ খাবারগুলো অত্যন্ত উপকারী একজন মানুষের থাইরয়েড সমস্যা নিয়ন্ত্রণে রাখার জন্য এই খাবারগুলোর এই উপকারিতা আর পেছনে যে কারণগুলো রয়েছে তা বিস্তারিত আমরা নিচের দিকে জানবো। এই উপকারিতা খাবারের পাশাপাশি কিছু খাবার রয়েছে যেগুলো ক্ষতিকর প্রভাব রয়েছে থাইরয়েড রোগীদের সেগুলো উপস্থাপন করব।
থাইরয়েড রোগীদের জন্য কি ধরনের খাবার গ্রহণ ও বর্জন করতে হবে জানুন।
থাইরয়েড রোগীদের জন্য যে খাবারগুলো গ্রহণ করা উচিত এবং এর উপকারিতা গুলো কি কি কারণে এই খাবারগুলো থাইরয়েড রোগীদের জন্য উপকার করে তা জানবো। পাশাপাশি আমাদের যে খাবারগুলো গ্রহণ করা থেকে বিরত থাকতে হবে সেই খাবারগুলো সম্পর্কেও জানবো কেনো সেই খাবারগুলো গ্রহণ করা থেকে থাইরয়েড রোগীদের কে বিরত থাকতে হবে।
প্রথমে কোন ধরনের খাবার খাওয়া যাবে তা জানি,
- বেরি জাতীয় খাবার: এই খাবারের মধ্যে অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট রয়েছে যা থাইরয়েড অঙ্গের জন্য খুবই ভালো এটি হরমোনের উৎপাদন বৃদ্ধি করে এবং ভিটামিন এবং খনিজে ভরপুর হওয়ায় শরীরের ফ্রি রেডিক্যাল দ্বারা সৃষ্ট অক্সিডেটিভ ক্ষতি থেকে রক্ষা করে তাছাড়া ডায়াবেটিকস ও স্থূলতার জন্য উপকারী।
- আপেল: আপেল বিশ্বের অতি পরিচিত এবং অন্যতম একটি ফল যা অত্যন্ত খনিজ ভিটামিন এ ভরপুর। থাইরয়েড গ্রন্থির মুক্ত রেডিকলের ক্ষতি থেকে বাঁচাতে পারে। এর মধ্যে যে উপাদান গুলো রয়েছে সেগুলো ক্লোরোস্টল নিয়ন্ত্রণ ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণ স্থূলতা, হৃদরোগ এবং হাড়ের জন্য উপকারী।
- কমলা লেবু: ভিটামিন সি এবং অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট সমৃদ্ধ হয় এটি ফ্রিরেডিকেল এর ক্ষতি রক্ষা করে আপনার কোষগুলোকে শক্তিশালী করে। যাদের থাইরয়েড সমস্যা রয়েছে তারা এই গ্রন্থির প্রদাহ এবং কার্যকারিতা বৃদ্ধি করার জন্য ব্যবহার করতে পারে।
- আনারস: আনারস থাইরয়েড রোগীদের জন্য উপকারী এতে ভিটামিন সি এবং ম্যাঙ্গানিজ রয়েছে যাদের ফ্রি রেডিক্যাল ক্ষতিকর প্রভাব রক্ষা করে। শারীরিক ক্লান্তি দূর করে তাছাড়া ক্যান্সার এবং কোষ্ঠকাঠিন্য রোগের জন্য উপকারী।
- অ্যাভোকাডো: পরিচিত এবং উপকারী ফলের মধ্যে অ্যাভোকাডো অন্যতম উপকারী ফল এর মধ্যে থাইরয়েডের সমস্যা দূর করার ক্ষমতা রয়েছে যার কারণ এই ফলে বিদ্যমান ভিটামিন কে, ফুলেট, ভিটামিন সি, পটাশিয়াম, ভিটামিন বি৫, ভিটামিন বি৬, ভিটামিন ই যা এ রোগীদের জন্য অত্যন্ত উপকারী।
এবার জানুন যে সকল খাবার খাওয়া থেকে এড়িয়ে চলতে হবে যা থাইরয়েড রোগীদের জন্য সমস্যা সৃষ্টি করে এবং এই রোগের সংক্রমণ বৃদ্ধি করে। এই খাবারগুলোর ভিতরে যে খাবারগুলো রয়েছে তাতে প্রচুর পরিমাণ গাইডলাইন থাকে যা থাইরয়েড রোগীদের জন্য অত্যন্ত ভয়াবহ সমস্যা সৃষ্টি করে।
- সোয়াবিন: থাইরয়েড জার্নালে প্রকাশিত একটি গবেষণায় দেখা গেছে যে সোয়াবিন থাইরয়েড রোগীদের জন্য খারাপ অবস্থা সৃষ্টি করে যার ফলে থাইরয়েড ওষুধের শোষণে বাধা প্রাপ্ত হয়।
- বাঁধাকপি, ফুলকপি, ব্রকলি, এবং কিছু সবজি রয়েছে যা অত্যাধিক চর্বি বা ভাজা খাবার গুলো ওষুধের শোষণকে বাধাগ্রস্ত করে।
- কফি এবং চা জাতীয় খাবার খুব কম খেতে হবে যদি কারো থাইরয়েড থাকে। বিশেষ করে খালি পেটে ভোরবেলা।
- পাশাপাশি আপনাকে মিষ্টি জাতীয় ও চিনিজাতীয় খাবার কম গ্রহণ করতে হবে এদের প্রচুর পরিমাণে ক্যালরি থাকায় শরীরে থাইরয়েড সমস্যা বেড়ে যাবে।
- কোটা জাত এবং প্রক্রিয়াজাত খাবার বা স্ক্রাপস, বিস্কুট এবং হিমায়িত কিছু খাবার রয়েছে সেই খাবারগুলো পাশাপাশি উচ্চ সোডিয়াম জাতীয় খাবার গ্রহণ করা যাবে না।
- প্রক্রিয়াজাত আরো কিছু খাবার রয়েছে যেমন দুগ্ধ জাতীয় খাবার দুধ, পনির, প্যাকেটের দুধ, ঘি, মাখন, দই।
উল্লেখিত খাবারগুলো থাইরয়েড সমস্যা থাকলে খাওয়া থেকে বিরত থাকতে হবে কারণ এই সমস্যাগুলো এমন একটি প্রভাব সৃষ্টি করে যা আপনার শরীরের সমস্যা থাকলে সে সমস্যা গুলোকেও বৃদ্ধি করে দেবে। সুতরাং থাইরয়েড সমস্যা থাকলে কি ধরনের খাবার গ্রহণ করতে হবে এবং ধরনের খাবার গ্রহণ করা যাবেন আশা করি এ বিষয়গুলো আপনি ক্লিয়ার বুঝতে পেরেছেন।
থাইরয়েডের ঔষধ খাওয়ার নিয়ম জানুন
থাইরয়েডের ঔষধ খাওয়ার নিয়ম জানা থাকলে আপনি এই ওষুধ নিয়মিত সঠিকভাবে খাবার মাধ্যমে থাইরয়েডের ওষুধ না খেলে কি হয় সেই উপকারিতা জানতে পাবেন। সাধারণত থাইরয়েড সমস্যা সৃষ্টি হয় এই গ্রন্থির ক্ষরণ কমে গেলে এবং অতিরিক্ত বেড়ে গেলে। তাই আপনাকে স্বাভাবিক থাইরয়েড নিয়ন্ত্রণ রাখার জন্য নিচের দেওয়া নিয়মগুলো সম্পর্কে জানা উচিত। থাইরয়েড ওষুধ খাওয়ার নিয়ম আপনার সমস্যাকে সহজে ভালো করতে পারে।
- খালি পেটে খাওয়া: থাইরয়েডের ওষুধ খালি পেটে খাওয়ার সবচেয়ে বেশি কার্যকর সকালে ঘুম থেকে ওঠার পর খাবার গ্রহণের ২০-২৫ মিনিট আগে খেয়ে নিতে হবে।
- পানি দিয়ে সেবন: ওষুধ এক গ্লাস পানিতে নিয়ে পানির সাথে মিশিয়ে খেতে পারবেন তাতে আপনার শরীরে দ্রুত কাজ করবে এবং ভালো ফলাফল দেবে।
- থাইরয়েড রোগীদের সারাজীবন ওষুধ খাওয়ার প্রয়োজন হয় তাই নিয়ম বিষয়ে জানা প্রয়োজন আপনার শরীরে যখন থাইরয়েড সমস্যা থাকবে না বা এর ক্ষরণ সঠিক থাকবে তখন ওষুধ খেতে হবে এবং যখন সমস্যা থাকবে না তখনও খেতে হবে। তবে আপনাকে এই সময়ে অনুযায়ী ডোজ পরিবর্তন করতে হবে যার জন্য চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে হবে।
- সবচেয়ে ভালো ব্যান্ডের ওষুধ খেতে হবে বাংলাদেশে ব্যান্ডের লেভোথাইরক্সিন পাওয়া যায়। ভালো মানের ব্যান্ড নির্বাচন করে খেতে হবে হুট করে কোন ব্যান্ড পরিবর্তন করা যাবে না ডাক্তারের পরামর্শ ছাড়া।
উল্লেখিত বিষয়গুলো মাথায় রেখে খাওয়ার মাধ্যমে উপকারিতা পাবেন। সকালের নাস্তা খাওয়ার আগে খেতে পারবেন। রাতে খাওয়ার সময় খাবার গ্রহণের তিন ঘন্টা পর খাওয়ার অভ্যাস করা ভালো। ওষুধ খাওয়ার আগে হাত ভালোভাবে ধুয়ে নিতে হবে এবং পরিষ্কার পরিচ্ছন্নতা থাকতে হবে। তাহলে আপনি এই ওষুধ খাওয়ার মাধ্যমে সঠিক উপকারিতা পাবেন অনেক সময় মানুষ সঠিক নিয়ম মাফিক ওষুধ না খাওয়ার ফলে সঠিক উপকারিতা পাইনা।
থাইরয়েডের ঔষধের নাম সমূহ জানুন
থাইরয়েডের ঔষধ এর নাম সমূহ জানা উচিত কারণ অনেক সময় থাইরয়েড ওষুধ খাওয়ার সময় ফুরিয়ে গেলে ডাক্তারের সাথে যোগাযোগ না করে সেই ওষুধ কিনে খাওয়ার প্রয়োজন পড়ে সে ক্ষেত্রে আপনি যদি ওষুধের নাম গুলো জেনে রাখেন তাহলে প্রয়োজনমতো কিনে ব্যবহার করতে পারবেন।
- থাইরোকেয়ার ১০০ এম সি জি ট্যাবলেট (Thyrocare 100 mcg tablet).
- থাইরুপ ১০০ ট্যাবলেট (Thyroip 100 tablet).
- লেথাইরিক্স ১০০ এম সি জি ট্যাবলেট (Lethyrox 100 mcg tab)
- থাইরো সি ১০০ এম সি জি ট্যাবলেট (thyrorich 100mcg tab)
সাধারণত থাইরয়েড ওষুধ হিসেবে এগুলো ব্যবহার করা হয় থাইরয়েডের ওষুধের নাম জানা থাকলে আপনি ওষুধ গুলো ব্যবহার করতে পারবেন। তাছাড়া অনেক সময়ই ব্যবহার করার ফলে নাম মনে থাকে এবং সেই নাম অনুযায়ী ব্যবহার করা যায় তবে আপনি যদি মনে না থাকে সে ক্ষেত্রে থাইরয়েডের এই ওষুধ গুলো ব্যবহার করতে পারবেন চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী।
থাইরয়েড ওষুধের পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া সমূহ জানুন
থাইরয়েড ওষুধের পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া সমূহ আমাদের জানা উচিত কারণ এই ওষুধ যাদের থাইরয়েড সমস্যা রয়েছে তারা সারা বছর ব্যবহার করে। কিছু মানুষ রয়েছে যাদের থাইরয়েড গ্রন্থি থেকে হরমোন কম নিঃসৃত হয়। আবার কিছু মানুষ রয়েছে থাইরয়েড গ্রন্থি থেকে হরমোন অতিরিক্ত নিঃসৃত হওয়ার ফলে তাদের সমস্যা সৃষ্টি হয়। ২ পর্যায়েই থাইরয়েডের সমস্যা সৃষ্টি করতে পারে এর জন্য আপনাকে ওষুধ খেতে হবে নিয়ম মাফিক এছাড়া নিচের এই সমস্যাগুলো হতে পারে।
- ক্ষুধা বৃদ্ধি।
- ওজন বৃদ্ধি বা হ্রাস।
- শরীরের তাপ সংবেদনশীলতা সৃষ্টি।
- অত্যাধিক ঘামের সমস্যা।
- মাথা ব্যথার সমস্যা।
- হৃদপিন্ডের সমস্যা উচ্চ, রক্তচাপের সমস্যা।
- মানসিক অশান্তি ও মেজাজ খিটখিটে হয়ে যাওয়া।
- প্রদাহ বৃদ্ধি পাওয়া এবং কোষ্ঠকাঠিনের মত সমস্যা সৃষ্টি হওয়া।
থাইরয়েড ওষুধের পার্শ্ব প্রতিক্রিয়া হিসেবে এই সমস্যাগুলো হতে পারে যদি অতিরিক্ত ব্যবহার করেন এবং নিয়ম অনুযায়ী ডাক্তারের পরামর্শ গ্রহণ না করেন। থাইরয়েড সমস্যাগুলো থেকে বাঁচার জন্য আপনাকে ডাক্তারের পরামর্শ গ্রহণ করতে হবে এবং সে পরামর্শ অনুযায়ী নিয়ম অনুসরণ করে যদি আপনি থাইরয়েডের ওষুধ সেবন করেন তাহলে এর সঠিক উপকারিতা পাওয়া যাবে এবং থাইরয়েড সমস্যা নিয়ন্ত্রণে আনা যাবে।
থাইরয়েড কি ভালো হয় জানুন সে বিষয়ে
থাইরয়েড কি ভালো হয় এটা অনেকে জানতে চাই। তাদেরকে আমি সংক্ষেপে এ কথাই বলবো যে বিভিন্ন পরীক্ষা-নিরীক্ষা এবং ডাক্তারের পরামর্শ অনুযায়ী জানা যায় যে, একজন মানুষের যদি কখনো থাইরয়েডের সমস্যা সৃষ্টি হয় তাহলে এই সমস্যা সম্পূর্ণরূপে ভালো হয় না। তবে এটি নিয়ন্ত্রণে রাখা যায় বিভিন্ন ধরনের ওষুধ ব্যবহার করে নিয়ম অনুযায়ী। আপনার বিভিন্ন প্রাকৃতিক উপায় রয়েছে যেগুলো উপকার করে থাইরয়েড রোগের ক্ষেত্রে।
সাধারণত থাইরয়েড সমস্যা এই একটি গ্রন্থি থেকে নিষ্কৃত রসের উপর নির্ভর করে রস বলতে হরমোন যা থাইরয়েড গ্রন্থি থেকে নিঃসৃত হয় যা অতিরিক্ত ক্ষরণ হলে সমস্যা সৃষ্টি হয় এবং কম পরিমাণ ক্ষরণ হলেও সমস্যা সৃষ্টি হয়। সুতরাং আপনাকে থাইরয়েডের সমস্যা থেকে বাঁচার জন্য নিয়মিত সারাজীবন ওষুধ খেতে হতে পারে। সেই জন্য আপনাকে থাইরয়েডের সমস্যা প্রকৃত ভাবে সমাধান করার জন্য চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে হবে।
আরো পড়ুনঃ কোমরের ব্যথা কমানোর ১০টি ঘরোয়া উপায় জেনে নিন
কিছু ক্ষেত্রে থাইরয়েড জড়িত সমস্যা যদি সাময়িকভাবে হয় বা ক্ষণস্থায়ী ভাবে হয় বিভিন্ন ভাইরাস জড়িত সংক্রমণ থেকে সে ক্ষেত্রে এটি নিজে নিজে ভালো হয়ে যেতে পারে বা চিকিৎসা গ্রহণ করার প্রয়োজন হতে পারে। তবে বেশিরভাগ ক্ষেত্রে স্বাস্থ্যকর খাবার এবং সঠিক নিয়ম অনুসরণ করলে এ সমস্যা থেকে ভালো হওয়া যায়। এ সমস্যা থেকে স্বাভাবিক অবস্থায় ভালো হওয়ার জন্য আয়োডিনযুক্ত খাবার গ্রহণ করতে হবে সুষম খাদ্য এবং মানসিক চাপ দূরে রাখতে হবে।
ঔষধ ছাড়া থাইরয়েড কমানোর উপায় জানুন
ঔষধ ছাড়া থাইরয়েড কমানোর উপায় রয়েছে যে উপায় গুলো ব্যবহার করে আপনি প্রাথমিক অবস্থায় থাইরয়েড সমস্যা নিয়ন্ত্রণ করতে পারবেন। থাইরয়েডের সমস্যা সাধারণত দুই ধরনের হয়ে থাকে যা অতিরিক্ত থাইরয়েড গ্রন্থি থেকে হরমোন নিঃসৃত হওয়ার কারণে হয়। আবার এই থাইরয়েড গ্রন্থি থেকে হরমোন ক্ষরণ যখন কম হয়ে যায় সে ক্ষেত্রেও বিভিন্ন সমস্যা দেখা দেয়।
আর আপনি ওষুধ ছাড়া এই হরমোনের সমস্যা দূর করার জন্য যে কাজটি করতে পারেন তা হচ্ছে বিভিন্ন ধরনের খাদ্য তালিকা রয়েছে যা আপনাকে এই সমস্যা থেকে বাঁচাতে সাহায্য করবে। আবার কিছু খাবার রয়েছে যে খাবার গুলো এড়িয়ে চলতে হবে। তাহলে আপনাকে একটি কাজ করতে হবে সেটা হচ্ছে নিয়মমাফিক খাবার গ্রহণ করতে হবে কি খাবার গ্রহণ করলে আপনার এই সমস্যা থেকে বাঁচতে পারবেন তা সম্পর্কে ইতিমধ্যেই উপস্থাপন করেছি।
আয়োডিনযুক্ত খাবার গ্রহণ করতে হবে তার মধ্যে ডিম, লবণ, সেলেনিয়াম জাতীয় খাবার, জিংক জাতীয় খাবার, ম্যাঙ্গানিজ জাতীয় খাবার, ভিটামিন সি, সহ আরো যে খাবারগুলো রয়েছে যেগুলো থাইরয়েড সহযোগী যে খাবারগুলো গ্রহণ করার ফলে আপনার শরীরের থাইরয়েড গ্রন্থির হরমোন ক্ষরণ নিয়ন্ত্রণ থাকবে তা গ্রহণ করতে হবে এর জন্য আপনি চিকিৎসকের কাছে পরামর্শ গ্রহণ করতে পারেন।
থাইরয়েড নরমাল কত সকল বয়সের মানুষের ক্ষেত্রে জানুন
থাইরয়েড নরমাল কত সকল বয়সের মানুষের ক্ষেত্রে এটা আমাদের জানা উচিত কারণ থাইরয়েডের ক্ষরণ প্রতিটা মানুষের শরীরে হয়ে থাকে। এই গ্রন্থি থেকে নিঃসৃত হরণ মানুষের অনেক কার্যক্রোগ্রাফ নিয়ন্ত্রণ করতে পারে। সেজন্য যদি কখনো এই ক্ষরণ তারতম্য ঘটে তাহলে স্বাভাবিক বিভিন্ন সমস্যা সৃষ্টি হয়। প্রথম অবস্থায় হালকা সমস্যা সৃষ্টি হলেও পরবর্তীতে এর সমস্যার প্রখর আকার ধারণ করতে পারে। সেজন্য জানুন থাইরয়েডের নরমাল কত।
- অকাল শিশুদের স্বাভাবিক TSH মাত্রা (যাদের বয়স ২৮ থেকে ৩৬ সপ্তাহ) ৭-২৬ mlU/L
- শিশুদের মধ্যে স্বাভাবিক TSH স্তর বা মাত্রা (জন্ম থেকে চার দিন পর্যন্ত) ১-৩৮ mlU/L
- প্রাপ্তবয়স্কদের মধ্যে সাধারণ TSH স্তর বা মাত্রা (২১-৫৪ বছর বয়সের) ০.৪-২mlU/L
- গর্ভাবস্থায় স্বাভাবিক TSH স্তর বা মাত্রা (প্রথম তিন মাস) ০.৩-৫mlU/L
উল্লেখিত তথ্যগুলো থেকে বুঝতে পেরেছেন যে কোন বয়সের মানুষের কি ধরনের থাইরয়েড পরিমাণ বা নরমাল থাকলে কি ধরনের পরিমাণ হতে পারে। এ বিষয়টা অনেকেই জানতে চাই তাই আপনাদের কাজ কি সুবিধা করে দেওয়ার জন্য এই তথ্যগুলো উপস্থাপন করলাম এবং দেখালাম যে কি ধরনের মাত্রাকে স্বাভাবিক মাত্রা হিসেবে বিবেচনা করা হয় এবং এ মাত্রা কোন ধরনের বয়সের মানুষের ক্ষেত্রে কি পরিমাণ নির্ধারণ করা হয়েছে তা উপস্থাপন করে দেখালাম।
থাইরয়েডের ওষুধ না খেলে কি হয় তা নিয়ে শেষ মন্তব্য
থাইরয়েডের ওষুধ না খেলে কি হয় এটা যারা জানেন না তারা ইতিমধ্যে হয়তো বিষয়টা বুঝতে পেরেছেন। থাইরয়েড শরীরের একটি গ্রন্থির নাম কে বলা হয় যার মধ্যে বিশেষ ক্ষমতা দেওয়া থাকে এই গ্রন্থি থেকে নিঃসৃত হরমোন আপনার শরীরের বিভিন্ন কার্যক্ষমতা উন্নত করার জন্য এবং শরীরের ক্ষমতাকে স্বাভাবিক রাখার জন্য কাজ করে।
এ ক্ষরণের যদি তারতম্য ঘটে তাহলে আপনার শরীরে বিভিন্ন সমস্যা দেখা দিতে পারে যে সমস্যাগুলোর কথা আলোচনা করেছি। পাশাপাশি আপনি সমস্যা চিরতরে মুক্ত করতে পারবেন না প্রাথমিক অবস্থায় চিকিৎসা করলে চিরতরের মুক্তা হয় কিন্তু বেশিরভাগ ক্ষেত্রে থাইরয়েড ওষুধ না খেলে সমস্যা বৃদ্ধি করে তাই চিরজীবন ওষুধ খাওয়র প্রয়োজন পড়ে অনেক ক্ষেত্রে এবং এর থেকে বাঁচার জন্য নিয়ম মাপিক চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী ওষুধ গ্রহণ করতে হয়।
মুক্তআঁখি আইটির নীতিমালা মেনে কমেন্ট করুন। প্রতিটি কমেন্ট রিভিউ করা হয়।
comment url