বুখারী শরীফের পূর্ণ নাম কি - বুখারী শরীফের বৈশিষ্ট্য জানুন

বুখারী শরীফের পূর্ণ নাম কি অনেকেই জানেনা? বুখারী শরীফের কিছু বৈশিষ্ট্য রয়েছে। যে বৈশিষ্ট্যগুলোর কারণে বুখারী শরীফ এতটা পরিচিতি পেয়েছে এবং বিশ্বাসযোগ্যতা অর্জন করছে। আজকে আমরা জানবো ইমাম বুর্খারী সম্পর্কে যে তথ্যগুলো সকলের জানা উচিত কারণ এগুলো জ্ঞান বৃদ্ধি করতে সাহায্য করে।

বুখারী শরীফের পূর্ণ নাম কি - বুখারী শরীফের বৈশিষ্ট্য

আমরা অনেকে বুখারী শরীফের বিভিন্ন হাদিস মুখস্ত করি এবং অনুসরণ করি। প্রায় সকল মানুষই বুখারী শরীফের হাদিস গুলোকে সহি হাদিস বলে বিবেচনা করে। তাই বুখারী শরীফকে সহি বুখারী বলে ডাকা হয়। আজকের এই পোস্টটিতে বুখারী শরীফের লেখক এর নাম কিছু হাদিস এবং এর বৈশিষ্ট্য বিস্তারিত জানবো। 

পোস্ট সুচিপত্রঃ বুখারী শরীফের পূর্ণ নাম কি - বুখারী শরীফের বৈশিষ্ট্য জানুন

বুখারী শরীফের পূর্ণ নাম কি জানুন 

বুখারী শরীফের পূর্ণ নাম কি জানেন কি? আপনি যদি বুখারী শরীফ পড়তে পছন্দ করেন এবং এর হাদিস অনুযায়ী বিভিন্ন আমল করতে চান, তাহলে অবশ্যই জানতে চাইবেন বুখারী শরীফের সম্পর্কে বিভিন্ন ইতিহাস। বুখারী শরীফ অত্যন্ত মর্যাদা সম্পন্ন কালজয়ী একটি গ্রন্থ। যেই গ্রন্থটি অনেক জ্ঞান অর্জনকারী করে মহানবীর দেওয়া হাদিস গুলো সংগ্রহ করে লিখ হয়েছে।

সেই দৃষ্টিকোণ থেকে বুখারী শরীফ একটি সহি হাদিস বলে বিবেচনা করা হয়। বুখারী শরীফের পুরো নাম হল আল জামি আল সহীহ আল মুসনাদ মিন উমরী রাসুলুল্লাহ ওয়াজ সুনানিহি ওয়া আইয়ামিহি। আবুল ফজর মুহাম্মদ বিন তাহার থেকে বর্ণিত তিনি বলেন, বুখারী শরীফ বুখারাই বসে লেখক রচনা করেছেন শেষ সময়ে। সেই দৃষ্টিকোণ থেকে নাম বুখারী শরীফ বা সহি বুখারী হিসেবে পরিচিত পায়।

এই বিখ্যাত বুখারী শরীফ এর পূর্ণ নাম জানলেন এবার হয়তো আপনি জানতে চাইবেন যে বুখারী শরীফের লেখক এর নাম কি? কারণ অনেক মানুষই রয়েছে যারা বুখারী শরীফ মুখস্ত করে এবং সেই অনুযায়ী আমল করে। কিন্তু বুখারী শরীফের লেখক কে এটা জানে না, আবার অনেকেই জানেন। তাই নিচে আপনাদের সুবিধার্থে এই বিখ্যাত গ্রন্থের লেখ এবং হাদিস সংগ্রহকারীর নাম উপস্থাপন করবো। তাহলে চলুন সেই হাদিস সংগ্রহকারীর নাম জানি যে কিনা বুখারী শরীফ রচনা করেছে। 

বুখারী শরীফের লেখক এর নাম কি জানুন 

বুখারী শরীফের পূর্ণ নাম কি ও বুখারী শরীফের লেখক এর নাম কি জানা না থাকলে জানুন, কারণ বুখারী শরীফ বিখ্যাত হাদিসের ভিতরে একটি যা বিশ্বের সকল ফেরকার মানুষই বিশ্বাস করে। বুখারী শরীফের সেই বিখ্যাত হাদিসগুলো আজও মানুষ পালন করে এবং বুখারী শরীফ মুখস্ত করে। ইমাম বুখারী মহানবী ওফাতের প্রায় ২০০ বছর পরে জন্মগ্রহণ করেন। তিনি তার সমস্ত জীবনে যত হাদিস সংগ্রহ করেছেন সে হাদিসগুলোর সত্যতা যাচাই করে তিনি একটি বই লিখেন।

আরো পড়ুনঃ ইমাম আবু হানিফার জীবনী - ইমাম আবু হানিফার পীর কে ছিল জানুন

যে বইটি বর্তমানে বুখারী শরীফ। এ মহামূল্যবান হাদিস গুলো সংগ্রহ করার জন্য তাকে বিশ্বের মানুষ মহান জ্ঞানী এবং ধার্মিক বলে বিবেচনা করে। তার দেওয়া মহা স্মরণীয় সেই হাদিস গুলো এখন মাদ্রাসায় এবং জ্ঞান চর্চা করার মত স্থানে বলা হয়। বিভিন্ন মসজিদের ইমামদের বক্তৃতাই এগুলো উল্লেখ করেন। অনেক পীর ফকির রয়েছে যারা এ হাদিসগুলো বিভিন্ন ব্যাখ্যা এবং ইবাদতের বিষয় সম্পর্কে বোঝানোর জন্য উপস্থাপন করে। 

এই মহামূল্যবান হাদিস গুলো সংগ্রহ করে যিনি উপস্থাপন করেছেন তার নাম হলো ইমাম বোখারী। তিনি বুখারী শরীফের হাদিসগুলো নিজে সংগ্রহ করে তার সত্যতা যাচাই করে লিখেছেন। তিনি বিভিন্ন দেশে হাদিস সংগ্রহ করার জন্য গিয়েছেন। তিনি প্রথম অবস্থায় তার ওস্তাদের কাছে জ্ঞান অর্জন করেছেন এবং পরবর্তী সময়ে তিনি আরো অনেক আলিম এবং মাওলানা কাছ থেকে হাদিস সংগ্রহ করেছেন। সেই জন্য তাকে বলা হয় যে, তিনি এতটাই জ্ঞানী ছিলেন যে, একটি হাদিস একবার শুনলে তা মনে রাখতে পারতো সারা জীবন।

বুখারী শরীফের হাদিস সংখ্যা কতটি জানুন 

বুখারী শরীফের হাদিস সংখ্যা কতটি প্রায় সবাই জানে। বুখারী শরীফে যে হাদীসগুলো রয়েছে সে হাদিসগুলোকে সহিহ হাদিস হিসেবে বর্ণনা করা হয়। কারণ এই হাদিসগুলো বুখারী নিজেই তার গ্রন্থে সত্যতা যাচাই করে উপস্থাপন করেছে। তিনি তার হাদিসগুলোকে সংখ্যা আকারে প্রকাশ করেছেন যার সংখ্যা অনুপাত দাঁড়িয়েছে ৭৫৬৩।

তিনি ৬ লক্ষ হাদিস সংগ্রহ করেন বিভিন্ন দেশ ভ্রমণ করার পর এবং সেখান থেকে নিরলসভাবে তার সত্যতা যাচাই করে সেই হাদিসগুলোকে প্রণয়ন করেন এবং বিশ্বের মুসলিম সমাজের মধ্যে একটি আরোলণ তৈরি করে। যা বিশ্বের মানুষের কাছে এক বিশেষ উপহার। তিনি এতটাই নিরলস ভাবে ইসলামের জন্য সময় দিয়েছেন যে তার সংসার জীবন বা বিবাহিত জীবন করার মত সময় বা পরিবেশ কোনটাই সৃষ্টি হয়নি।

আরো পড়ুনঃ ইমাম বুখারীর জন্ম কত হিজরীতে এবং এর সংক্ষিপ্ত জীবনী জানুন

বুখারীর আসল নাম কি এটা অনেকে জানতে চাই আসলে বুখারী শরীফ হচ্ছে একটি নির্ভেজাল হাদিস যা ইমাম বুখারী নিজেই রচনা করেছেন বুখারায় বসে। এবং তিনি বিভিন্ন দেশের মধ্যে মিশর, ইরান, ইরাকের মতো দেশগুলোতে হাদিসের জন্য বিভিন্ন মাওলানাদের সাথে যোগাযোগ করেছেন। এমনও সময় গেছে যার জন্য তাকে একটি হাদিস সংগ্রহ করার জন্য কয়েক মাস বা কয়েক বছর সময় ব্যয় করতে হয়েছে।

ইমাম বুখারীর ওস্তাদের নাম কি জানেন?

ইমাম বুখারীর ওস্তাদের নাম কি জানা আছে যদি না থাকে তাহলে জেনে নিন। ইমাম বুখারী একজন বিশিষ্ট ইসলামিক চিন্তাবিদ এবং অত্যন্ত বড় মাপের পন্ডিত ছিলেন। তিনি ইসলাম ধর্মের এক উজ্জল নক্ষত্র হিসেবে পরিচিত। তিনি তার জীবনের বিশেষ কোন কাজের সাথে জড়িত না থেকে সম্পূর্ণ মনোযোগের সাথে ইসলাম ধর্মের হাদিস সংগ্রহের কাজ করেছে।

আরো পড়ুনঃ মেরাজের ঘটনা কোন সূরায় আছে জানুন সূরা মেরাজ সম্পর্কে 

বিখ্যাত ইমাম বুখারী যেই ওস্তাদের অনুপ্রেরণায় এই মহৎ কাজ করার সৌভাগ্য লাভ করেছে সেই মহান ব্যক্তিটির নাম ওস্তাদ ইসহাক বিন রাহওয়াই। এই মহান মানুষটি ইমাম বুখারীকে জ্ঞান দান করে এবং তার জ্ঞান সারাবিশ্বের মানুষের কাছে পৌঁছে যায়। বর্তমান ইসলাম গবেষকরা ও তার হাদিস গুলোকে সহি হিসেবে দাবি করেন এবং বিভিন্ন সময় এবং পরিবেশে তা উপস্থাপন করেন।

ইমাম বুখারীর ছবি দেখুন 

ইমাম বুখারীর ছবি দেখে অনেকেই ধারণা করতে পারে সে সময়ে ইমাম বুখারী কেমন ছিলেন। যদিও ইমাম বুখারীর সময়ে কোন ধরনের ক্যামেরা বা ডিজিটাল বুদ্ধি ব্যবস্থা ছিল না। তবুও মানুষ তার ছবি দেখে তা নকশা বা চিত্র অঙ্কন করে রেখেছিল সেই সময়ের তথ্য অনুযায়ী যেই চিত্র এবং ছবিগুলো পাওয়া যায় তা আপনাদের সামনে উপস্থাপন করলাম যা দেখে আপনি ধারণা নিতে পারবেন।

ইমাম বুখারীর ছবি

ইমাম বুখারী একজন জনপ্রিয় মানুষ তার ছবি দেখে মানুষ বিভিন্ন রকমের অনুপ্রেরণা পেতে পারে কারণ সেই সময় একজন বিখ্যাত ইসলাম গবেষক। তিনি তার গবেষণার মধ্যে দিয়ে প্রকাশ করেছেন যে তিনি কত বড় মাপের একজন জ্ঞানী। তার সংগ্রহ করা হাদিসের মধ্যে উল্লেখযোগ্য একটি হাদিস যা আপনাদের সামনে উপস্থাপন করব সেটি হল। রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন পবিত্র নামাজ বেহেশতের চাবি। যারা পবিত্র হইয়া নামাজ আদায় করে তাহারা সফল।

সহি বুখারী শরীফ সব খন্ড দাম কত জানুন 

সহি বুখারী শরীফ সব খন্ড দাম কত জানা থাকলে আপনি যদি এই বইগুলো সকল খন্ড সংগ্রহ করতে চান তাহলে আপনার কি পরিমাণ টাকা খরচ হতে পারে তা জানতে পারবেন। একজন ধর্মপ্রিয় মানুষ অনেক লেখকের বই পড়তে পছন্দ করে সেই দৃষ্টিকোণ থেকে সহীহ বুখারী অত্যন্ত দামী এবং উচ্চমানের একটি হাদিসের বই। আপনি যদি এই উচ্চমানের সহি বুখারী সংগ্রহ করতে চান/? জ্ঞান অর্জনের জন্য তাহলে আপনাকে যে পরিমাণ টাকা খরচ করতে হবে তার পরিমাণ ৫০০-১০০০ হতে পারে।

আরো পড়ুনঃ রমজানের সময়সূচী ২০২৪ এবং রমজানের সময়সূচী ২০২৫ জেনে নিন

সহি বুখারী অত্যন্ত জনপ্রিয় যদিও এই বইগুলো অনেক আগের যা বহুবছর আগে থেকে বিভিন্ন মানুষের কাছে ছড়িয়ে ছিটিয়ে রয়েছে। সেগুলো একত্রে করা হয় খন্ড আকারে যা ৯ থেকে ১০ টি খন্ডে বিভক্ত করা হয়েছে। তাই আপনি সেই সকল খন্ড গুলো সংগ্রহ করতে পারবেন যা বিভিন্ন পরিবেশ এবং স্থানভেদে দামের পরিমাণ কম বেশি হতে পারে। 

সহি বুখারী শরীফ নামাজ অধ্যায় জানুন 

সহি বুখারী শরীফ নামাজ অধ্যায় জানা উচিত কারণ বুখারী শরীফের নামাজ সম্পর্কে যে তথ্য গুলো উপস্থাপন করেছে সেগুলো অত্যন্ত উপকারী। সহি বুখারীর নামাজ অধ্যায় একটি বিস্পষ্ট কথা বলেছেন যেটা নামাজের পূর্ব শর্ত হিসেবে বিবেচনা করা হয়। একজন মানুষ তখনই নামাজ আদায় করতে পারবে এবং সে নামাজটি গ্রহণযোগ্য হবে। যখন সে পবিত্র হবে এবং পবিত্র হয়ে নামাজ আদায় করবে। 

সহি বুখারী শরীফের মধ্যে বলা হয়েছে পবিত্র নামাজ বেহেশর চাবি। সুতরাং বলা যায় একজন মানুষ পবিত্র নামাজ না পড়া শিখতে পারলে সে কখনোই নামাজের আসল রহস্য বা স্বাদ গ্রহণ করতে পারবে না। এই কথাটি বিশ্লেষণ এভাবে করেন বিভিন্ন ইসলাম গবেষকেরা যে, কেউ যদি নামাজ পড়ে বেহেশতে যেতে চাই বা নামাজ পড়ে আল্লাহ নৈকট্য পেতে চায় তাহলে অবশ্যই তাকে পবিত্র নামাজ পড়তে হবে। 

এছাড়া কুরআনের ভিতরে বলা হয়েছে সূরা মারিজে ২৩ নম্বর আয়াতে যা অত্যন্ত সূক্ষ্মভাবে বিবেচনা করতে হবে। আপনি যদি সূক্ষ্মভাবে বিবেচনা করেন তাহলে বুঝতে পারবেন যে সূরা মারিজ এর ২৩ নাম্বার আয়াতে বলেছে তাহারাই মুসল্লি যারা ২৪ ঘন্টা দয়ামি সালাতে দন্ডায়মান। সুতরাং বলা যায় নিজের ভিতরে নামাজ প্রতিষ্ঠিত করতে হবে সার্বক্ষণিক। এই প্রতিষ্ঠিত অবস্থায় নিজেকে নিয়ে যাওয়ার জন্য পবিত্রতা অর্জন করতে হবে হৃদয় থেকে এবং হৃদয়ের পবিত্রতা অর্জন করার পর নামাজ পড়তে হবে। 

বুখারী শরীফের বৈশিষ্ট্য সমূহ জানুন 

বুখারী শরীফের বৈশিষ্ট্য সমূহ অত্যন্ত আকর্ষণীয় কারণ বুখারী শরীফের প্রতিষ্ঠাতা ইমাম বুখারী তিনি নিজেই বিভিন্ন মহানবীর জীবনে ঘটে যাওয়া হাদিস গুলো সংগ্রহ করে বুখারী শরীফ প্রতিষ্ঠা করেন। তিনি ৬ লক্ষ হাদিসের মধ্যে থেকে বিভিন্ন গবেষণা এবং পর্যালচনা করার মাধ্যমে যে হাদিসগুলো উপনীত করে সে সেগুলো চিরন্তন সত্য এবং বিশ্বাসযোগ্য বলে মনে করা হয়।

ইমাম বুখারী দীর্ঘ ১৮ বছর এই হাদিস সংগ্রহের কাজ করেছেন বিভিন্ন দেশ ঘুরে। তার মেধা এতই সূক্ষ্ম এবং তীক্ষ্ণ ছিল যে তিনি তা সকল কিছু নির্ভুলভাব সংগ্রহ করার পর তা গ্রন্থ আকারে মানুষের কাছে পৌঁছে দিয়েছে। যা বর্তমান যুগের হাফেজ এবং মাওলানা মুখস্ত করে হাফিজ হয়। আরো একটি অন্যতম বৈশিষ্ট্য হচ্ছে, বুখারী শরীফ ইমাম বুখারীর নিজে তার জীবনের বিনিময়ে বা জীবনের সকল সময়ের বিনিময়ে অর্জন করেছে।

আরো পড়ুনঃ ইসলামী আন্দোলনের কর্মীদের ত্যাগ ও কুরবানী নিয়ে দায়িত্ব এবং কর্তব্য

যদিও ইমাম বুখারী মহানবী সাঃ উফাতের প্রায় ২০০ বছর পর জন্মগ্রহণ করেন তারপর থেকে শুরু করে। বড় হওয়ার পর তিনি তার জীবনের সকল সময় হাদিস সংগ্রহ করার পিছনে দিয়েছে। তিনি একমাত্র সেই সময়ের বা বর্তমানেও এত হাদিস সংগ্রহ করার মতো তেমন বেশি আলেম পাওয়া যায়নি। কিছু জিনিস রয়েছে যেগুলো আল্লাহ প্রদত্ত হয়ে থাকে তাই সেই দৃষ্টিকোণ থেকে ইমাম বুখারী আল্লাহ প্রদত্ত মহানবীর হাদিসগুলো এবং আল্লাহর নিদর্শন গুলো মানুষের মাঝে সমান এবং সুন্দরভাবে উপস্থাপন করেন।

বুখারী শরীফ হাদিস বাংলা জানুন 

বুখারী শরীফ হাদিস বাংলা অনুবাদ সহকারে আপনি দেখে নিতে পারেন। যে হাদিস গুলো দেখে আপনি খুব সহজেই বুঝতে পারবেন যদি আপনি বাঙালি হন। বর্তমানে বুখারী শরীফের হাদিস গুলো বিভিন্ন ভাষায় অনুবাদ করে সেই সেই দেশের ভাষা অনুযায়ী তাদেরকে পড়ার জন্য দেওয়া হয়। বাংলাদেশে বাংলা ভাষার মানুষ বেশি তাই বাংলা ভাষার সহি বুখারী জানতে চাই।

হাদিসঃ রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে ইরশাদ করতে শুনেছি প্রত্যেক কাজ নিয়তের সাথে সম্পর্কিত। আর মানুষ তার নিয়ত অনুযায়ী ফল পাবে তাই যার হিজরত হবে দুনিয়া লাভের অথবা কোন নারীকে বিয়ে করার উদ্দেশ্যে সেই উদ্দেশ্যই হবে তার হিজরতের প্রাপ্য যা সে মনে করেছিলো। নিয়ত অর্থ মনে মনে চিন্তা করা, উদ্দেশ্য ঠিক করে কাজ করা। হিজরত অর্থ যেকোনো স্থানে যে কোন যেকোন পরিবেশে থেকে আল্লাহ তায়ালার দিন পালন করা দুষ্কর হলে আল্লাহ তায়ালার আদেশ মতে সেই স্থান বা সেই পরিবেশ ত্যাগ করা।

বুখারী শরীফ হাদিস বাংলা

সেই যুগে মক্কায় মুসলমানগন তাদের ধর্ম-কর্ম অনুষ্ঠানে বাধাপ্রাপ্ত হওয়ায় আল্লাহ তায়ালার তরফ হতে তাদেরকে পবিত্র মক্কা নগরী ছেড়ে মদিনায় যেতে বলা হয়েছিল। হাদিসের ভাষায় এই মহান কাজকে হিজরত বলা হয়। মহানবীর অনেক মূল্যবান হাদিস রয়েছে যেমন, সঠিক পরিশ্রম জায়গায় পৌঁছাতে সক্ষম করে। তাই আপনি পরিশ্রম বা ইবাদত করে যান কিন্তু আমল বা ফলাফলের আশা করেন না কারণ মহানবী তা নিষেধ করেছে। কারণ জন্মের আগে তকদির নির্ধারিত যদি কারো জন্মের আগেই নির্ধারণ করা থাকে তাহলে সেটা অবশ্যই হবে।

যদি একজন বাঙালি হয়ে থাকেন তাহলে অবশ্যই বুখারীর হাদিস গুলো বাংলা ভাষায় পড়তে চাইবেন। বাংলা ভাষায় একটি হাদিস আপনাদেরকে ইতিমধ্যে জানিয়েছি এছাড়াও অনেক হাদিস বাংলা ভাষায় রয়েছে যেগুলো সহীহ বুখারী শরীফ থেকে অনুবাদ করা। বুখারী এতটাই জনপ্রিয় হাদিস সংগ্রহকারীর তালিকায় একজন যে তার হাদিস অত্যন্ত সহি বলে বিবেচনা করা হয়। 

বুখারী শরীফ বাংলা ভাষায় বিভিন্ন হাদিস রয়েছে যেগুলো বাঙালি ভাষার মানুষগুলো সহজেই বুঝতে পারে। আপনি যদি এখন বাঙালি হিসেবে বাংলা ভাষা সহি বুখারী শরীফ পড়তে চান তাহলে বিভিন্ন বাজার এবং দোকানে বা বর্তমান অনলাইন ওয়েবসাইটগুলোতেও পাওয়া যায় যেগুলো আপনি দেখতে পারেন এবং সেখান থেকে কিনে সংরক্ষণ করতেও পারেন। এছাড়া অনলাইনে আপনি বিভিন্ন বুখারী শরীফের বাংলা হাদিস খন্ড আকারে পড়তে পারবেন।

সহিহ হাদিস বুখারী শরীফ সম্পর্কে বিশেষ তথ্য জানুন 

সহি হাদিস বুখারী শরীফ সম্পর্কে বিশেষ তথ্য জানা উচিত কারণ সহীহ বুখারী এতটাই বিশ্বাসযোগ্য একটি গ্রন্থ যা বর্তমান বিশ্বের মুসলমান সমাজের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়। বিভিন্ন হাদিস চিন্তাবিদ রয়েছে যারা বিভিন্ন সময় বিভিন্নভাবে হাদিস সংগ্রহ করে তা বিভিন্ন মানুষের মাঝে ইসলামের প্রসার এবং প্রচারে জন্য সংগ্রহ করে তা মানুষের কাছে পৌঁছে দিয়েছে। সেই দৃষ্টিকোণ থেকে সহি হাদিস বুখারী শরীফ অত্যন্ত মর্যাদা সম্পন্ন।

সহি হাদিস বুখারী শরীফের মধ্যে যে হাদীসগুলো উল্লেখ করা হয়েছে তার প্রত্যেকটি হাদিস। সঠিক এবং নির্ভুল মনে করা হয় সহি বুখারী শরীফ এতটাই সত্য। তবে বিভিন্ন মানুষ এই সহি বুখারী শরীফের হাদিস গুলো বিভিন্নভাবে প্রকাশ করে এর সত্যতা মানুষের কাছে বর্তমানে এক নতুন পর্যায়ে চলে গেছে। বিভিন্ন ধরনের মতবাদ রয়েছে যারা বিভিন্ন ধরনের হাদিস উপস্থাপন করেন এবং সেগুলো পালন করার নির্দেশ দেয়। সেই দৃষ্টিকোণ থেকে সহি বুখারী শরীফ ভেজাল মুক্ত। 

হযরত ইমাম বোখারী তারা জীবনের সমস্ত সময় ব্যয় করেছেন হাদিস সংগ্রহ করার পিছনে। তার জীবনের একটি নেশা ছিল হাদিস সংগ্রহ করা যা তিনি পরবর্তী সময়ে এই সহীহ বুখারী হিসেবে মানুষের মাঝে উপস্থাপন করেছে। সহি হাদিস যা সত্য বলে বিবেচনা করা হয়। মহানবী আল্লাহর নির্দেশে যেই কথাগুলো মানুষ কল্যাণের জন্য বলেছেন সেগুলোই বিভিন্ন সময়ে মানুষ সংগ্রহ করে হাদিস হিসেবে উপস্থাপন করেছে। যে কথাগুলো মহানবী তার উম্মদের জন্য বলতেন সেগুলো হাদিস হিসেবে বিবেচনা করা হয়। 

এছাড়া যেই ইসলামিক জ্ঞান গুলো আল্লাহ তায়ালার পক্ষ থেকে এবং ওহীর মাধ্যমে তা পরে সেগুলো কোরআন হিসেবে বিবেচনা করা হয়। কারণ কুরআনের কথাগুলো আল্লাহতালা নিজে তার রাসুলের মাধ্যম দিয়ে বলেছেন। যেন প্রত্যেকটা তার সৃষ্টিকর্তার ইবাদত করতে পারে এবং সৃষ্টিকর্তার উপহার গুলো গ্রহণ করতে পারে। আপনি যদি একজন সঠিক নেক বান্দা হয়ে থাকেন তাহলে অবশ্যই সহি বুখারী শরীফের সকল হাদিসগুলো বিবেচনা করে পালন করবেন। 

সহি বুখারী শরীফের পূর্ণ নাম কি ও বুখারী শরীফের বৈশিষ্ট্য নিয়ে শেষ মন্তব্য

বুখারী শরীফের পূর্ণ নাম কি আমরা জেনেছি যা অনেকেরই অজানা ছিল। বুখারী শরীফের বিভিন্ন হাদিস সংখ্যা সম্পর্কে এবং সে হাদিসগুলো অত্যন্ত জনপ্রিয়। একজন মানুষ বিভিন্ন বৈশিষ্ট্য থাকার কারণে বুখারী শরীফের মধ্যে বিশ্বস্ততা অর্জন করে। তার মধ্যে উল্লেখযোগ্য হচ্ছে বুখারী শরীফের হাদিস গুলো ইমাম বুখারীর নিজে সংগ্রহ করেছেন এবং তা লিখেছেন। তার এই হাদিস সংগ্রহের তাদের জন্য জীবনের সব সময় ব্যয় করতে হয়েছে। এমনকি তিনি জীবনে বিয়ে পর্যন্ত করেনি। 

আপনি যদি আজকের এই আর্টিকেলটি পড়ার মাধ্যমে সহি বুখারী সম্পর্কে বিশেষ তথ্য জানতে পেরেছেন। তাহলে আশাকরি এই তথ্যগুলো জেনে আপনার ভালো লেগেছে তাই আপনি যদি সহীহ বুখারীর আরো বিশেষ তথ্য গুলো সম্পর্কে জানতে চান তাহলে আরো পড়ুন সেকশন গুলো ভিজিট করুন। এছাড়াও হোম পেজে আপনার প্রয়োজনীয় ইসলামিক জ্ঞান অনুসরণ করতে পারেন। ইমাম বুখারী শরীফের এই বিখ্যাত বই পড়ে মানুষ এখনো ইবাদত বন্দি করে তাই আপনিও এই বইটি জ্ঞান অর্জনের জন্য এবং ইবাদত বন্দেগী করার জন্য পড়তে পারেন।

এই পোস্টটি পরিচিতদের সাথে শেয়ার করুন

পূর্বের পোস্ট দেখুন পরবর্তী পোস্ট দেখুন
এই পোস্টে এখনো কেউ মন্তব্য করে নি
মন্তব্য করতে এখানে ক্লিক করুন

মুক্তআঁখি আইটির নীতিমালা মেনে কমেন্ট করুন। প্রতিটি কমেন্ট রিভিউ করা হয়।

comment url