তাহাজ্জুদ নামাজের সময় সূচী ২০২৩ - তাহাজ্জুদ নামাজের নিয়ত ও ফজলত দেখুন
এছাড়া তাহাজ্জুদ নামাজের সময় কয়টা থেকে কয়টা পর্যন্ত আছে। এবং সেটা কি নির্ধারিত করা সময় নাকি যে কোন সময় পড়া যায়। বিভিন্ন দেশের অঞ্চলের তাহাজ্জুদের সময় ভৌগোলিক অবস্থানের দিক থেকে কম বেশি হতে পারে। চলুন তাহলে সেই বিস্তারিত বিষয় জানি।
এই তাহাজ্জুদ হল নফল নামাজের মধ্যে সবচেয়ে পুণ্যবান নামাজ হিসেবে এটা বিশ্বাস করা হয়। কিয়াম - উল - লাইলকে নবী মুহাম্মদ (সাঃ) এর সুন্নাতের একটি অংশ হিসেবে বিবেচনা করা হয়। পবিত্র কুরআন এবং অনেক কয়েকটি হাদিসে, তাহাজ্জুদের নামাজের গুরুত্বের উপর জোর দেওয়া হয়েছে। যা আমরা জানবো আজকের এই আর্টিকেল থেকে বিস্তারিত।
পোস্ট সুচিপত্রঃ তাহাজ্জুদ নামাজের সময় সূচী ২০২৩ - তাহাজ্জুদ নামাজের নিয়ত দেখুন
- তাহাজ্জুদ নামাজের সময় সূচী ২০২৩,২০২৪,২০২৫ সম্পর্কে জানুন
- তাহাজ্জুদ নামাজের সময় কয়টা থেকে কয়টা পর্যন্ত জানুন
- তাহাজ্জুদ নামাজের সময় ও নিয়ম জানুন
- তাহাজ্জুদ নামাজের নিয়ত কি জানুন
- তাহাজ্জুদ নামাজের আরবি নিয়ত জানুন
- তাহাজ্জুদ নামাজের বাংলা নিয়ত জানুন
- তাহাজ্জুদ নামাজের নিয়ম ও সূরা - তাহাজ্জুদ নামাজের সূরা জানুন
- তাহাজ্জুদ নামাজের ফজিলত - ৪০ দিন তাহাজ্জুদ নামাজের ফজিলত জানুন
- তাহাজ্জুদ নামাজের ফজিলত হাদিস সম্পর্কে জানুন
- তাহাজ্জুদ নামাজ সম্পর্কে কুরআনের আয়াত কি বলে জানুন
- তাহাজ্জুদ নামাজের সময় কোন দোয়া পড়লে মনের ইচ্ছা পূরণ হয়
- সচরাচর জিজ্ঞাসিত প্রশ্ন ও উত্তর জানুন
- তাহাজ্জুদ নামাজের সময় সূচী ২০২৩ - ২০২৪ নিয়ে শেষ মন্তব্য
তাহাজ্জুদ নামাজের সময় সূচী ২০২৩,২০২৪,২০২৫ সম্পর্কে জানুন
তাহাজ্জুদ নামাজের সময়সূচী জানা প্রয়োজন কারণ অনেকেই প্রচুর সময় ব্যয় করেন তাহাজ্জুদ নামাজ পড়ার জন্য। কিন্তু অনেক সময় তারা জানে না যে তাহাজ্জুদ নামাজের সঠিক সময় কোনটাকে মনে করা হয়। আসলে তাহাজ্জুদের নামাজ নফল নামাজ হিসেবে আদায় করতে হয়। এই নামাজ পড়ার জন্য নির্দিষ্ট সময় রয়েছে। তবে নফল নামাজ যেকোনো সবাই মানুষ পড়তে পারে। আল্লাহকে রাজি খুশি করানোর জন্য।
তাহাজ্জুদ নামাজের সময়সূচী মনে করা হয় রাত্রির শেষ দুই ভাগ শেষ হওয়ার পরের অংশ অথবা তিন ভাগের এক ভাগ সময়। এসময় গভীর রজনীতে মানুষ তাহাজ্জুদ নামাজ আদায় করে। আরো সহজ করে বলতে গেলে, তাহাজ্জুদের নামাজ বা নফল নামাজ গুলো আপনি সারারাত পড়তে পারেন, ফজরের নামাজের ওয়াক্ত হওয়ার পূর্ব পর্যন্ত। এর জন্য আপনি এশার নামাজ শেষ করেন, এরপর বেতের নামাজ রেখে তাহাজ্জুদের নামাজ পড়তে শুরু করুন।
তাহাজ্জুদ নামাজের সময় কয়টা থেকে কয়টা পর্যন্ত জানুন
তাহাজ্জুদ নামাজের সময় কয়টা থেকে কয়টা পর্যন্ত আদায় করতে হয় এই বিষয়টি স্পষ্টভাবে অনেকেই জানে না। মধ্যরাতের পরে বা রাতের দুই-তৃতীয়াংশ অতিবাহিত হয়ে গেলে, তাহাজ্জুতের নামাজ এর জন্য উপযুক্ত সময় মনে করা হয়। রমজান মাসে রোজা রেখে সারারাত তাহাজ্জুদের নামাজ পরে আল্লাহর ইবাদত করতে, আপনাকে সঠিক সময়টি জানতে হবে। যদিও আল্লাহর ইবাদত সর্বক্ষণই করা যায়।
আরো পড়ুনঃ তারাবি নামাজের নিয়ম, নিয়ত, দোয়া, ফজিলত ও বিভিন্ন টিপস
তবে শরীয়ত মোতাবেক, তাহাজ্জুদের নামাজ এশার নামাজের পর থেকে শুরু করে ভোরের আগ পর্যন্ত বা ফজরের নামাজের ওয়াক্তের আগে পর্যন্ত পড়া যায়। বিশ্বনবী হযরত মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর সময় তাহাজ্জুদ নামাজ পড়ার জন্য আলাদা করে আযান দেওয়া হতো। এখনো মক্কা শরীফ এবং মদিনা শরীফে এই নিয়মটি চালু আছে। সবচাইতে উত্তম নামাজ আদায় করার জন্য তাহাজ্জুদের নামাজ একা পড়তে হয়।
তাহাজ্জুদ নামাজকে অনেকেই গোপন ইবাদত মনে করে। কারণ আল্লাহ তাআলা গোপন ইবাদত পছন্দ করে। যেহেতু তাহাজ্জুদের নামাজ একা এবং গভীর রাতে পড়া উত্তম তাই এই ইবাদতটিকে গোপন ইবাদত মনে করা হয়। ইচ্ছামত সূরা এবং কুরআনের আয়াত পড়ার মাধ্যমে আপনি এই নামাজ পড়তে পারবেন এর জন্য কোন ধরা বাধা নিয়ম নেই।
তাহাজ্জুদ নামাজের সময় ও নিয়ম জানুন
তাহাজ্জুদ নামাজের সময় ও নিয়ম নির্ধারিত যা আমাদের জানা উচিত এই নামাজ আদায় করার জন্য। আপনি যদি তাহাজ্জুদ নামাজের সঠিক নিয়ম না জানেন এবং কোন সময় তাহাজ্জুদের নামাজ আদায়ের জন্য উপযুক্ত তা না জানেন। সেই ক্ষেত্রে আজকের এই তথ্যগুলো আপনার জন্য অত্যন্ত উপকারী। তাহাজ্জুদ নামাজ পড়ার জন্য উপযুক্ত সময় হচ্ছে মধ্যরাত। এই সময় সকল কিছু নীরব থাকে।
তাই ইবাদতে মশগুল হতে সুবিধা হয়। মনকে স্থির করে আল্লাহ তাআলার নৈকট্য এবং খুশি লাভ করার জন্য মানুষ তাহাজ্জুদ নামাজ পড়ে। এছাড়া অনেকেই তাদের দৈনন্দিন জীবনের বিভিন্ন প্রয়োজন মেটানোর জন্য আল্লাহতালার কাছে তাহাজ্জুদের নামাজ পড়ে ক্ষমা প্রার্থনা করে। তাহাজ্জুদ নামাজের সঠিক সময় ২ঃ০০ টা থেকে ৪ঃ০০ টা পর্যন্ত। অথবা আপনি মনে চাইলে এশার নামাজের পর থেকে শুরু করতে পারবেন। তবে বেতের নামাজ বাকি রেখে পড়তে হবে। এবং সবশেষে বিতর নামাজ পড়তে হবে।
আরো পড়ুনঃ শবে মেরাজ আরবি মাসের কত তারিখ - নবীজির মেরাজের ঘটনা জানুন
তাহাজ্জুদ নামাজ রাতের শেষ তিন ভাগের এক ভাগের পড়া উচিত। তবে অনেক সময় ঘুম থেকে না জাগার সম্ভাবনা থাকে। মানুষ গভীরভাবে ঘুমিয়ে গেলে বা শয়তানের কুমন্ত্রণায় মানুষ ঘুমে মগ্ন থেকে তাহাজ্জুদ নামাজ পড়তে পারেনা। এর জন্য আপনি এশার নামাজের পর তুই রাকাত সুন্নত নামাজ শেষ করে নফল দুই রাকাত নামাজের নিয়ত করে। সর্বনিম্ন দুই রাকাত এবং সর্বোচ্চ যত পড়তে পারেন। অথবা অনেকেই ১২ রাকাত পড়া উত্তম বলে মনে করে।
তাহাজ্জুদ নামাজের নিয়ত কি জানুন
তাহাজ্জুদ নামাজের নিয়ত এটা অনেকেই জানে না। একজন মানুষ তাহাজ্জুদ নামাজ পড়তে হলে সে নামাজের নিয়ত সম্পর্কে জানতে হবে। নিয়ত হলো আল্লাহ তাআলার প্রতি কোন উদ্দেশ্যে আপনি সেই নামাজটি আদায় করছেন। তার দিকনির্দেশনা কেই বলা হয় নিয়ত। আল্লাহ তার সকল বান্দাদের নিয়ত এর কথা জানেন। তাই আপনি সৎ নিয়ত করে কোন কিছু আল্লাহর কাছে চাইলে আল্লাহ অবশ্যই দিবেন।
তাহাজ্জুদ নামাজের নিয়ত আরবি এবং বাংলাতে রয়েছে যেটা যায় ভালো পারেন। সেভাবে নিয়ত করে পড়তে পারেন। তবে আপনাদের সুবিধার্থে বাংলা আরবি সবগুলো উপস্থাপন করব যা আপনারা দেখে নিতে পারেন। প্রথমে বাংলাতে আপনাদের সামনে তাহাজ্জুদ নামাজের নিয়ত উপস্থাপন করবো, দুই রাকাত তাহাজ্জুদের নামাজ আল্লাহর রাজি খুশির জন্য কেবলামুখী হইয়া দাঁড়ালাম আল্লাহু আকবার। এটা বলে নিয়ত করে নিতে হবে বাংলাতে যারা আরবি পারেন না।
আরো পড়ুনঃ মেরাজের ঘটনা কোন সূরায় আছে জানুন সূরা মেরাজ সম্পর্কে
পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ ফরজ হওয়ার পূর্বে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তার উম্মতের জন্য তাহাজ্জুদ নামাজ বাধ্যতামূলক করেছিলেন। তা ফরজ নামাজের পর সুন্নত ও নফল নামাজের চাইতে উত্তম নামাজ হিসেবে গণ্য করা হয় তাহাজ্জুদ নামাজ। বর্তমানে তাহাজ্জুদ নামাজ নিয়ে অনেক ধরনের মতবাদ সৃষ্টি হয়েছে তবে আপনাকে সত্য জানতে হলে কয়েক ধরনের অনুবাদ এবং বড় হাদিস সংগ্রহ করে সত্যতা যাচাই করতে হবে। এচছাড়া এগুলো মান্তে পাবেন যা সহি হাদিস থেকে সংগ্রহ করা হয়।
তাহাজ্জুদ নামাজের আরবি নিয়ত জানুন
তাহাজ্জুদ নামাজের আরবি নিয়ত জানা থাকলে আপনি আরবিতে নিয়ত করে নামাজ আদায় করতে পারবেন। পৃথিবীর বুকে সবচাইতে শ্রেষ্ঠ এবং সুন্দর ভাষা হচ্ছে আরবি। তা আপনি যদি এই সুন্দর ভাষাটিকে জেনে থাকেন তাহলে অবশ্যই আরবিতে তাহাজ্জুদ নামাজ পড়তে পারবেন। নামাজ পড়ার জন্য নিয়তটা ও আরবিতে করতে পারবেন। নিচে দেখে নিন তাহাজ্জুদ নামাজের আরবি নিয়ত।
তাহাজ্জুদ নামাজের আরবি নিয়তঃ
نَوَيْتُ أَنْ أُصَلِّيَ لِلَّهِ تَعَالَى رَكْعَتَيْ صَلَاةِ التَّهَجُّدِ سُنَّةَ رَسُولِ اللَّهِ تَعَالَى مُتَوَجِّهًا إِلَى جِهَةِ كَعْبَةِ الشَّرِيفَةِ، اللَّهُ أَكْبَرُ
এখানে উচ্চারণঃ নাওয়াইতোয়ান উছললিয়া লিল্লাহি তায়া’লা রক’আতাই সলাতিত তাহাজ্জুদি, সুন্নাতু রসুলিল্লাহি তায়া’লা, মুতাওয়াজ্জিহান ইলা জিহাতি কা’বাতিশ সারিফাতি “আল্লাহু আকবার”।
তাহাজ্জুদ নামাজের বাংলা নিয়ত জানুন
তাহাজ্জুদ নামাজের বাংলা নিয়ত না জানান কারণ অনেকেই আরবি পড়তে পারেন না এবং মনে রাখতে পারেন না। তাই তারা খুব সহজেই বাংলায় এই নিয়ে একটি করে তাহাজ্জুদের নামাজ আদায় করতে পারেন। তাহাজ্জুদের নামাজ কি অনেক মর্যাদা সম্পন্ন ইবাদত মনে করা হয়। যা আল্লাহতালা খুব পছন্দ করেন। মহানবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তার দুনিয়ার জীবনের সকল সময়ে তাহাজ্জুদের নামাজ পড়েছেন।
আরো পড়ুনঃ নামাজের শুরু ও শেষ সময়সূচি নিয়ে বিস্তারিত সারা বছরের সময় জানুন
তাহাজ্জুদ নামাজের বাংলা নিয়তঃ দুই রাকাত তাহাজ্জুদের নিয়ত করছি আল্লাহু আকবার বলে জায়নামাজে দাঁড়িয়ে নিয়ত করতে হবে। আল্লাহু রাজি খুশি রাখার জন্য দুই রাকাত তাহাজ্বতের নামাজ আদায় করার করবো।
তাহাজ্জুদ নামাজের নিয়ম ও সূরা - তাহাজ্জুদ নামাজের সূরা জানুন
তাহাজ্জুদ নামাজের নিয়ম ও সূরা নির্দিষ্ট রয়েছে কিনা তা আমাদের জানা উচিত। তাহাজ্জুদ নামাজের জন্য নির্দিষ্ট নিয়ম রয়েছে যে নিয়ম অনুসরণ করে আপনি যেকোনো নফল বা ফরজ নামাজ আদায় করেন। সেই নিয়মে দুই রাকাত করে নিয়ত করে আপনি নামাজ আদায় করতে পারেন। তাহাজ্জুদের নামাজের সূরা নির্দিষ্ট নেই। যে সূরা দেখে আপনি তাহাজ্জুদের নামাজ পড়বেন। আপনি এমনি পবিত্র কুরআনের যে কোন সূরা দিয়ে এ নামাজ আদায় করতে পারেন।
যে কোন সূরা বা আয়াত পাঠ করা যেতে পারে, তবে নির্দিষ্ট কিছু কল্যাণময় সূরা রয়েছে বা আয়াত রয়েছে যেগুলো পাঠ করলে বিশেষ ফজিলত পাওয়া যায়। এই সূরা গুলোর মধ্যে তাহাজ্জুদ নামাজের পড়ার জন্য আপনাকে প্রথমে সূরা ইখলাস, সূরা আল ফালাক, সূরা আন নাস, সূরা আল মূলক বেশি গুরুত্বপূর্ণ মনে করা হয় কারণ এগুলো সূরার কথা বিভিন্ন হাদিসে উল্লেখ করা হয়েছে।
তাহাজ্জুদ নামাজের ফজিলত - ৪০ দিন তাহাজ্জুদ নামাজের ফজিলত জানুন
তাহাজ্জুদ নামাজের ফজিলত রয়েছে কেউ যদি একটানা ৪০ দিন তাহাজ্জুদ নামাজ আদায় করে তাহলে এর বিশেষ ফজিলত পাওয়া যায়। বিভিন্ন হাদিস এবং ইতিহাস থেকে জানা গেছে যে মহানবী তার সাহাবাদেরকে বাধ্যতামূলক তাহাজ্জুদের নামাজ পড়তে বলতেন। একটা সময় পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ ফরজ করার পর এ নামাজটিকে সুন্নত বা নফল হিসেবে পরিচয় দেওয়া হয়।
আরো পড়ুনঃ ইসলামী আন্দোলনের কর্মীদের ত্যাগ ও কুরবানী নিয়ে দায়িত্ব এবং কর্তব্য
তবে এই নামাজ ফরজ এর পরে সুন্নত এবং নফল নামাজের চাইতে উত্তম বলে জানা যায়। সেই দৃষ্টিকোণ থেকে আপনি যদি একটানা ৪০ দিন তাহাজ্জুদের নামাজ নিয়মিত সঠিকভাবে পড়েন। তাহলে অবশ্যই আল্লাহতালা আপনার ওপর খুশি হবেন। এবং আপনার উপরে তার নেক রহমত নাযিল করবে। তাই আল্লাহর থেকে রহমত প্রাপ্ত হবার জন্য আপনি ৪০ দিন তাহাজ্জুদের নামাজ পড়তে পারেন। এছাড়া আপনি যদি একজন আহলে বায়াতের অনুসারী হন তাহলে অবশ্যই ৪০ দিন ধ্যান সাধনা করলে অবশ্যই কোন না কোন নিদর্শন দেখতে পাবেন।
তাহাজ্জুদ নামাজের ফজিলত হাদিস সম্পর্কে জানুন
তাহাজ্জুদ নামাজের ফজিলত হাদিস সম্পর্কে যে সহি তথ্য রয়েছে। সেগুলো জানা থাকলে সঠিক এবাদত করা যায়। বিভিন্ন হাদিস শরীফে বিভিন্ন ধরনের ফজিলতের কথা বলা হয়েছে। আপনি যদি সঠিক ফজিলত এবং হাদিস সম্পর্কে জানতে চান তাহলে সহীহ বুখারীর এই হাদিসটি দেখতে পারেন। সহীহ বুখারীতে পরিচ্ছেদ ৭১৫ বলা হয়েছে। তাহাজ্জুদ ঘুম থেকে জেগে রাতের শেষ তৃতীয়াংশে পড়া উচিত।
আরো পড়ুনঃ শবে বরাতের ফজিলত আল কাউসার শবে বরাতের করণীয় বর্জনীয় এবং হাদিস
মহান আল্লাহর বাণী আর আপনি রাতের এক অংশে তাহাজ্জুদ আদায় করুন যা আপনার জন্য অতিরিক্ত কর্তব্য। বিশ্বনবী হযরত মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম নিজেও সারারাত জেগে তাহাজ্জুদের নামাজ আদায় করতেন এবং আল্লাহ তায়ালার কাছে তার উম্মতের জন্য দোয়া প্রার্থনা করতেন। আলী ইবনে আব্দুল্লাহ ও ইবনে আব্বাস রা: থেকে বর্ণিত মহানবী সারারাত আল্লাহর প্রশংসায় ইবাদতে মশগুল থাকতেন।
তাহাজ্জুদ নামাজ সম্পর্কে কুরআনের আয়াত কি বলে জানুন
তাহাজ্জুদ নামাজ সম্পর্কে কুরআনের আয়াত যেই ভাবে উল্লেখ করা হয়েছে তা হুবহু আপনাদের সামনে উপস্থাপন করলাম, কুরআনের সূরা আয যারিয়াত আয়াত নাম্বার ১৭-১৮। আল কুরআনের সূরা আল মুজাম্মিল এর উল্লেখ করা হয়েছে অবশ্যই রাতে ঘুম থেকে ওঠা মনকে দমিত করার জন্য খুব বেশি কার্যকর। সে সময়ে কুরআন পাঠ বা জিকির একবারে যথাযথ সময়।
তাহাজ্জুদের জন্য কোন সূরা পড়তে হয় তা হল সূরা আল ফুরকান এর ৬৪ নম্বর আয়াত। এখানে বলা হয়েছে আল্লাহর প্রিয় বান্দা তারা যারা তাদের রবের দরবারে সিজদা করে এবং ইবাদতে দাঁড়িয়ে থেকে রাত পার করে দেয়। অথবা আল্লাহর ইবাদতে মশগুল থেকে রাত শেষ করে। সে আল্লাহর কাছে অতি প্রিয় বান্দা এবং আল্লাহ এদেরকে তার নিদর্শন গুলো দেখাই যার ফলে এদের ইবাদত করার ইচ্ছা আরো বেশি হয়ে যায়।
তাহাজ্জুদ নামাজের সময় কোন দোয়া পড়লে মনের ইচ্ছা পূরণ হয়
তাহাজ্জুদ নামাজের সময় কোন দোয়া পড়লে মনের ইচ্ছা পূরণ হয় জানেন কি? তবে সবাই তার মনের ইচ্ছা পূরণ করতে চায়। একজন মানুষের মনে অনেক রকমের ইচ্ছা থাকে সেই ইচ্ছাগুলো যদি সৎ এবং আল্লাহর পথে হয়ে থাকে তাহলে অবশ্যই আল্লাহতালা সেই ইচ্ছাগুলো পূরণ করে। মহান আল্লাহতালা পবিত্র নামাজ পছন্দ করে।
এবং কেউ যদি পবিত্র মনে তার কাছে কোন কিছু চায় তাহলে সে অবশ্যই তাকে ফেরত দেয় না। দোয়া পূরণ হওয়ার জন্য যদিও কোন নির্দিষ্ট নিয়ম নেই। তবে আপনি আল্লাহ তাআলার কাছে তাহাজ্জুদের সময় নফল ইবাদত করে দোয়া এবং আল্লাহর কাছে দো হাত তুলে হৃদয় থেকে মোনাজাত করলে অবশ্যই আপনার মনের আশা পূরণ হবে। এছাড়া তাহাজ্জুদের নামাজের সময় আপনি আরো যে ছোটখাটো দোয়া গুলো রয়েছে সেগুলো পড়তে পারেন।
আল্লাহতালা কোরআনের ভিতরে স্পষ্ট বলে দিয়েছেন যে, কেউ যদি শুদ্ধভাবে, আল্লাহর রাস্তায় কোন কিছু নেক কাজের জন্য চাই তাহলে আল্লাহ অবশ্যই তাকে ফিরিয়ে দেন না। তাই আপনি কর্ম করে আল্লাহতালার কাছে কোন কিছু চাইলে অবশ্যই আপনি তার উপযুক্ত হলে আল্লাহতালা আপনাকে সেই উপযুক্ত পুরস্কার দান করবে। কারণ আল্লাহতালা কৃপণ নয় যে, বান্দার কাছে ঋণ করে রাখবে কেউ যদি আল্লাহর কাছে ইবাদত করে তাহলে তা সাথে সাথে সোয়াব পরিপূর্ণ এবং রহমতে পরিপূর্ণ হয়ে যায়।
সচরাচর জিজ্ঞাসিত প্রশ্ন ও উত্তর জানুন
প্রশ্নঃ তাহাজ্জুদ কি নফল না সুন্নত?
উত্তরঃ তাহাজ্জুদের নামাজ আদায় করা নফল। বিশুদ্ধ হাদিসের বর্ণনায় জানা যায় রাসূল (সা.) কখনো তাহাজ্জুদ নামাজ চার রাকাত পড়তেন, কখনো ছয় রাকাত পড়তেন। কখনো আট রাকাত পড়তেন। আবার কখনো সারা রাত পড়তেন।
প্রশ্নঃ তাহাজ্জুদ নামাজ কয় রাকাত ও কি কি?
উত্তরঃ তাহাজ্জুদ নামাজ কয় রাকাত ও কি কি জানুন। এ নামাজের রাকাত সংখ্যা সর্বনিম্ন দুই রাকাত আর সর্বোচ্চ ১২ রাকাত পড়া উত্তম। তবে আরও বেশি পড়া জায়েজ আছে। এরপরে বিতর নামাজ পড়া। তাহাজ্জুদ পড়ার নিয়ম হচ্ছে দুই রাকাত দুই রাকাত করে যথাসম্ভব লম্বা কেরাত, লম্বা রুকু ও সেজদা সহকারে একান্ত নিবিষ্ট মনে পড়া। যে ভাবে মহানবি পড়তে শিক্ষিয়েছেন আমাদের কে।
প্রশ্নঃ তাহাজ্জুদের ২ রাকাত কি সুন্নত?
উত্তরঃ তাহাজ্জুদ ও বিতরের নামাযের সুন্নাত হলো, দুই রাকাত করে তাহাজ্জুদ পড়া , প্রথমে তাহাজ্জুদ দিয়ে শুরু করা, রাতের শেষ নামায বিতর পড়া উচিত।
প্রশ্নঃ ইসলামে রাতের এক তৃতীয়াংশ কত সময়?
উত্তরঃ ইসলামে রাতের এক তৃতীয়াংশ সময় হল, মাগরিব সন্ধ্যা ৬টায় এবং ফজর সকাল ৬টায়, অর্থাৎ ১২ ঘন্টা। ১২ কে ৩ দিয়ে ভাগ করলে ৪ হয়। তাহলে আপনি ফজর থেকে ৪ ঘন্টা পিছিয়ে যাবেন, যার অর্থ রাতের শেষ তৃতীয় অংশ রাত ২টা থেকে শুরু হয়ে সকাল ৬টা পর্যন্ত বা ফজরের পুর্ব পর্যন্ত।
প্রশ্নঃ তাহাজ্জুদের নামাজ কিভাবে পড়তে হয়?
উত্তরঃ তাহাজ্জত নামাজ পড়তে মধ্যরাতের পর জোড়া রাকাতে (নামাজের একক) তাহাজ্জুদ আদায় করা হয়। নিয়ত (নিয়ত) করে, অজু করে (ওজু) করে এবং একটি শান্তিপূর্ণ নামাজের জায়গা তৈরি করে শুরু করুন। প্রতিটি রাকাতে সূরা আল ফাতিহা এবং কুরআনের আয়াত পাঠ করুন, তারপর রুকু (রুকু), দাঁড়ানো এবং সিজদা (সিজদা) করুন।
প্রশ্নঃ রমজানে তাহাজ্জুদ কি ফরজ?
উত্তরঃ তাহাজ্জুদ সাধারণত সুন্নাত (ঐতিহ্য) হিসেবে বিবেচিত হয়, ফরজ (ফরয) হিসেবে নয় ।
তাহাজ্জুদ নামাজের সময় সূচী ২০২৩ - ২০২৪ নিয়ে শেষ মন্তব্য
তাহাজ্জুদ নামাজের সময় সূচী ২০২৩ নিয়ে ইতিমধ্যে অনেক তথ্য উপস্থাপন করেছি। যে বিষয়গুলো জানা থাকলে একজন মানুষ সহজে তাহাজ্জুদের নামাজ আদায় করতে পারবে। আপনি কি তাহাজ্বতের নামাজ আদায় করে সঠিক উপায়ে? এবং কোন দোয়া গুলো পড়ার মাধ্যমে তাহাজ্জুদের নামাজ পড়তে হয় সেই বিষয়গুলো স্পষ্ট ধারণা পেতে চান।
সেই ক্ষেত্রে আজকের এই পোস্টটি আপনার উপকারে আসবে। সুতরাং তাহাজ্জুদের নামাজ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এই নামাজ পড়ার জন্য মানুষ বিভিন্ন সময়ে বিভিন্ন ধরনের দোয়া এবং সূরা পড়ার মাধ্যমে এই নামাজ পড়তে পারে। কোরআনের কোন সূরা গুলো সচরাচর ব্যবহার করে এই নামাজ আদায় করা হয় তা উপরে উল্লেখ করা হয়েছে। তাই আপনি সঠিক নিয়মে সঠিক সময়ে তাহাজ্জুদের নামাজ পড়ার জন্য উল্লেখিত তথ্যগুলো ব্যবহার করতে পারেন।
মুক্তআঁখি আইটির নীতিমালা মেনে কমেন্ট করুন। প্রতিটি কমেন্ট রিভিউ করা হয়।
comment url