জামের বিচির উপকারিতা ও অপকারিতা নিয়ে অবাক করা তথ্য জানুন
জামের বিচির উপকারিতা ও অপকারিতা জানুন। যা আপনার দৈনিক জীবনে কাজে আসবে। জামের বিচির মধ্যে এমন কিছু উপাদান রয়েছে যা একজন মানুষের নানান ধরনের রোগ মুক্তির ক্ষেত্রে ভূমিকা রাখে। তাই আমাদের জানা উচিত জামের উপকারিতা গুলো যা নিচে ধারাবাহিকভাবে উপস্থাপন করা হয়েছে।
এছাড়া আজকের এই আর্টিকেলটির মধ্যে উপস্থাপন করা হবে জামের বিচির গুড়া খাওয়ার নিয়ম। যা ডায়াবেটিসের সমস্যা দূর করে এবং রক্তের শর্করার মাত্রা নিয়ন্ত্রণ করে। যে সকল মানুষের শরীরে অনেক দুর্বলতা রয়েছে তারা জামের বিচি খাওয়ার মাধ্যমে অনেক উপকারিতা পাবেন।
পোস্ট সুচিপত্রঃ জামের বিচির উপকারিতা ও অপকারিতা নিয়ে অবাক করা তথ্য জানুন
- জামের বিচির উপকারিতা ও অপকারিতা নিয়ে অবাক করা তথ্য
- জামের অপকারিতা ও জামের বীজের অপকারিতা জানুন
- জামের বিচির গুড়া খাওয়ার নিয়ম জানুন
- জামের বিচির দাম কেমন হতে পারে জানুন
- জামের বিচির পাউডার সম্পর্কে জানুন
- জামের বিচি খেলে কি হয় জানুন
- জামের উপকারিতা ও অপকারিতা জানুন
- জাম গাছের ছালের উপকারিতা জানুন
- জাম গাছের উপকারিতা জানুন
- জাম গাছের বৈশিষ্ট্য জানুন
- জাম নিয়ে সচরাচর জিজ্ঞাসিত প্রশ্ন ও উত্তর জানুন
- জাম ও জামের বিচির উপকারিতা নিয়ে শেষ মন্তব্য
জামের বিচির উপকারিতা ও অপকারিতা নিয়ে অবাক করা তথ্য
জামের বিচির উপকারিতা ও অপকারিতা জানা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। জামের বিচি খাওয়ার মাধ্যমে যেমন ডায়াবেটিস ভালো হয়, আবার রক্তের শর্করা নিয়ন্ত্রণ করা যায়। তাই জামের বিচি মানুষ কিভাবে খেলে এই উপকারগুলো পাবে তা জানুন। এছাড়া জামের বিচি খাওয়ার মাধ্যমে কেন ক্ষতি হতে পারে। এর থেকে বাঁচার উপায় কি সেগুলো পর্যায়ক্রমে জানবো। প্রথমে আমাদের জানা উচিত যে জামের বিচির কি কি উপকারিতা আছে।
জামের বিচির উপকারিতা ও অপকারিতাঃ
- যাদের শরীরে অতিরিক্ত ডায়াবেটিসের সমস্যা রয়েছে তারা এর থেকে পরিত্রাণ পাওয়ার জন্য জামের বিচির পাউডার তৈরি করে নিয়মিত সকালে এবং রাতে ঘুমানোর পূর্বে খেলে উপকার পাবে।
- অনেক মানুষ রয়েছে যাদের পেটের সমস্যা লেগেই থাকে, কোন কিছু ঠিকমতো খেতে পারেনা। তাদের পেটের এই সমস্যা দূর করার জন্য জামের বিচির পাউডার খেতে পারেন। রাতে খাবার পর এক গ্লাস গরম পানি বা দুধের সাথে জামের বিচির পাউডার খাওয়া যায়। যা আপনার পেটের সমস্যা দূর করে।
- শরীরে উচ্চ রক্তচাপ জনিত সমস্যা থাকলে দ্রুত এক গ্লাস হালকা গরম পানির মধ্যে জামের বিচি মিশিয়ে খেয়ে নিন। দেখবেন অল্প সময়ের মধ্যে আপনার শরীরের উচ্চ রক্তচাপ কমে যাবে।
- জামের বিচির মধ্যে রয়েছে প্রচুর পরিমাণে ভিটামিন সি এবং বিভিন্ন অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট যা আপনার শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি করবে। যা আপনার শরীরে বিভিন্ন রোগ হওয়ার সংক্রমণ এবং সম্ভাবনা কম করবে।
- এছাড়া জামের বীজের গুড়া রক্তের শতকরা মাত্রা নিয়ন্ত্রণ করে যার ফলে আপনার হৃদরোগ হওয়ার সম্ভাবনা কম থাকেনা।
- কারো যদি গ্যাস্ট্রিকের সমস্যা থাকে, তার এই সমস্যা দুই মিনিটের মধ্যে ভালো করে দেওয়ার জন্য আপনি জামের বীজ চূর্ণ খান এবং ফলাফল দেখুন।
- যাদের শরীরে অতিরিক্ত ওজন রয়েছে এর ফলে ডায়াবেটিস উচ্চ রক্তচাপ এবং কোলেস্টেরল এর মতো সমস্যা দেখা দেয়। তারা সমাধান পাচ্ছেন না তবে খুব সহজে এর থেকে বাঁচার জন্য সকালে এবং রাতে ঘুমানোর পূর্বে এর বিচূর্ণ খান। যা স্বাভাবিক অবস্থায় ওজন ফিরিয়ে নিয়ে আসতে পারে।
তাই জামের মধ্যে উপস্থিত জাম্বুলিন এবং জাম্বোসিন নামক যৌগ যা আপনার শরীরের এই উপকারিতা গুলো করে এবং রক্তের শতকরা মাত্রা নিয়ন্ত্রণ করে। এখানে এমন কিছু ইনসুলিন রয়েছে যা হরমোনের ক্ষরণ বাড়ায়। আবার এই জামের বীজের মধ্যে প্রোফাইলকটিক ক্ষমতা রয়েছে। এই ক্ষমতার কারণে হাইপারগ্লাইসেমিয়া প্রতিরোধ করতে পারে। অনেক মানুষ রয়েছে যারা অতিরিক্ত ঘন ঘন প্রস্রাবের সমস্যায় ভোগে, তারা এই সমস্যা থেকে বাঁচতে জামের বীজ খেতে পারে।
জামের অপকারিতা ও জামের বীজের অপকারিতা জানুন
জামের অপকারিতা নেই বললেই চলে এর বিশেষ বিশেষ উপকারিতা রয়েছে ঠিক তেমনি জামের বিচির বিশেষ উপকারিতা রয়েছে। তবে এর ক্ষতিকর প্রভাব নেই। জাম একটি গৃষ্মকালীন ফল। এটি গ্রীষ্মের সময়ে প্রচুর পরিমাণে পাওয়া যায়। এই ফলটির মধ্যে প্রচুর পরিমাণে ভিটামিন বি১, বি২, বি৩, বি৪, বি৫, বি৬ ও ভিটামিন সি আছে। যা আমাদের শরীরের বিভিন্নভাবে উপকার করে।
আরো পড়ুনঃ কাচা হলুদ এর ১১টি বিশেষ উপকারিতা - কাঁচা হলুদ খেলে কি ফর্সা হয় জানুন
এছাড়াও এর মধ্যে যে এন্টি-ব্যাকটেরিয়াল বৈশিষ্ট্য রয়েছে তা আপনার শরীর এবং শরীরের বাইরের বিভিন্ন সংক্রমণ হওয়ার সম্ভাবনা কমায়। এই জাম খাওয়ার ফলে মরণবাদী রোগ হওয়ার সম্ভাবনা কমে যেমন, ক্যান্সার। তাই আপনি যদি জাম খাওয়ার জন্য ভয় পান তাহলে আজকে থেকে নিশ্চিন্তে জাম খাওয়ার অভ্যাস করতে পারেন।
জামের বিচির গুড়া খাওয়ার নিয়ম জানুন
জামের বিচির গুড়া খাওয়ার নিয়ম জানুন যা আপনার বিভিন্ন উপকার করবে। একজন মানুষ জামের বিচি খাওয়ার মাধ্যমে কি ধরনের উপকার পাবে তা ইতিমধ্যে আপনাদেরকে জানিয়েছি। তবে এই উপকারিতা গুলো পাওয়ার জন্য খাওয়ার নিয়ম অত্যান্ত জরুরী। তাই আপনি বেশি উপকারিতা পাওয়ার জন্য জামের গুঁড়া একগ্লাস পানিতে মিশিয়ে সকালে খালি পেটে। অথবা রাতে ঘুমানোর পূর্বে হালকা গরম পানির সাথে অথবা দুধের সাথে মিশিয়ে খেতে পারেন।
যা আপনার শরীরের বিভিন্ন সমস্যা দূর করবে। যেমন, কিডনি পরিষ্কার করবে, হার্ট ভালো থাকবে এবং চোখের সমস্যা দূর করবে। এছাড়া আপনি জাম খাওয়ার মাধ্যমে নানান ধরনের উপকারিতা পাবেন। তাই আপনি জাম খাওয়ার পর সেই বিচিগুলো ফেলে না দিয়ে তা শুকিয়ে ভালো করে পরিষ্কার করে, পাউডার তৈরি করে, উপরের এই উপায়টি ব্যবহার করে খেতে পারেন যা স্বাস্থ্য উপকারিতা দিয়ে থাকে।
জামের বিচির দাম কেমন হতে পারে জানুন
জামের বিচির দাম খুব একটা বেশি হয় না. কারণ এই উপকরণটি ব্যবহার খুব একটা করে না, এই আধুনিক যুগের মানুষ। সেই দৃষ্টিকোণ থেকে এর চাহিদা কম তাই এর দাম ও কম রয়েছে ১০০ গ্রাম জামের বিচি গুড়া নেওয়ার জন্য আপনাকে সর্বোচ্চ ৪০ থেকে ৫০ টাকা খরচ করতে হতে পারে। সকাল সন্ধ্যা খাওয়ার মাধ্যমে আপনি বিভিন্ন ধরনের স্বাস্থ্য উপকারিতা পাবেন।
আরো পড়ুনঃ গর্ভাবস্থায় বরই খাওয়ার উপকারিতা নিয়ে অবাক করা তথ্য জানুন
এছাড়া আপনি জাম কিনে খাওয়ার পরে সে জামের বিচি সংগ্রহ করে পাউডার করে খেতে পারবেন। এর জন্য আপনাকে জামের বিচি শুকিয়ে নেওয়ার পর তা ব্লেন্ডারে পাউডার তৈরি করে বয়োম জাত করে সংরক্ষণ করতে পারবেন। এবং প্রয়োজন অনুযায়ী তা ব্যবহার করে উপকৃত হতে পারবে। আশা করি বুঝতে পেরেছি জামের বিচির দাম কেমন হতে পারে।
আপনার পছন্দ হতে পারে এমন পোস্টের তালিকাঃ
পড়ুনঃ সাম্মাম ফলের বিশেষ ১৫টি উপকারিতা সম্পর্কে বিস্তারিত জানুন
পড়ুনঃ লটকনের বিচি খেলে কি হয় জানুন এর সকল উপকারিতা
পড়ুনঃ আখের গুড়ের ২১টি উপকারিতা ও অপকারিতা সম্পর্কে বিস্তারিত জানুন
জামের বিচির পাউডার সম্পর্কে জানুন
জামের বিচির পাউডার সম্পর্কে জানলে আপনি এর উপকারিতা সহজে পাবেন। প্রকৃতির ভাবে জামের মধ্যে যেই উপাদানগুলো রয়েছে তা একজন মানুষের বিভিন্ন শারীরিক সুস্থতা বজায় রাখতে ভূমিকা রাখে। তাই আপনি যদি জামের বিচি নিয়মিত খান তাহলে আপনার শরীরে বিভিন্ন ধরনের সমস্যা হবে না। এবং যাদের শরীরে বহুমূত্র সমস্যা রয়েছে, ঘন ঘন প্রসাব করতে হয়। আবার পাকস্থলী ও প্লীহা সহযোগিতায় শক্তি বৃদ্ধি করতে আপনি এই জামের বিচি খেতে পারেন।
জামের বিচির পাউডার বিভিন্ন বাজার থেকে সংগ্রহ করে আপনি খেতে পারেন। অথবা জাম থেকে নিচেই বাসায় উপরে দেওয়া প্রক্রিয়ায় সহজে তৈরি করে সংরক্ষণ করে ব্যবহার করতে পারেন। জামের বিচির পাউডার ব্যবহার করলে আপনার রক্ত পিন্ডের প্রকোপ কমাবে। যাদের শরীরে আমাশা, অর্শ, বমি ও এ ধরনের সমস্যা রয়েছে বা হজমে বিভিন্ন সমস্যা রয়েছে। তারা জামের বিচির পাউডার খেতে পারেন। এছাড়াও আপনি আপনার দাঁত এবং মাড়ির সুস্থতা এবং সুরক্ষার জন্য জামের বিচির পাউডার খেতে পারেন।
জামের বিচি খেলে কি হয় জানুন
জামের বিচি খেলে কি হয় জানেন কি? যদি না জেনে থাকেন তাহলে আজকের এই পোস্টটি আপনার উপকার করবে। ইতিমধ্যে উপরে জামের বিচি খাওয়ার ফলে যে সকল উপকারিতা হয় তা উপস্থাপন করেছে। তাই আপনি উপকারিতা গুলো পাওয়ার জন্য জামের বিচি খেতে পারেন। একজন মানুষ প্রতিদিন ১ থেকে ২ চা চামচ জামের বিচি খেতে পারে।
এই পরিমাণ জামের বিচি খেলে আপনি বিভিন্ন স্বাস্থ্য উপকারিতা পাবেন। যেই স্বাস্থ্য উপকারিতা গুলোর কথা ইতিমধ্যে আপনাদের সামনে উপস্থাপন করেছি এর মধ্যে বিভিন্ন যৌগ এবং প্রয়োজনীয় ভিটামিন রয়েছে। যেই কারণে এটি মানুষের শরীরের এত উপকার করে। আপনি যদি জামের বিচির উপকার পেতে চান তাহলে অবশ্যই সকালে খালি পেটে পানিতে গুলে জামের বিচি খেতে পারেন।
জামের উপকারিতা ও অপকারিতা জানুন
জামের উপকারিতা ও অপকারিতা জানুন। যা আপনার শরীরের অনেক উপকার করবে। একজন মানুষ সুস্থ থাকার জন্য নানান পুষ্টি উপাদান প্রয়োজন হয়। সেই দৃষ্টিকোণ থেকে দেখলে জামের মধ্যে অনেক পুষ্টিগুণ রয়েছে যা একজন মানুষের সুস্থ থাকার জন্য বিশেষ উপকার করে। ইতিমধ্যে আপনাদের সামনে জামের বিচি খাওয়ার যে সকল উপকারিতা রয়েছে তা উপস্থাপন করেছি। ঠিক তেমনি জামের উপকারিতা গুলো জেনে নিন।
- জাম খেলে পেট ঠান্ডা থাকে। শরীরের হজম শক্তি শক্তিশালী করে।
- পেটের বিভিন্ন সমস্যা দূর করে, তার মধ্যে উল্লেখযোগ্য বদহজম, কোষ্ঠকাঠিন্য, ডায়রিয়া যা ভালো করতে সক্ষম এই জাম।
- জামে অ্যান্টি ব্যাকটেরিয়াল উপাদান থাকার ফলে এটি আপনার শরীরের জীবাণু বা অনুজীব ধ্বংস করে।
- জামের মধ্যে এক ধরনের উপাদান রয়েছে যা আপনার রক্তের হিমোগ্লোবিনের মাত্রা কম থাকলে তা উন্নত করবে এবং উৎপাদনের সহযোগিতা করবে।
- শরীরে পানি শূন্যতা দূর করতে ভূমিকা রাখে কারণ জম একটি অত্যন্ত রসালো খাবার।
- সাধারণত গরমের সময় বা আবহাওয়া পরিবর্তন হলে অনেক সময় সর্দি জ্বর কাশি হয় তা ভালো করতে আপনি জামের সালাত খেতে পারেন।
- জাম খাওয়ার ফলে আপনার ত্বকের শুষ্কতা এবং রুক্ষ ভাব দূর করতে পারবেন। জামে প্রচুর পরিমাণ অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট ভিটামিন সি রয়েছে যা ত্বকে জ্বালাপোড়া এবং মুখে ব্রনের দাগ সমূহ দূর করতে পারে।
- আবার আপনার শরীরে যে সকল দূষিত পদার্থ জমে থাকে তা নিমিষেই দূর করে ও আপনার শরীরকে দূষণ মুক্ত করে।
- মানুষের শরীরের সুগারের মাত্রা নিয়ন্ত্রণ করতে পারে। এই জাম তাই তারা ডায়াবেটিস রোগী তারা এই ফলটি খেতে পারেন। এছাড়াও এটি মানুষের কার্ডিওভাস্কুলার সমস্যা প্রতিরোধ করে।
- মুখে রুচি ফিরিয়ে নিয়ে আসে। যাদের মুখে অরুচি তারা এটি সালাত হিসেবে খেলে মুখে রুচি ফিরে পাবে।
জাম খাওয়ার অপকারিতা বা কালো জাম খাওয়ার অপকারিতা;
এতক্ষণ আমরা জাম খাওয়ার বিশেষ উপকারিতা গুলো সম্পর্কে জানলাম যা একজন মানুষের সুস্থ থাকার জন্য আল্লাহ তায়ালার পক্ষ থেকে নিয়ামত হিসেবে কাজ করে। তবে এই জাম খাওয়ার তেমন কোন পার্শ্ব প্রতিক্রিয়া বা ক্ষতিকর প্রভাব নেই। তবে আপনাকে একটি বিষয় মাথায় রাখতে হবে যে প্রচুর অতিরিক্ত খেয়ে ফেললে আপনার ডায়রিয়া বা পাতলা পায়খানার সমস্যা হতে পারে। এছাড়া তেমন কোন সমস্যা হয় না। তাই আপনি রোগমুক্তির জন্য জাম এবং জামের বীজ খান।
জাম গাছের ছালের উপকারিতা জানুন
জাম গাছের ছালের উপকারিতা জানা থাকলে আপনি এই গাছের ছাল ব্যবহার করে অনেক উপকারিতা পাবেন। যা আপনার শরীরের অনেক সমস্যা দূর করবে। আপনার শরীরে যদি হজমের সমস্যা থাকে, উচ্চ রক্তচাপের সমস্যা থাকে, মাড়ির প্রদাহ বা দাঁত এবং মাড়ির সমস্যা থাকে, তাহলে আপনি এই গাছের বীজ ছাল ও পাতা ব্যবহার করতে পারবেন। এছাড়াও এই গাছ থেকে বা জাম থেকে মদ ও সিকরা তৈরি করা হয়।
জামের ছাল খাওয়ানোর মাধ্যমে আপনার গৃহপালিত পশু যেমন, গরু-ছাগল এদের পাতলা পায়খানা এবং বিভিন্ন পেটের সমস্যা হলে ভালো করতে পারবেন। তাছাড়া জামের কচি পাতা খাওয়ার মাধ্যমে রুচি ফিরে আসে এবং পেটের সমস্যা দূর করার পাশাপাশি নানান উপকারিতা পাওয়া যায়।
জাম গাছের উপকারিতা জানুন
জাম গাছের উপকারিতা অপরিসীম। গাছ হিসেবে যেমন ছায়া দেয় তেমন ওষুধ হিসাবে মানুষ ব্যবহার করে জাম। অনেক ক্ষেত্রে পশুপাখির ও মানুষের ওষুধ হিসেবে এই গাছ ব্যবহার করা হয়। আবার এই গাছের কাঠ থেকে বিভিন্ন আসবাসপত্র তৈরি করা হয় যা একজন মানুষের নিত্য প্রয়োজনীয় উপকার করে। জামের গাছ নানান উপকার করে, ফল দেয়, আলো বাতাস ও অক্সিজেন দেয়।
আরো পড়ুনঃ ইসবগুলের ভুসি ও তোকমা খাওয়ার নিয়ম বিস্তারিত জানুন
তাই আপনি একটি জামগাছ থেকে কত ধরনের উপকারিতা পেতে পারেন তা বুঝতেই পারছেন। তাই আপনি যদি আপনার শরীরের বিভিন্ন সমস্যা দূর করতে চান এবং ত্বকের প্রদাহ সহ নানান সমস্যা থেকে নিজেকে রক্ষা করতে চান তাহলে জাম গাছের ব্যবহার করুন এবং জাম গাছের ফল পাতা এবং ছালের উপকারিতা উপভোগ করুন।
জাম গাছের বৈশিষ্ট্য জানুন - জামের বিচির উপকারিতা ও অপকারিতা
জাম গাছের বৈশিষ্ট্য অত্যন্ত সহজ। এটি বিশাল আকারের একটি গাছ, এই গাছে প্রচুর পরিমাণ জাম ধরে গৃষ্মকালে। গাছটি সাধারণত ১৪ থেকে ৬০ ফুট পর্যন্ত লম্বা হতে পারে। এর পাতা সরল বড় এবং চামড়া পুরো এবং চকচকে হয়ে থাকে। সেই ক্ষেত্রে আপনি এই গাছটিকে চিরসবুজ গাছ হিসেবে চিনবেন এই গাছটি সাধারণত বাসা বাড়ির আশেপাশে বা অনেক মানুষ বাণিজ্যিকভাবে চাষাবাদ করে।
সাধারণ এই গাছটি বহুবর্ষ জীবি একটি গাছ, এই গাছটি অনেক বছর বেঁচে থাকে। এবং মানুষের উপকার করে তাই আপনি যদি একটি জাম গাছ লাগান তাহলে এই গাছটি আপনার উপকার করবে এবং আপনার পরিবার সহ আপনার গ্রামের সকল মানুষের উপকার করতে পারবে। তাই গাছ অত্যন্ত পরিবেশ বান্ধব। তাই আমরা সবাই গাছ লাগিয়ে আমাদের পরিবেশকে আরো ভালো রাখতে পারি। সকল গাছ পরিবেশের সাথে সম্পর্কযুক্ত।
জাম নিয়ে সচরাচর জিজ্ঞাসিত প্রশ্ন ও উত্তর জানুন
প্রশ্নঃ জামের বিচি খেলে কি উপকার হয়?
উত্তরঃ জামের বিচি খেলে পেটে সমস্যা দুর ও রোগ মুক্তি করে তা জানলে আপনি ও অবাক হবেন। মানুষ ও পশু সবাই এর থেকে উপকৃত হয়। আপনি যদি না জানেন তাহলে এই পোস্ট টি পড়ে দেখুন।
প্রশ্নঃ জাম খেলে কি ক্ষতি হয়?
উত্তরঃ পুষ্টিবিদদের মতে, জাম আবার কিছু খাবারের সাথে খেলে এই ফল শরীরের জন্য মারাত্মক ক্ষতিকারক হয়। যেমন, জাম ও হলুদ এক সাথে খেলে খুবই মারাত্মক। তাই এই দুটো জিনিস কখনোই একসঙ্গে খাবেন না। এচছাড়া তেমন কোন ক্ষতি নেই।
প্রশ্নঃ প্রতিদিন জাম খাওয়া কি খারাপ?
জাম ও জামের বিচির উপকারিতা ও অপকারিতা নিয়ে শেষ মন্তব্য
জামের বিচির উপকারিতা ও অপকারিতা সম্পর্কে আপনাদের সামনে ধারাবাহিকভাবে আলোচনা রেখেছি। যা দেখে আপনি খুব সহজেই এর উপকারিতা বুঝতে পারবেন। শুধু জামের বিচি নয় জামেরও অনেক উপকারিতা রয়েছে। আপনি যদি আপনার শরীরের বিভিন্ন সমস্যা দূর করতে চান এবং ভিটামিনের চাহিদা পূরণ করতে চান তাহলে অবশ্যই জাম খেতে পারেন।
জাম খাওয়ার অনেক উপকারিতা রয়েছে। যা মানুষের শরীরের রক্তের মাত্রা উন্নত করতে সাহায্য করে। রক্তে উপস্থিত বিভিন্ন রক্ত কণিকা তৈরি করে এবং মানুষের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি করে ও মানুষকে সুস্থ রাখে। পাশাপাশি জাম গাছের ছাল, পাতা, মানুষসহ গৃহপালিত পশুদের ক্ষেত্রেও ব্যবহার করা হয় তাদের পেটের বিভিন্ন সমস্যা সমাধান করে।
মুক্তআঁখি আইটির নীতিমালা মেনে কমেন্ট করুন। প্রতিটি কমেন্ট রিভিউ করা হয়।
comment url