অর্জুন গাছের ছালের উপকারিতা ও অপকারিতা - অর্জুন গাছের ছালের গুনাগুন জানুন

আমাদের প্রত্যেকের অর্জুন গাছের ছালের উপকারিতা ও অপকারিতা জানা উচিত। এই অর্জুন গাছের ছালের মধ্যে যে গুনাগুন গুলো রয়েছে তা আমাদের জন্য বিশেষ উপকার করে।

অর্জুন গাছের ছালের উপকারিতা ও অপকারিতা - অর্জুন গাছের ছালের গুনাগুন

তাই আজকে আপনাদের জন্য এই আর্টিকেলটির ভিতরে থাকছে, অর্জুন গাছের ছাল ভিজিয়ে খাওয়ার উপকারিতা সহ বিভিন্ন নিয়ম বিস্তারিত যা পর্যায়ক্রমে উপস্থাপন করা হবে।

পোস্ট সুচিপত্রঃ  অর্জুন গাছের ছালের উপকারিতা ও অপকারিতা - অর্জুন গাছের ছালের গুনাগুন

ভূমিকা

অর্জুন গাছ অতি পরিচিত একটি ওষুধি গাছ। এই গাছটি প্রাচীনকাল থেকে ব্যবহৃত হয়ে আসছে মানুষের বিভিন্ন শারীরিক মানসিক চিকিৎসার ক্ষেত্রে। সুতরাং আপনিও যদি আপনার শরীরের বিভিন্ন সমস্যা দূর করতে চাই। তাহলে নিম্নলিখিত নিয়ম অনুসরণ করে ব্যবহার করলে বিশেষ উপকার পাবেন।

আপনি অর্জুন গাছের ছাল ব্যবহার করে উচ্চ রক্তচাপ কমাতে পারবেন। ত্বকের চিকিৎসা করতে পারবেন এবং ওজন বৃদ্ধি সহ আরো নানান ধরনের উপকারিতা পাবেন। তাই আপনি পর্যায়ক্রম নিচের উপকারিতা ও অপকারিতা গুলো দেখে নিন। যা বিজ্ঞানিক ভাবে প্রমাণিত মানুষের উপস্থিত উপকার করার জন্য। অর্জুন গাছ একটি চিরঞ্জীবী বৃক্ষ। প্রাচীনকাল থেকে হৃদরোগের চিকিৎসায় ব্যবহৃত হয় এবং অর্জুন গাছের ছাল পাউডার, ডিকোশন, স্কোর ইত্যাদি হিসেবে ব্যবহার করা হয়।

অর্জুন গাছের ছালের উপকারিতা ও অপকারিতা জানুন 

অর্জুন গাছের ছালের উপকারিতা ও অপকারিতা জানলে আপনি সহজে উপকারিতা গুলো উপভোগ করতে পারবেন। আবার ক্ষতিকর প্রভাব গুলো থেকে নিজেকে রক্ষা করতে পারবেন। এই অর্জুন গাছের বৈজ্ঞানিক নাম হল টার্মিনালিয়া অর্জুন। অর্জুন গাছের পাতা পেয়ারা পাতার মতন হয় তবে আকারে অনেক বড়। চলুন তাহলে এর উপকারিতা এবং অপকারিতা গুলো জানি। 

আরো পড়ুনঃ আলু বোখারার ১০টি উপকারিতা ও অপকারিতা অবাক হবেন জানলে

অর্জুন গাছের ছালের উপকারিতা ও অপকারিতা সমূহঃ

  • অর্জুন গাছের ছাল উচ্চ রক্তচাপ কমায়ঃ যাদের শরীরে উচ্চ রক্তচাপ জড়িত সমস্যা রয়েছে তারা শরীরের কোলেস্টেরল কমানোর জন্য অর্জুন গাছের ছালের রস খেতে পারে। এই অর্জুন এর মধ্যে ট্রাই গ্লিসারাইড স্তর কমিয়ে উচ্চ রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণ করে। 
  • উন্নত চুলের ক্ষেত্রেঃ অর্জুন গাছের ছাল আপনার চুলের যেকোন সমস্যা দূর করতে ব্যবহার করতে পারেন। আপনি চুলের অপুষ্টি এবং ভেঙে যাওয়া দূর করতে, অসময় চুল পেকে যাওয়া থেকে বাঁচতে অর্জুনের ছাল উপকার করে। আপনি অর্জুন গাছের ছলের সাথে হেনার মিশ্রণ চুলে লাগিয়ে রাখলে সাদা চুল কালো করতে পারে এটা অত্যন্ত শক্তিশালী। 
  • সর্দি কাশি কমায়ঃ কাশি সর্দির জন্য আপনি তরমুজ গাছের ছাল বা পাউডার ব্যবহার করতে পারেন। এর জন্য আপনি যে কাজটি করবেন তাহল অর্জুনের ছাল তাজা সবুজ পাতার রসের সাথে মিশিয়ে শুকিয়ে নিবেন। কিভাবে সাতবার মেশানোর পর অবশেষে যা থাকবে তা চূর্ণ করে প্রস্তুত করে মধুর সাথে রোগীকে সেবন করালে উপশম পাওয়া যায়।
  • শরীরে অতিরিক্ত চর্বি ও মেদ দূর করেঃ শরীর অতিরিক্ত চর্বি এবং মেদ কমানোর জন্য কোন অর্জুন গাছের ছাল সকাল এবং সন্ধ্যায় খেতে পারে। এতে আপনার শরীরের অতিরিক্ত জমে থাকা চর্বি কমিয়ে আপনার শরীরকে অতিরিক্ত ওজন মুক্ত করবে।
  • শরীরের সুগার নিয়ন্ত্রণেঃ রক্তে অতিরিক্ত সুগার নিয়ন্ত্রণ করার জন্য আপনার অর্জুন ছাল খেতে হবে। পাউডার খেতে পারেন এবং এর সাথে দেশি জাম বীজের চূর্ণ সমান পরিমাণ মিশিয়ে উষ্ণ জলে মিলিয়ে খেতে পারেন। আপনি চাইলে অর্জুন গাছের ছালের সাথে কদম গাছের ছাল, গাছের ছাল সমান পরিমাণ মিশিয়ে ভালোভাবে গুড়ি করে পাউডার বানিয়ে খেতে পারেন এটা অত্যন্ত উপকারী। 
  • মুখে ফোসকার চিকিৎসাঃ মুখের ফুস্কা পরিষ্কার করে বিরক্তকর ব্যক্তি সমস্যার সমাধানের জন্য ব্যবহার করতে পারেন। এর জন্য অর্জুন গাছের সাথে সাথে নারকেল তেলের মিশ্রণ করে মুখের ফোসকার উপরে প্রলেপ লাগিয়ে রেখে দিলে আপনার ফুচকা জ্বালাপোড়া কম হবে এবং তাড়াতাড়ি ভালো হয়ে যাবে। 
  • মূত্রনালী জ্বালাপোড়া দূর করেঃ মূত্রনালীর সংক্রমণ থেকে বাঁচার জন্য অর্জুন গাছের ছালের তৈরি পানীয় ব্যবহার করা যায়। এর জন্য আপনাকে অর্জুন গাছের ছাল দুই কাপ জলের মধ্যে ফোটাতে হবে। জল অর্ধেক হয়ে আসলে তা ঠান্ডা করে পান করলে রোগ মুক্তি পাওয়া যায়। 
  • বুক ধরফর করলে ব্যবহার করতে পারেন। যাদের শরীরে সমস্যা রয়েছে তারা কাঁচা অর্জুন গাছের ছাল ১০ থেকে ১২ গ্রাম বা শুকনো হলে ৫ থেকে ৬ গ্রাম দুধের সাথে মিশিয়ে বা পানির সাথে মিশিয়ে খেতে পারেন বিকেলে অথবা সকাল এর সময়। এছাড়াও এই অর্জুন গাছের ছাল রক্তপিন্ড ভালো করে। যাদের কানের ব্যথা রয়েছে তাদের কানের ব্যথা দূর করে। 
  • যৌন সমস্যা থাকলেও দূর করতে সাহায্য করে। এর জন্য আপনাকে অর্জুন গাছের ছাল চূর্ণ দুধের সাথে মিশিয়ে খেতে হবে। শুকনো হলে পাঁচ থেকে ছয় গ্রাম এবং ভেজা হলে বা কাঁচা হলে ১০ থেকে ১২ গ্রাম এতে যৌন সমস্যা দূর। 
  • হাড়ভাঙ্গা দূর করতে হবে ভালো করার জন্য ব্যবহার করা হয়। পাকস্থলীর ঘা রয়েছে তারা ভালো করার জন্য ছাল খেতে পারে।
  • রক্ত আমাশা ভালো করেঃ রক্ত আমাশা ভালো করার জন্য তার থেকে পাশ করে। গরু অথবা ছাগলের দুধের সাথে মিশিয়ে খেলে ভালো হয়। এতে শরীরের পুরাতন আমাশা ভালো করে এবং হজম শক্তি বৃদ্ধি করার মত ক্ষমতা রয়েছে। কাঁচা অর্জুন গাছের ছাল ৪০ থেকে ৪৫ গ্রাম ফেলে ওজন নিয়ন্ত্রণ করে এবং হজম শক্তি বৃদ্ধি করে।

হৃদ রোগের প্রদাহ কমায়ঃ,যাদের শরীরে হৃদরোগের সমস্যা রয়েছে তারা বাকল পৃষ্ঠ করে মিহি গুড়া খড়িপাক পদ্ধতিতে ৫ থেকে ১০ গ্রাম রোগীর খাওয়ালে ভালো হয়। কার্ডিওভাসকুলার রোগের পাশাপাশি যাদের হৃদরোগের সমস্যা রয়েছে তারা এক থেকে তিন গ্রাম পরিমাণ পাউডার খেলে প্রদাহ এবং এ সকল সমস্যা দূর হয়। যা হৃদ রোগের ব্যথা নিরাময় করতে পারে এই উপায়ে। 

অর্জুন গাছের ছালের অপকারিতা জানুন 

অর্জুন গাছের ছালের অপকারিতা রয়েছে। যে বিষয়গুলো আমরা জানবো কারণ এই গাছের অনেক উপকারিতা রয়েছে সেই দৃষ্টিকোণ থেকে তেমন কোন ক্ষতিকর প্রভাব নেই। তবে কিছু ব্যক্তির ক্ষেত্রে এর থেকে সর্তকতা অবলম্বন করা উচিত। বিশেষ করে যারা গর্ভবতী অবস্থায় আছেন তারা এ গাছের সেবন করার পূর্বে চিকিৎসকের পরামর্শ নিন। 

অনেক রোগী আছে যারা সুগারের মাত্রা অত্যন্ত বেশি তারা যদিও অর্জুন গাছের ছাল খাওয়ার ফলে এর সমস্যা কমাতে পারেন তবে। ডাক্তারের পরামর্শ নেওয়া অত্যন্ত উচিত। এবং সাবধানতার সাথে অর্জুন গাছের ছাল ব্যবহার করতে হবে। 

টার্মিনাল লিয়া রক্ত জমাট বাঁধা কমায়। এ ধরনের রক্ত শৃংখল থাকলে আপনার চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া অর্জুন বাকল খাওয়া উচিত নয়। অর্জুন গাছের ছালে হাইপোগ্লাইসেমিক অভাব রয়েছে। রক্তের চিনির মাত্র কম থাকলে আপনার আরো কমিয়ে দিবে যা অত্যন্ত ক্ষতিকর। আয়ুর্বেদিক কোন চিকিৎসার সাথে ব্যবহার করা যাবে না এতে ক্ষতিকর প্রভাব দেখা যায়।

অর্জুন গাছের ছাল ভিজিয়ে খাওয়ার উপকারিতা জানুন 

অর্জুন গাছের ছাল ভিজিয়ে খাওয়ার উপকারিতা জানা থাকলে আপনি অবশ্যই অনেক রোগ থেকে মুক্তি পাবেন। অর্জুন গাছের ছালের মধ্যে রয়েছে বিভিন্ন প্রকার পুষ্টি উপাদান যে উপাদানগুলো থাকার ফলে অর্জুন গাছের ছাল ভিজয়ে খাওয়ার মাধ্যমে হার্টের সুরক্ষা পাবেন। কিছু মানুষের শারীরিক সুস্থ থাকার জন্য বিজ্ঞান বিভাগের প্রমাণিত হয়েছে অর্জুন ছাল কতটা উপকারী। 

কারো যদি হৃদরোগের সমস্যা থাকে পাতলা আমাশয় এবং ত্বকের সমস্যা থাকে যে বিষয়গুলো উল্লেখ করা হয়েছে। সেই সকল উপকারটা পাওয়ার জন্য  অর্জুন গাছের ছাল ভিজিয়ে খাওয়া বেশি উপকারী। অর্জুন গাছের ছাল খাওয়ার জন্য পানিতে ভিজিয়ে রাখলে অর্জুন গাছের মধ্যে যেই গুনাগুন এবং উপাদান গুলো রয়েছে তা পানির সাথে মিশে যায়। 

এভাবে খাওয়ার মাধ্যমে আপনার বিভিন্ন রোগ ভালো হয়ে যায়। অর্জুন রস, অর্জুন গাছের পাতার রস, বাকলের রস অত্যন্ত উপকারী। সুতরাং আপনি শুধু উল্লেখিত সকল উপকারিতা গুলো পেতে চান তাহলে অবশ্যই আপনাকে নিয়ম অনুসরণ করে অর্জুন গাছের ছাল ভিজিয়ে খেতে হবে। আশা করি বোঝাতে পেরেছি কি ধরনের উপকারিতা পাওয়ার জন্য অর্জুন গাছের ছাল ভিজিয়ে খাওয়া যায়।

অর্জুন গাছের ছাল ভিজিয়ে খাওয়ার নিয়ম জানুন 

অর্জুন গাছের ছাল ভিজিয়ে খাওয়ার নিয়ম জানার দরকার। কারণ বিভিন্ন উপাদানের সাথে মিশিয়ে অর্জুন গাছ খেতে হয়। এর জন্য আপনি পানির সাথে মিশিয়ে খেতে পারেন। দুধের সাথে মিশিয়ে খেতে পারেন। অনেকেই পরামর্শ দেয় ছাগলের দুধের সাথে মিশিয়ে খাওয়ার। তবে আপনি অর্জুন গাছের ছাল ভিজিয়ে খাওয়ার জন্য সঠিক যে উপায় বা নিয়ম মানবেন যা আপনার বিশেষ উপকার করবে। 

রাতে ঘুমানোর পূর্বে ৫ থেকে ৬ অর্জুনের ছাল পানিতে ভিজিয়ে রেখে, অথবা দুধ এর সাথে ভিজিয়ে রেখে প্রতিদিন সকালে এবং সন্ধ্যায় খালি পেটে খেলে বিশেষ উপকারিতা পাওয়া যায়। রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণ করে এবং পেটের বিভিন্ন সমস্যা সহ মানুষের অভ্যন্তরীণের সমস্যা কমে যায়।

অর্জুন গাছের ছাল ভিজিয়ে খাওয়ার নিয়ম

আবার রক্তের নিম্নচাপ থাকলে অর্জুনের ছাল ভি্জিয়ে খেলে ভালো হবে এর জন্য আপনার অর্জুন ছাল ভিজিয়ে রেখে সকালে খেতে হবে সেই পানি রক্তক্ষরণ এবং বিভিন্ন সমস্যা ভালো করে। 

এছাড়াও আপনার প্রতিদিন অর্জুন গাছের ছাল ভিজিয়ে খাওয়ার মাধ্যমে অনেক উপকারিতা পাবেন। যাদের শ্বাসকষ্ট দ্রুত সমস্যা রয়েছে, হাড়ের দুর্বলতা রয়েছে, এ ধরনের সমস্যা দূর করার জন্য অর্জুন গাছের ছাল দুধের সাথে মিশিয়ে খেতে পারেন। রাতে ভিজিয়ে রেখে সকালে সেই পানি বা দুধ পান করতে হবে। সহজেই আপনি মানতে পারলে আপনার বিশেষ উপকারিতা হয়ে যা অত্যন্ত প্রমাণিত এবং বিজ্ঞানী হিসেবে ব্যবহৃত হয়ে আসছে।

অর্জুন গাছের ছাল খেলে কি হয় জানুন 

অর্জুন গাছের ছাল খেলে কি হয় এটা আমাদের জানা উচিত। অনেক মানুষ রয়েছে যারা অর্জুন গাছের ছাল ব্যবহার করে বিভিন্ন স্বাস্থ্য উপকারিতা পায়। একজন মানুষ অনেক সময় নানান ধরনের সমস্যায় পড়ে। যেমন, সর্দি কাশি, পেট ব্যথা, হাড়ের সমস্যা, কানে ব্যথা, রক্তের কোলেস্টেরল কমাতে সাহায্য করে। সুতরাং আপনি এই উপকারিতা গুলো পড়ার জন্য অর্জুন গাছের ছাল খেতে পারেন। 

এছাড়া আরো যে উপকারিতা গুলো রয়েছে কিভাবে পাবেন এবং কোন নিয়ম অনুসরণ করতে হবে তা উপরে বিস্তারিত আলোচনা করেছি। আপনি যদি না জেনে থাকেন অর্জুন গাছের ছালের ব্যবহার তাহলে আজকের এই পোস্টটি পড়ে বিস্তারিত বিষয় জেনে নিতে পারেন। শরীরের নানান সমস্যা দূর করতে ব্যবহার করা হয়। তবে গর্ভবতী মহিলা এবং যাদের শরীরে আগে থেকে রক্তস্বল্পতা বা রক্তচাপের দুর্বলতা রয়েছে। 

আরো পড়ুনঃ প্রয়োজনীয় নিম গাছের ছালের ৩১টি উপকারিতা জানুন

আবার গর্ভবতী ও স্তন্যদানকারী মহিলারা এটি খেলে বিশেষ সমস্যায় পড়তে পারে। তাই অবশ্যই সাবধানতা অবলম্বন করতে হবে এবং ডাক্তারের পরামর্শ ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না। আপনি যদি অর্জুন গাছের ছালের সঠিক উপকারিতা পেতে চান তাহলে অবশ্যই বিষয়গুলো মাথায় রাখতে হবে। এছাড়া আপনার সমস্যা হতে পারে যে সমস্যার কারণে আপনার উপকারের চেয়ে ক্ষতির পরিমাণ বেশি হয়।

অর্জুন গাছের ফলের উপকারিতা সমূহ জানুন

অর্জুন গাছের ফলের উপকারিতা সমূহ দেখুন। অর্জুন গাছ অত্যন্ত উপকারী একটি কাজ এ গাছের যেমন উপকারিতা রয়েছে এমনই উপকারিতা রয়েছে ফলের। আসলে এই অর্জুন গাছের সকল অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ সমানভাবে মানুষের উপকার করে। তাই এই গাছের ফল খাওয়ার মধ্যে যে উপকারিতা গুলো পাওয়া যায় তা দেখুন। 

  • অর্জুন গাছের ফল রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণ করে। তাদের শরীরে রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণের বাইরে তারা ব্যবহার করেন।
  • রক্তক্ষরণ নিয়ন্ত্রণ করে এবং ক্ষত সারাতে সাহায্য করে। 
  • শ্বেত রক্তকণিকা শক্তিশালী করে এবং উন্নত করে এর জন্য আপনাকে এর ছাল বা ফল ভিজিয়ে রস করে তা হলুদের সঙ্গে মিশিয়ে খেলে উপকার মিলে
  • গাছের ফল হাঁপানিতে অত্যন্ত উপকারী তামাকের মতো ধোঁয়া টানলে বিশেষ উপকারিতা পাওয়া যায়। 
  • যে সকল মানুষের হার্নিয়া আছে তারা অর্জুন ফল কোমরে বেধে রাখলে উপকার পাবে। অথবা কাঁচা ফল সেবন করলে রোগ ভালো হয় আমাশা চিরতোর করে চিরতরে। 
  • খাবারের স্বাদ নিয়ন্ত্রণ এবং বৃদ্ধি করার জন্য কোন গাছের ফল ব্যবহার করতে এটা মানুষের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি করে এবং হজম শক্তি উন্নত করে।

আশা করি বুঝতে পেরেছেন অর্জুন গাছের ফল ব্যবহার করে কত ধরনের উপকার পাওয়া যায়। অর্জুন গাছের ফল ব্যবহার করে শরীরের নানা রকম রোগ করে কি ভালো করা যায়। অর্জুন গাছের ফল ব্যবহার করে নিজের বাস্তব জীবনে উপকার পাবেন। আশাকরি আপনার যদি না জানা থাকে, অর্জুন গাছের ফলের উপকারিতা তাহলে জেনে নিতে পেরেছেন। 

অর্জুন গাছের ছালের গুনাগুন ও উপাদান সম্পর্কে জানুন

অর্জুন গাছের ছালের গুনাগুন সম্পর্কে জানা প্রয়োজন। এই ওষুধে গাছটি আমাদের শরীরের নানা উপকার করে থাকে। ইতিমধ্যে আমরা অর্জুন গাছের বিভিন্ন ব্যবহার এবং উপকার সম্পর্কে জেনেছি। যে ব্যবহার ভিত্তিতে জেনে আমাদের জীবনের বিভিন্ন বিশেষ কিছু রোগ প্রতিরোধ করতে পারি। এই গুলো পাওয়ার পেছনে এর বিশেষ কিছু কারণ রয়েছে যেমন এই অর্জুন গাছের মধ্যে বিশেষ গুণাবলী উপাদান রয়েছে। 

অর্জুন গাছের ছালের গুনাগুন ও উপাদান সুমূহ,অর্জুন গাছের গুনাগুনের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ যে বিষয়গুলো মানুষের রোগমুক্তি। এই অর্জুন গাছের মধ্যে রয়েছে এন্টিঅক্সিডেন্ট যা ক্যান্সার মত রোগ কে প্রতিহত করতে পারে। কারো শরীরে অতিরিক্ত দূষিত পদার্থ জমে থাকলে এই অর্জুন গাছের ছাল খাওয়ার মাধ্যমে তার দূর করতে পারবে। 

আরো পড়ূনঃ  ত্রিফলার ২০টি উপকারিতা ও অপকারিতা সম্পর্কে বিস্তারিত জানুন

উচ্চ রক্তচাপ ও কোলেস্টেরল নিয়ন্ত্রণ করে এবং হূদরোগের চিকিৎসা দেয়। হৃদ যন্ত্রের পেশী মজবুত করে এবং স্বাভাবিক রাখতে ভালো পারে। লিভার ও কিডনির জন্য উপকারী এই অর্জুন গাছের ছাল মানুষের কিডনির কার্যক্ষমতা বাড়ায় এবং লিভারের দূষিত টক্সিন দূর করে। ফ্রি রেডিক্যালের মাত্রা কমায় এবং ত্বকের উজ্জ্বলতা বৃদ্ধি করে।

যাদের ডায়াবেটিসের সমস্যা রয়েছে তারা ভালো করতে পারে। কিন্তু রক্তে শতকরা নিয়ন্ত্রণ করে। হজম শক্তি উন্নত করে ও গ্যাসের সমস্যা দূর করে, নার্ভাস সিস্টেম শক্তিশালী করে এবং ঘুম ভালো হতে সাহায্য করে। এর উপকারিতা করার জন্য যে উপাদান গুলো লাভ করে তা নিচে দেখুন।

অর্জুন গাছের ছালের উপাদান সমূহঃ

  • ট্যানেল যা এন্টিঅক্সিডেন্ট এবং প্রদাহনাশক বৈশিষ্ট্য সম্পূর্ণ। 
  • ফ্ল্যাভোনয়েড এটি হার্টের স্বাস্থ্য ভালো থাকে। 
  • শ্যাপনীন রক্তের কোলেস্টেরল নিয়ন্ত্রণ করে। 
  • ক্যালসিয়াম ম্যাগনেসিয়াম এগুলো হাড় ও দাঁতের গঠন ও রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণ করতে পারে। 
  • জিংক রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ায়। আলজিন অ্যাসিড ওকো এনজাইম কিউ১০ উপস্থিত রয়েছে। 

অর্জুন গাছের ছাল কোথায় পাওয়া যায় জানুন 

অর্জুন গাছের ছাল কোথায় পাওয়া যায় এটা আমাদের জানা উচিত। এই গাছটি অত্যঙ্গ স্বাস্থ্য উপকারী এবং ওষুধি গুনাগুন সমৃদ্ধ। গাছটি ব্যবহার করে আমরা বিভিন্ন ধরনের উপকার পেয়ে থাকি। তাই আমারদের জানা উচিত এই গাছটি আসলে কোথায় পাওয়া যায় এবং এটা কিভাবে ব্যবহার করে। সাধারণত বিভিন্ন গ্রাম অঞ্চল এবং জঙ্গলে এই গাছ পাওয়া যেত। তবে বর্তমানে এই গাছ চাষ করা হয়। 

অর্জুন গাছের ছাল কোথায় পাওয়া যায়
আপনি চাইলে এই গাছ বাজার থেকে কিনে বাড়ির আশেপাশে লাগিয়ে রাখতে পারেন এটা ডাক্তারের মতো কাজ করে। এছাড়াও আপনি বিভিন্ন দোকানে পেয়ে যাবেন এই গাছের গুড়া পাউডার এবং কৌটা যার বিভিন্ন ধরনের উপকরণ। আবার আপনার ছেলে অর্জুন গাছের ছাল বাজারে কিনতে পাবেন। সেখান থেকে সংগ্রহ করে বিভিন্ন কাজে ব্যবহার করতে পারবেন। 

অনেক মানুষ রয়েছে যারা অর্জুন গাছের ছাল কোথায় পাওয়া যায় জানেনা। সেজন্য এই তথ্যগুলো উপস্থাপন করলাম। এছাড়াও আপনি অর্জুন গাছের ছাল বিভিন্ন ই-কমার্স ওয়েবসাইট রয়েছে। সেই ওয়েবসাইটগুলোতে অর্ডার করার মাধ্যমে হোম ডেলিভারির মাধ্যমে পেয়ে যেতে পারেন। এছাড়াও অনেক পাহাড়ি অঞ্চলে রয়েছে যে অঞ্চলগুলোতে ওষুধি গুনাগুন থাকার কারণে ওষুধ হিসেবে ব্যবহার করার জন্য লাগিয়ে রাখা হয়। 

অর্জুন ছালের গুড়া খাওয়ার নিয়ম - অর্জুন গুড়ার উপকারিতা 

অর্জুন ছালের গুড়া খাওয়ার নিয়ম জানা উচিত কারণ এই গাছের ছাল খাওয়ার অনেক উপকারিতা রয়েছে। আপনি যদি অর্জুন গাছের ছালের গুড়া খাওয়ার নিয়ম অনুসরণ করেন। তাহলে বিভিন্ন ধরনের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি এবং রোগ দূর করতে পারবেন। অর্জুন গাছের ছালের গুড়া খাওয়ার জন্য আপনাকে যে নিয়মটি সবচাইতে ভালো সকল বিষয় ব্যবহার করা যায় তা জানানো হবে। 

এজন্য আপনাকে অর্জুন গাছের ছাল গুড়া প্রতিদিন সকালে এবং সন্ধ্যায় খাওয়ার অভ্যাস করতে হবে। আপনি সকালে খাওয়ার জন্য রাতে অর্জুন গাছের ছালের গুড়া দুই থেকে তিন চামচ। অথবা ৪-৫ গ্রাম পরিমাণ নিয়ে দুধের সাথে ভিজিয়ে রাখতে হবে। এবং সেই মিশ্রণটি সকালে খালি পেটে খাওয়ার ফলে আপনার শরীরে বিভিন্ন উপকারিতা পাবেন। 

ইতিমধ্যেই উপরে অনেক নিয়ম এবং উপকারিতা আলোচনা করে বোঝানোর চেষ্টা করেছি। যে এই অর্জুন গাছের ছালের অনেক উপকারিতা রয়েছে যা আদিকাল থেকে মানুষের চিকিৎসার জন্য ব্যবহার করা হয়। এছাড়া আপনি সকালে ঘুম থেকে উঠে ভিজিয়ে রেখে বিকালে খেতে পারেন এটা আপনার শরীরের গ্যাসের সমস্যা এবং বিভিন্ন ক্লান্তি মূলক সমস্যা দূর করবে। এই উপকারিতা গুলো আরো বেশি পাওয়ার জন্য উপরে উল্লেখিত নিয়মগুলো অনুসরণ করতে পারেন। 

অর্জুন গাছের ছালের উপকারিতা ও অপকারিতা নিয়ে শেষ মন্তব্য 

অর্জুন গাছের ছালের উপকারিতা ও অপকারিতা নিয়ে আপনাদের সামনে যে তথ্যগুলো উপস্থাপন করেছি। সে তথ্যগুলো ব্যবহার করে আপনি বিভিন্ন স্বাস্থ্য উপকারিতা পেতে পারেন এবং রোগমুক্তি নিতে পারেন। একজন মানুষ কি ধরনের স্বাস্থ্য উপকারিতা পাওয়ার জন্য এই অর্জুন স্তর ব্যবহার করবে সে বিষয়গুলো উপস্থাপন করেছি। 

আবার কোন কোন ব্যক্তি বা কোন সমস্যা থাকলে আপনি অর্জুন গাছের ছাল ব্যবহার করলে ক্ষতির সম্মুখীন হবেন। সে বিষয়ে স্পষ্ট ধারণা দেওয়ার চেষ্টা করেছি। যাতে আপনি খুব সহজেই এর উপকারিতা গুলো উপভোগ করতে পারেন এবং ক্ষতির প্রভাব থেকে নিজেকে রক্ষা করতে পারেন। আশা করি আজকের এই পোস্টটি পড়ে আপনি উপকৃত হয়েছেন।

এই পোস্টটি পরিচিতদের সাথে শেয়ার করুন

পূর্বের পোস্ট দেখুন পরবর্তী পোস্ট দেখুন
এই পোস্টে এখনো কেউ মন্তব্য করে নি
মন্তব্য করতে এখানে ক্লিক করুন

মুক্তআঁখি আইটির নীতিমালা মেনে কমেন্ট করুন। প্রতিটি কমেন্ট রিভিউ করা হয়।

comment url