রুই মাছের উপকারিতা ও অপকারিতা বিস্তারিত জানুন

রুই মাছের উপকারিতা ও অপকারিতা সম্পর্কে সঠিক ধারণা পাওয়ার জন্য আজকের এই পোস্টটি পড়ুন। রুই মাছের মধ্যে বিশেষ কিছু উচ্চ মানের প্রোটিন রয়েছে। তবে কিছু ক্ষেত্রে এর ক্ষতিকর প্রভাব লক্ষ্য করা যায়। তাহলে চলুন জেনে নেই সব বিষয়

রুই মাছের উপকারিতা ও অপকারিতা
রুই মাছের মধ্যে বিভিন্ন পুষ্টি উপাদান রয়েছে। তাই আমরা এই সম্পর্কে বিস্তারিত জানব কি গুনাগুন রয়েছে। আমরা সবাই রুই মাছ খেতে পছন্দ করি তাই এর সঠিক গুনাগুন আমাদের জানা উচিত।

পোস্ট সুচিপত্রঃ রুই মাছের উপকারিতা ও অপকারিতা বিস্তারিত যা জানবেন

ভূমিকা

রুই মাছের অনেক উপকারিতা রয়েছে। বাংলাদেশসহ বিভিন্ন দেশে রুই মাছের প্রচুর চাহিদা। এটা যেমন দেশের অর্থনৈতিক খাদে সহযোগিতা করে। আবার মানুষের শরীরের বিভিন্ন প্রয়োজনীয় ভিটামিন ও খনিজ সরবরাহ করে। যার কারণে যারা আমিষ হিসেবে মাছ-মাংস খেতে পছন্দ করেন তারা খাবার হিসেবে এই রুই মাছ খেতে পারেন। এর মধ্যে ভিটামিন সি রয়েছে যা মানুষের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি করতে পারে।

রুই মাছের মধ্যে প্রচুর পরিমাণ ওমেগা ৩ অ্যাসিড, বিভিন্ন খনিজ রয়েছে যা মানুষের সার্বিক রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি করার পাশাপাশি শরীরকে সতেজ করে। এবং এর উপস্থিত উপাদানগুলো হার্ট ভালো করে এবং ক্যান্সারের বিরুদ্ধে বিশেষভাবে কাজ করে। তবে কিছু কিছু মানুষের ক্ষেত্রে সমস্যা করে যাদের রক্তে ক্লোরোস্টল এর মাত্রা বেশি। তারা যেন রুই মাছ খাওয়া থেকে বিরত থাকে। এছাড়া হার্ট এর সমস্যা দেখা দিতে পারে। আরো গুরুত্বপূর্ণ তথ্য জানার জন্য পোস্টটি পড়তে থাকুন। 

রুই মাছের উপকারিতা ও অপকারিতা বিস্তারিত জানুন 

রুই মাছের উপকারিতা ও অপকারিতা বিস্তারিত জানা থাকলে আপনি বুঝতে পারবেন। যে আপনার শরীরের জন্য রুই মাছ খাওয়া উপযুক্ত কি? বিশেষ করে যারা আমিষভোজী রয়েছেন। তারা প্রোটিন ও আমিষের চাহিদা পূরণ করার জন্য রুই মাছ খেতে পারেন। রুই মাছের অনেক স্বাস্থ্য উপকারিতা রয়েছে। প্রায় সকল মানুষই রুই মাছ খেতে পছন্দ করে। তবে রুই মাছের অপকারিতা লক্ষ্য করা যায় বিশেষ কিছু ক্ষেত্রে। তাহলে আর কথা না বলে আজকে চলুন জেনে নিই সেই বিষয়গুলো। 

প্রথমে রুই মাছের উপকারিতা সমূহ বিস্তারিতঃ

  • পরিমাণমতো রুই মাছ খেলে আপনি ক্যালসিয়াম, জিংক, ফসফরাস এর ঘাটতি পূরণ করতে পারবেন। যা হাড় এবং পেশি মজবুত করতে সাহায্য করে।
  • রুই মাছে উপস্থিত ওমেগা ৩ ফ্যাট এসিড যা আপনার শরীরের হার্টের সমস্যা দূর করবে। 
  • রুই মাছে উপস্থিত ভিটামিন বি১,বি২, বি৩, বি৪, বি৫, বি৬, বি১২ উপস্থিত থাকার কারণে আপনার স্নায়ুতন্ত্রের সমস্যা সমাধান করবে এবং এর স্বাস্থ্য ভালো রাখবে।
  • শরীরে কম ওজন থাকলে ওজন বৃদ্ধি করার জন্য ব্যবহার করতে পারবেন রুই মাছ। এর মধ্যে শক্তিশালী প্রোটিন রয়েছে এবং চর্বির পরিমাণ কম থাকায় স্বাস্থ্য উপকারী খাবার। 
  • রুই মাছের মধ্যে রয়েছে ভিটামিন সি এর একটি উৎস যা আপনার শরীরে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি করবে। 
  • আরো রুই মাছের মধ্যে রয়েছে প্রোটিন ও পর্যাপ্ত পরিমাণে ফাইবার যা আপনাকে কোষ্ঠকাঠিন্য রোগ থেকে বাঁচাবে। 
  • রুই মাছ কম পরিমাণ চর্বি থাকায় এটি স্টকের পরিমাণ ১৫% কমিয়ে দেয়।
  • রুই মাসে উপস্থিত রয়েছে ভিটামিন এ যা চোখের স্বাস্থ্য ভালো রাখে এবং চোখকে রোগমক্ত করে।
  • রুই মাছ খাওয়ার ফলে জানা গেছে শান্তিপূর্ণভাবে ঘুম হয়। এবং ইনসোমিয়া থেকে রক্ষা পাওয়া যায়। 
  • এছাড়াও রুই মাছ একজিমা থেকে মুক্তি দেয় এবং বয়স্কদের জয়েন্টের ব্যথা ভালো করে। 
  • যাদের শরীরে ব্লাড প্রেসার জড়িত সমস্যা রয়েছে এবং ডায়াবেটিসের বিভিন্ন সমস্যা রয়েছে। তারা রুই মাছ খেতে পারেন। 
  • যাদের ত্বকের সমস্যা রয়েছে তারা রুই মাছ খেতে পারেন। রুই মাছের ভিটামিন ই এবং ভিটামিন বি১২ রয়েছে যা ত্বকের জন্য উপকার করে।

এখন আমরা জানলাম রুই মাছের কি উপকারিতা রয়েছে। এবং কোন উপাদানটি থাকার ফলে কোন ধরনের উপকারিতা করে। আপনি যদি রুই মাছ খেতে পছন্দ করেন তাহলে আজকের এই তথ্যগুলো জানার পর আরো বেশি বেশি খাওয়ার জন্য আগ্রহ প্রকাশ করবেন। কারণ এই রুই মাছ খাওয়ার মাধ্যমে বিশেষ বিশেষ উপকারিতা পাওয়া যায়। যা উপরে উল্লেখ করা হয়েছে এগুলো ডাক্তারি ভাবে প্রমাণিত। এছাড়া কিছু অপকারিতা রয়েছে তাই এর থেকে সর্তকতা অবলম্বন করার জন্য নিচে বিষয়গুলো স্পষ্ট বুঝে নিন।

রুই মাছের অপকারিতা সমূহ দেখুন

রুই মাছ অনেক স্বাস্থ্য উপকারী তাই রুই মাছের উপকারিতা ও অপকারিতা জানা উচিত। একজন মানুষ রুই মাছ খাওয়ার ফলে অনেক উপকারিতা পায়। তবে কিছু মানুষের ক্ষেত্রে দেখা গেছে, রুই মাছের অপকারিতা লক্ষ্য করা হয়। তাই আমাদেরকে রুই মাছের অপকারিতা সম্পর্কে ধারণা রাখতে হবে যে কোন ধরনের ব্যক্তিদের জন্য রুই মাছ খাওয়া নিষেধ। তাই এক নজরে জেনে নিন যে, রুই মাছের কি ধরনের ক্ষতিকর প্রভাব রয়েছে। অতিরিক্ত খেলে এবং অপর্যাপ্ত পরিমাণ সমস্যা থাকা অবস্থায় ব্যবহার করলে উল্লেখিত সমস্যাগুলো হতে পারে।

  • রুই মাছ খাওয়ার ফলে বিশেষ কিছু মানুষের ক্ষেত্রে এলার্জির সমস্যা দেখা দেয়। যাদের বংশীয় ভাবে এলার্জি রয়েছে বা আগে থেকেই এলার্জির অনেক লক্ষণ রয়েছে। এ লক্ষণগুলোর মধ্যে দেখা যায় শরীরের লালচ ভাব, ফুলকুঁড়ি, চুলকানি, বমি ভাব ইত্যাদি।
  • রুই মাছের মধ্যে প্রচুর পরিমাণ প্রোটিন থাকে এবং বেশি ক্যালোরি থাকে এবং এই বেশি ক্যালরি থাকার কারণে কেউ অতিরিক্ত খেলে এটি ওজন বৃদ্ধি করে দিতে পারে। তাই যে সকল মানুষ অতিরিক্ত ওজন নিয়ে আছেন তাদের রুই মাছ খাওয়া থেকে বিরত থাকা স্বাস্থ্যের জন্য উপকার।
  • কিছু ক্ষেত্রে অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে রুই মাছ চাষ করার ফলে তাদের মধ্যে বিভিন্ন বিষক্রিয়া জন্ম নেয়। সেই রুই মাছ খাওয়ার ফলে নানান ধরনের সমস্যা দেখা দেয় তাই সাবধানতা অবলম্বন করা উচিত।

তাই রুই মাছ খাওয়ার পাশাপাশি, এই মাছগুলো খাওয়া থেকে বিরত থাকুন যেমন, যে মাছগুলোতে বেশি পরিমাণ পারদ রয়েছে। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য সমুদ্রের টুনা, মাছ, সার্ক ইত্যাদি। আশা করি বোঝাতে পেরেছি। তবে রুই মাছ খাওয়ার পূর্বে কিছু সতর্কতা অবলম্বন করতে হবে। এগুলো ভালো করে সিদ্ধ করে রান্না করতে হবে এবং পরিপক্ক রান্না করে খাওয়া উচিত নয়। পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন করে রান্না করার চেষ্টা করতে হবে। তাহলে এর ক্ষতিকর দিক গুলো থেকে বাঁচার সম্ভাবনা বেশি থাকে।

আপনার পছন্দ হতে পারে এমন আরো পোস্টের তালিকা

রুই মাছের বৈশিষ্ট্য সমূহ জেনে নিন 

রুই মাছের বৈশিষ্ট্য সমূহ জেনে আপনি এর উপকারিতা পাবেন। এবং ক্ষতিকর বা অপকারিতা থেকে নিজেকে রক্ষা করতে পারবেন। রুই মাছ পছন্দ করে না এমন মানুষের সংখ্যা খুব কম। রুই মাছ অত্যন্ত সুস্বাদ এবং পুষ্টি করে একটি খাবার। এই খাবার খাওয়ার মাধ্যমে যে ধরনের উপকার পাওয়া যায় এবং কি ক্ষতিকর প্রভাব রয়েছে তা উপরে উল্লেখ করেছি। এই মাছের বিশেষ বৈশিষ্ট্য গুলো আপনাদের সামনে উপস্থাপন করলাম দেখে নিন। 

রুই মাছের বৈশিষ্ট্য সমূহঃ রুই মাছের পিঠ ও পিঠের নিচের দিকে বাদামী রঙের হয়। এ মাসের পেট রুপালি সাদা রঙ্গের মুখ নিচের দিকে নামানো থাকে। পুরো পিট ভেতরের দিকে ভাঁজ হয়ে থাকে। মুখের উপরে ঠোঁটের একজোড়া গোপ থাকে। সাধারণত রুই মাছ সর্বোচ্চ ২০০ সেন্টিমিটার লম্বা হতে পারে। বয়সের দিক থেকে দেখলে এটা ১০ বছর পর্যন্ত বেঁচে থাকতে পারে এবং ৪৫ কেজি পর্যন্ত ওজন হয় বলে জানা গেছে।

এছাড়া রুই মাছ একটি মেরুদন্ডী প্রাণী এদের শীতল রক্ত বিশিষ্ট হয়। শ্বাস-প্রশ্বাসের অঙ্গ হিসেবে ফুলকা। সাঁতার কেটে পানির মধ্যে চলার জন্য এদের যুগ্ন অথবা অযুগ্ন পাখনা রয়েছে। দেহে আঁশযুক্ত থাকে। এ মাছ প্রজননের সময় স্ত্রী মাছকে অনুসরণ করে। এদের মিলনের প্রক্রিয়াটি হল স্ত্রী মাস যখন ডিম ছাড়ে তখন পুরুষ মাস তাৎক্ষণক তার উপর বীর্য ছড়িয়ে দেয়। এবং সাথে সাথে তা নিষেক হয়ে যায়। 

এই মাছের নিষেক দেহের বাইরে নদীতে পানিতে সম্পন্ন হয়। তাই একে বহঃনিষেক বলে। এই মাছ সাধারণত আগস্ট ও জুন মাসের দিকে ডিম পাড়ে। যা সাধারণত বাংলাদেশের দিক থেকে দেখলে গৃষ্মকাল হয় এই সময় এই মাছের ডিম পাড়ার জন্য আদর্শ সময়। আশা করি বুঝতে পেরেছেন রুই মাছের কত উপকারিতা রয়েছে। রুই মাছের মধ্যে প্রচুর পরিমাণ পুষ্টিগুণ রয়েছে তাই নিচে দেখে নিন রুই মাছের পুষ্টিগুণ।

রুই মাছের পুষ্টিগুণ সম্পর্কে জানুন 

রুই মাছের পুষ্টিগুণ সম্পর্কে জানা থাকলে আপনি দিবানা হয়ে যাবেন। রুই মাছ এতটা সুস্বাদু এবং মিষ্টি জাতীয় মাছের মধ্যে পড়ে যে, একজন মানুষ যদি কখনো না খায় তাহলে এর স্বাদ বুঝতে পারবে না। একটি রুই মাছের মধ্যে প্রচুর পরিমাণ বিভিন্ন পুষ্টি উপাদান রয়েছে যা আমরা উপরে দেখেছি কিন্তু কি পরিমাণ রয়েছে এগুলো গবেষণা করে জানা গেছে। গবেষকেরা উপস্থাপন করেছে। 

রুই মাছের পুষ্টিগুণ সম্পর্কে
রুই মাছের জলীয় অংশ, ৭৪.৬ শতাংশ, ক্যালসিয়াম ৬৫০ মিলিগ্রাম, পটাশিয়াম ২৮৮ মিলিগ্রাম, কলিন ৮১৯ মিলিগ্রাম, সোডিয়াম রয়েছে ১০১ মিলিগ্রাম, এছাড়া ভিটামিন সি, এম সি জি, ফসফরাস, আয়রন পাওয়া যায়। এরমধ্যে রয়েছে তাপ মূল্য ৯৭ ক্যালরি। এই মাছটি খাওয়ার তিন ঘণ্টার মধ্যে হজম হয়ে যায়। এই মাছটি খাওয়ার ফলে একজন মানুষের শারীরিক পুষ্টি চাহিদা পূরণ হয়, দৃষ্টিশক্তি ভালো করে, রক্ত প্রবাহে উন্নত করে। আরো নানান উপকারিতা করে যা উপরে উল্লেখ করা হয়েছে।

রুই মাছ চাষের পদ্ধতি সহজেই দেখে নিন 

রুই মাছ চাষের পদ্ধতি সহজেই কেউ যদি নিজের জীবনে বাস্তবায়ন করতে চায়। তাহলে আজকের এই গুরুত্বপূর্ণ টিপসটি আপনার জন্য। অথবা আপনি যদি রুই মাছ চাষ করতে গিয়ে ব্যর্থ হন সফলতা না পান। সে ক্ষেত্রে আজকের এই বিষয়টি আপনি পরীক্ষা করে দেখতে পারেন। রুই মাছ চাষ করার জন্য আপনাকে একটি জিনিস মাথায় রাখতে হবে। যে কোন স্তরে এই মাছটি থাকে। সাধারণত রুই মাছ দ্বিতীয় স্তরে থাকতে পছন্দ করে।

আরো পড়ুনঃ কোন কোন মাছে এলার্জি আছে - তেলাপিয়া মাছে কি এলার্জি আছে জানুন

রুই মাছ দেশীয় কাপ জাতীয় মাছের সাথে মিশ্রভাবে চাষ করতে হবে। রুই মাছ মধ্যস্থলে থাকে তাই খাবারের পানির উপরের স্তরের মাছ কাতলা এবং নিচের স্তরের মাছ কালো কার্পের সাথে চাষ করতে হয়। খাবারের পরিমাণ কম লাগে এবং কম খরচে বেশি লাভজনক হওয়া যায়। মাছ চাষের পুকুর প্রস্তুত করার পর পোনা ছাড়তে হবে একটি নির্দিষ্ট আকারে। পানির গুণগত মান চেক করে নিতে হবে। পানির গুণগত যেন ৩-৫ শতাংশ সম্পূরক খাবার দৈনিক দুই থেকে তিনবার দিতে হয়। 

খাওয়ানোর সময় সতর্কতা স্বরূপ ফিট খাবারগুলো দিবেন। ও সেগুলো প্রাকৃতিক খাবার খাওয়ানোর চেষ্টা করতে হবে পাশাপাশি আপনি কিছু খাবার খাওয়াতে পারেন। যেমন, কিসমিস, চালের গুড়া, সরিষার খোল, ফিশ গোয়ার সহ বিভিন্ন স্বাস্থ্যকর উপকরণ। এ প্রক্রিয়ায় করলে আপনি ছয় মাসের ভিতরে বাজারজাত করার মতন পর্যায়ে নিয়ে আসতে পারবেন। যদি সম্ভব হয় তাহলে জৈব খাবার জাতীয় খাবার খাওয়ানোর চেষ্টা করতে হবে। এতে মাছের পুষ্টিগুণ ঠিক থাকবে এতে মানুষের সমস্যা হবে না।

রুই মাছে কি এলার্জি আছে বিস্তারিত জানুন 

রুই মাছে কি এলার্জি আছে এই ধরনের প্রশ্ন অনেকে করে। কারণ রুই মাছ খেতে অনেক সুস্বাদু একটি খাবার এই খাবার এতটাই পুষ্টিকর এবং সুস্বাদু যে সকল মানুষ পছন্দ করে। তবে রুই মাছ কিছু ক্ষেত্রে এলার্জি সৃষ্টি করে। যাদের আগে থেকে এলার্জি আছে বা বংশীয়ভাবে এলার্জি আছে তাদের এলার্জি হতে পারে। এলার্জি সংক্রমণ হলে তাদের শরীরে কিছু লক্ষণ দেখা যায়। নিচের লক্ষণ গুলো দেখুন। 

  • ত্বকে ফুল করে চুলকানির মতো সমস্যা দেখা যায়।
  • মুখ, জিব্বা, গলা এ গুলো ফুলে যায়।
  • বমি ভাব ডায়রিয়া পাতলা পায়খানার মতো সমস্যা হয়। 
  • কিছু কিছু মানুষের ক্ষেত্রে হাইপোটেনশনের সমস্যা দেখা যায়। 

সুতরাং আপনি যদি রুই মাছ খাওয়ার ফলে উল্লেখিত সমস্যাগুলো উপলব্ধি করেন। তাহলে অবশ্যই দ্রুত রুই মাছ খাওয়া থেকে বিরত থাকুন। যদিও সকল মানুষের ক্ষেত্রে রুই মাছের এই এলার্জির সমস্যা হয় না কিছু কিছু মানুষের ক্ষেত্রে হয়। তবে বিজ্ঞানীরা বিশ্বাস করে যে এই রুই মাছের উপস্থিতি প্রোটিন গুলির প্রতি শরীরের প্রতিক্রিয়া কারণে হয়। রুই মাছ এলার্জি প্রতিরোধের জন্য না খাওয়াই ভালো।

রুই মাছের বৈজ্ঞানিক নাম কি জানুন 

রুই মাছের বৈজ্ঞানিক নাম কি আপনি জানেন? যদি না জেনে থাকেন তাহলে তথ্যগুলো আপনার জন্য উপযুক্ত। বাংলাদেশের মাছ প্রচলিত এবং বিশ্বের অনেক দেশে এর চাহিদা রয়েছে তাই এই মাছের বৈজ্ঞানিক নাম এবং বিভিন্ন পরিস্থিতি জানা উচিত। উপরে বিভিন্ন বৈশিষ্ট্য সম্পর্কে আলোচনা করেছি। তবে এই রুই মাছের বৈজ্ঞানিক নাম হল, Labeo rohita এছাড়া এর ইংরেজি নাম হল, Rohu carp এটা আমাদের জানা উচিত।

আরো পড়ুনঃ মুরগির ডিমে কি এলার্জি আছে - হাঁসের ডিমে কি এলার্জি আছে বিস্তারিত জানুন

এছাড়া রুই মাছের অপর নাম আছে যেই নামগুলো হলো, রহু, রুহি, রোহ লেবেও। এটি কার্প পরিবারে একটি প্রজাতির মাছ। যা দক্ষিণ এশিয়ার নদীতে পাওয়া যায়। এই মাছটি বৃহৎ সর্বভৌম প্রাণী। মাছ সাধারণত কার্ড ডাট উপ প্রজাতি যা মেরুদন্ড প্রাণী। আশা করি উপরের তথ্যগুলো জেনে আপনি উপকৃত হবেন। রুই মাছের বৈজ্ঞানিক নাম এবং এর পরিবারের বিষয় সম্পর্কে জেনে। 

রুই মাছের ফুলকা কয়টি জেনে রাখুন 

রুই মাছের ফুল কয়টি অনেকে জানিনা তাই তাদেরকে বলে রাখি। রুই মাছ একটি অত্যন্ত সুস্বাদু মাছ এই মাছ মিঠাপানি এবং নোনা পানি সকল ক্ষেত্রে বসবাস করতে পারে। রুই মাছের ফুলকা প্রতিপাশে সাধারণত চারটি আর্য বা ফুলকা ছিলি থাকে। ফুলকার প্রধান কাজ হচ্ছে শ্বাস-প্রশ্বাসের প্রক্রিয়ায় অক্সিজেন গ্রহণ এবং কার্বন-ডাই-অক্সাইড বর্জন করা।

 

রুই মাছের ফুলকার গঠন
রুই মাছের ফুলকা আর্য প্রতি মাসে ১০০ থেকে ২০০ টি হতে পারে। তবে এই মাসের আকার ও প্রজাতির উপর নির্ভর করে পরিবর্তন হয় বা কম বেশি হতে পারে। এই গিল গুলোর মধ্যে আবার সাধারণত গিলফ থাকে যা অক্সিজেন গ্রহণ ও কার্বন-ডাই-অক্সাইড কে বের করে দিতে সাহায্য করে। রুই মাছ এর বৈশিষ্ট্য সম্পর্কে আরো জানার জন্য পুরো পোস্টটি যদি আপনি পড়ে থাকেন। তাহলে অবশ্যই বুঝতে পারছেন যে রুই মাছের ফুলকা কয়টি এবং কি উপকারিতা রয়েছে।

রুই মাছের ফুলকার গঠন জানুন 

রুই মাছের ফুলকার গঠন আমাদের জানা উচিত। বিশেষ করে যারা রুই মাছ সম্পর্কে বিভিন্ন গবেষণা করতে চান। সে ধরনের মানুষ এই গঠন এবং বিভিন্ন বৈশিষ্ট্য সম্পর্কে জানতে চাই। ইতিমধ্যে আপনাদের সামনে রুই মাছের বিশেষ কিছু বৈশিষ্ট্য এবং ফুলকা কয়টি তা আলোচনা করেছে। রুই মাছের ফুলকা গুলো গঠনের দিক থেকে সাধারণত দেখতে সুতার মত হয়ে থাকে। সেগুলো এক একটি হলো পূর্ণ ফুলকা। সেগুলো প্রত্যেক ফুলকা দুটি সদৃশ্য অর্ধাংশ নিয়ে গঠিত।

রুই মাছের ফুলকার গঠন
 প্রত্যেকটা অর্ধাংশ কে বলে হেমি ব্রাম্ক বা অর্ধ ফুলকা। এ বিষয়গুলো বুঝতে হলে রুই মাছের শাসনতন্ত্র বিষয়টি একটু মাথায় রাখতে হবে। প্রত্যেকটা হেমি ব্রাক্ম এক শাড়ি করে ফুলকা সদৃশ্য বা ফুলকা লামেলা বহন করে। যা গোড়ায় যুক্ত থাকে এবং শিরের দিকে মুক্ত অবস্থায় থাকে। যা প্রতিটি সদৃশ্য এপিথেলিয়ামে আবৃত এবং অসংখ্য অনুপ্রস্থ প্লেট গ্রহণ করে। এই এপিথেলিয়াম রক্ত জালিকা সমৃদ্ধ হয়ে থাকে।

রুই মাছের ফুলকার গঠন
 প্রত্যেক ফুলকায় একেকটি অস্থিময় ফুলকা আর্টস এর সম্মিলিত। এইভাবে প্রত্যেকটি আর্স দুটি ফুলকা শাড়ি যুক্ত থাকে। এবং আর্টসের অন্ত কিনারা প্রসারিত হয়ে কাঁটাযুক্ত পাতলা ফুলকা বেকার গঠন করে থাকে। এই প্রক্রিয়াটি সম্পূর্ণ হয়ে একটা রুই মাছের ফুলকার গঠন এবং কার্যক্রম সংঘটিত হয়ে থাকে। রুই মাছের ফুলকা চার জোড়া ফুলকা দিয়ে গঠিত হয় যা আশাকরি বুঝতে পেরেছেন। 

রুই মাছের হৃদপিন্ডের গঠন জানুন 

রুই মাছের হৃদপিন্ডের গঠন দেখুন। যা একজন ছাত্রের জানার জন্য অনেক উপকারী। রুই মাছের ফুলকা দুটির ঠিক পেছনে পেরিকার্ডিয়াল গহবর নামে একটি স্থান রয়েছে। সেই পেরিকার্ডিয়াল গহ্বরে হৃদপিন্ডের অবস্থান করে। যা হৃদপিন্ডকে আবরণ দিয়ে আটকে রাখে। অন্যান্য মাছের মত এই রুই মাছের হৃদপিন্ডের দুই প্রকোষ্ঠ বিশিষ্ট একটিকে বলা হয় অলিন্দ বা অস্টিয়াম এবং অন্যটিকে বলা হয় নিলয় বা ভেন্ট্রিকল।

 

রুই মাছের হৃদপিন্ডের গঠন

রুই মাছের হৃদপিন্ডের গঠন

এটা মাছের শরীরে হৃদসন্দন সৃষ্টি করে যার কারণে এটাকে হার্ট বলা হয়। অনেকেই এটাকে মায়োজেনিক হার্ট বলে। এই রুই মাছ উপ প্রকোষ্ঠ বা সাইনাস ভেনোসাস হলো তীক্ষ্ণ আকৃতির এবং স্থিতিস্থাপক উপ প্রকোষ্ঠ। যা পাতলা পাথর বিশিষ্ট এবং শিরা, ডাকটাস কুভিয়ে ও হেপাটিক সাইনাস হতে রক্ত সাইনাস ভেলোসাসে আসে। এরপর সাইনাস ভেনোসাস হতে রক্ত অলিন্দে প্রবেশ করে। 

অলিন্দ হতে হৃদপিন্ডের সবচেয়ে বড় প্রকোষ্ঠ ইয়া ত্রিকোণাকার। রেশমি এবং পাতলা প্রাচীর বিশিষ্ট এর একটি প্রান্ত নিলয়ের সাথে যুক্ত অপর প্রান্ত সাইনাস ভেনোসাস এর সাথে যুক্ত। সাইনাস ভেন্ট্রিকল হতে রক্ত সংগ্রহ করে নিলয়ে পৌঁছায়। নিলয় হতে পেশীময় মাংসাল এবং পুরো প্রাচীন বিশিষ্ট গহবর যা নিলয়ের এক প্রান্ত অনিলের সাথে অপর প্রান্ত ই কিউ২ বাল্বস আর্টারি ও সার্চ এর সাথে যুক্ত থাকে। যা কার্বন-ডাই-অক্সাইড যুক্ত রক্ত বহন করে। 

এরপর রুই মাছের হৃদপিন্ড কোনাস আর্টারিওয়াস থাকে না। এবং ধমনীর গোড়া স্ফীত হয়ে বাল্বস আর্টারিওসাস গঠন করে। এরপর হৃদপিণ্ড বা পেরিকার্ডিয়ার আবরণ থাকে না বলে বাল্বস আর্টারিওসাস হৃদপিন্ডের অংশ নয়। ইহা হৃদপিন্ড হতে রক্ত নিলয় আওতায় পৌঁছে দেয়। এবং হৃদপিন্ডের করোটিকা তিন ধরনের হয়। সাইনো, এন্টিকাল, কপাটিকা ইহা সাইনাস ভেনোসাস ও অলিন্দের মাঝখানে থাকে। এবং এন্টিভেন্টিকুলার কপাটিকা যা অলিন্দ ও নিলয়ের মাঝখানে থাকে। সর্বশেষ রেন্টি কুলো বাল্বস কপাটিকা নিলয় ও বাল্ব আউওতার মাঝখানে থাকে। আশা করি বুঝতে পেরেছেন।

রুই মাছের উপকারিতা ও অপকারিতা নিয়ে শেষ মন্তব্য 

রুই মাছের উপকারিতা ও অপকারিতা নিয়ে আপনাদের সামনে ইতিমধ্যে বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ তথ্য উপস্থাপন করেছি। যেই তথ্যগুলো থেকে আপনি বুঝতে পারবেন রুই মাছ খাবার মাধ্যমে কোন ব্যক্তিরা উপকার পাবে এবং কি ধরনের উপকার পাবে। এছাড়া রুই মাছের কিছু ক্ষতিকর প্রভাব রয়েছে যে প্রভাব গুলো কি এবং এর থেকে বাঁচার উপায় জানতে পারবেন। 

তাই একজন মানুষ সচেতন ভাবে আমিষ ফতি হলে সে রুই মাছ খেতে পারে। তবে কিছু বিষয় মাথায় রাখতে হবে যে বিষয়গুলো উপরে উল্লেখ করা হয়েছে। আপনি যদি একজন সুস্থ সবল সুন্দর দেহ পান তাহলে অবশ্যই রুই মাছ খেতে পারেন। প্রতি ১০০ গ্রাম রুই মাছে প্রায় ১৯ গ্রাম পটিন থাকে। এ প্রোটিন মানুষের শরীরের বিভিন্ন উপকার করে। এটি খেলে বাতের ব্যথা ভালো হয় এবং স্মৃতিশক্তি বৃদ্ধি করে এবং মস্তিষ্কের কার্যক্ষমতা বাড়ায়। তাই উল্লেখিত উপকারিতা পেতে রুই মাছ খাওয়া শুরু করুন।

এই পোস্টটি পরিচিতদের সাথে শেয়ার করুন

পূর্বের পোস্ট দেখুন পরবর্তী পোস্ট দেখুন
এই পোস্টে এখনো কেউ মন্তব্য করে নি
মন্তব্য করতে এখানে ক্লিক করুন

মুক্তআঁখি আইটির নীতিমালা মেনে কমেন্ট করুন। প্রতিটি কমেন্ট রিভিউ করা হয়।

comment url